সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
সারাবাংলা জিয়াউর রহমান কল্যাণমুখী ও সততার রাজনীতির চিরন্তন প্রতীক: কেসিসি প্রশাসক
logo

জিয়াউর রহমান কল্যাণমুখী ও সততার রাজনীতির চিরন্তন প্রতীক: কেসিসি প্রশাসক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে নগর ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু শহীদ জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, "জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক অবিচল আস্থার প্রতীক। তিনি রাজনীতিতে এমন এক সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করে গেছেন, যা তাকে যুগ যুগ ধরে প্রাসঙ্গিক রাখবে।" তিনি আরও বলেন, জীবদ্দশায় জিয়াউর রহমান সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে কীভাবে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হয় তা শিখিয়ে গেছেন। তাঁর এই আদর্শ ধারণ করেই সবাইকে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।

আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের অগ্রযাত্রা
​জিয়াউর রহমানের খুলনায় আগমনের স্মৃতিচারণ করে প্রশাসক বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া মেধাবীদের রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাঁদের বড় সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনমানুষের কল্যাণে একটি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই উপহারে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীগণ ঈদুল আজহা পরবর্তী বর্জ্য অপসারণে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

​বহুদলীয় গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের মহানায়ক
​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শহীদ জিয়ার জীবনীর ওপর আলোকপাত করেন কেসিসি’র সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন। তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল:

​ধর্মীয় মূল্যবোধ: সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ অন্তর্ভুক্তকরণ।

আঞ্চলিক কূটনীতি: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য 'সার্ক' (SAARC) গঠন।​কৃষি ও অর্থনৈতিক বিপ্লব: খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে খাল খনন কর্মসূচি, সেচ সম্প্রসারণ এবং উচ্চফলনশীল বীজ ও সারের ব্যবহার জনপ্রিয় করা।

​স্বনির্ভরতা: ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ ও ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী’ গঠন এবং রফতানিমুখী অর্থনীতি জোরদারে বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপনে প্রণোদনা।

​পররাষ্ট্রনীতি: পরাশক্তির বলয় থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করা।

বক্তারা উল্লেখ করেন, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ও নারীদের সামরিক বাহিনীতে মোতায়েনের মতো সিদ্ধান্তগুলো দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে, যা তাঁর গঠিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি)-কে দেশের সর্ববৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও উপস্থিতিবৃন্দ
​কেসিসি’র সচিব মো. রেজা রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, কেসিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা এবং এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কেসিসি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন কেসিসি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন কাশেমী।

​অনুষ্ঠানে কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলরবৃন্দ (মো. মাহবুব কায়সার, মো. শমসের আলী মিন্টু, এইচ এম আবু সালেক প্রমুখ), বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ (মীর কায়ছেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন প্রমুখ) এবং কেসিসি’র বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খুঁজুন