ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল গুলোতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্কে বসতবাড়ি বিলীন হাওয়ার ও মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,প্রভাবশালী একটি বালু মাফিয়া চক্র দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র পাহারায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকাহীন হয়ে পড়ছে হাজারো পরিবার।
সরেজমিন অনুসন্ধানে ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি ঘাট,ডিক্রি চর,নর্থ চ্যানেল,টিলার চর, ইন্তাজ মোল্লার ডাঙ্গী, সাবুল্লা শিকদার ডাঙ্গী,জক্রেশ্বর ও আলীয়াবাদ এলাকায় গিয়ে একাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,এসব কার্যক্রমের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করেই দিনের পর দিন বালু উত্তোলন চলছে। প্রতিটি ড্রেজারের সঙ্গে ১০–১৫ জন করে সশস্ত্র যুবক পাহারায় থাকে বলেও অভিযোগ তাদের।
একটি অনুসন্ধানী টিমকে বহনকারী ট্রলারের চালক জানান, “আপনারা যদি সাংবাদিক বলে ধরা পড়েন, তাহলে জীবিত ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।”এমন হুমকির মুখেই তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
চরাঞ্চলের বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বহু ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যারা এর প্রতিবাদ করেছেন, তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ নিখোঁজ, কেউ গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় সাংবাদিক জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের জেরে তিনি চরম নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) প্রায় তিন মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগকৃত বাহিনী সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে চরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এতসব ঘটনার পরও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি,প্রশাসনের নীরবতা বালু সন্ত্রাসকে আরও উৎসাহিত করছে।
পরিশেষে বলা যায়, ফরিদপুরের চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য হুমকি নয়, এটি এখন একটি সংগঠিত অপরাধে রূপ নিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং চরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
ফরিদপুরের চরাঞ্চলে বালু উত্তোলন নদী গর্ভে বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আতঙ্কে:হাজারো মানুষ
ফরিদপুরের চরাঞ্চলে বালু উত্তোলন নদী গর্ভে বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আতঙ্কে:হাজারো মানুষ
ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল গুলোতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্কে বসতবাড়ি বিলীন হাওয়ার ও মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,প্রভাবশালী একটি বালু মাফিয়া চক্র দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র পাহারায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকাহীন হয়ে পড়ছে হাজারো পরিবার। সরেজমিন অনুসন্ধানে ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি ঘাট,ডিক্রি চর,নর্থ চ্যানেল,টিলার চর, ইন্তাজ মোল্লার ডাঙ্গী, সাবুল্লা শিকদার ডাঙ্গী,জক্রেশ্বর ও আলীয়াবাদ এলাকায় গিয়ে একাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ,এসব কার্যক্রমের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করেই দিনের পর দিন বালু উত্তোলন চলছে। প্রতিটি ড্রেজারের
সঙ্গে ১০–১৫ জন করে সশস্ত্র যুবক পাহারায় থাকে বলেও অভিযোগ তাদের। একটি অনুসন্ধানী টিমকে বহনকারী ট্রলারের চালক জানান, “আপনারা যদি সাংবাদিক বলে ধরা পড়েন, তাহলে জীবিত ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।”এমন হুমকির মুখেই তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বহু ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যারা এর প্রতিবাদ করেছেন, তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ নিখোঁজ, কেউ গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন।আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় সাংবাদিক জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের জেরে তিনি চরম নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) প্রায় তিন
মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগকৃত বাহিনী সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন বলে উল্লেখ করেন। এদিকে চরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এতসব ঘটনার পরও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি,প্রশাসনের নীরবতা বালু সন্ত্রাসকে আরও উৎসাহিত করছে। পরিশেষে বলা যায়, ফরিদপুরের চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য হুমকি নয়, এটি এখন একটি সংগঠিত অপরাধে রূপ নিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং চরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত