শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
সারাবাংলা যমুনার অবৈধ বালু মাফিয়া চক্র কি প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে? প্রশ্ন আলোকদিয়াবাসীর
logo

যমুনার অবৈধ বালু মাফিয়া চক্র কি প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে? প্রশ্ন আলোকদিয়াবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক মানিকগঞ্জঃ মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চরের বাসিন্দাদের মধ্যে এখন একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—যমুনার বালু মাফিয়া চক্র কি দেশের প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে কি? স্থানীয়দের অভিযোগ, মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০-কে কার্যত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিবালয় উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী বাংলাদেশ জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে।

স্থানীয়দের দাবি,জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমির পাশেই ৪ থেকে ৫টি অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে যমুনা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব ড্রেজার থেকে উত্তোলিত বালু শতাধিক বাল্কহেডে লোড-আনলোড করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুরো কার্যক্রমটি প্রায় ২০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনীর পাহারায় পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

আজ শনিবার (১৩ জুন২৬ইং)সকাল ৮টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়,জাতীয় গ্রিড টাওয়ার সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কয়েকশত বসতবাড়ি ও কয়েক হাজার বিঘা আবাদি জমির নিকটবর্তী স্থান থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এভাবে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি, বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়া এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ফলে প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোনো নদী, খাল বা জলাশয় থেকে যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া জনস্বার্থ, পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা ও দায়িত্বও আইন দ্বারা নির্ধারিত।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা-র কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন অনুমোদনবিহীন বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় ইউএনওকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি জেলা প্রশাসনের অবস্থান সত্যিই ‘জিরো টলারেন্স’ হয়ে থাকে, তাহলে দিনের আলোতে সশস্ত্র পাহারায় ড্রেজার বসিয়ে শতাধিক বাল্কহেডে বালু পরিবহনের মতো কর্মকাণ্ড কীভাবে অব্যাহত থাকে? কারা দিচ্ছে এই অবৈধ কার্যক্রমের আশ্রয়-প্রশ্রয়? আর কেনই বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের অভিযোগ উঠছে?

আলোকদিয়াবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জাতীয় গ্রিড টাওয়ার ও জনবসতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হোক। অন্যথায় যমুনা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

খুঁজুন