উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ||
আজ (২০ই জুন/২০২৬ ইং) মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়ার চর এলাকায় যমুনা নদীতে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করছে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।এ মানববন্ধনে আসা স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী বালু মাফিয়া চক্রের অব্যাহত এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ও শত শত পরিবার তাদের বসতভিটা এবং ফসলি জমি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।এ পরিস্থিতিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আলোকদিয়ার চরে মানববন্ধন এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এ"মানববন্ধন"থেকে স্থানীয়রা সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ফসলি জমি,নদীর পাড়ের হাজারো বাড়িঘর বসত ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জননিরাপত্তা এবং পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনার সময় সশস্ত্র বহিরাগত পাহারাদার নিয়োজিত রাখা হয়,যা সাধারণ জনগণের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একাধিকবার জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।এলাকাবাসী মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ,অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাফিয়া চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, সশস্ত্র পাহারাদার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রশাসনিক ব্যর্থতার তদন্ত, নৌপুলিশ-কোস্টগার্ডের ভূমিকা পর্যালোচনায় বিভাগীয় তদন্ত এবং বালু মাফিয়া চক্রের মূল হোতা ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা।বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।”তারা আরোও বলেন,অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে যমুনা নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে, যা একদিকে জনবসতি ধ্বংসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। বিষয়টি শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়; বরং এটি জাতীয় স্বার্থ, জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্ন তোলেন, একটি সংঘবদ্ধ বালু মাফিয়া চক্র যদি প্রকাশ্যে সশস্ত্র পাহারায় অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে যেতে পারে, তবে কি তারা দেশের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর ঊর্ধ্বে?”স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং নদীভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক এলাকাবাসীর মানববন্ধনের বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মানববন্ধনের বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত অবগত নন। তবে এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করবেন বলেও জানানশিবালয়ের আলোকদিয়া গ্রামবাসির একটাই প্রশ্ন? শিবালয়ের বালু মাফিয়া চক্র কি দেশের প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে?