উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আব্দুস সবুর, তানোর: ||
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ খাদ্য গুদামে চার সিন্ডিকেটে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই সাথে বরাদ্দের ধান সংগ্রহ না করে আরেক সিন্ডিকেট চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন গুদাম কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় শনিবার সকালের দিকে স্থানীয় এমপি কামারগাঁ সফরে গেলে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম কর্মকর্তার অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে অবহিত করে দ্রুত বদলির দাবি জানান বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন। ফলে গুদাম কর্মকর্তা আতিক কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে বিএনপি পন্থী সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করেছেন। এতে করে প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকরা গুদামে ধান দেয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে ব্যাপক লোকসান গুনেছেন। জানা গেছে, উপজেলার কলমা ও কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ৫৫৫ মেট্রিকটন ধান কিনার বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩৬ টাকা কেজি দরে কার্ড ধারী কৃষকরা জনপ্রতি তিন মে:টন করে ধান দিতে পারবেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক চার নেতার সাথে সিন্ডিকেট করে ধান কিনেছেন গুদাম কর্মকর্তা আতিক। ৩৫৫ মে:টন ধান সংগ্রহ করার পর গুদাম কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা প্রায় ২০০ মে:টন ধান সেলিম হাজী নামের সিন্ডিকেট চক্রের কাছে কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়। সে বরাদ্দের বিক্রি করা ধান তানোর সদর গুদামে সংগ্রহ করা হয়েছে। সেলিম হাজী কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপি আ"লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। সে ওই সময় গুদামে একচেটিয়া ব্যবসা করেছিলেন। সে এখনও ক্ষমতা সীন দলের কতিপয় নেতাদের তুষ্ট করে একই কায়দায় ব্যবসা করে যাচ্ছেন।সুত্র জানায়, কামারগাঁ বাজারের বাসিন্দা ব্যবসায়ী শেখ জুয়েল, মতি, উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মাসুদ করিম ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান টনের টন ধান দিয়েছেন। কোন কৃষক ধান দিতে পারেনি। শেখ জুয়েল কামারগাঁ বাজারের বিএডিসির সার ব্যবসায়ী। তিনি আ"লীগ সরকারের সময় দলে যোগদান করে খাদ্য বান্ধব প্রাইজ বা ১৫ টাকা কেজি দরে চালের ডিলার ছিলেন। ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে খোলশ পাল্টিয়ে ফেলেন। শুরু করেছেন গুদামে ধানের ব্যবসা।কৃষকরা জানান, বর্তমান সরকার কৃষকের উৎপাদন খরচের বিষয়টি মাথায় নিয়ে ও যাতে লোকসান পুসিয়ে নিতে পারেন এজন্য সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু গুদাম কর্মকর্তা আতিক ধান সংগ্রহ নিয়ে সিন্ডিকেটে তৈরি করে টন প্রতি ২ হাজার থেকে তিন হাজার করে টাকা নিয়ে ধান সংগ্রহ করেছেন। যা সরেজমিনে তালিকা ধরে তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে ধান সংগ্রহের আসল গোমর। তারা আরো জানায়, বর্তমান বাজারে একমন দান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৯০০ টাকা থেকে ঊর্ধ্বে এক হাজার টাকাতে। আর সরকারি ভাবে ৩৬ টাকা কেজি দরে একমন ধান কিনছে ১৪৪০ টাকায়। একমনে কৃষক হারাচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে। আর এলাভের টাকায় পকেট ভারী করছেন সিন্ডিকেট চক্রের ধান ব্যবসায়ীরা।কৃষকদের অভিযোগ, গুদামে ৫৫৫ মে:টন ধান বরাদ্দ হয়েছে। সেই বরাদ্দ থেকে ২০০ মে:টন বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রি করার পর সেই ধান তানোর সদর গুদামে সংগ্রহ করা হয়েছে। গুদামে জায়গা কমসহ নানা অজুহাতে বরাদ্দ বিক্রি করা হয়। গুদামে যদি জায়গা কম থাকত তাহলে বরাদ্দ কেন দেয়া হল। আর কৃষকরা দান দিতে পারছেনা অথচ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দান সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বিলপর বোরো ধান, আলু, আলুর জমির ধানে ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়েছে। উৎপাদন খরচ তুলতে পারা যায়নি। সরকার কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চাচ্ছে আর গুদাম কর্মকর্তা নিজে পকেট ভরচেন এবং সিন্ডিকেট চক্রের পকেটও ভরাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি কামারগাঁ রাজনৈতিক পরিচয়ের কিছু প্রভাবশালী এসব করছে।তারা নিজেদের পছন্দের ইউনিয়ন (ইউপি) ও ভাগ করে নিয়ে নিজেদের বিশ্বস্ত লোক দিয়ে,সেসব ইউনিয়নের কৃষকদের ভোটার আইডি সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করিয়েছেন।কৃষকদের সঙ্গে যে প্রতারণা করেছেন তা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, শুরুতে তিনি সাধারণ কৃষক, বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে যেসব কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন তাদের তালিকা করে ধান দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু একশ্রেণীর প্রভাবশালীর লোভের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তিনি দলের হাইকমান্ডের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের উন্নয়নে ধানের সন্তোষজনক মূল্য দিয়েছেন আর তা লুটে নিচ্ছেন একশ্রেণীর প্রভাবশালী,এর ফলে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে,এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিৎ। এছাড়াও বরাদ্দের ধান কিভাবে বিক্রি হয় সে বিষয়ে কোন তদারকি করা হয়নি। ইচ্ছে মত সবকিছু চলমান। বরা গুদাম কর্মকর্তা আতিকের মোবাইলে একাধিকবার মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা পারভীন জানান, ধান সংগ্রহ নিয়ে আমি, ডিসিফুড, আরসিফুড তদন্ত করেছি। কোন অনিয়ম পাওয়া যায়নি। গুদাম কর্মকর্তা বেশি কথা বলে এবং বেশি বুঝে। সে এক সপ্তাহের মধ্যে বদলি হতে পারে। কোন কৃষক ধান দিতে পারেনি এবং বরাদ্দের প্রায় ২০০ মে:টন ধান বিক্রি করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষকরা ধান সংগ্রহ করেছেন, বরাদ্দ বিক্রি হয়নি, জায়গা না থাকার কারনে সদর গুদামে দেয়া হয়েছে।