উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্পোর্টস ডেক্স: ||
স্পেনের বাধা যেন কোনোভাবেই পেরোতে পারছে না ফ্রান্স। ইউরোপীয় ফুটবলের সেই পুরোনো আধিপত্য ধরে রেখে এবার বিশ্বমঞ্চেও ফরাসিদের বিদায় করে দিল স্প্যানিশ আর্মাডা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আরলিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন।এই জয়ের মাধ্যমে ফ্রান্সের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়ল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। এর আগে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও এই ফ্রান্সকেই কাঁদিয়েছিল স্প্যানিশরা। অন্যদিকে, স্পেনের কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার যে স্বপ্ন দেখছিল দিদিয়ে দেশঁর দল, তা পেনসিলভানিয়ার কাঁচের মতোই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ফুটবল ইতিহাসে কেবল পশ্চিম জার্মানি ও ব্রাজিলই টানা তিনবার ফাইনালে খেলার এই কীর্তি গড়েছিল।মাঠে স্পেন-বধ ও প্রথমার্ধের ধাক্কাআটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রেখে ফ্রান্সকে চাপে রাখে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে নেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।১-০ তে পিছিয়ে পড়ার পর বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। পিঠের চোটে পড়ে ম্যাচের মাত্র ৩০তম মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফরাসি রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ উইলিয়াম সালিবা। তার জায়গায় মাঠে নামেন ম্যাকসেন্স লাক্রোয়া। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে ও উসমান দেম্বেলেদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে পুরো ম্যাচেই বোতলবন্দি করে রাখে স্পেনের ডিফেন্ডাররা। ফলে এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।ইতিহাসের দেয়াল ও দ্বিতীয় গোলবিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে ম্যাচ জেতার রেকর্ড আছে মাত্র দুটি দলের (১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা ও ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়া)। সেই কঠিন ইতিহাসকে জয় করতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফ্রান্সের ডাগআউটে পরিবর্তন আনেন কোচ দেশঁ। আদ্রিয়েন রাবিও ও ব্র্যাডলি বারকোলাকে তুলে মাঠে নামানো হয় মানু কোনো ও দেজিরে দুয়েকে।তবে ফরাসি কোচের কৌশল খাটেনি স্পেনের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে। তার ওপর স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনের একের পর এক দুর্দান্ত সেভ ফরাসিদের হতাশায় ডুবিয়ে রাখে। উল্টো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফ্রান্সের ডিফেন্স ও গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন পেদ্রো পরো।রেকর্ডের পাতায় স্পেনশেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডে ইতালির সমতায় পৌঁছাল তারা। একই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল স্পেন। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে শিরোপার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা।অন্যদিকে, শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়া ফ্রান্সকে এখন সান্ত্বনার ট্রফি অর্থাৎ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের জন্য লড়তে হবে। আগামী শনিবার ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পরাজিত দলের মুখোমুখি হবে দিদিয়ে দেশঁর ফ্রান্স।