উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আব্দুস সবুর, তানোর: ||
রাজশাহীর তানোর উপজেলার সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্রের এমসিকিউ পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ তিন শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলেজটির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক গোলাম নবীকে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই প্রাথমিকভাবে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ কেন্দ্রের ৩০৫ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে নির্ধারিত ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। ফলে তারা ৩০ নম্বরের বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে উত্তর দেন।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার সময় বিষয়টি তারা বুঝতে পারেননি। পরে পরীক্ষা শেষে উত্তর মিলিয়ে দেখার সময় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এতে ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পড়েছেন তারা।পরীক্ষার্থী জাহিদ বলেন, "পরীক্ষার সময় বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে বাড়ি ফিরে জানতে পারি আমাদের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। এখন পাস করব কি না, ভালো ফল হবে কি না-এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।"সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, "ভুলবশত কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে ২০২৫ সালের সিলেবাসের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র চলে যায়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী নমনীয়ভাবে মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কীভাবে এ ভুল হলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"তবে দায়িত্বে থাকা কক্ষ পরিদর্শক ড. সেকেন্দার আলী জানান, পরিক্ষা শুরু প্রশ্নপত্র দিতে বিলম্ব করে পরিক্ষা কমিটি। দেরি হওয়ার কারনে আমার জুনিয়র কে দ্রুত প্রশ্নপত্র আনতে বলি। সে এনে দেয়ার পর পরিক্ষা শুরু হয়। পরিক্ষা কমিটি, ইউএনওর প্রতিনিধিরা প্রশ্নপত্র দেয়। এখানে আমাদের অন্যায় ভাবে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। যদি অব্যাহতি দেয়া হয় তাহলে পরিক্ষা কমিটিকে দিতে হবে। কারন তারা প্রশ্নপত্রের দায়িবে থাকে।ও আফজাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।উপজেলা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)-কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সচিব অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল, কক্ষ পরিদর্শক ড. সেকেন্দার আলী ও আফজাল হোসেনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক গোলাম নবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।"তিনি আরও বলেন, "ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।"তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবেরাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় তানোর উপজেলার সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ কেন্দ্রে নিয়মিত, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন মিলিয়ে মোট ৪০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্রটির কোড ১৪২।