জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা, প্রশাসনের জবাবদিহি ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে সরকারি সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না। একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় ডিসিদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি ও বদলি করা হবে। জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব এটি ১২ ফেব্রুয়ারি প্রমাণিত হয়েছে। আর ডিসিদের কাজ করতে না দিলে নির্বাচনে কী হয়, তা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জাতি দেখেছে।
তিনি বলেন, শুধু পদোন্নতি বা স্বার্থের জন্য পেশাদারত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও সার্বিকভাবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের ঘটনা জনপ্রশাসনকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয় এবং তাদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত। এ প্রস্তুতি থাকলে জনসেবার মান বাড়বে। ডিসিরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক রক্ষা করেন, তাই সরকারও তাদের ওপর নির্ভরশীল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আড়াই মাসে কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো সন্তোষজনক নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে দুর্নীতি ও ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার কাজ শুরু করেছে। দেশকে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল, বিচার বিভাগ, শিক্ষা ও দুদক অকার্যকর ছিল, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনভোগান্তি তৈরি হলেও সরকার তা মোকাবিলা করে যাচ্ছে এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যা ও খরা থেকে দেশকে রক্ষায় ডিসিদের ভূমিকা রাখতে হবে। সততা, মেধা ও দক্ষতাকেই সরকারের নীতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বিবেচনায়ই পদোন্নতি বা বদলি করা হবে এটাই বিএনপির নীতি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিসিদের কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম বাড়ানো, জনগণের ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন, সব জেলায় ছাত্রছাত্রীদের জন্য শুধু শীতকাল নয়, সারা বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, পুরোপুরি বৈষম্য দূর করা সম্ভব না হলেও ধর্ম-বর্ণের বৈষম্যহীন একটি নৈতিক রাষ্ট্র গঠনই সরকারের লক্ষ্য।
ডিসিদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ডিসিদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা, প্রশাসনের জবাবদিহি ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে সরকারি সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না। একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। এ সময় ডিসিদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি ও বদলি করা হবে। জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব এটি ১২ ফেব্রুয়ারি প্রমাণিত হয়েছে। আর ডিসিদের কাজ করতে না দিলে নির্বাচনে কী হয়, তা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জাতি দেখেছে। তিনি বলেন, শুধু পদোন্নতি বা স্বার্থের
জন্য পেশাদারত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও সার্বিকভাবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের ঘটনা জনপ্রশাসনকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয় এবং তাদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত। এ প্রস্তুতি থাকলে জনসেবার মান বাড়বে। ডিসিরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক রক্ষা করেন, তাই সরকারও তাদের ওপর নির্ভরশীল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আড়াই মাসে কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো সন্তোষজনক নয়। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে দুর্নীতি ও ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার কাজ শুরু করেছে। দেশকে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল, বিচার বিভাগ, শিক্ষা ও দুদক অকার্যকর ছিল, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনভোগান্তি তৈরি হলেও সরকার তা মোকাবিলা করে যাচ্ছে এবং একটি কল্যাণ
রাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যা ও খরা থেকে দেশকে রক্ষায় ডিসিদের ভূমিকা রাখতে হবে। সততা, মেধা ও দক্ষতাকেই সরকারের নীতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বিবেচনায়ই পদোন্নতি বা বদলি করা হবে এটাই বিএনপির নীতি। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিসিদের কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম বাড়ানো, জনগণের ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন, সব জেলায় ছাত্রছাত্রীদের জন্য শুধু শীতকাল নয়, সারা বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, পুরোপুরি বৈষম্য দূর করা সম্ভব না হলেও ধর্ম-বর্ণের বৈষম্যহীন একটি নৈতিক রাষ্ট্র গঠনই সরকারের লক্ষ্য।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত