Logo
আজঃ বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

ভোলায় মেঘনার পাড়ে মরুভূমি, গরিবের দুবাই

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ জুন ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৫৪৮জন দেখেছেন

Image

শরীফ হোসাইন, ভোলা:ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রতনপুর বাজার থেকে কিছুদূর শান্তিরহাট এলাকায় গিয়ে বেড়িবাঁধের উপর দাঁড়ালেই চোখে পড়বে মেঘনা নদী। তীরে এসে আছড়ে পড়ছে নদীর ঢেউ। এর পাড় ঘেঁষেই দেখা যাবে বিশাল এলাকাজুড়ে বালু আর বালু। এ যেন বালুর মাঠ। মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি বেশ কয়েকটি খেজুর গাছ। একদিকে মেঘনা নদীর বড় বড় ঢেউ, অন্যদিকে মরুভূমির মতো কয়েক মাইল এলাকাজুড়ে বালু। চারিদিকে খোলা জায়গা। দখিনা বাতাস। সারি সারি খেজুর গাছ। এই সৌন্দর্যে বিমোহিত না হয়ে উপায় নেই। দেখতে ঠিক যেন আরব্য মরুভূমি। এ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দূর দুরান্ত থেকে ঘুরতে আসেন বিভিন্ন বয়সী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষ। কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আসছেন। কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করছেন। ছবি তুলছেন আর খেলাধুলা করছেন। মেঘনা নদীর পাড়ের এই জায়গাটি এখন দর্শনীয় স্থানে রুপ নিয়েছে। আগন্তুকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে গরিবের দুবাই নামে।

কেউ বলছেন ভোলার মরুভূমি। তাইতো যারা এখানে ঘুরতে আসেন তারা সবাই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে লিখছেন আমরা এখন ভোলার মরুভূমিতে। একই জায়গায় ছবি তুলে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে অনেকে লিখছেন আমরা এখন আরবের মরুভূমিতে আছি। সদরের বাইরে থেকে বালুর মাঠে এসে সেখান থেকে ফিরে কেউ কেউ আবার লিখছেন ঘূরে এলাম দুবাই থেকে। গত বুধবার (৩১ মে) দৌলতখান থানার ওসি মোঃ জাকির হোসাইন শিবপুরের শান্তিনগর এলাকায় এসে স্বপরিবারে ঘুরে তিনিও ছবি তুলে তার আইডিতে লিখেছেন ’ঘূরে এলাম দুবাই থেকে’। এ স্পটটিকে ঘিরে গরিবের দুবাই নামে পরিচিত সেই বালুর মাঠে ছোট ছোট বিভিন্ন দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে চা, পান, সিগারেট, চিপস ও ফুসকা বিক্রি হচ্ছে।শুক্রবার দুপুরে সেই বালুর মাঠে একঝাঁক সংবাদকর্মী নিয়ে ঘুরতে এসে নদীর পাড়ের তাজা ইলিশ মাছ ভাজা ও রান্না করে খাচ্ছেন আর আনন্দ করছেন ভোলার স্থানীয় দৈনিক ভোলার বাণী পত্রিকার সম্পাদক মোঃ মাকসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ভ্রমন পিপাসূদের জন্য আকর্ষণীয় স্পট শান্তির হাটের বালুর মাঠ। এ যেন প্রকৃতির অপরুপ ছোঁয়া। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানো যেত বলেও মনে করছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে ওই স্পটে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা দৌড়াদৌড়ি করছে। কয়েকজন তরুণ বালুর মাঠে ফুটবল খেলছে। বিভিন্ন বয়সী শিশু, নারী ও পুরুষরা ভিড় জমিয়েছেন।

এদের মধ্যে কেউ ছবি তুলছেন। কেউবা লাইভ করছেন। খোলা মাঠে বইছে দখিনা বাতাস। তীরে এসে আছড়ে পড়ছে নদীর ঢেউ। এমন অপরূপ দৃশ্য আর মনোরম পরিবেশ টেনে নিয়ে আসছে দর্শনার্থীদের। স্থানীয়রা জানান, চায়নারা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাটে মেঘনা নদীর তীরে একটি প্রকল্প গ্রহন করেন। যেখানে ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত প্রায় চার বছর আগে এই এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক একর জমি ক্রয় করে। গত প্রায় ৬ মাস আগে ওই এলাকাটিকে মেঘনা থেকে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে সেই বালু দিয়ে ভরাট করে। ফলে এলাকাটি বর্তমানে বালুর মাঠে পরিনত হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। তারা বালুর মাঠে সারি সারি খেজুর গাছ আর মেঘনা নদীর ঢেউসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ছবি তুলে নিজেদের ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। এ এলাকাটি দর্শনার্থীদের কাছে এখন আকর্ষনীয় স্পটে পরিনত হয়েছে। তারা আকর্ষনীয় ও দর্শনীয় এ স্পটের নাম দিয়েছেন ’গরিবের দুবাই’। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শান্তির হাটের বালুর মাঠ এলাকায় মানুষের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। বালুর মাঠে অবস্থিত ফুসকা দোকানি সাগর বলেন, আমার বাড়ি শিবপুর ইউনিয়নে।আমি ২০২১ সাল থেকে ফুসকা বিক্রি করছি। তবে, দেড় মাস আগে গত রমজানের ঈদের পর থেকে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। প্রতিদিন ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকার ফুসকা, ঝালমুড়ি, চিপস বিক্রি করছেন তিনি।

এ বিষয়ে শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, গত কয়েক আগে চায়নারা সেখানে বালু দিয়ে ভরাট করে কিছু জমি সেল (বিক্রি) করছে। আবার কিছু জমিতে ফ্যাক্টরি নির্মাণ করবে।শিবপুরের বাসিন্দা ও ভোলা সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ইউনুস বলেন, এই তীব্র গরমের মধ্যে ভোলায় আসলে একটু ঘোরার মতো তেমন কোন জায়গা নেই। তাই চায়না কোম্পানির ক্রয় করা ওই জমির একপাশে মেঘনা নদীর ঢেউ আরেক পাশে বালুর মাঠ। মাঠের মধ্যে আবার কিছু সারি সারি খেজুর গাছ। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছে এখানে। ফলে এটি এখন তাদের একটা আকর্ষণীয় স্পট হিসাবে পরিনত হয়েছে। তবে, গত কয়েকদিন ধরে বালুর মাঠে মানুষের যাতায়াতের উপর অনেকটা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রহরি মো: ঝিলন বলেন, অনেজে এখানে এসে বালুর বস্তা কেটে ফেলে। আবার অনেকে মাদক সেবন করে মাতলামি করছে। তাই, ১ জুন থেকে ভেতরে প্রবেশে নিষেধ করেছে চায়না কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।


আরও খবর



১২ বছরে সব নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়েছে: পিএসসি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১০৫জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) দাবি করেছে বিগত ১২ বছরে বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটি প্রমাণিত বলে।এসব পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তোলার কোনো অবকাশ নেই বলেও জানিয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

সোমবার (৮ জুলাই) রাতে পিএসসির ওয়েবসাইটে ‘চ্যানেল টোয়েন্টিফোর টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদন বিষয়ে পিএসসির বক্তব্য’ শিরোনামে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ জুলাই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে সন্ধ্যা ৬টা এবং ৭টায় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ের নন-ক্যাডার উপসহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ পরীক্ষাসহ গত ১২ বছরে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) এবং অন্যান্য নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রচার করেছে, সে বিষয়ে পিএসসির দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। প্রচারিত প্রতিবেদনে গত এক যুগে বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবতা হলো, গত ১২ বছরে পিএসসিতে অনুষ্ঠিত বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পরীক্ষা সম্পর্কে কোনো মহল থেকে কখনোই কোনো ধরনের অভিযোগ বা অনুযোগ ছিল না, বিধায় এটি প্রমাণিত যে, ওই সব পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসময়ে অনুষ্ঠিত বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে নতুন করে কোনোরূপ অভিযোগ উত্থাপনের অবকাশ নেই। প্রতিবেদনে গত ১২ বছরে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত এসব পরীক্ষার বিষয়ে বিরূপ প্রচার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিএসসির ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। গত ৫ জুলাই শুক্রবার অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ের নন-ক্যাডার ‘উপসহকারী প্রকৌশলী’ পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ওইদিন পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা আগে প্রতিবেদকের (চ্যানেল টোয়েন্টিফোর টিভির) হোয়াটসঅ্যাপে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রতিটি বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬ সেট প্রশ্নপত্র এবং নন-ক্যাডার পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪ সেট প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। কোন সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করতে পরীক্ষা শুরুর ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট আগে। সেটাও লটারির মাধ্যমে।

আরও বলা হয়, ‘বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষার ক্ষেত্রে লটারির সময় দেশের প্রথিতযশা দুজন নাগরিক, কমিশনের চেয়ারম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সদস্যসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত থাকেন। একইভাবে নন-ক্যাডার পরীক্ষার ক্ষেত্রে কমিশনের চেয়ারম্যান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সদস্যসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত থাকেন। গত ৫ জুলাই রেলওয়ের নন-ক্যাডার উপসহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই নিয়ম অনুসরণ করে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে লটারি করে কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে, সে বিষয়টি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্টদের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে, তা পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা আগে কারোরই জানার সুযোগ নেই।

পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশনের আওতাভুক্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র সমীক্ষণ ও মুদ্রণ সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে করা হয় এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এসব কারণে পরীক্ষা শুরুর পূর্বে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি যেকোনো ব্যক্তির নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে। কিন্তু পরীক্ষা অনুষ্ঠানের দুইদিন পরে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর কর্তৃক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়টি যথাযথ কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পিএসসির কার্যক্রম ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজসহ জনমনে সুদৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। বিপিএসসির নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাস সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে যথাসময়ে অভিযোগ না হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বা প্রতারণা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রমের সাথে জড়িত প্রমাণ হয়, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্টের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে ক্লিক করুন।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



নয় প্রাণ নাশের পর টনক নরেছে উপজেলা প্রকৌশলীর!

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ১২৫জন দেখেছেন

Image

আব্দুল্লাহ আল নোমান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:নয় প্রাণ নাশের পরে টনক নরেছে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের।  মঙ্গলবার তিনি  আমতলী উপজেলার ২০ টি অতি ঝুকিপুর্ণ সেতুতে সতর্কীকরণ নোটিশ বোর্ড ও বেড়া দিয়েছেন। তিনি ভেঙ্গে যাওয়া হলদিয়া হাট সেতুতেও নতুন করে নোটিশ ও বেড়া দিয়েছেন।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার ২০০৭-০৮ অর্থ বছরের পরে ২০ টি লোহার সেতু নির্মাণ করে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই সেতুগুলো নির্মাণে অনিয়ম ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেতুগুলোতে রেলপাটির বীম বসানোর কথা থাকলেও ঠিকাদারগণ নরমাল বীম বসিয়ে সেতু নির্মাণ করেছেন। ওই সেতুগুলোর ঠিকাদার ছিলেন হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধাসহ বেশ কয়েকজন। ওই সময় তারা প্রভাব খাটিয়ে দায়সারা সেতু নির্মাণ করে টাকা তুলে নেয়। অল্প দিনের মধ্যেই ওই সেতু গুলোর লোহার বীম অকেজো হয়ে যায়। ফলে সেতুগুলো অত্যান্ত ঝুকিপুর্ণ  হয়ে পড়ে।  গত ১৬ বছরে ওই সেতুগুলো ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নজরে আসেনি। গত শনিবার বৌভাত অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে চাওড়া নদীর ওপর নির্মিত চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের সংযোগ হলদিয়া হাট সেতুর মাঝখান ভেঙ্গে মাইক্রোবাস পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কনে মরিয়ম বিল্লাহ হুমায়রার মামা বাড়ীর ৭ জন ও বাবার  বাড়ীর ২ জন  নিহত হয়। নয় প্রাণ নাশের পর মঙ্গলবার তিনি উপজেলার ২০ টি ঝুকিপুর্ণ সেতুতে সতর্কীতরণ নোটিশ টানিয়েছেন এবং বেড়া দিয়েছেন। 

কাউনিয়া গ্রামের জিয়া উদ্দিন জুয়েল, নজরুল ইসলাম ও দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের নাশির উদ্দিন বলেন, নয়টি প্রাণ নাশের পরে টনক নরেছে উপজেলা প্রকৌশলীর। তিনি সেতুর মাঝখানে পিলার গেড়ে দিয়েছেন। যাতে যানবাহন চলাচল করতে না পারে। এই পিলারটা আগে গেড়ে দিলে নয়টি প্রাণ ঝড়ে যেতো না।  তার অবহেলার কারনে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলার ২০ টি অতি ঝুকিপুর্ণ লোহার সেতুতে সতর্কীকরণ নোটিশ ও বেড়া দেয়া হয়েছে। আগে কেন সতর্কীকরণ নোটিশ ও বেড়া দেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগেই নোটিশ টানিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু স্থানীয়রা সরিয়ে ফেলেছেন।

বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ঝুকিপুর্ণ সেতুগুলোকে সতর্কীকরণ নোটিশ ও বেরিকেট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা চেষ্টা করছি স্থায়ীভাবে বেরিকেট দেয়ার যাতে ভারী যানবাহন সেতুতে না উঠতে পারে।


আরও খবর



দেশব্যাপী ওয়ানপ্লাস নর্ড সিই৪ লাইট ফাইভজি পাওয়া যাচ্ছে

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১৩৮জন দেখেছেন

Image

প্রযুক্তি ডেস্ক:ওয়ানপ্লাস নর্ড সিই৪ লাইট ফাইভজি স্মার্টফোন এখন দেশব্যাপী পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি ওয়ানপ্লাসের দ্বিতীয় ডিভাইসটির ফিচার উন্নয়নে ব্যবহারকারীদের পছন্দকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ওয়ানপ্লাসের জনপ্রিয় স্মার্টফোন সিরিজ নর্ড। এক্ষেত্রে ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে ওয়ানপ্লাস নর্ড সিই৪ লাইট ফাইভজি। ডিভাইসটি সেরা মান ও সর্বোচ্চ আস্থা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের সবরকম টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছে।

আগ্রহী ক্রেতারা দেশের যেকোনো ওয়ানপ্লাস স্টোর থেকে ক্রয়ের পাশাপাশি দারাজ , পিকাবু , গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার ও ডলবেয়ার থেকে অনলাইনে অর্ডার দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়ানপ্লাস বাংলাদেশ’র সিইও মেঙ্ক ওয়াং বলেন, “আমরা নর্ড সিরিজের ডিভাইসে ব্যবহারকারীর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নর্ড সিই৪ লাইট ফাইভজি ফোনে ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের উদ্ভাবনী হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ফিচার ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশে ওয়ানপ্লাস পণ্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও চাহিদা আমাদের এই যাত্রাকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।

বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও অনেক প্রযুক্তি ও পণ্য নিয়ে আসবো আমরা।” অ্যাকুয়া টাচ সহ ১২০ হার্জ সুপার-ব্রাইট ২,১০০ নিটস অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ৮০ ওয়াট সুপারভুক ফাস্ট চার্জিং সহ ৫,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি এবং ওআইএস সহ সনি লিটিয়া ৬০০ ক্যামেরার ফিচারে সমৃদ্ধ ওয়ানপ্লাস নর্ড সিই৪ লাইট ফাইভজি ফোনটি মাত্র ২৭,৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অফিশিয়াল ফেইসবুক পেইজ https://www.facebook.com/oneplus.bangladesh.official বা ওয়েবসাইট https://www.oneplus.com/bd ভিজিট করতে পারেন।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



বাকেরগঞ্জে চরাদি ইউনিয়নের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১২৬জন দেখেছেন

Image
রবিউল ইসলাম বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি:বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভা শেষে এসব তথ্য জানান নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ শাহজালাল।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৪ জুলাই, মনোনয়নপত্র বাছাই ৫ জুলাই, আপিল ৬-৮ জুলাই, নিষ্পত্তি ৯ জুলাই, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ জুলাই, প্রতীক বরাদ্দ ১১ জুলাই  ও নির্বাচন ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

আরও খবর



বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেলো আত্রাই উপজেলাবাসী

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৭১জন দেখেছেন

Image

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নওগাঁর প্রধান দুটি নদী ছোট যমুনা ও আত্রাইসহ অন্যান্য নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আত্রাই ছোট যমুনার পানি বিপদসীমার অনেক নীচে অবস্থান করছে। এদিকে নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলে একটু বৃষ্টিতে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

জানা যায়, ৮০ দশকে আত্রাই নদীর পাশ দিয়ে নির্মিত হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। যা দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ার কারণে এবং প্রতিটি বাঁধে শিয়াল, বেজি কিংবা ইদুরের গর্ত থাকার কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই সেই লিকেজ দিয়ে পানি চলাচল করায় অনেক স্থানে হঠাৎ করেই ধ্বস দেখা দিয়েছে। তবে লিকেজ কিংবা ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিমের প্রত্যক্ষ তৎপরতায় মেরামত/বন্ধ করার কারণে আত্রাই উপজেলার শত শত গ্রাম বন্যা কবলিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো স্থানীয় সাংসদ অ্যাড. ওমর ফারুক সুমন পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দিন-রাত কাজ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বাঁধগুলো মেরামত করে কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেগুলো সচল করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার (৪জুলাই) রাতে আত্রাই থেকে নাটোরের সিংড়ার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়কের শিকারপুর এলাকায় গুড় নদীর বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন শুক্রবার ধ্বসে যাওয়া বাঁধ কাম সড়ক মেরামত করে। এরপর শুক্রবার রাতে ঐ ভাঙ্গনের প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বদিকে বৈঠাখালির ডুবাই নামক স্লুইচগেট সংলগ্ন স্থানে পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে ওই সড়কে যানবাহনসহ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া শনিবার সকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম এলাকায় আত্রাই-বান্দাইখাড়া সড়কের লালুয়া নামকস্থানে বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে উপজেলা সদরের সাথে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার (৯জুলাই) সকালে আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের গুড়নৈ নামক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধ্বস দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ভবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিম মেরামতের কাজ করে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেই ধ্বসে যাওয়া অংশটি মেরামত করে যান চলাচলের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেয়।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফয়জুর রহমান বলেন এবার আমার টিম সব সময় বাঁধে অবস্থান করছে যেকোনো ধরনের ভাঙ্গন দেখা দিলে সাথে সাথে কাজে নেমে যাচ্ছে। নওগাঁয় প্রায় ৫শতাধিক কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রয়েছে। জনবল সংকট নিয়ে এতো দীর্ঘ বাঁধ সব সময় পর্যবেক্ষন করা অনেকটাই কঠিন। আর শেয়াল, বেজি, ইদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীদের বসবাসের উত্তম স্থান হচ্ছে এই বাঁধ। এই প্রাণীগুলো বাঁধে গর্ত করে বসবাস করে। আর বর্ষা মৌসুমে যখন নদীতে পানি বৃদ্ধি পায় সেই পানি বাঁধের এই সব গর্ত দিয়ে বছরের পর বছর চলাচল করে। এর এক পর্যায়ে গর্ত অনেক বড় হয়ে গেলে উপর থেকে মাটি ধ্বসে পড়ে। এবার বাঁধগুলোয় এমন ঘটনাই ঘটেছে। তাই বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে মেরামত করতে অনেক বড় বরাদ্দের প্রয়োজন হয় যা আমরা পাই না। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোথাও কোন সিপেজ/ ধ্বস দেখা গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্থ স্থানটি মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যার কারণেই নওগাঁয় এখন পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে কোন বড় ধরনের ভাঙ্গন দেখা যায় নাই। আমাদের একটি টিম সার্বক্ষনিক বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া কোথাও কোন সিপেজের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হয়ে সেই স্থানটি মেরামত করা হচ্ছে। যদি আকাশের ভারী বৃষ্টিপাত না হয় এবং উজান থেকে আশঙ্কাজনক হারে পানির ঢল নেমে না আসে তাহলে নওগাঁয় এবার আর কোন বন্যার ভয় নেই।

এ বিষয়ে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ অ্যাড. ওমর ফারুক সুমন বলেন, আত্রাই উপজেলা বিলবেষ্টিত উপজেলা। তাই ছোট যমুনা কিংবা আত্রাই নদীর বাঁধের কোথাও কোন বড় ধরণের ভাঙ্গন হলেই আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলা বন্যার কবলে পড়বে। তাই এবার বন্যা মোকাবেলায় সবধরণের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অগ্রিম কাজ করার জন্য নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় পাউবোর পাশাপাশি ত্রাণসহ সকল প্রকার প্রস্তুতি রেখেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তাদের সাথে রয়েছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাৎক্ষণিক গৃহিত কার্যক্রমকে ধন্যবাদ জানাই। 

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর