উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মীর ফারুক হোসেন,ব্যুরো প্রধান খুলনা: ||
"একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়, যা বিগত বছরগুলোতে সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।" খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আবার সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে এবং যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবার শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে।আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।প্রশ্ন ফাঁসে 'জিরো টলারেন্স' ও অভিন্ন প্রশ্নপদ্ধতিপরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা জানান:অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা: এবার থেকে দেশের ৯টি সাধারণ বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে এই তালিকায় যুক্ত হবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডও।প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে কঠোর নজরদারি: ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত যেকোনো পোস্ট বা তথ্য ছড়ালেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং প্রমাণের দাবি করবে।ডিজিটাল নকল ও শিক্ষকদের দায়: শিক্ষার্থীদের বডি চেক করে হলে প্রবেশ করানোর পরও যদি আগে থেকে ভেতরে কোনো বইপত্র পাওয়া যায়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় শিক্ষকদের ওপর বর্তাবে। ডিজিটাল নকলের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।খাতা মূল্যায়নে আসছে নতুন নিয়ম ও আইন সংশোধনবিগত সময়ে খাতায় অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা বা নির্দেশনা ছিল, তা সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।এখন থেকে বোর্ডগুলো 'র্যান্ডম স্যাম্পলিং'-এর মাধ্যমে যেকোনো খাতা তুলে নিয়ে পুনরায় যাচাই করবে যে শিক্ষকরা সঠিকভাবে মার্কিং করছেন কি না।১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পাস হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের (রি-চেক) পূর্ণ সুযোগ পাবে।"বিগত ২০ বছর ধরে যে সকল শিক্ষকরা ফাঁকি দিয়ে, প্রভাব খাঁটিয়ে গ্রামের স্কুল ছেড়ে শহরে এসে আরাম-আয়েশে বসবাস করছেন, তাদের আবার গ্রামের স্কুলেই ফিরে যেতে হবে। শিক্ষার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো শিক্ষক শূন্যতা, এটি আর চলতে দেওয়া হবে না।"— শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনআনন্দময় শিক্ষা ও মিড-ডে মিলের প্রতিশ্রুতিশিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আনন্দময়, নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সংমিশ্রণ চান। দেশের প্রতিটি স্কুলে মিড-ডে মিল চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এই প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। এছাড়া শিক্ষার কোনো স্তরেই আর কোনো 'সেশনজট' থাকবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।উপস্থিত ব্যক্তিবর্গযশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু: আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনরেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হকবাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিনকেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনামাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্টার প্রফেসর এসএম তৌহিদুজ্জামানএছাড়াও অনুষ্ঠানে খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।