উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
এস কে সরকার, পাবনা: ||
জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে। পরিবারের দাবী পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানা এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুর রহিম খাঁন (৬৫) কে নির্মমভাবে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে খুনিরা লাশটি একটি বাগানের উচুঁ গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে বলে দাবি পরিবারের। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মেয়ে এড. রুমি খাতুন লিখিত বক্তব্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের আরেক মেয়ে সোমা খাতুন ও ছেলে জাহাঙ্গীর খান দিপু।সংবাদ সম্মেলনে রুমি খাতুন জানান, গত ২২ জুন সকালে উপজেলার বিরাহীমপুর এলাকার একটি আম বাগান থেকে আব্দুর রহিম খাঁনের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে রুমি খাতুন বাদী হয়ে গত ২৩ জুন আমিনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মো. আ. করিম খাঁন (৫০) ও মো. আ. আলীম (৫৫) কে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।2রুমি খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আসামিরা গত ১০ বছর ধরে তাঁদের জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা ও পরিবারটির ওপর নানাভাবে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। গত কয়েক মাস ধরে তাঁর বাবাকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল, যা স্থানীয় প্রশাসনকেও জানানো হয়েছিল। পরিবারের আশঙ্কা, হত্যার আগে আসামিরা কোনো জোরপূর্বক দলিলের মাধ্যমে বাড়ির জমি লিখে নিয়ে থাকতে পারে।নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ জুন (শনিবার) কোনো এক সময় আব্দুর রহিম খাঁনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। ২২ জুন সকালে বাগানের মালি বাগানে আম গাছের সঙ্গে লাশটি ঝুলতে দেখেন।পরিবারের দাবি, লাশ উদ্ধারের সময় দেহটিতে পচন ধরে গিয়েছিল, যা মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে হওয়া অসম্ভব। চিকিৎসকের প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্টেও মৃত্যুর আগে ভিকটিমের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতনের আলামত মিলেছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়। এছাড়া যে ডালের সঙ্গে লাশটি ঝুলানো ছিল, তা মাটি থেকে এতটাই উঁচুতে যে কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে একা সেখানে গিয়ে গলায় দড়ি দেওয়া সম্ভব নয়।সংবাদ সম্মেলনে রুমি খাতুন বলেন, "আমার বাবাকে অন্য কোথাও নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ এই বাগানে এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।" তিনি পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) রিপোর্ট কোনো প্রভাবশালী মহলের দ্বারা প্রভাবিত না হয়।আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত রুমি খাতুন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "রামিছা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সরকার যেভাবে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে, আমার বাবার হত্যার ক্ষেত্রেও আমরা তেমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।"এব্যাপারে আমিনপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, “এঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতার চেষ্টা চলছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।”