উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ্ নবীনগর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি : ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের কোনাউড় গ্রামে তিন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী চক্রের বেপরোয়া খননকাজে গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় পাশের আবাদি জমিগুলো ধসে পড়ছে। এতে পৈত্রিক জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন ঐ এলাকার সাধারণ কৃষক, আর দীর্ঘমেয়াদী হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা।সরেজমিনে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনাউড় গ্রামের প্রভাবশালী অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী এরশাদ মিয়া, ও মুছা মিয়া এবং আলাউদ্দিন আহমেদসহ, কাইতলার শরিফ সহ - এই এলাকার অনেক প্রভাবশাশী অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী আইন অমান্য করে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে দিন-রাত মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে মাটির গভীর থেকে উত্তোলন করার ফলে চারপাশের সুস্থ ফসলি জমিগুলো বিশাল ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।এদিকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কাটার কুফলগুলো এখন দৃশ্যমান হয়ে ধরা দিয়েছে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভূগর্ভস্থ মাটি সরে যাওয়ায় ওপরের স্তরের উর্বর জমি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।তাই অপরিকল্পিত খননের ফলে ওই এলাকার পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।পরিবেশবিদদের মতে ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোকে পুনরায় চাষযোগ্য করতে কয়েক বছর সময় লাগবে, যা প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের জালে ঠেলে দিচ্ছে।বাংলাদেশে কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর আইন থাকলেও তার তোয়াক্কা করছে না এই চক্র। বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী:"কোনো ব্যক্তি বিপণনের উদ্দেশ্যে বা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষিজমি হইতে বালু বা মাটি উত্তোলন করতে পারবে না।"একই আইনের ধারা ৪ ও ১৫ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এবং পরিবেশের ক্ষতি করে বালু বা মাটি কাটলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, জমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, অবৈধ এই কর্মকাণ্ড বন্ধে তারা স্থানীয় প্রশাসনের মুখাপেক্ষী হয়ে আছেন। বিশেষ করে নবীনগরের এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) খালেদ বিন মুনসুর মহোদয় এবং থানা পুলিশের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে ড্রেজারগুলো জব্দ করে এই ‘মাটি খেকো’ সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা হোক।পরিবেশবাদীদের মতে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, যা পার্শ্ববর্তী জনবসতি ও অবকাঠামোকেও ঝুঁকিতে ফেলবে।এ ব্যাপারে ড্রেজার ব্যবসায়ী এরশাদ মিয়া 'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ড্রেজার ব্যবসায় পরিচালনা করে যাচ্ছেন।তিনি জোর দিয়ে বলেন মাটি উত্তোলনের জমিগুলো পাশে যেসব জমি রয়েছে সেগুলো নিজের বলে দাবী করেন।