এক সময় খুলনার শেখপাড়া চামড়াপট্টি ছিল ব্যবসায়ীদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর এক জনপদ। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে সেই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। স্থায়ী মার্কেটের অভাব, ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া এবং ঋণের চাপে পিষ্ট হয়ে খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে বেছে নিয়েছেন অন্য কাজ, কেউবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ধুঁকছেন।
সংকটের মূলে আবাসন ও বাজার সমস্যা:
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সাত বছরেও খুলনায় চামড়া বেচাকেনার জন্য কোনো স্থায়ী বাজার বা আধুনিক মার্কেট গড়ে ওঠেনি। আগে যেখানে প্রায় ৭০ জন ব্যবসায়ী দাপটের সাথে ব্যবসা করতেন, এখন সেখানে টিকে আছেন মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন।
দোকান বন্ধ: বাড়িওয়ালারা চামড়া রাখতে অনীহা প্রকাশ করায় বন্ধ হয়ে গেছে একের পর এক দোকান।
আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ: সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আধুনিক কসাইখানার পাশে মার্কেট তৈরির আশ্বাস দেওয়া হলেও তার প্রতিফলন মেলেনি বাস্তবে।
সংরক্ষণের অভাব: কোরবানির ঈদে বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
ট্যানারির কাছে আটকে আছে ভাগ্য:
খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম ঢালী আক্ষেপ করে বলেন, "ব্যবসায়ীরা গয়না বিক্রি করে, ধারদেনা করে চামড়া কেনেন। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা কোটি কোটি টাকা বকেয়া রেখে আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছেন।" বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, আবার অনেকে ভ্যানে করে পণ্য বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি ও বর্তমান বাস্তবতা:
আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাদের স্পষ্ট দাবি: স্থায়ী মার্কেট: চামড়া সংরক্ষণ ও কেনাবেচার জন্য অবিলম্বে একটি আধুনিক স্থায়ী মার্কেটের ব্যবস্থা করা।
ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ: সরকার নির্ধারিত মূল্যে যেন চামড়া কেনাবেচা করা যায়, তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। বকেয়া আদায়: ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ।"আগে আমরা মৌসুমে ৬০-৭০ হাজার চামড়া সংগ্রহ করতাম। এখন ব্যবসা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। জরুরি ভিত্তিতে মার্কেট না হলে এই শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব নয়।" কার্তিক ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক, খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি।
প্রশাসনের বক্তব্য:
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে এবং তাদের সমস্যার কথা বিস্তারিত জানালে সিটি কর্পোরেশন একটি স্থায়ী চামড়া মার্কেট স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।
খুলনার এই প্রাচীন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এখন সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই শেষ ভরসা।
অস্তিত্ব সংকটে খুলনার চামড়াশিল্প: ঐতিহ্যের 'চামড়াপট্টি' এখন কেবলই স্মৃতি
অস্তিত্ব সংকটে খুলনার চামড়াশিল্প: ঐতিহ্যের 'চামড়াপট্টি' এখন কেবলই স্মৃতি
এক সময় খুলনার শেখপাড়া চামড়াপট্টি ছিল ব্যবসায়ীদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর এক জনপদ। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে সেই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। স্থায়ী মার্কেটের অভাব, ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া এবং ঋণের চাপে পিষ্ট হয়ে খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে বেছে নিয়েছেন অন্য কাজ, কেউবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ধুঁকছেন। সংকটের মূলে আবাসন ও বাজার সমস্যা:ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সাত বছরেও খুলনায় চামড়া বেচাকেনার জন্য কোনো স্থায়ী বাজার বা আধুনিক মার্কেট গড়ে ওঠেনি। আগে যেখানে প্রায় ৭০ জন ব্যবসায়ী দাপটের সাথে ব্যবসা করতেন, এখন সেখানে টিকে আছেন মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন।দোকান বন্ধ: বাড়িওয়ালারা চামড়া রাখতে অনীহা প্রকাশ করায় বন্ধ হয়ে গেছে একের পর এক দোকান। আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ: সিটি কর্পোরেশনের
পক্ষ থেকে আধুনিক কসাইখানার পাশে মার্কেট তৈরির আশ্বাস দেওয়া হলেও তার প্রতিফলন মেলেনি বাস্তবে। সংরক্ষণের অভাব: কোরবানির ঈদে বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ট্যানারির কাছে আটকে আছে ভাগ্য:খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম ঢালী আক্ষেপ করে বলেন, "ব্যবসায়ীরা গয়না বিক্রি করে, ধারদেনা করে চামড়া কেনেন। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা কোটি কোটি টাকা বকেয়া রেখে আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছেন।" বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, আবার অনেকে ভ্যানে করে পণ্য বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ও বর্তমান বাস্তবতা:আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাদের স্পষ্ট দাবি: স্থায়ী মার্কেট: চামড়া সংরক্ষণ ও কেনাবেচার জন্য অবিলম্বে একটি আধুনিক
স্থায়ী মার্কেটের ব্যবস্থা করা। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ: সরকার নির্ধারিত মূল্যে যেন চামড়া কেনাবেচা করা যায়, তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। বকেয়া আদায়: ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ।"আগে আমরা মৌসুমে ৬০-৭০ হাজার চামড়া সংগ্রহ করতাম। এখন ব্যবসা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। জরুরি ভিত্তিতে মার্কেট না হলে এই শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব নয়।" কার্তিক ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক, খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি। প্রশাসনের বক্তব্য:খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে এবং তাদের সমস্যার কথা বিস্তারিত জানালে সিটি কর্পোরেশন একটি স্থায়ী চামড়া মার্কেট স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। খুলনার এই প্রাচীন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এখন সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই শেষ ভরসা।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত