Logo
আজঃ শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪
শিরোনাম

ভূমিকম্পে তুরস্ক-সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৫শ ছাড়াল

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | ৩৭৬জন দেখেছেন

Image

অনলাইন ডেস্ক: তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সিরিয়া সীমান্তের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এ পর্যন্ত সিরিয়া ও তুরস্ক মিলিয়ে অন্তত ৫২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার ভোর ৪টা ১৭ মিনিটের দিকে তুরস্কের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছেই এ কম্পন ঘটে। এর গভীরতা ছিল ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে গাজিয়ানটেপ শহরের কাছে ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার (১১ মাইল) গভীরতায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূম্পিকম্পটি রাজধানী আঙ্কারা এবং তুরস্কের অন্য শহরেও অনুভূত হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পুরো অঞ্চল জুড়েই কম্পন অনুভূত হয়েছে।

তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ২৮৪ জন নিহত হয়েছে। আর সিরিয়ায় ২৩৭ জন।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমন সইলু বলেন, ‘ভূম্পিকম্পে ১০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- গাজিয়ানতেপ, কাহরামানমারাস, হাতায়, ওসমানিয়ে, আদিয়ামান, মালাতিয়া, সানলিউরফা, আদানা, দিয়ারবাকির এবং কিলিস। প্রতিবেশি দেশ সিরিয়া, লেবানন এবং সাইপ্রাসেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে দেশটিতে। শহরগুলোর চারদিকে ধ্বংসস্তূপের চিত্র। ভবন ধসে অনেকে চাপা পড়েছে। নিখোঁজ সদ্যদের হন্য হয়ে খোঁজ করতে দেখা গেছে পরিবারের সদস্যদের।

তুর্কি কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত তারা ২ হাজারের বেশি আহতের খবর পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে তুরস্কের কোথাও কোথাও তুষারপাত আর বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন উদ্ধারকারী বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় ইস্তাম্বুলের ফ্লাইট সাময়িক সময়ের জন্য বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা ভূমকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহজে পৌঁছাতে পারছি না।

এই পরিস্থিতিকে ট্র্যাজেডি অ্যাখ্যা দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান টুইট বার্তায় বলেন, 'সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠব আমরা'। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।

দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। খবর: বিবিসি


আরও খবর



মিয়ানমারের প্রতি আর উদারতা দেখানোর সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৩৩জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:মিয়ানমারের প্রতি আর উদারতা দেখানোর সুযোগ নেই, বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের । কোনো অবস্থাতেই বাস্তুচ্যুতদের ঢুকতে দেওয়া হবে না।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, মিয়ানমার ইস্যুতে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যা বলেছেন সেটিই আমাদের দলীয় অবস্থান। ওই দেশের অভ্যন্তরীণ থেকে ছোড়া মর্টারের শেল পড়ছে আমাদের সীমান্তে। এরইমধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আবার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করছে। তাদের নিজেদের সমস্যার কারণে আমরা সমস্যার সম্মুখিন হব কেন? এটা জাতিসংঘ এবং চীনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে এ নিয়ে গতকাল বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৯৫ সদস্য অস্ত্রসহ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদেরকে নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে সচিবালয়ে রোববার (০৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশ কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না, তবে কেউ গায়ের ওপর এসে পড়লে ছেড়ে দেয়া হবে না। আমরা সবসময় তৈরি আছি। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধ চলছে। আত্মরক্ষার্থে বিজিপির কয়েকজন সদস্য আমাদের সীমানায় ঢুকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে অবরুদ্ধ করেছেন। তাদের অস্ত্র জমা নিয়ে একটি জায়গায় আটকে রেখেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে তারা এদেরকে নিয়ে যায়। তিনি বলেনন, আমরা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমরা যুদ্ধ চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময়ই আমাদেরকে সেই নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তার মানে এই নয় যে, আমাদের গায়ে এসে পড়বে আর আমরা ছেড়ে দেব। সেটার জন্য আমরা সবসময় তৈরি আছি। আমরা ওখানে শক্তি বাড়িয়েছি। পুলিশ ও কোস্টগার্ডকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে আমাদের সীমানায় কেউ কোনোভাবে অনুপ্রবেশ করতে না পারে।


আরও খবর



বাবা আব্দুল্লাহ শাহ (রঃ) মাজারের নতুন কমিটি গঠন,নিয়াম সভাপতি বিল্লাল সম্পাদক

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১১৭জন দেখেছেন

Image

মোঃ আব্দুল হান্নান:-

উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন।ফখরে বাঙ্গাল মাওলানা তাজুল ইসলামের সুযোগ্য সাহেবজাদা। মজ্জুম দয়াল বাবা আব্দুল্লা শাহের মাজারের ১২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটিতে মোঃ নিয়ামত উল্লাহ নিয়ামকে সভাপতি ও মোঃ নজরুল ইসলাম ভূইয়া বিল্লালকে  সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।এছাড়াও ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।


২ফেব্রুয়ারী ২০২৪ তারিখ রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের বড়ধলিয়া গ্রামের মাজার প্রাঙ্গনে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে,সাবেক সভাপতি হাজী মোঃ আইয়ুব খানের সভাপতিত্বে ও গোলাম মোহাম্মদ সেলিমের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।


আলোচনা সভায় সর্বদিক বিশ্লেশ শেষে সর্ব সম্মতিক্রমে এ কমিটি ঘোষনা করা হলে উপস্থিত জনতা নতুন সভাপতি সম্পাদককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পূর্বভাগ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার মিয়া,সিনিয়র সহ সভাপতি আক্তার মিয়া,সহ সভাপতি সামসুল কিবরিয়া রেজা হাকিম, সহ সভাপতি দূর্বাজ খান, সহ সভাপতি এডঃ আশিকুর রহমান সুমন এবং মো: মঈন উদ্দিন ভূইয়া শান্ত (উপদেষ্টা) সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর



জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত হুইপদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১১৮জন দেখেছেন

Image
মারুফ সরকার, স্টাফ রিপোর্টার:চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত হুইপগণ আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বৈঠকের শুরুতে তারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।হুইপ ইকবালুর রহিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মো. নজরুল ইসলাম বাবু ও সাইমুম সরওয়ার কামাল এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আরও খবর



মাটিরাঙ্গায় নিবন্ধনকৃত দরিদ্র জেলেদের মাঝে ছাগল বিতরণ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯৬জন দেখেছেন

Image
জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি:মৎস্য অধিদপ্তরাধীণ পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের দরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান (পারিবারিক পর্যায়ে সহায়তা প্রদান) কার্যত্রুমের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায় নিবন্ধনকৃত দরিদ্র জেলেদের মাঝে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৪জানুয়ারি)সকাল ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে বিকল্প কর্মসংস্থান এর জন্য মাটিরাঙ্গায় নিবন্ধনকৃত ৫ দরিদ্র জেলের মাঝে প্রতিজনকে ৪টিকরে মোট ২০টি  ছাগল বিতরণ করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদৃষ্টি চাকমা এর সঞ্চালনায় মৎস্য উপকরণ বিতরণ অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডেজী চত্রুবর্তী।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.রফিকুল ইসলাম।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড.মো.আরিফ হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সুবাস চাকমা,মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুকুল কান্তি চাকমা প্রমুখ।

আরও খবর



মিরসরাইয়ে হাজার কোটি টাকার ‘মৎস্য জোন’ হুমকীর মুখে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১২৬জন দেখেছেন

Image

এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:‘মৎস্য জোন’ খ্যাত মিরসরাইয়ে মুহুরী প্রকল্প। কয়েক হাজার কোটিটাকার মৎস্য শিল্প এখন হুমকীর মুখে। পথে বসার উপক্রম হয়েছে হাজার হাজার মৎস্য চাষীর। এখানকার মৎস্য ঘের উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। গেল মঙ্গলবার অভিযানের পর বুধবারও (২৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে সিডিএসপি বাঁধ ও সুপার ড্রাইক এলাকার অভিযান অব্যাহত রেখেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। মৎস্য ঘেরের পাড় কেটে দেওয়ায় স্থানীয় মাছ চাষীদের কয়েক কোটি টাকার মাছ বঙ্গোপসাগরে চলে যায় বলে জানিয়েছে মৎস্য ঘের মালিকরা। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। মুহুরী প্রকল্প এলাকায় বছরে উৎপাদন হয় ৪৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ। যা চট্টগ্রাম জেলার মৎস্য খাদ্য চাহিদার ৭০ ভাগ পূরণ করে। আর এসব মাছের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ১’শ ২৭ কোটি টাকা।

অন্যদিকে এসব অভিযানকে অন্যায় আখ্যা দিয়ে বেজা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অধিগ্রহণকৃত অঞ্চল চিহ্নিত না করে অযথা বৈধ মাছের ঘের ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন মৎস্য চাষীরা। প্রয়োজনে বৃহত্তর এই মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন বলে জানান তারা। তবে বেজা কর্মকর্তারা বলছেন এখানে সরকারি জমির দখল করে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। পূর্বে তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা বেজার নির্দেশনারও কর্ণপাত করেনি। তাদের অধিগ্রহণ করা জমিতে অবৈধভাবে মাছের ঘের গড়ে তোলায় তা ধ্বংস করা হচ্ছে।

মিরসরাই ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬-১৯৮৭ সাল থেকে উপজেলার মুহুরী প্রকল্প এলাকার ইছাখালী ও বাঁশখালী মৌজায় সমুদ্র তীরে জেগে ওঠা চর বন্দোবস্তি দেয় সরকার। প্রথম ধাপে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভূমিহীনদের মাঝে ১২শ একর। পরে ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে দ্বিতীয় ধাপে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৩শ একর, চিংড়ি চাষীদের মাঝে ১৩শ ৮৫ একর এবং সর্বশেষ ২০০৪-২০০৫ সালে ভূমিহীনদের মাঝে ২৫শ একর ভূমি বন্দোবস্ত দেয় সরকার। পরবর্তীতে ৫ হাজার ৩শ ৮৫ একর পরিমাণের এসব ভূমিতে সমন্বিত মাছ চাষ শুরু করে সরকারের বন্দোবস্ত গ্রহীতারা। যা বর্তমানে দেশের বৃহত্তম মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

স্থানীয় মৎস্য চাষী আজমল হোসেন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিঠা পানির মাছ চাষে আমাদের উদ্বুদ্ধ করছেন। অথচ এখানে কোটি কোটি টাকার মাছের ঘের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আমাদের দাবি মুহুরী প্রজেক্ট মৎস্য ঘের এলাকাকে মৎস্য জোন ঘোষণা করে এটিকে রক্ষা করা হোক। কারণ এখানে চট্টগ্রামের মৎস্য খাদ্য চাহিদার প্রায় ৭০ ভাগ মাছ উৎপাদন হয়।

মৎস্য চাষী নাঈমুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আমি ১৫ একর জায়গায় ৫ বছর পূর্ব থেকে মাছ চাষ করে আসছি। বুধবার আমার ৫ লাখ টাকার মৎস্য প্রকল্পের পাড় কেটে দিলে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ পাশের খালে চলে গেছে। আমার মতো ছোট বড় অসংখ্য মৎস্য চাষী পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

পশ্চিম ইছাখালী মৎস্য চাষী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি নুরুল আবছার বলেন, সরকার বারবার বলছে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে কোন পুকুর ডোবা যাতে খালি না থাকে। ১৯৮৬-৮৭ সাল থেকে এখানে মাছ চাষ করছি আমরা। আজকে এটি একটি মৎস্য জোনে রূপান্তর হয়েছে। আমরা মাছ চাষীরা এখান থেকে বছরে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন মাছের যোগান দিই। আমরা বেজাকে অনুরোধ করবো যেন অন্যায়ভাবে কোন মৎস্য ঘের উচ্ছেদ না করে।

বেজার উপ-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইয়াছিন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর এলাকায় সরকারি জমিতে তারা অবৈধভাবে মাছের ঘের তৈরি করেছে। ঘের মালিকদের গত বছর ডিসেম্বর থেকে মাছ সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়েছিল। তারা বেজার নির্দেশের কর্ণপাত করেনি। মঙ্গলবার ও বুধবার আমরা বেজার আওতাধীন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মাছের ঘের অপসারণ করছি। তবে উচ্ছেদকৃত স্থানে সরকারের বন্দোবস্তকৃত ভূমি ও মাছের ঘের রয়েছে কিনা তা জানা নেই। অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর