সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
জাতীয় বাংলাদেশে কীভাবে বেনজীরকে ফিরিয়ে আনা হবে?
logo

বাংলাদেশে কীভাবে বেনজীরকে ফিরিয়ে আনা হবে?

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে-দুবাই থেকে এমন একজন হাই-প্রোফাইল আসামিকে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে? আন্তর্জাতিক আইন, প্রত্যর্পণ চুক্তি, ইন্টারপোলের সহযোগিতা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ঠিক কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়? আর পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবে কতটা জটিল ও সময়সাপেক্ষ?

বেনজীর আহমেদকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা, সীমাবদ্ধতা এবং আইনি বাস্তবতাকে।

কূটনৈতিক ও আইনি সমীকরণ: বিদেশে আটক যেকোনো অপরাধীকে দেশে কতটা দ্রুততার সঙ্গে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ কতটুকু গুরুতর, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কতটুকু সক্রিয় এবং তাদের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে কিনা। এক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় বা বহিঃসমর্পণ চুক্তি থাকলে অপরাধীকে ফেরানো সহজ হয়।

ইন্টারপোলের ভূমিকা: প্রাথমিক পর্যায়ে আসামি পলাতক হলে দেশকে ইন্টারপোলের শরণাপন্ন হতে হয়। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে 'রেড নোটিশ' জারির আবেদন করা হয়; যার ভিত্তিতে অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হলে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকে সহজ করে বহিঃসমর্পণ চুক্তি, যার মাধ্যমে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই দেশের সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামিকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানায়। সেদেশের আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং তা শাস্তিযোগ্য হলে আসামিকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেন আদালত।

বিকল্প পথ: তবে চুক্তি না থাকলেও মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স বা এমএলএ (গখঅ) চুক্তির মাধ্যমে আসামিকে দেশে আনা সম্ভব। অথবা অভিযুক্ত যদি জাল পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে অবস্থান করেন, তবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাকে দেশে পুশব্যাক বা বিতাড়িত করা সম্ভব।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া সবচেয়ে কার্যকরী?

২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার অধীনে অপরাধী উভয় দেশের আইন অনুযায়ী কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ডের উপযোগী হলে এবং দণ্ডপ্রাপ্তের ক্ষেত্রে অন্তত ছয় মাসের সাজা বাকি থাকলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। আর্থিক জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ পাচার, দুর্নীতি, খুন ও মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধগুলো এই চুক্তির আওতাভুক্ত।

যেহেতু বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় প্রতারণা, দলিলের জালিয়াতি, অপরাধে সহায়তাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা এই চুক্তির আওতায় পড়বে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি এরমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মন্ত্রণালয় এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে সাধারণত গোটা প্রক্রিয়ায় ৬ মাস থেকে ১ বছরের মতো সময় প্রয়োজন হলেও, বিশেষ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা হলে তা দ্রুত শেষ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিশেষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বা 'ফাস্ট-ট্র্যাক' আলোচনার মাধ্যমে এই সময় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

খুঁজুন