উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মীর ফারুক হোসেন,ব্যুরো প্রধান খুলনা: ||
খুলনার বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করা অথবা বিকল্প হিসেবে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি খুলনার শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতের নাজুক চিত্র তুলে ধরেন এবং সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।‘২০-২৫ হাজার শ্রমিক বেকার’বক্তব্যের শুরুতেই রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনা-৩ আসনের অন্তর্গত খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কলকারখানার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন:খুলনাঞ্চলের অন্তত ৮ থেকে ১০টি জুট মিল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।বন্ধ হয়ে পড়ে আছে ঐতিহ্যবাহী নিউজপ্রিন্ট মিল, হার্ডবোর্ড মিল এবং কার্পেটিং জুট মিল।কাঁচা পাট সংরক্ষণ ও রপ্তানির সাথে জড়িত জুট প্রেসগুলোও এখন অচল।তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই শিল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের জীবন-জীবিকা আজ চরম সংকটে।" এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হয় এই জুটমিলগুলো অনতিবিলম্বে খুলে দেওয়া হোক, আর না হয় পুরো এলাকাটিকে 'অর্থনৈতিক অঞ্চল' ঘোষণা করে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করা হোক।স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জরুরি বাজেট বরাদ্দের দাবিশিল্পের পাশাপাশি এলাকার স্বাস্থ্য সংকটের বিষয়টিও সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, প্রায় ১০ লাখ মানুষের এই অধ্যুষিত এলাকায় এখনো কোনো মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি। এলাকায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকলেও সেখানে জরুরি (এমার্জেন্সি) রোগীদের চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা নেই।এই সমস্যার সমাধানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি চলমান খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি দ্রুততার সাথে বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সাথে এলাকার মেয়েদের শিক্ষার মানোন্নয়নে খুলনা-৩ আসনে একটি মহিলা ক্যাডেট কলেজ স্থাপনেরও প্রস্তাব করেন তিনি।সংসদ সদস্য বকুল আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যা খুলনাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।