উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মীর ফারুক হোসেন,ব্যুরো প্রধান খুলনা: ||
খুলনা, ২১ জুন: দেশে একটি শোষণ, দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুবসমাজকে আরেকটি 'অনিবার্য বিপ্লবের' প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিপ্লব কোনো বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসানো বা কোনো পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়; বরং কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য।শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিএনপিকে ভুল সংশোধনের আহ্বানবক্তব্যে বিএনপিকে লক্ষ্য করে জামায়াত আমির বলেন, "বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া কথা রাখেনি। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন এবং জনরায়কে সম্মান করুন।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি দেখার পরও যদি শিক্ষা না হয়, তবে কখনোই শিক্ষা হবে না।সংসদ থেকে রাজপথ: 'সিংহের মতো লড়াই'নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে যাতে গৃহযুদ্ধ শুরু না হয়, সে জন্য শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন। ভোটে কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন:"আমরা সংসদে যা আছি তাই নিয়ে সিংহের মতো লড়াই করে যাব। সহজে কানে পানি না ঢুকলে সিরিঞ্জ দিয়ে কীভাবে ঢুকাতে হয়, তা আমরা জানি। ফয়সালা সংসদে না হলে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রতিটি মাঠ থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। সেই দাবানলে সব আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।"সীমান্ত ও আধিপত্যবাদ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারিসরকার ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না। সরকার যদি আধিপত্যবাদের সামনে নতজানু হয়, তবে তাদেরও ছেড়ে কথা বলা হবে না। সীমান্তে 'পুশইন' চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজিবির পাশে আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ দাঁড়িয়েছে।"আমরা কোনো প্রতিবেশীর শান্তি কেড়ে নিতে চাই না, আবার কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ালেও তা বরদাশত করা হবে না। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি—সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।"জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।