উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিনিধি : ||
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন,আপিল বিভাগে মামলা ফাইলিং এবং এফিডেভিট প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধসহ বিচার শাখার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।এখন থেকে আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত সব অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের নমুনা স্বাক্ষর এবং তাদের অধীনস্থ বৈধ ক্লার্কদের (মুহুরি) ছবি ও পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রিতে বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করা হবে।সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।নোটিশে বৃহস্পতিবারের (১৬ জুলাই) মধ্যে নির্ধারিত ছক পূরণ করে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এসব তথ্য জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।আপিল বিভাগ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আপিল বিভাগে মামলা ফাইলিং ও এফিডেভিট সম্পন্ন করার সময় নথিপত্র যাচাই-বাছাইকালে অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডগণের স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে নানাবিধ গুরুতর অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছিল। এর ফলে দাখিলকৃত কোর্ট ডকুমেন্টসে প্রদত্ত স্বাক্ষরটি প্রকৃতই সংশ্লিষ্ট অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা রেজিস্ট্রির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।এ ছাড়া আরেকটি বড় জটিলতা হিসেবে দেখা দিয়েছে বহিরাগতদের আনাগোনা। অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডগণের বৈধ কার্ডধারী ক্লার্ক নন—এমন অননুমোদিত ব্যক্তিবর্গ মামলা সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিষয় নিয়ে আপিল বিভাগের অত্যন্ত সংবেদনশীল শাখা অর্থাৎ ‘বিচার শাখায়’ (ফাইলিং সেকশন) অযথা ভিড় জমিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজে মারাত্মক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল।নতুন নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহ: আদালতের রেকর্ডের নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিচারিক কাজের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নোটিশে স্পষ্ট করে দিয়েছে।স্বাক্ষর মিলকরণ: আপিল বিভাগে আনীত ও ফাইল করা মামলাসমূহ কোর্টে প্রেরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলার অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড এবং তাদের বৈধ কার্ডধারী ক্লার্কদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই মামলার পিটিশন, কেভিয়েট এবং বিভিন্ন আবেদনসমূহে অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডগণের প্রকৃত ও নমুনা স্বাক্ষরের হুবহু মিল থাকা আবশ্যক।বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ: মামলার নথিপত্রের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডগণের অনুমোদিত ও বৈধ ক্লার্ক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির আপিল বিভাগের ফাইলিং বা বিচার শাখায় প্রবেশের কিংবা নথিপত্রে হাত দেওয়ার কোনো রূপ সুযোগ বা অভিগম্যতা থাকবে না।তথ্য জমা দেওয়ার ডেডলাইন: ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত ছকটি নিখুঁতভাবে পূরণ করে অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডগণের নমুনা স্বাক্ষর এবং তাদের অধীনে কর্মরত তালিকাভুক্ত ক্লার্কদের নাম ও বৈধ পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি আপিল বিভাগের বিজ্ঞ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সরাসরি জমা দিতে হবে।প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলেছেন, অনেক সময় আইনজীবীদের অজান্তেই ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে মামলা ফাইলিং বা প্রত্যাহারের মতো ঘটনা ঘটে। নমুনা স্বাক্ষর রেজিস্ট্রিভুক্ত থাকলে এবং অননুমোদিত মুহুরিদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা গেলে আপিল বিভাগের বিচারিক কাজের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।