বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য: মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি গণবিরোধী, অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি খুলনা মহানগরী জামায়াতের আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার ছুটির বিষয়ে ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, হতে পারে লাইসেন্স বাতিল প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ৬০০ টাকা দরে ভাঙারিতে বিক্রি: ডিএমপি কমিশনার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অবহেলায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিশন ২০২৬: বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে কার ডেরা কোথায়? দেখে নিন ৪৮ দলের ‘বেস ক্যাম্প’ মেসি নেইমারদের ম্যাচ বাংলাদেশে যেভাবে দেখা যাবে প্রধানমন্ত্রীর ‘লাল টেলিফোন’ লাইনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২
সারাবাংলা দৌলতদিয়া ঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্যে ঝুঁকিতে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও স্থাপনা
logo

দৌলতদিয়া ঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্যে ঝুঁকিতে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও স্থাপনা

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট ও আশপাশের পদ্মা-যমুনা নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাহাদুরপুর (মরাপদ্মা নদী এলাকা), উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড, পূর্ব তেনাপচা এবং দৌলতদিয়া নৌ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, পদ্মা ও যমুনা নদীর গোয়ালন্দ অংশে একাধিক অবৈধ ড্রেজার পরিচালিত হচ্ছে। এসব ড্রেজারকে ঘিরে সেলো ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারায় রাখা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে সাংবাদিকদের বহনকারী ট্রলারের মাঝি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেন—পরিচয় প্রকাশ পেলে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় কোনো বৈধ বালুমহল না থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্র পেশিশক্তির জোরে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই কার্যক্রমের ফলে নদীর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং নদীভাঙনের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

উল্লেখ্য, প্রচলিত আইন অনুযায়ী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৬২ ধারায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত; এতে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা আদালত অবমাননার শামিল বলেও সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।

অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত শহীদ পাল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস গণমাধ্যমকে জানান, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, নদীভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে গোটা এলাকা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খুঁজুন