উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বুটেক্স প্রতিনিধি: ||
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শহীদ আজিজ হলের রুম বণ্টনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের উদ্যোগে লটারির মাধ্যমে প্রস্তুত করা রুম বণ্টনের তালিকা চূড়ান্ত বরাদ্দে পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে ৩০৩ নম্বর কক্ষ খালি রাখা হয়েছে এবং কয়েকটি কক্ষের বরাদ্দ পরিবর্তন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ৩০৩ নম্বর কক্ষের আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছাত্রদলের পদধারী ও সক্রিয় কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. পারভেজ রহমান অভিযোগ করে বলেন, “লটারি অনুযায়ী আমার ৩০৫ নম্বর রুম পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত নোটিশে আমাকে ২০৬ নম্বর রুম দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ৩০২, ৩০৪ ও ৩০৫ নম্বর কক্ষের বরাদ্দ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ৩০৩ নম্বর কক্ষ খালি রাখা হয়েছে। কেন শুধু এই কক্ষগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাইনি।”রুম বণ্টনের বিষয়ে জানতে শহীদ আজিজ হলের প্রভোস্ট ড. আহসান হাবীরের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পরে সহকারী হল প্রভোস্ট সোহাগ বাবু বলেন, “একটি স্লটে সব রুম পূরণ হবে না, এটি স্বাভাবিক বিষয়। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আবেদন বিবেচনা করে খালি কক্ষগুলো পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের লটারিতে নির্ধারিত রুম দিতে প্রশাসন বাধ্য নয়। ৪৯তম ব্যাচ প্রশাসনকে না জানিয়েই লটারি করেছে। প্রভোস্ট প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে যেটিকে যথাযথ মনে করেছে, সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। রুম বণ্টনে কোনো বাহ্যিক চাপ ছিল না।”এদিকে, গত শনিবার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হল প্রশাসনের নামে একটি ভুয়া নোটিশ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, উপাচার্যের ‘বিশেষ সুপারিশ’ এবং হল প্রভোস্টের ‘বিশেষ বিবেচনায়’ বুটেক্স ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন (কাজল)-কে ৩০৩ নম্বর কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে পরে একই তারিখ ও স্বাক্ষরসংবলিত প্রকৃত নোটিশ প্রকাশ্যে আসে, যেখানে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ বা বিশেষ সুপারিশের উল্লেখ ছিল না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।৩০৩ নম্বর কক্ষ নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে কাজল বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। কিছু কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে এসব করছে। এ বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্টে আমার নাম নেই। বর্তমানে হলে কোনো রুম নেওয়ারও আমার কোনো পরিকল্পনা নেই।”হলের আবাসিক ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধ্রুব সাহা রুদ্র বলেন, “শহীদ আজিজ হলের ৩০৩ নম্বর কক্ষ বুটেক্স ছাত্রদলের সভাপতিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—এমন আলোচনা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা হবে বুটেক্সের ইতিহাসে অন্যতম নিন্দনীয় ঘটনা। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ এই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক বিবেচনায় রুম বরাদ্দের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হল প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ, যেসব কক্ষ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সেগুলো পুনরায় স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হোক।”সব মিলিয়ে রুম বণ্টন প্রক্রিয়া, ৩০৩ নম্বর কক্ষ খালি রাখা, কয়েকটি কক্ষের বরাদ্দ পরিবর্তন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া নোটিশকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।উল্লেখ্য, শহীদ আজিজ হলের ৩০৩ নম্বর কক্ষটি একসময় তৎকালীন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বুটেক্স শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম টিপুর দখলে ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি হল ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কক্ষটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।