উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মাসুদুর রহমান, জামালপুর: ||
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৬ নং আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার প্রাক্তন স্ত্রী মুর্শেদা আক্তার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১ এ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। শনিবার(৪ জুলাই) দুপুর ১২ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার হেমরাবাড়ী এলাকার জামাল মণ্ডলের মেয়ে মুর্শেদা আক্তার তার প্রবাসী স্বামী সেলিম মিয়াকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তালাক দেন। পরে ১৪ মে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে বাশদাইর এলাকার খবির উদ্দিনের ছেলে মো. নিজাম উদ্দিনকে বিয়ে করেন। এরপর তারা কিছুদিন দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন বলে জানা গেছে।এদিকে মুর্শেদা আক্তার নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার প্রবাসী সাবেক স্বামী সেলিম মিয়া গত ২৬ মে জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৭৫১) করেন। পরবর্তীতে ১১ জুন মুর্শেদা আক্তার নিজাম উদ্দিনকে তালাক দিয়ে পুনরায় আগের স্বামী সেলিম মিয়ার সংসারে ফিরে যান। এরপর মুর্শেদা আক্তার বাদী হয়ে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ নালিশী মামলা (নং-৮৩/২০২৬) দায়ের করেন। মামলায় তিনি নিজাম উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং তার মা আমেনা বেগম ও ভাতিজা মো. আতিক মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ও ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২০/ ৪০৬/ ৪১৮/৪৬৮/৩৮৪/ ৩৮৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জমি কেনার নামে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, অপহরণ এবং জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩০ জুন আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে ১ জুলাই রাতে মুর্শেদা আক্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। মুর্শেদা আক্তার ভিডিওতে ঘটনা তারিখ বললেন একটি আবার মামলায় আনলেন আরেকটি। ভিডিও বক্তব্যে ও মামলায় কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা বললেও কিন্তু বাস্তবতায় তিনি কাবিন নামায় টিপ সহি দিয়েছেন। এদিকে মামলার বিভিন্ন তথ্য, ঘটনার সময়রেখা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। মাদারগঞ্জের মানবাধিকারকর্মী সুলতান বলেন, যেহেতু তারা বৈধ স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে সংসার করেছেন, তাই মামলার প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আসামি করা অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, নিজাম উদ্দিন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আদারভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে হয়রানির চেষ্টা করছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাই।স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ মুর্শেদা আক্তারকে দিয়ে এ মামলা করিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য উপজেলা বিএনপির পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিজাম উদ্দিনকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিথ্যা মামলাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন,যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি বৈধ স্বামী হয়ে থাকেন, তাহলে মামলার অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট কী? অভিযোগগুলো তখন কেন উত্থাপন করা হয়নি?পুনরায় আগের স্বামীর সংসারে ফেরার পরই মামলা দায়েরের কারণ কী?অভিযুক্তের মা ও ভাতিজাকে আসামি করার ভিত্তি কী?মামলাটি কি ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? মামলায় অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততার ভিত্তি কী? নাকি মিথ্যা মামলা দায়ের করে ব্ল্যাক মেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা? এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।নিজাম উদ্দিন বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে আমরা বৈধভাবে বিয়ে করি এবং জামালপুর শহরে ভাড়া বাসায় একসঙ্গে সংসার করি। পরে আমাকে তালাক দিয়ে একটি কুচক্রী মহলের পরামর্শে আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই মামলায় তিনটি পৃথক ঘটনাস্থলের উল্লেখ করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাই। পাশাপাশি আমি বিচার চাই। জামালপুর জেলার পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) এর পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম জানান,যদি আদালত আমাদের প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকেন আমরা যাচাই বাচাই করে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রেরণ করব।