বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
রাজধানী জুলাই যোদ্ধা শাহরিয়ার সীমান্ত রাব্বি
logo

জুলাই যোদ্ধা শাহরিয়ার সীমান্ত রাব্বি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-‎আমি মো: শাহরিয়ার সীমান্ত রাব্বি। বর্তমানে Southeast University তে Pharmacy Department এর ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত আছি। আমি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে কোটা আন্দোলনের সাথে প্রথম থেকে সম্পৃক্ত ছিলাম না, কারণ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকুরির প্রতি খুব একটা আকর্ষণ থাকে না এবং আমার ক্ষেত্রেও তেমনটাই ছিল।

তবে ১৪জুলাই রাতে এবং ১৫ জুলাই দিনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সমগ্র বাংলাদেশের প্রাইভেট-পাবলিক শিক্ষার্থীদের একসাথে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। আমাদের ভাই-বোনদের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের অমানুষিক হামলা আমাদের হৃদয়ে আঘাত করে এবং  আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে। এর প্রতিবাদে আমরা ১৬জুলাই আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে নাবিক্সো মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করি।

আমাদের উপর সেখানেও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনি ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়, তবে আমরা সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়াতে তারা পালাতে বাধ্য হয়। অত:পর দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলে এবং কারফিউ জারি করলে আমি আমার এলাকা যাত্রাবাড়ীতে আটকা পরি।

এরপর আমি যাত্রাবাড়ী থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাব এমন মন মানষিকতা নিয়ে নিজের পরিচিত বন্ধু বান্ধব, ছোট ভাই, বড়ভাই সবাইকে নিয়ে আমরা একটি গ্রুপ বানিয়ে ফেলি। এরপর সকলের নেটওয়ার্কিয়ে আমাদের গ্রুপটি খুব দ্রুত বিশাল রুপ নেয়। আমরা শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, দনিয়া কলে, এ.কে স্কুল এন্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসা সহ যাত্রাবাড়ী এলাকার সকল শিক্ষার্থীরা মিলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করি।

১৮ জুলাই পুলিশ ছাত্রদের উপর নৃশংস হামলা চালালে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা যাত্রাবাড়ী কাজলা টোলপ্লাজা ভাংচুর করে ও আগুন দিয়ে দেয়। সেদিন যাত্রাবাড়ীতে সর্বোচ্চ হতাহতের ঘটনা ঘটে, আমার অনেক বন্ধু এবং কাছের ছোটভাই সেদিন আহত এবং নিহত হয়। কিছু শটগানের ছিটা গুলি আমার শরীরেও লাগে।

১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর সন্নিকটে কদমতলী থানা ও তার আশেপাশের ভবন থেকে মিলিটারি গ্রেড অস্ত্র দিয়ে ছাত্রদের উপর গুলি চালানো হয়। আমার চোখের সামনে সেদিন কমপক্ষে ৫০-৬০ জন গুরুতর আহত  হয় এবংএর  অনেকে মারা যায়। আমরা তখন কদমতলী থানা ঘেরাও করি এবং পাশের ৬তলা ভবনের ৪তলা হতে স্নাইপারধারী ২পুলিশ সদস্যকে পাওয়া যায়। তাদের বুলেট শেষ হয়ে আসলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হয় ছাত্রদের এগিয়ে যেতে ও থানা দখলে নিতে।

এরপর পুলিশদের গণপিটুনি দেয় ছাত্রজনতা। আর স্নাইপারধারী দুই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছাত্রজনতার রোষে নিহত হয়। সেদিন যাত্রাবাড়ী এলাকার সকল মানুষের যৌথ আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী স্বাধীন হয়। এর পরবর্তীতে কারফিউ আর্মির হাতে দিলেও যাত্রাবাড়ীর সকল জনগন কারফিউ উপেক্ষা করে রাস্তায় অবস্থান করে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে আর কোন হতাহত হয় নি।

তবে আন্দোলনের শেষদিন অর্থাৎ ৫ই আগষ্ট যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন উচু উচু ভবন থেকে  স্নাইপার রাইফেল ব্যাবহার করে অনেক ছাত্র জনতাকে শহিদ করে শেষ মরণকামড় দেয় ততকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পালিত কুকুরের দল। আমার এই ২১দিনের আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় আমার মনে একটা দিনও মরণের ভয় কাজ করে নাই। আমার বাবা-মা একদিনও আমাকে বাধা দেয় নাই।

প্রতিদিন আমাকে দোয়া পড়ে ফু দিয়ে কপালে চুমু দিয়া বাসা থেকে বিদায় দিত, যেন এটাই শেষ বিদায় এবং বাসায় ফিরলে কাদতে কাদতে জড়িয়ে ধরত। হয়তো তাদের দোয়াতেই আজ বেচে আছি, নইলে মৃত্যুকে তো অনেক কাছ থেকে দেখে এসেছি। আমার পাশের অনেক জুলাই যোদ্ধাই আজ আমার সাথে নেই.......

  -খবর প্রতিদিন/ সি.ব

 

খুঁজুন