উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মীর ফারুক হোসেন,ব্যুরো প্রধান খুলনা: ||
লোভ ছিল চিপস আর জুসের, কিন্তু চার বছরের নিষ্পাপ শিশু তাবাচ্ছুম জানত না তার জন্য ওত পেতে আছে এক পিশাচ। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দেশ কাঁপানো সেই শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে ন্যায়বিচার মিলেছে। ঘটনার মাত্র চার মাসের মাথায় মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২২ জুন) আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ শেষ হওয়ায় আদালত ও সরকারের প্রতি গভীর সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ভিকটিম শিশুর পরিবার।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতাআদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় প্রতিবেশী আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে খুনি তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছোট্ট তাবাচ্ছুম।নৃশংসতা এখানেই শেষ নয়; ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে ঘাতক।পুলিশের তৎপরতা ও দ্রুততম চার্জশিটহত্যাকাণ্ডের পর পরই খুনি আবু তাহের পালিয়ে গেলেও পার পায়নি। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের লোমহর্ষক অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয় এবং আজ সোমবার আদালত এই রায় দেন।পটভূমিমামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি। অন্যদিকে নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় একজন টেইলার্স কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত। কলিজার টুকরোকে হারানোর ক্ষত হয়তো কোনোদিন শুকাবে না, তবে খুনিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে এই অসহায় পরিবারটি।