Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

তিস্তার বাঁধ ধসে হুমকির মুখে হাজারও বসতঘর

প্রকাশিত:Tuesday ১০ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১২৭জন দেখেছেন
Image

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

সরকারী উদ্যোগে  গত বছর সংস্কার করা বাঁধ চলতি বছর বন্যার আগেই ধসে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে লালমনিরহাটের ভূমি অফিসসহ তিস্তাপাড়ের হাজারও বসতবাড়ি।


জানা গেছে, ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারীর কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক তিস্তা নদী।


যা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিশে যায়। দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার।  

ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত সরকার একতরফা তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করায় শীতের আগেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের ফলে বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্ট হয়। বন্যায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিস্তার বাম তীরের জেলা লালমনিরহাট।


তিস্তা নদী জন্মলগ্ন থেকে খনন না করায় পলি পড়ে ভরাট হয়েছে নদীর তলদেশ। ফলে পানি প্রবাহের পথ না পেয়ে বর্ষাকালে উজানের ঢেউয়ে লালমনিরহাটসহ পাঁচটি জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এ সময় নদী ভাঙনও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুকে চর জেগে উঠে। আর বর্ষায় লোকালয় ভেঙ্গে তিস্তার পানি প্রবাহিত হয়। ফলে বসতভিটা ও স্থাপনাসহ ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে। নিঃস্ব হচ্ছে তিস্তাপাড়ের মানুষ।


পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) লালমনিরহাট প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের নামে বরাদ্দ দিলেও কাজ শুরু করেন বর্ষাকালে। যা সামান্যতে পানির স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে। বর্ষার অথৈ পানিতে জরুরি কাজের নামে বরাদ্দ দেওয়া এসব সরকারি অর্থ কোনো কাজে আসছে না নদীপাড়ের মানুষের।


গত বছর বন্যার সময় লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ গ্রামে নির্মিত বাঁধ সংস্কার করতে জিও ব্যাগ (বালি ভতি বিশেষ ব্যাগ) ডাম্পিং করে পাউবো। যা গত বন্যা পরবর্তীকালে কাজটি সমাপ্ত করা হয়। চলতি বছর বন্যা আসার আগেই গত ০৬ মে মধ্য রাতে ৩০ মিটার বাঁধ ধসে যায়। পরে স্থানীয়রা বালুর বস্তা ফেলে কোনো রকম রক্ষা করে।


স্থানীয়রা জানান, গত বছর বন্যার শেষ দিকে পাঁচ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত করলেও তাড়াহুড়ো করে মাত্র চার হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে। বাকিসব জিও ব্যাগ তিস্তার চরাঞ্চলেই বালুচাপা পড়ে রয়েছে। রাতে আঁধারে জরুরি কাজের অজুহাতে নামমাত্র কাজ করে চলে যায় পাউবো। ফলে এ বছর বন্যা না আসতেই বাঁধটি প্রায় ৩০-৪০ মিটার এলাকা ধসে যায়। 


আরও খবর



সিরিজ বাঁচানোর মিশনে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

প্রথম টেস্টে হারের পর দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বাংলাদেশের। সিরিজ বাঁচাতে হলে সেন্ট লুসিয়ায় আজ (শুক্রবার) থেকে শুরু টেস্টে জিততেই হবে টাইগারদের। সেই লক্ষ্য মাথায় রেখে মাঠে নামছে সাকিব আল হাসানের দল।

গ্রস আইলেটের ড্যারেন স্যামি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েট টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ টাইগাররা প্রথম ব্যাটিং করবে।

২০০৪ সালে প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বে সেবার সেন্ট লুসিয়ায় প্রথম টেস্টে ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা।

ওই টেস্টে হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ রফিক এবং খালেদ মাসুদ পাইলটের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ‘ড্র’ করেছিল বাংলাদেশ। কোনো ক্রিকেট পরাশক্তির বিপক্ষে টাইগারদের ওটাই ছিল প্রথম ড্র করার ঘটনা।

সেন্ট লুসিয়ায় ১৮ বছর আগে খেলা সেই টেস্ট ম্যাচটিই এবার অনুপ্রেরণা হয়ে এসেছে সাকিব আল হাসান বাহিনীর সামনে। এছাড়া ২০০৯ সালে সাকিবের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজ হারানোর প্রেরণা তো আছেই।


আরও খবর



নিষেধাজ্ঞার পরও বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ১৮ লাখ টন গম রপ্তানি ভারতের

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
Image

চলতি বছরের মে মাসে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত। তবে কয়েকটি দেশে রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখে দেশটি। নিষেধাজ্ঞার পর বাংলাদেশ-আফগানিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশে ১৮ লাখ টন গম রপ্তানি করেছে ভারত। দেশটির খাদ্য সচিব সুধাংশু পান্ডে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের।

তিনি বলেন, আফগাস্তানে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার টন গম সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে সেখানে ৫০ হাজার টন গম সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

জার্মানির বার্লিনে মিনিস্টারিয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি আও বলেন, ভারত সব সময় বিশ্বের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েছে। যদিও ভারতকে তার বিপুল সংখ্যাক নাগরিককে খাদ্য চাহিদা মেটাতে নজর দিতে হচ্ছে।

সুধাংশু পান্ডে বলেন, ভারত কেন শস্যটি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা স্পষ্ট করে বলাটা খুব জরুরি। অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত ও প্রতিবেশী কিছু দেশ, যাদের খাদ্য নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে তাদের কথা মাথায় রেখে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত মাসে অর্থাৎ ১৩ মে হঠাৎ বিশ্বজুড়ে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত সরকার। তবে জানানো হয়, যেসব দেশ এর আগে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ইস্যু করেছে ও খাদ্য নিরাপত্তায় রপ্তানি অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছে সেসব দেশে গম রপ্তানি করা হবে।

২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের মোট গম রপ্তানির ৫৪ শতাংশই এসেছে বাংলাদেশে। ওই বছর ভারতীয় গমের শীর্ষ ১০ ক্রেতা ছিল বাংলাদেশ, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ওমান ও মালয়েশিয়া।

বিশ্বের মোট গম রপ্তানির ২৯ শতাংশই সরবরাহ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক ভোগ্যপণ্যের বাজারে রীতিমতো আগুন লেগেছে। হু হু করে দাম বেড়েছে গমেরও।


আরও খবর



এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে টেন্ডারবাজি করেননি মোহতেশাম: হাইকোর্ট

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২২ June 20২২ | ৪২জন দেখেছেন
Image

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর টেন্ডারবাজি করেননি। তার কারণে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয়, টাকা পাচারের মূলহোতাও মোহতেশাম হোসেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এসব কথা বলেন। এসময় আদালত প্রশ্ন রাখেন এ ধরনের আসামিদের জামিন কেন দেওয়া হবে?

মোহতেশাম হোসেনের জামিনের বিষয়ে রুলের শুনানি হয় আজ। শুনানিতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আসামি মোহতেশাম স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফের ভাই।

শুনানিতে আসামি ও আইনজীবীকে উদ্দেশ করে হাইকোর্ট বলেন, আপনি একজন মন্ত্রীর (এলজিআরডির সাবেক মন্ত্রী) ভাই। আপনার একটা লিডারশিপ রয়েছে। এলজিইডি থেকে শুরু করে এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে আপনি টেন্ডারবাজি করেননি।

এসময় মোহতেশাম হোসেন বাবরকে ফরিদপুরে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মূলহোতা বলেও উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেন, সংঘটিত অপরাধের মাস্টারমাইন্ড ও রিং লিডার মোহতেশাম। তিনি অন্যান্য আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। ছিলেন তাদের পরামর্শদাতা। তার কারণে সরকার ও দেশের মানুষের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এ ধরনের আসামিদের জামিন দেবো কেন? এরপর আদালত তার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন।

এসময় আদালতে মোহতেশামের আইনজীবী বলেন, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তার চাঁদাবাজি করার কোনো দরকার নেই। তার শ্বশুর মন্ত্রী ছিলেন। পারিবারিকভাবে তারাও ধনী।

তখন আদালত বলেন, যার আছে সেই তো করে। বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট।

আদালত আরও বলেন, এজাহার ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পারছি, আপনি (আসামি) একজন মন্ত্রীর ভাই। আপনার লিডারশিপ রয়েছে। এলজিইডি থেকে শুরু করে এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে টেন্ডারবাজি করেননি।

তখন মোহতেশামের আইনজীবী বলেন, মন্ত্রীর ভাই ঠিক আছে। কিন্তু তিনি অপপ্রচারের শিকার। মিডিয়া দিয়ে বিচার করলে হবে না।

এসময় আদালত বলেন, আপনি (মোহতেশাম) অপরাধী কিনা সেটা বিচারে প্রমাণিত হবে। কিন্তু নথিতে প্রাথমিক অপরাধের উপাদান রয়েছে।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, অর্থ পাচার তো একটা অর্গানাইজড ক্রাইম। এই অপরাধের পেছনে প্রধান হোতা হচ্ছেন মোহতেশাম। তার নেতৃত্বে এ সিন্ডিকেট চলেছে। তখন আদালত মামলার নথি দেখে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, উনি তো মুল নেতৃত্বে।

শুনানি শেষে আদালত আদেশ দিতে চাইলে বাবরের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান নট প্রেস রিজেক্ট (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করার আবেদন জানান। পরে আদালত তার আবেদনটি ডিসচার্জ ফর নন প্রসিকিউশন করে আদেশ দেন।

এর আগে মোহতেশাম বাবরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে গত ২৪ মার্চ আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক নজরুল ইসলাম।

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরে এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল। এছাড়া মাদক ব্যবসা ও ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন তারা। ২৩টি বাস, ট্রাকসহ বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হয়েছেন ওই দুই ভাই। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন তারা। রাজবাড়ীতে ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর এক আইনজীবী খুন হন। সেই হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বরকত ও রুবেল।


আরও খবর



জীবন বিমায় বকেয়া দাবির পাহাড়

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

দেশে ব্যবসা করা জীবন বিমা কোম্পানিগুলো সঠিকভাবে গ্রাহকের দাবির টাকা পরিশোধ করে না- এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে বছরের পর বছর দেশের বিমা খাত সাধারণ মানুষের অনাগ্রহের তালিকায় থেকে গেছে। বিমার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিলুপ্ত করে নতুন নামে নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে করা হয়েছে আইন। এরপরও বিমা দাবি পরিশোধ না করার অপবাদ রয়েই গেছে বিমা কোম্পানিগুলোর ওপর।

বিমা দাবির টাকা না পেয়ে গ্রাহকের আইনের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একাধিক কোম্পানিতে প্রশাসক বসিয়েছে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরপরও দেশে ব্যবসা করা জীবন বিমা কোম্পানিগুলোতে সম্মিলিতভাবে প্রায় অর্ধেক দাবি বকেয়া পড়ে আছে। অবশ্য এর মধ্যে কিছু কিছু কোম্পানি সিংহভাগ বিমা দাবি পরিশোধ করেছে।

জীবন বিমা কোম্পানিগুলোতে পড়ে থাকা বকেয়া বিমা দাবির হারকে হতাশাজনক বলছেন খোদ এ খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দাবি পরিশোধের হার কমপক্ষে ৮০ শতাংশ হওয়া উচিত। সেখানে অর্ধেক বিমা দাবিই বকেয়া পড়ে থাকা কিছুতেই সন্তোষজনক নয়। এমন বিপুল পরিমাণ বিমা দাবি বকেয়া পড়ে থাকায় এ খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আসছে না।

বিমা দাবি পরিশোধ নিয়ে চলতি বছর বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে জীবন বিমা কোম্পানিগুলো ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫২২টি বিমা পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া বিমা দাবি রয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৬১৬টি।

এ সময়ে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধ করা বিমা দাবির পরিমাণ ১ হাজার ৮৪৯ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার ৫৭৭ টাকা। বিপরীতে বকেয়া থাকা বিমা দাবির পরিমাণ ৭৮৮ কোটি ৬১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫৮ টাকা।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সব থেকে বেশি বিমা দাবি বকেয়া রয়েছে বায়রা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ এবং পদ্মা ইসলামী লাইফের। এর মধ্যে বায়রা লাইফে উত্থাপন হওয়া ১১ হাজার ৪২১টি বিমা দাবির বিপরীতে কোম্পানিটি মাত্র ১২৭টি দাবির টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটিতে ১১ হাজার ২৯৪টি বা ৯৯ শতাংশ বিমা দাবি বকেয়া রয়েছে।

গোল্ডেন লাইফে উত্থাপিত হওয়া ২১ হাজার ৯৫টি বিমা দাবির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৩০০টি দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ১৯ হাজার ৭৯৫টি বিমা দাবি। অর্থাৎ বকেয়া বিমা দাবির হার ৯৪ শতাংশ। পদ্মা ইসলামী লাইফে উত্থাপিত হওয়া ৩৮ হাজার ৭৯৪টির মধ্যে ২ হাজার ৬৭টি বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। বিপরীতে বিমা দাবি বকেয়া রয়েছে ৩৬ হাজার ৭২৭টি।

অন্যদিকে বিমা দাবি পরিশোধের হার সব থেকে বেশি এলআইসি বাংলাদেশ, আস্থা লাইফ এবং আলফা লাইফের। এলআইসি বাংলাদেশে উত্থাপিত হওয়া ১২টি বিমা দাবির সবগুলো পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। আস্থা লাইফে উত্থাপিত হওয়া ৩৪৪টি বিমা দাবির মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২৪৩টি পরিশোধ করেছে। আলফা লাইফে উত্থাপন হওয়া ১৯৬টি দাবির মধ্যে ১৯৪টিই পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি।

নতুন ব্যবসা শুরু করা জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি বিমা দাবি পরিশোধ করেছে গার্ডিয়ান লাইফ। এই প্রতিষ্ঠানটিতে উত্থাপিত হওয়া ১৬ হাজার ৪৪০টি দাবির মধ্যে ১৪ হাজার ৭৬২টিই পরিশোধ করা হয়েছে।

বাকিগুলোর মধ্যে বেস্ট লাইফ ২৪৫টির মধ্যে ১৪১টি, চাটার্ড লাইফ ২২১টির মধ্যে ১৮৭টি, ডায়মন্ড লাইফ ২৫১টির মধ্যে ১৬৩টি, যমুনা লাইফ ৯৪টির মধ্যে ৭৬টি, মার্কেন্টাইল লাইফ ১২৪টির মধ্যে ১০৯টি, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ১০৭টির মধ্যে ২৬টি, প্রটেক্টিভ লাইফ ২৫৮টির মধ্যে ১৩৬টি, সোনালী লাইফ ১ হাজার ৩৬৭টির মধ্যে ১ হাজার ৩৫২টি, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ২৭০টির মধ্যে ২০৯টি এবং জেনিথ ইসলামী লাইফ ১৬৫টির মধ্যে ১৩৭টি বিমা দাবি পরিশোধ করেছে।

অন্যদিকে পুরোনো কোম্পানিগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি দাবি পরিশোধ করেছে পপুলার লাইফ। কোম্পানিটিতে উত্থাপিত হওয়া ৬৫ হাজার ১৬১টি বিমা দাবির মধ্যে ৬৫ হাজার ১০৯টি দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ৫২টি।

এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ। কোম্পানিটি ৭২ হাজার ৬৫৭টি বিমা দাবির মধ্যে ৫৫ হাজার ৫৩১টি দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ১২৬টি। ৪৪ হাজার ৬৩২টি বিমা দাবি পরিশোধ করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। কোম্পানিটিতে উত্থাপিত হওয়া ৬৩ হাজার ৭৭৮টি বিমা দাবির মধ্যে ১২ হাজার ৮০৫টি দাবি বকেয়া রয়েছে।

বড় অঙ্কের বিমা দাবি পরিশোধ করা বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪২ হাজার ৯টি বিমা দাবি পরিশোধ করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ডেল্টা লাইফ। কোম্পানিটিতে উত্থাপিত হওয়া ৬০ হাজার ৬৪৩টি বিমা দাবির মধ্যে ১৮ হাজার ৬৩৪টি দাবি বকেয়া রয়েছে। ৩৫ হাজার ৫৬০টি বিমা দাবি পরিশোধ করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বিদেশি মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ। এই কোম্পানিটিতে বিমা দাবি উত্থাপিত হয় ৪৪ হাজার ৮২টি। ফলে মেটলাইফে বকেয়া বিমা দাবির সংখ্যা ৮ হাজার ৫২২টি।

বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হোমল্যান্ড লাইফ ১৩ হাজার ৭৬৪টির মধ্যে ১১ হাজার ১৩২টি, জীবন বিমা কর্পোরেশন ২৪ হাজার ৯৪০টির মধ্যে ১৬ হাজার ৯৬টি, মেঘনা লাইফ ৩৯ হাজার ৭৪টির মধ্যে ২৪ হাজার ৫৮০টি, প্রগতি লাইফ ১৬ হাজার ৫৭৩টির মধ্যে ১৬ হাজার ১৯৫টি, প্রাইম ইসলামী লাইফ ৩১ হাজার ৯৪৪টির মধ্যে ১৪ হাজার ৮৮৯টি, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ১২ হাজার ৩১৯টির মধ্যে ৪ হাজার ৩৭০টি, রূপালী লাইফ ১৪ হাজার ৮২৯টির মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৩টি, সন্ধানী লাইফ ১২ হাজার ১১৫টির মধ্যে ১১ হাজার ৩০৮টি, সানলাইফ ৯১ হাজার ৯২৬টির মধ্যে ১৫ হাজার ১৯৩টি এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ১৮ হাজার ৬০৯টির মধ্যে ২ হাজার ৮৩৪টি বিমা দাবি পরিশোধ করেছে।

কার কতো বিমা দাবি বকেয়া

নতুন ব্যবসা শুরু করা বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে গার্ডিয়ান লাইফে ১ হাজার ৬৭৮টি, বেস্ট লাইফে ১১১টি, চাটার্ড লাইফে ১৫টি, ডাইমোন্ড লাইফে ৮৮টি, যমুনা লাইফে ৫১টি, মার্কেন্টাইল লাইফে ১৫টি, এনআরবি গ্লোবাল লাইফে ৮১টি, প্রটেক্টিভ লাইফে ১৫৬টি, সোনালী লাইফে ১৫টি, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফে ৬১টি এবং জেনিথ ইসলামী লাইফে ২৮টি বিমা দাবি বকেয়া রয়েছে।

অন্যদিকে পুরোনো কোম্পানিগুলোর মধ্যে হোমল্যান্ড লাইফে ২ হাজার ৬৩২টি, জীবন বিমা কর্পোরেশনে ৮ হাজার ৮৪৪টি, মেঘনা লাইফে ১৪ হাজার ৪৯৪টি, প্রগতি লাইফে ৩৭৮টি, প্রাইম ইসলামী লাইফে ১৭ হাজার ৫৫টি, প্রোগ্রেসিভ লাইফে ৭ হাজার ৯৪৯টি, রূপালী লাইফে ১ হাজার ৮৬টি, সন্ধানী লাইফে ৪১৪টি, সানলাইফে ৭৬ হাজার ৭৩৩টি এবং সানফ্লাওয়ার লাইফে ১৫ হাজার ৭৭৫টি বিমা দাবি বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রগতি লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জালালুল আজিম জাগো নিউজকে বলেন, জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর বিমা দাবির পরিশোধের হার কমপক্ষে ৮০ শতাংশ হওয়া উচিত। সেখানে প্রায় অর্ধেক বিমা দাবি বকেয়া থাকা কিছুতেই সন্তোষজনক নয়।

তিনি বলেন, কয়েকটি কোম্পানিতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু কোম্পানি গ্রাহকের দাবির টাকা পরিশোধ করছে না, এসব বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। মূলত এ ধরনের কিছু কোম্পানির কারণে সার্বিক বিমা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সব কোম্পানি সঠিকভাবে বিমা দাবি পরিশোধ করলে বিমার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তো।

জেনিথ ইসলামী লাইফের সিইও এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম নূরুজ্জামান বলেন, আমরা সব সময় গ্রাহকদের দ্রুত বিমা দাবি পরিশোধের চেষ্টা করি। কাগজপত্র ঠিক থাকলে কোনো গ্রাহকের বিমা দাবি বকেয়া থাকবে না।

এ বিষয়ে আইডিআরএ’র মুখপাত্র এস এম শাকিল আখতার জাগো নিউজকে বলেন, জীবন বিমা কোম্পানিগুলো যাতে সঠিকভাবে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করে সে জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এরপরও কিছু কোম্পানি গ্রাহকদের দাবি সঠিকভাবে পরিশোধ করছে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনেকরি এসব কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। অথবা যারা কোম্পানি পরিচালনায় আছেন তাদের সরিয়ে নিয়ে ভালো লোকের হাতে কোম্পানি তুলে দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার যেহেতু এই কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দিয়েছে, তাই এক্ষেত্রে সরকারেরও দায় আছে। সরকারের উচিত এসব কোম্পানির যে সম্পদ আছে তা বিক্রি করে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা করা।


আরও খবর



মাছের ঘেরে উদ্ধার ৫ ফুট লম্বা কালকেউটে

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে মাছের ঘের থেকে পাঁচ ফুট লম্বা একটি কালকেউটে সাপ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। রোববার (১২ জুন) বেলা ১১টার দিকে কাটাখালী টহল ফাঁড়িতে সাপটি অবমুক্ত করা হয়।

এর আগে, শনিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পুঁটিখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের মাছের ঘেরে পুঁতে রাখা জাল থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

jagonews24

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধরা স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজাহান মোক্তাদির জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ঘেরের জাল থেকে কালকেউটে সাপটি উদ্ধার করে কাটাখালী টহল ফাঁড়ির বনে ছেড়ে দিই।’


আরও খবর