Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

উজবেকিস্তান: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার দেশ

প্রকাশিত:Thursday ০২ June 2০২2 | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

সাইফুর রহমান তুহিন

সমগ্র বিশ্বের অগণিত পর্যটকের মধ্যে অধিকাংশই মূলত দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে ভ্রমণে বের হন। একাংশ চান প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে আবিষ্কার করতে এবং তারা সাধারণত দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত কিংবা চোখজুড়ানো পাহাড়ি এলাকাকে বেছে নেন। অন্য অংশটি পছন্দ করেন কোনো ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করতে এবং ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ভালো করে জানতে। আপনি যদি দ্বিতীয় ভাগটির অন্তর্ভুক্ত কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য আদর্শ এক গন্তব্য হতে পারে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান। এটি একটি ভূমিবেষ্টিত রাষ্ট্র এবং দেশটির সাথে সীমান্ত আছে আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কিরঘিজিস্তানের। ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং নজরকাড়া সব মুসলিম স্থাপত্যকর্মের জন্য ব্যাপক পরিচিতি আছে উজবেকিস্তানের। তাসখন্দ, সমরখন্দ, বুখারা, খিভা প্রভৃতি স্থান মুসলিম সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চমৎকার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের কারণে উজবেকিস্তান তার প্রতিবেশী অন্যান্য মধ্য এশিয়ান দেশগুলোর তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ১৯৯১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর উজবেকিস্তানের পর্যটনশিল্প দ্রুত প্রসার লাভ করছে।

উজবেকিস্তানের প্রধান প্রধান গন্তব্য
তাসখন্দ: ঐতিহাসিক তাসখন্দ নগরী শুধু উজবেকিস্তানের রাজধানীই নয়, গোটা মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চতুর্থ বৃহত্তম নগরী ছিল তাসখন্দ। তাসখন্দের রাস্তায় রাস্তায় দেখতে পাবেন মাথায় তারব্যান্ড বাঁধা এবং সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা রাখালদের সাথে ভেড়ার পাল। দায়েউ নেক্সিয়াসের সামনে একটার পর একটা টিকো কার, মাটির নিচে মেট্রোরেলের নড়াচড়া—এসব দেখে আপনি ভালোভাবেই টের পাবেন যে, আপনি তাসখন্দ শহরে আছেন। যদিও অনেক সময় ঐতিহাসিক সিল্ক রোড সংলগ্ন শহর সমরখন্দ, বুখারা ও খিভার সন্ধানের ছায়ায় তাসখন্দ একটু ঢাকা পড়ে যায়। তারপরও আপনি ঘুরে দেখতে পারেন চোরসু বাজার, আমির তৈমুর স্কয়ার, খাস্ত-ইমাম এনসেম্বল, ফলিত শিল্প জাদুঘর, তাসখন্দ মেট্রোরেল, তাসখন্দ টাওয়ার (যা বিশ্বের দীর্ঘতম টেলিভিশন টাওয়ারগুলোর একটি), দৃষ্টিনন্দন কুকেলদশ মাদ্রাসা, স্বাধীনতা স্কোয়ার, উজবেক পার্লামেন্ট ভবন, উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রীয় জাদুঘর প্রভৃতি। আর শহরের বাইরে আছে নজরকাড়া চিমগান পর্বত, যা একটি চমৎকার পিকনিক স্পট।

উজবেকিস্তান: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার দেশ

রাতে থাকার জন্য ভালো হোটেলের কোনো অভাবই নেই তাসখন্দ নগরীতে। শহরটির তেমন কোনো নির্দিষ্ট প্রাণকেন্দ্র নেই। তাই বেশির ভাগ হোটেল গড়ে উঠেছে মূল শহর ও বিমানবন্দরের আশেপাশে। লা গ্র্যান্ড প্লাজা হোটেল, হোটেল উজবেকিস্তান, মিরান ইন্টরন্যাশনাল হোটেল, শডলিক প্যালেস হোটেল, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল তাসখন্দ, হোটেল সিটি প্যালেস, লোটে সিটি তাসখন্দ প্যালেস হোটেল, র্যাডিসন ব্লু তাসখন্দ হোটেল, গোল্ডেন ভ্যালি হোটেল প্রভৃতি হলো তাসখন্দ নগরীর সুপরিচিত হোটেলসমূহ। যে হোটেলেই থাকুন না কেন রেস্টুরেন্টে খাওয়ার সময় উজবেকদের জাতীয় খাবার পালভের (ইংরেজি নাম পিলাফ) স্বাদ পরখ করতে ভুলবেন না। ভেড়ার মাংস, চাল ও সবজি দিয়ে তৈরি মুখরোচক খাবারটি পাবেন তাসখন্দ কিংবা অন্যান্য শহরের যে কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে। এ ছাড়া সেখানকার তান্দির কাবাব, মান্টি ও শরবা নামের একজাতীয় স্যুপ খুবই জনপ্রিয়।

সমরখন্দ: সম্ভবত আধুনিক উজবেকিস্তানের সবচেয়ে বিখ্যাত শহর হলো সমরখন্দ। খ্রিষ্টপূর্ব আনুমানিক ২০০০ সালে এ নগরীর গোড়াপত্তন হয়। পুরোনো শহরটি আফরোসিয়াব নামে পরিচিত এবং গ্রিকরা একে বলে মারাকান্দা। খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৯ সালে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের শাসনামলে পার্সিয়ান প্রদেশ সোগদিয়ানার রাজধানী ছিল সমরখন্দ। পরে এটি চীন ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যকার সড়কের একটি বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে এটি আরবদের দ্বারা শাসিত হয় এবং মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে ওঠে। ১২২০ খ্রিষ্টাব্দে মঙ্গল শাসক চেঙ্গিস খান সমরখন্দকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেন। ১৩৬৯ সালে সম্রাট তৈমুর লং সমরখন্দকে তার রাজধানী বানালে আবার পুনর্গঠিত হয় সমরখন্দ। নিজের রাজধানী হিসেবে সমরখন্দকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেন তৈমুর লং। এখন সেখানে যেসব স্থাপত্যকর্ম দেখা যায়, সেগুলো তৈমুর লং ও তার বংশধরদের হাতে গড়া। ইমাম আল বুখারী স্মৃতিস্তম্ভ, সেন্ট ড্যানিয়েলস স্মৃতিস্তম্ভ, উলুগবেক অবজারভেটরি, শাহ-ই-জিন্দা কমপ্লেক্স, বিবি খানম মসজিদ, গুর আমির স্মৃতিস্তম্ভ ও রেগিস্তান স্কয়ার হলো সমরখন্দের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।

উজবেকিস্তান: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার দেশ

সমরখন্দে বেড়াতে গেলে থাকা-খাওয়া নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পতনের পর অনেক আধুনিক হোটেল গড়ে উঠেছে সেখানে। কামিলা হোটেল, গ্র্যান্ড সমরখন্দ হোটেল, ক্যারাভ্যান সেরাইল চোরাখা হোটেল, হোটেল রেগিস্তান প্লাজা, ওরিয়েন্ট স্টার হোটেল, এশিয়া সমরখন্দ হোটেল, মালিকা প্রাইম হোটেল, হোটেল আর্ক সমরখন্দ, জাহোঙ্গির হোটেল প্রভৃতি হলো সমরখন্দ নগরীর উল্লেখযোগ্য হোটেল।

বুখারা: মধ্য এশিয়ার প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি হলো বুখারা। এই শহরের অবিভক্ত ঐতিহাসিক ভবনগুলোর বেশিরভাগই মধ্যযুগীয় সময়ের শেষ পর্যায়ে নির্মিত। নানান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে আছে বুখারার বিভিন্ন জায়গাজুড়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিরামিক পটারি, ফায়ারপ্লেস, ছবি ও লেখাযুক্ত প্রাচীন মুদ্রা, প্রাচীন ধাতব সামগ্রী, অলংকার, হস্তশিল্পের সরঞ্জাম প্রভৃতি। একটি দীর্ঘ সময় ধরে বুখারা পার্সিয়ান শাসনের অধীনস্থ ছিল। প্রাচীনকালে আরিয়ানরা এখানে বসতি গড়েছিল এবং বুখারার স্থানীয় বাসিন্দারা এদেরই উত্তর পুরুষ। ইরানের সোগদিয়ানরাও এখানে বসবাস করেছিল এবং এর কয়েক শতাব্দী পর এখানে পার্সিয়ান ভাষার বেশ প্রাধান্য ছিল। বুখারায় বেড়াতে গেলে যেখানে অবশ্যই যাবেন, তা হলো হিস্টোরিক সেন্টার অব বুখারা। ইতিহাস ও সভ্যতার অনেক নিদর্শনই আছে সেখানে।

সোভিয়েত আমলে বুখারায় ব্যক্তিমালিকানাধীন আধুনিক আবাসিক হোটেল একপ্রকার অকল্পনীয়ই ছিল এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হোটেলগুলোর পরিবেশ ছিল খুবই বাজে। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। কমিল বুখারা বুটিক হোটেল, বুখারা প্যালেস হোটেল, ওল্ড সিটি হোটেল, হোটেল গ্র্যান্ড বুখারা, ওমর খৈয়াম হোটেল, এশিয়া বুখারা হোটেল, মিনজিফা বুটিক হোটেল, কামেরলট হোটেল প্রভৃতি সদা প্রস্তুত আপনাকে উষ্ণ আতিথেয়তা দিতে।

উজবেকিস্তান: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার দেশ

খিভা: আরব সাগরের দক্ষিণে অবস্থান খিভা শহরের। খিভা বিখ্যাত তার সব প্রাচীন ভবনগুলোর জন্য, যার অনেকগুলোই জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত। উজবেকিস্তানের প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি হলো খিভা। এখানকার বেশিরভাগ ঐতিহাসিক ভবনগুলো উনবিংশ শতাব্দীতে স্থাপিত এবং স্থাপত্যের বৈচিত্র্যের কারণে খিভা আপনাকে একটি স্পষ্ট ধারণা দেবে যে, মধ্য এশিয়ার অন্যান্য শহরগুলো আগে দেখতে কেমন ছিল। এখানে থাকার জন্য আছে ওরিয়েন্ট স্টার খিভা হোটেল, আজিয়া খিভা হোটেল, হোটেল মালিকা খিভা, হোটেল আরকাঞ্চি, হোটেল মালিকা খিয়েভাক, ইসলামবেক হোটেল, মেরোস হোটেল প্রভৃতি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী: পর্যটকবান্ধব একটি দেশ হিসেবে উজবেকিস্তানের ভিসা জোগাড় করা খুব কঠিন নয়। গুগলে সার্চ দিয়ে আপনি সহজেই ভিসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন। বাংলাদেশে উজবেকিস্তান কনস্যুলেটের ঠিকানা হলো- ওয়াইল সেন্টার, ৩য় তলা, বাড়ি নং-৭৪, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা। হযরত শাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ নগরীর কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই। তবে কানেকটিং ফ্লাইট সহজেই পাওয়া যাবে। টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, থাই এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, সৌদি এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া প্রভৃতি ঢাকা ও তাসখন্দের মধ্যে কানেকটিং ফ্লাইট পরিচালনা করে।

উজবেকিস্তানের জলবায়ু একটু উষ্ণমণ্ডলীয়। গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শুষ্ক। এপ্রিল থেকে জুন এবং আগস্টের দ্বিতীয় ভাগ থেকে নভেম্বর হলো উজবেকিস্তান ভ্রমণের সেরা সময়। দেশটির অফিসিয়াল ভাষা উজবেক, তবে রুশ ভাষার প্রচলনও ভালোভাবেই আছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে ইংরেজি ভাষা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রা হলো সুম। এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য হলো আনুমানিক ১০,৯৬০ উজবেক সুম। দেশটির বিভিন্ন স্থানে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন আছে বলে ভ্রমণের সময় একজন ইংরেজি জানা স্থানীয় গাইড সাথে রাখা এবং কমপক্ষে দিন দশেক সেখানে অবস্থান করা উচিত। জাতি হিসেবে উজবেকরা খুবই অতিথিপরায়ণ ও পর্যটকবান্ধব, যা আপনাকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও ভ্রমণ লেখক।


আরও খবর



যমুনায় আবারও বাড়ছে পানি, আতঙ্কে তীরের মানুষ

প্রকাশিত:Tuesday ২৬ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ০৩ August ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েক দিনের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলের যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীসহ জেলার সব নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

অপরদিকে, গত কয়েক সপ্তাহে যমুনার পানি কমায় ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, অর্জুনা, গাবসারা ও নিকরাইলে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের ফলে ইতিমধ্যে এসব এলাকায় ১৫০০ বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ফের পানি বাড়ায় আবারও তীব্র ভাঙনের আশঙ্কা করছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। তবে এ দফায় বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভালকুটিয়া গ্রামের হৃদয় মণ্ডলসহ স্থানীয়রা বলেন, এবারের বন্যায় আমাদের গ্রামসহ আশপাশের প্রায় চার শতাধিক বসতভিটা ভেঙে গেছে। নতুন করে গত ২-৩ দিন ধরে আবারও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।ফলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন করে পানি বাড়ায় ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটচ্ছে আমাদের।

jagonews24

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সোমবার (২৫ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি পোড়াবাড়ী পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৭২, ঝিনাই নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২৩ এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরে নতুন করে যমুনা নদীসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পেলেও বন্যার আশঙ্কা নেই। নদী ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: জি এম কাদের

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করতে হবে অভিমত ব্যক্ত করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের।

তিনি বলেছেন, এখনো অনেক সময় আছে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার।

সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাঈদ আখতার নেওয়াজী পিপিএম (বার) জি এম কাদেরের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

জিএম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংবিধানে বারবার পরিবর্তন এনে এক ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা দিয়েছে। এ দুই দলের প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমালোচনা করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এ দুটি দলের প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে যে দল পরাজিত হবে তারাই যেন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এমন বাস্তবতা সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার অন্তরায়।

তিনি বলেন, মানুষ নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। দেশের মানুষ এখন আর ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না। নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

এসময় দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বিশ্বের নীরবতা দুঃখজনক: ইরান

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১০জন দেখেছেন
Image

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় কয়েকদিন ধরে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। দেশটির তৃতীয় দিনের মতো হামালায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। ইসরায়েলের এমন ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানিয়ে বিশ্বের নীরবতাকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি।

এক টুইটার বার্তায় ইসরায়েলি হামলার কিছু ছবি প্রকাশ করে নাসের কানানি বলেন, এগুলো হলো ইহুদিবাদী- বর্ণবাদী শাসকগোষ্ঠীর গাজায় সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্যবস্তুর উদাহরণ। গাজায় ইহুদিবাদীদের অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থার নীরবতা শোচনীয় ও দুঃখজনক।

ইসরায়েলের দাবি ইসলামিক জিহাদের ‘তাৎক্ষণিক হুমকির’ কারণে তারা এই অভিযান শুরু করেছে। ২০২১ সালের মে মাসে ১১ দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর এটাই ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঘটনা।

সে বছর দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ইসরায়েল তাদের এই চলমান অভিযানের নাম দিয়েছে ‘ব্রেকিং ডন’ ও এক সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে গাজায় বিমান হামলার মধ্যেই শনিবার ইসরায়েলি শহরগুলোতেও অনবরত ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কতা সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।


আরও খবর



‘হাওয়া’ থেকে পাওয়া ভালোবাসা বুকে নিয়ে শুটিংয়ে ফিরলেন চঞ্চল

প্রকাশিত:Sunday ৩১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
Image

বাংলা সিনেমা নিয়ে দর্শকের উন্মাদনা ফিরে এসেছে। হলে হলে লাইন টিকিট কাটার। টিকিট না পেয়ে হাহাকার চলছে। অনেক হলে মারপিটের খবরও পাওয়া গেছে। এমন চিত্র দেশীয় সিনেমায় দীর্ঘদিন পর দেখা যাচ্ছে।

কোরবানি ঈদে অনন্ত জলিলের ১০০ কোটি বাজেটের ‘দিন: দ্য ডে’ দিয়ে যে আলোচনায় বাজার চাঙ্গা হলো তারই সুফল পাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি। ‘দিন: দ্য ডে’ ছাড়াও ঈদের ‘পরাণ’ কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকের বৃষ্টি নামিয়েছে।

আর সেখানে নতুন মাত্রা যোগ করলো ‘হাওয়া’। এ ছবি দিয়ে আবারও হিট সিনেমা উপহার দিলেন ডাইনামিক অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তাকে বলা হয় বড় পর্দার লক্ষী অভিনেতা। গেল এক যুগেরও বেশি সময়ে সেটা তিনি প্রমাণ দিয়েছেন মনপুরা, আয়নাবাজি ও দেবী সিনেমা দিয়ে।

আর সম্প্রতি ‘হাওয়া’ দিয়ে মাতিয়ে দিয়েছেন ভিষণ খরায় ভুগতে থাকা ঢাকাই সিনেমাকে। সবখানেই এ ছবির জোয়ার বইছে। হচ্ছে প্রশংসা। আলাদা করে সবার নজর কেড়েছেন চঞ্চলও। তার অভিনীত চরিত্রটি চান মাঝি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে।

২৯ জুলাই সারা দেশের ২৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘হাওয়া’। প্রায় সবখানেই হাউজফুল শো দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমাটি। সিনেমাটি নিয়ে প্রায় মাস খানেক ধরে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। তার সাফল্যও পেলেন হাতে হাতে।

এবার ‘হাওয়া’ থেকে বের হয়ে নিয়মিত শুটিংয়ে ফিরছেন চঞ্চল। সেই খবর জানিয়ে রোববার (৩১ জুলাই) ফেসবুকে ‘হাওয়া’ সিনেমার প্রচারের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘প্রায় মাস খানেক ধরে ‘হাওয়া’র প্রচারণার কাজ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলের ইন্টারভিউ, ‘হাওয়া’ কনসার্ট নিয়ে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে যাওয়া। সব মিলিয়ে উৎসবের মত ব্যস্ততা। ক্লান্তিহীন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা। অবশেষে ‘হাওয়া’ সিনেমা হলে মুক্তি, বিভিন্ন সিনেমা হল পরিদর্শন।’

তিনি আরও লিখেন ‘আবারও ফিরে যাওয়া নিয়মিত শুটিং এ এই তো জীবন এতো এতো মানুষের ভালোবাসা বুকে নিয়ে এগিয়ে চলা প্রতিটা মুহুর্তই আমার কাছে মহা মূল্যবান।‘হাওয়া’র জয়, হোক দর্শকের জয় হোক, বাংলা সিনেমার জয় হোক।’

এ সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, শরীফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল মণ্ডল, রিজভী রিজু, মাহমুদ হাসান এবং বাবলু বোস। চিত্রগ্রহণ করেছেন কামরুল হাসান খসরু, সম্পাদনা সজল অলক, আবহ সংগীত রাশিদ শরীফ শোয়েব এবং গানের সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী।


আরও খবর



বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

দিনাজপুরের হিলিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল হাই (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আব্দুল হাই হিলির জালালপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সায়েম বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই সখ্যতা গড়ে তোলেন আব্দুল হাই। বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের দুজনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তখন ওই গৃহবধূ স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। পরে আবারও আব্দুল হাই ওই গৃহবধূকে বুঝিয়ে স্বামীসহ তাকে জালালপুরে নিয়ে আসেন। তাকে নিজের বাড়িতে রেখে একটি দোকান করে দেন। তার স্বামী একটি অটো চলায়। এরমধ্যে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিষয়টি ওই গৃহবধূর স্বামী টের পেলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে আব্দুল হাই সে দোকান নিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন। ওই গৃহবধূকে স্টেশন এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে দেন আব্দুল হাই। শুক্রবার স্বামীর অনুপস্থিতে ওই বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রলোভনে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন আব্দুল হাই। এ ঘটনায় ওই রাতেই গৃহবধূ থানায় অভিযোগ দেন।

তিনি আরও জানান, মামলার পর আব্দুল হাইকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


আরও খবর