Logo
আজঃ বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সব সময় অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১১১জন দেখেছেন

Image

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের ১৭ কোটি মানুষের দেশ। কাজেই এই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, আর্থসামাজিক উন্নতি করা এবং তাদের নিরাপত্তা বিধান করা এটাই আমাদের কাজ। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, মাদক এর হাত থেকে আমরা দেশকে রক্ষা করতে চাই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সব সময় অব্যাহত থাকবে। কাজেই সেদিকে লক্ষ রেখেই আমাদের আনসার বাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন এবং আগামীতেও করে যাবেন। তিনি সোমবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৪তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সম্মৃদ্ধ খুধা দারিদ্র মুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবের স্বপ্ন আমরা পুরণ করবো। সেই সাথে সাথে ডেটা প্লান্ট ২ হাজার ১০০ তৈরি করে দিয়েছি। জলবায়ু অধিকার থেকে এই বদ্বীপ যাতে রক্ষা পায় প্রতি অঞ্চল অথ্যাৎ গ্রাম পর্যায় মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকে, উন্নত জীবন পায় এবং প্রত্যেকে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজ তারাই হবে স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক স্মার্ট সৈনিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। আজকে আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো সাধারন মানুষের মধ্যে একটা আত্ববিশ^াস গড়ে উঠেছে। যেটা আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল। আত্ব বিশ^াস ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আর সেটা আমরা আজকে করতে পেরেছি। যেকোনো অবস্থার মোকাবেলা করার মতো আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নিরাপদ করতে চাই। আমাদের গ্রামগুলোও স্মার্ট গ্রাম হিসেবে গড়ে উঠবে। সেখানে কোনো মানুষ দারিদ্র থাকবে না, কোনো মানুষ ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। আমি ইতিমধ্যেই ভূমিহীন-গৃহনীন মানুষকে ঘর করে দিয়েছি। আমরা সেভাবে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনযাপন উদযাপন এবং সুন্দরভাবে এগিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে আনসার বাহিনীকে আহবান করা হয় এবং তারা দায়িত্ব পালন করে। এখন বিভিন্ন দূতাবাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ বাহিনী অত্যান্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, যখন সেই ২০১৩ সাল, ২০১৪ সাল ও ২০২৩ সালেও অগ্নিসংস্ত্রাস, রেলে আগুন, রেললাইন কেটে ফেলে দেওয়া, মানুষকে হত্যা করাসহ বিএনপি জামায়াত জোট যে ধংবসাংক্তক কাজ করেছিল। সেখান থেকেও এ বাহিনী অত্যান্ত দক্ষতার সাথে রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। ১৯৭১ সালে ২৬শে মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। তারপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মজিবনগরে স্বাধীন গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে মূখ্য রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দিন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় আজকের যেটা মেহেরপুর সেখানে এই সরকার প্রথম শপথ গ্রহণ করে। আনসার বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জাতির পিতার ডাকে সারা দিয়ে হাজার হাজার আনসার বাহিনী তাদের হাতে যা কিছু ছিল সব নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন।

তিনি বলেন, প্রায় ৬১ লক্ষ সদস্য বিশিষ্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহনীতে দুটি মহিলা ব্যাটালিয়ন একটি বিশেয়িত আনসার গ্রাম ব্যাটালিয়ন ৪২টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এখানে ১৬টি ব্যাটালিয়ন সদস্যরা পার্বতী এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা উত্তরণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কত কষ্ট পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এখানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন অথবা শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের কথাও স্বরণ করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ১৯৯৬ সাল থেকে সরকারে এসেছি তখন থেকে আনসার বাহিনীর উন্নয়নের বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নিয়েছি। আজকে এ বাহিনী শুধু দেশে নয় বিদেশে সব জায়গায় সুনাম অর্জন করে যাচ্ছে। এ বাহিনী গ্রাম পর্যায়েও কাজ করে থাকেন। আমরা গ্রাম উন্নয়নেও বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নিয়েছি। আমার গ্রাম আমার শহর, আমার বাড়ি আমার খামারসহ বিভিন্ন কর্মসূচী প্রতিটি ক্ষেত্রে আনসার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন কার্যক্রলাপ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তাছাড়া দুর্যোগ ও বিপাকে আনসার বাহিনী নেমে আসে এবং সহযোগিতা করে। কখনো ঝড়, বন্যা, ঘুর্ণিঝড়সহ যেকোনো দুর্যোগ প্রবল ঘটনা ঘটলে এ বাহিনী অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যান।

আনসার বাহিনীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আমরা পুরাতন আইন পরিবর্তন করে নতুন আইন করেছি। আনসার ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৩ ইতিমধ্যে আমরা পাশ করে দিয়েছি। এতে করে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের মতো প্রথম দিন থেকেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি। এর পূর্বে আনসারদের স্থায়ী হতো না। আমি ১৯৯৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমভাবে এই স্থায়ী হওয়ার কাজ শুরু করি। এখন নতুন আইনে সেই সুবিধা করে দিয়েছি। উপজেলা আনসার কোম্পানী কমান্ডার, ইউনিয়ন প্লাটো কমান্ডার, ইউনিয়ন দলনেতা, ইউনিয়ন দলনেত্রীদের আইডি কার্ড প্রদান এবং বার্ষিক সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া আনসার সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধি ও রেশম সামগ্রী উপকরণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নারী বিজিবি সদস্যদের মতো অত্যান্ত আধুনিক ডিজাইনের নতুন শাড়িও আমি প্রবর্তন করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজকে আমরা বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সরকার গঠন করি। দেশ পরিচালনা করে আজকে বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় নিয়ে এসেছি। ২০২৬ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু হবে। তবে আমাদের আরো আন্তরিকতার সাথে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে যে স্মার্ট বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো। আমরা চাই আমাদের প্রত্যেকটা বাহিনী বিশেষ করে আনসার বাহিনীও সে স্মার্ট বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশের উন্নয়নের সাথে একাত্ব হয়ে কাজ করে যাবে।

তিনি আনসার ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের বলবো আপনাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবেন। সকলকে কঠোর ভাবে পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। জন নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে যেকোনো অশুভ তৎপরতা তা মোকাবেলা করতে হবে। সততা ও আন্তরিকতার সাথে আপনারা সেটা রুখে দাঁড়াবেন। জনগণ এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা, শান্তি পরিবেশ ধরে রাখা এটা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা। কাজেই সেই পরিবেশ ধরে রাখার জন্য সকলকে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ¦ এ্যাড. আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সিনিয়র সচিব, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বিপিএএ, বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, পিএইচডি, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: নাজিম উদ্দিন, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মোঃ নূরুল হাসান ফরিদী, বাহিনীর উপমহাপরিচালকবৃন্দ, অন্যান্য কর্মকর্তা ও আনসার- ভিডিপি সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, সিনিয়র সচিববৃন্দসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথি বৃন্দ।


আরও খবর



মেহেরপুরে লেট ব্লাইটের আক্রমণে লোকশানের মুখে আলু চাষিরা

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৩৮জন দেখেছেন

Image

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ-মেহেরপুরে গাংনীতে চলতি মৌসুমে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে আলু খেতে দেখা দিয়েছে পচন রোগ (লেট ব্লাইট)। প্রতিকার হিসেবে ছত্রাকনাশক ও বিষ প্রয়োগ করেও দমন করা যাচ্ছে না এ রোগ। এতে আলুর ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। ফলে আলু চাষের লক্ষ‍্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। কৃষি বিভাগ বলছে, বৈরী আবহাওয়ার কারনে এমনটি ঘটছে, তবে বৈরী আবহওয়া কেটে গেলে এ রোগের সমস্যা থাকবে না। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ৮৬০হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে।

গেল মৌসুমে ভাল দাম পাওয়ায় চাষিরা এবারও আলু চাষে আগ্রহী হন। সে অনুযায়ি চাষিদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চাষিরা দেশি জাতের আলু আউশা, চল্লিশা, দোহাজারী লাল, পাটনাই, সাদা গুটি শীল বিলাতী ও সূর্যমূখী আবাদ করে থাকেন। উন্নত জাতের আলুরও চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, সিন্দুরী, ক্লিওপেট্রা বারি আলু-১ (হীরা), বারি আলু- ৪ (আইলসা), বারি আলু-৭ (ডায়ামন্ট), বারি আলু-১৮ (বারাকা), বারি আলু-১৯ (বিন্টজে) এবং বারি আলু-২০ (জারলা) জাত উল্লেখ্য। তবে দেশি জাতগুলো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। দেখা গেছে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে দেশি জাতের আলুর ফলন কমে যায়। বীজের মাধ্যমেই এ রোগটি ছড়িয়ে থাকে।

জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেতে দেখা দিয়েছে গাছ পুড়া রোগ (লেট ব্লাইট) এতে গাছ মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। তবে কোন সুফল মিলছে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা। আবার অনেকেই কি কারনে রোগ বালাই দেখা দিয়েছে তার কারন খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে আলুর ফলন কমে যাচ্ছে এটা নিশ্চিত। বিশেষ করে বামন্দী মটমুড়া বালিয়াঘাট হাড়াভাঙ্গাসহ সীন্ত অঞ্চলে এ রোগের ভয়াবহতা বেশি।

কৃষকরা বলছেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে ছত্রাকনাশক ও ওষুধ স্প্রে করেও কোনো সুফল মিলছে না।আলুর গাছ নির্ধারিত সময়ের আগেই মরে যাচ্ছে। ফলে মাটির নিচে থাকা আলু আকারে ছোট হয়ে থাকছে। আলু গাছ মরে যাওয়ার কারনে আকারে সেই ছোট আলু তুলে ফেলা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে চার ভাগের এক ভাগ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষতির মুখে বর্গা চাষিরা।

এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আলু আবাদ করতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সেখানে আলু বিক্রি করে ২০ হাজার টাকাও জমছে না।

রামনগর গ্রামের আলু চাষি মুরাদ জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এতে প্রায় দুই লক্ষ টাকার মত খরচ হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে আলু ভালো আছে। বাকি তিন বিঘা আলু গাছ পুড়ে গেছে। এসব আলু আর বড় হবে না। তাই বাধ্য হয়ে আলু তুলে ফেলতে হচ্ছে।

একই কথা জানালেন আলু চাষি সাইফুল ইসলাম। তার সাড়ে চার বিঘা জমির সব আলু লেট ব্রাইট রোগে আক্রান্ত। এ মৌসুমে মোটা টাকার লোকসান হবে বলেও জানান তিনি।

আমঝুপির আলু চাষি আঃ আওয়াল জানান, মৌসুমের শুরুতে ৭৫ টাকা কেজি দরে আলুর বীজ কিনে আলু চাষ করেছিলেন তিনি। দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। রোগাক্রান্ত আলু ছোট অবস্থায় তুলে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে অর্ধেকে। এবার আলুর বাজারদর খুব ভালো ছিলো তারপর ও উৎপাদন কম হওয়াই লোকশানে পড়তে হবে।

মেহেরপুর কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, চলতি মৌসুমে ৮৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। শুরুতে আবহওয়া অনুকূলে থাকাই গাছ খুব ভালো হয়েছিলো। কিন্তু জানুয়ারি মাস থেকে তীব্র ঠা-া ও কুয়াশায় আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইটের আক্রমণে গাছ মরে যাচ্ছে। যার ফলে আক্রান্ত আলুর ফলন কমে গিয়েছে। আসলে বৈরী আবহওয়ার কারনে এমনটি হয়েছে।

এ আবহাওয়া কেটে গেলে এ রোগের আক্রমণ কমে যাবে। তাছাড়া চাষিদেরকে বিভিন্ন বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


আরও খবর

গাংনীতে বালাইনাশক ব্যবহারে উদাসিন কৃষকরা

শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আজ পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৫ বছর

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৮জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:আজ ১৫ বছর পূর্ণ হলো পিলখানা ট্রাজেডির, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে তৎকালীন বিডিআর সদস্যরা বিদ্রোহ করেন। নৃশংস সেই দিনটিকে পিলখানা ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করা হয়।। সেদিন সবচেয়ে বেশি নৃশংসতা চালানো হয় ঢাকায় বিডিআর সদর দপ্তরে। এ ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে তৎকালীন বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদও ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাকে নৃশংসতম বলে বর্ণনা করা হয়।

নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি কোনো মামলার। এনিয়ে করা দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলার বিচার আপিল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ। ২০১১ সালে শুরু হওয়া বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার ঢাকার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর ছয় বছরে সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি হয়নি। তবে চলতি বছরের মধ্যে আপিল শুনানি শুরু হতে পারে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিপক্ষের প্রত্যাশা, আপিল বিভাগে বিচারক বাড়িয়ে আলাদা বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।

বিডিআর পুনর্গঠন ও বিজিবি গঠন: পিলখানায় এ বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়। শুরু হয় বিডিআর পুনর্গঠনের কাজ। বিডিআরের নাম, পোশাক, লোগো ও সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। জাতীয় সংসদে ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০’ পাস হয়। ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি বাহিনীর সদর দপ্তরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নতুন পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন এবং মনোগ্রাম উন্মোচন করেন। এর মধ্যদিয়ে শুরু হয় এ বাহিনীর নতুন পথচলা।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাক্রম:- ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ২ মিনিট: পিলখানায় দরবার শুরু। দরবারে মোট উপস্থিত ছিলেন দুই হাজার ৫৬০ জন।

৯টা ২৬ মিনিট: ডিজির বক্তব্য চলাকালে মঞ্চের বাম দিকের পেছন থেকে দুজন বিদ্রোহী অতর্কিত মঞ্চে প্রবেশ করেন। এদের একজন ছিলেন সশস্ত্র। বিদ্রোহ শুরু হয়।

৯টা ৩০ মিনিট: ডিজি নিজে প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ অন্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে দ্রুত সেনা হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান।

১০টা ১৫ মিনিট: র‍্যাবের একটি দল পিলখানার ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফটকে পৌঁছায়।

১০টা ৩০ মিনিট: বিদ্রোহীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে দরবার হলে ঢোকেন এবং কর্মকর্তাদের বের হয়ে আসার নির্দেশ দেন। ওইসময় ডিজিকে বৃত্তাকারে ঘিরে কর্মকর্তারা মঞ্চের পেছন দিক থেকে বের হয়ে আসেন।

আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিট: ডিজির নেতৃত্বে কর্মকর্তারা এক সারিতে দরবার হল থেকে বের হয়ে মাত্র সিঁড়িতে কয়েক পা দিয়েছেন, তখনই বাইরে দাঁড়ানো মুখ বাঁধা সৈনিকরা ব্রাশফায়ার করে। মুহূর্তে ঢলে পড়েন ডিজিসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।

বেলা ১১টা: বিদ্রোহীরা ম্যাগাজিন ভেঙে গুলি-বারুদ সংগ্রহ করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্র লুট করেন তারা। ১১টা নাগাদ সেনাবাহিনীর একটি দল ধানমন্ডির মেডিনোভা ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নেয়। বিদ্রোহীরা ১৬টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। বাইরে থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পিলখানায় বিদ্রোহীদের প্রতি অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট ছাড়া হয়। এসময় হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। হেলিকপ্টারে ছয়টি গুলি লাগে।

১২টা ৩০ মিনিট: ৩ নম্বর ফটকের সামনে বিডিআরের পক্ষে শতাধিক মানুষের একটি মিছিল হয়। এরপর বিদ্রোহীরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। তারা মাইকে জানান, আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একা আসতে হবে।

১টা ৩০ মিনিট: আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাদা পতাকা নিয়ে ৪ নম্বর ফটকের সামনে যান প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সরকারি দলের হুইপ মির্জা আজম।

বিকেল ৩টা: প্রতিমন্ত্রী নানক, সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস ও হুইপ মির্জা আজমের সঙ্গে ফটকের সামনে অবস্থানরত বিডিআর বিদ্রোহীরা কথা বলতে রাজি হন। তারা বিদ্রোহীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে রাজি করান।

৩টা ৪০ মিনিট: তারা ১৪ সদস্যের বিডিআর প্রতিনিধিদলকে নিয়ে সরকারি অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করেন। যমুনায় তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তখন যমুনায় তিন বাহিনীর প্রধান, আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যা ৬টা: আলোচনা শেষে জাহাঙ্গীর কবির নানক অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, বিডিআর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহী সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন এবং অস্ত্র জমা দিয়ে তাদের ব্যারাকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

৬টা ৪৫ মিনিট: যমুনা থেকে বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে নানক ও মির্জা আজম পিলখানায় ফেরেন।

সন্ধ্যা ৭টা: প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকে গেজেট আকারে প্রকাশের দাবি করেন এবং আগের মতো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন জওয়ানরা।

রাত ৮টা: ধানমন্ডির হোটেল আম্বালা-ইনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে বিদ্রোহীদের আরেকটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক শুরু। নানক ও মির্জা আজম, পুলিশের আইজি, র‌্যাবের ডিজি, গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও ছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যার পর পিলখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কর্মকর্তাদের মরদেহ সরানো শুরু ও পুঁতে ফেলা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত ১টা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী ও আইজিপি পিলখানার ভেতরে যান এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

রাত ১টা ৩০ মিনিট: বিদ্রোহীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কিছু অস্ত্র সমর্পণ করেন।

২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা ১০ মিনিট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আটকে পড়া ১৫ জন জিম্মিকে বের করে আনেন।

সকাল সাড়ে ৯টা: মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও সংসদ সদস্য তাপস বিডিআর সদর দপ্তরের ৪ নম্বর ফটকে উপস্থিত হন।

সকাল ১০টা: যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ ও মহাজোটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠক শুরু।

বেলা ১১টা ৩০ মিনিট: প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক।

দুপুর ১টা ৩০ মিনিট: সংসদ সদস্য মাহবুব আরা ও সেগুফতা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল পিলখানায় যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা তিন সেনা কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের বের করে আনেন। একই সময়ে হোটেল আম্বালায় মতিয়া চৌধুরী ও এরশাদসহ অন্যদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের বৈঠক ভেঙে যায়।

বিদ্রোহীদের দুপুর ২টার মধ্যে সব অস্ত্র জমা দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় সরকার। পিলখানার মূল ফটকে জওয়ানদের আবার গুলিবর্ষণ।

দুপুর ২টা ৩০ মিনিট: সরকারের ১২ সদস্যের মধ্যস্থতাকারী কমিটি গঠন। আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে এই কমিটি পিলখানায় যায়। কমিটি বিদ্রোহীদের সঙ্গে হোটেল আম্বালায় আবার বৈঠক করে।

টেলিভিশন ও বেতারে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচার। বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভাষণের পর বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।

বিকেল ৪টা: হোটেল আম্বালায় অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের বৈঠক। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নানক ও মির্জা আজম পিলখানার ভেতরে যান।

বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ শুরু।

সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট: সমর্পিত অস্ত্র হেফাজতে নিতে পিলখানায় পুলিশের প্রবেশ। রাতে পুলিশ পিলখানায় অবস্থান নেয়।

রাত ৮টা ৩০ মিনিট: পিলখানা থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

২০০৯ সালের বর্বরোচিত এ ঘটনার পর দুটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এরমধ্যে বিস্ফোরক মামলাটির শুনানি এখনো নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে ৮৫০ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৭৮ জনকে খালাস দেন আদালত। রায় ঘোষণার আগেই মারা যান চার আসামি।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিপরীতে আসামিরা উচ্চ আদালতে যান। শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর ৫৫২ জনকে বিচারের আওতায় এনে বাকি ২৮৩ জনকে খালাস দেন আদালত। উচ্চ আদালতে শুনানি চলাকালে আরও ১১ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট ৮৩৫ জনের বিরুদ্ধে শুনানি হয় আলোচিত এ মামলায়।

নিম্ন আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে খালাস দেন হাইকোর্ট। এরপর আসামিদের অনেকেই আপিল বিভাগে আপিল করেন, যার শুনানি এখনো শুরু হয়নি। আর বিস্ফোরক মামলাটির বিচার এখনো চলছে নিম্ন আদালতেই।


আরও খবর



সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বোর্ডের সিদ্ধান্তে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯৭জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জানিয়েছেন সংসদীয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে।

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিবের জামিন বা বিচারের সব সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয়, তা সরকারের বিষয় না, বলেন ওবায়দুল কাদের ।

এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, দলের স্বার্থেই পরাজিত প্রার্থীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, উপদপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী ও আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



জয়পুরহাটে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার কাপ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮৭জন দেখেছেন

Image
এস এম শফিকুল ইসলাম,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃমাদকের বিরুদ্ধে  জয়পুরহাটে পুলিশ সুপার কাপ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) সকালে ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলি ব্রিজ থেকে দৌড় শুরু হয়ে কালেক্টরেট মাঠে এসে শেষ হয়। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক  মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামুন খান চিশতি। জেলা পুলিশের আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় কিং কুইন জিম এই প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করে। 
 
দৌড় শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এড সামছুল আলম দুদু। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামুন খান চিশতির সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক মাহবুব মোরশেদ লেবু প্রমুখ।

পাবনা জেলার ইমরান হোসেন, জয়পুরহাটের আহসান হাবিব ও নীলফামারী জেলার শ্যামল চন্দ্র রায় যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে। খেলায় দেশের বিভিন্ন জেলায মোট ১৫০ জন দৌড়বিদ অংশ নেন।

আরও খবর

সন্দ্বীপ থানার ওসি কবীর পিপিএম পদকে ভূষিত

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




গলাচিপায় পরিচয়হীন মান্তা জেলেদের ভাগ্য বদলে দিলো সিডফ

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯৫জন দেখেছেন

Image
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর গলাচিপায় সোমবার সকাল ১১টায় স্থানীয় সিডফ  কার্যালয়ের সভা কক্ষে মান্তা নারী-পুরুষ জেলেদের নেতৃত্ব নির্মান ও ক্ষমতায়ন প্রকল্প এর কার্যক্রম সম্পর্কে এক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সহযোগিতা করেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশ । উক্ত সেমিনারে সভাপত্বিত করেন সিনিয়র সাংবাদিক শংকর লাল দাস । আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক মো: শাহীন মিয়া , সিডফ প্রোজেক্ট ম্যানেজার কবিরুল ইসলাম , সিডফ মনিটরিং অফিসার মনিরুজ্জামান মামুন , সাংবাদিক খালিদ হোসেন মিল্টন ,জাকির হোসাইন , রিয়াদ হোসাইন , হাসান এলাহি , সোহেল আরমান , কমল সরকার , শিশিরসহ গণ্যমান্য  ব্যক্তিবর্গ ও মান্তা জেলেরা উপস্থিত ছিলেন  । উল্লেখ্য যে, মান্তা সম্প্রদায়ের পেশা হলো নদীতে বর্শি ও জাল দ্বারা মাছ ধরা। এদের ছিলো না কোন পরিচয়, ছিল না কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা। সিডফ উপজেলা ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে কাজ করেন।ইউনিয়ন গুলো হলো- ডাকুয়া , গলাচিপা সদর ,রতনদি তালতলী ও গলাচিপা পৌরসভা ও চরমোন্তাজ , এতে ৫ শত মান্তা জেলেদের মধ্যে নাগরিক কার্ড , জন্ম নিবন্ধন  ও ছেলে  মেয়েদের মধ্যে লেখা –পড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত  স্থাপন করেন। উপকার ভোগী সোহেল ও সাহাভানু জানান, আমরা কিছুই জানতাম না , নৌকা ও জালই ছিল আমাদের জীবন । সিডফ আমাদের জন্ম নিবন্ধন , টিকা ও ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে এবং ঝড় - বন্যা হলে আমাদেরকে মোবাইলে মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেন। 

আরও খবর

আমতলীতে স্থানীয় সরকার দিবস উদযাপন

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪