উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মাসুম খান,ঝালকাঠি: ||
আসন্ন ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি পৌরবাসীর দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে নিজেকে জনপ্রতিনিধির চেয়ে জনগণের একজন সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর লক্ষ্য ঝালকাঠি পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করা। এ লক্ষ্যে শহরের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বেহাল সড়ক সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং পৌরসেবার মানোন্নয়নে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি জানান, মাদকমুক্ত ঝালকাঠি গড়ে তোলা তাঁর অন্যতম অঙ্গীকার। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া পৌর স্টেডিয়ামকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়া কমপ্লেক্সে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে সেই সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করবেন।পৌরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ তাদের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত করলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঝালকাঠি পৌরসভা গড়ে তুলতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব।”তিনি আরও বলেন, মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করা অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি নিয়মিত ভূমিকা রাখছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি।পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার কারণে অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান মনোনয়ন পেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকবেন। তবে অন্যদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামনে আসতে পারে এবং তাতে রাজনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে।স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ মুহূর্তে মেয়র নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ নেই। দলীয় মনোনয়ন, প্রার্থীদের জনগ্রহণযোগ্যতা, নির্বাচনী প্রচারণা, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নির্বাচনের সময়কার পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়েই চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও বলছেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা, দলীয় মনোনয়ন এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই পরবর্তী নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। ফলে বর্তমানে যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাঁদের প্রার্থিতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।শেষে অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান ঝালকাঠি পৌরবাসীর কাছে দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।