উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মীর ফারুক হোসেন,ব্যুরো প্রধান খুলনা: ||
টানা অভিযানের মুখে অবশেষে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু 'ছোট জাহাঙ্গীর' বাহিনী। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে মোংলার চরপুটিয়া খাল এলাকায় বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় দস্যু বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেন। এর মাধ্যমে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের দীর্ঘদিনের আতঙ্কের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।কোস্ট গার্ডের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।উদ্ধারকৃত অস্ত্রের পাহাড়দস্যুদের কাছ থেকে কোস্ট গার্ডের উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে:বিদেশি বন্দুক: ৩টিএইট শুটার ও ফোর শুটার: ২টিদেশীয় একনলা বন্দুক: ৫টিপাইপগান (দেশী ও চায়না): ১৭টিতাজা ও ফাঁকা কার্তুজ: ৩৯৫ রাউন্ডযেভাবে কোণঠাসা হলো দস্যুরাকোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে শতভাগ দস্যুমুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করা হচ্ছে। লাগাতার গোয়েন্দা নজরদারি ও চিরুনি অভিযানের কারণে বনের ভেতর টিকতে না পেরে একের পর এক বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে। এর আগে ‘ছোট সুমন’ ও ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর সদস্যরাও অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।কোস্ট গার্ডের সাফল্য:ধারাবাহিক এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৫ জন বনদস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দস্যুদের কবল থেকে ৪২ জন জিম্মি জেলে ও বাওয়ালিকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।কারা এই আত্মসমর্পণকারী?আত্মসমর্পণকারী ২৭ জনের মধ্যে অন্যতম হলেন বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮) ও সুমন ঢালী (৩০)। তাদের অধিকাংশের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও বটিয়াঘাটা এলাকায়। এছাড়া বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার কয়েকজন বাসিন্দা এই বাহিনীতে সক্রিয় ছিলেন।কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এই কঠোর ও শান্তিপূর্ণ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।