Logo
আজঃ Monday ২৭ June ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা নাসিরনগরে মুক্তিযোদ্বাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন পদ্মা সেতু দেখানোর কথা বলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ জুরাইনে পাশের বাড়ির উপড় ধসে পড়েছে সেই ঝুকিপুর্ন ভবনটি

থাইরয়েড হলে যে নিয়মে ওষুধ খাবেন

প্রকাশিত:Friday ০৪ March ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ২৫৬জন দেখেছেন
Image

খবর প্রতিদিন ডেস্কঃ

থাইরয়েড হল স্বরযন্ত্রের দুই পাশে থাকা একটি বিশেষ গ্রন্থি।এর কাজ শরীরের কিছু অত্যাবশ্যকীয় হরমোন (থাইরয়েড হরমোন) উৎপাদন করা। থাইরয়েড গ্রন্থি বা থাইরয়েড হল অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যার অবস্থান গলায়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে শরীরের জন্য থাইরয়েড হরমোনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে, এর থেকে কম বা বেশি হরমোন উৎপাদিত হলেই শরীরের বিভিন্ন রকমের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে।


থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ এটিকে গুরুত্ব দেয় না।  সময় মতো চিকিৎসা না করালে ধীরে ধীরে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে শুধু ওষুধ খেলেই হয় না, যথেষ্ট পরিমাণ পুষ্টিকর খাবারও খেতে হয়।পরীক্ষায় থাইরয়েড ধরা পড়লেই, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। এ ক্ষেত্রে দেরি না করাই ভাল।




চিকিত্‍সকদের মতে, সকালে খালি পেটে থাইরয়েডের ওষুধ খেলে সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। খাওয়ার পরে বা খাবারের সঙ্গে এই ওষুধ খেলে শরীরে সঠিক ভাবে তা শোষিত হয় না। ফলে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে না।হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে, যদি এক জন ব্যক্তি সকালে খালি পেটে থাইরক্সিনের সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেন, তা হলে রোগীর শরীরে অস্বস্তি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুটি ডোজে ভাগ করে ওষুধ খাওয়া যেতে পারে- সকালে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর আগে।



থাইরয়েডের ওষুধ খেতে এসব নিয়ম মেনে চলা উচিত


১) এই ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে একটা বাঁধাধরা সময় মেনে চলাই ভাল। সকালের ৮টার ওষুধ যেন রোজ ৮টাতেই খাওয়া হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সকালে ওষুধ খেতে যদি কোনও দিন ভুলে যান তা হলে দুপুরের খাবারের দু’থেকে আড়াই ঘণ্টা পর ওষুধ খেতে পারেন।


২) এই ওষুধ খাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে কিছু না খাওয়াই ভাল। এমনকি চা, কফিও না!


৩) থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ক্যালসিয়াম রয়েছে এমন কোনও খাবার খাবেন না।


৪) এই ওষুধ খাওয়ার সময় অন্য কোনও সাপ্লিমেন্ট যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম বা ভিটামিনের ওষুধ ভুলেও খাবেন না।


৫) বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওষুধটি সারা জীবন ধরে খেয়ে যেতে হয়। তাই পরীক্ষায় হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক হলেও ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। মাত্রা বেশি কমে বা বেড়ে গেলে ওষুধের ডোজ ঠিক করতে চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিতে হবে।



আরও খবর



শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করেছে জবির চক্রাকার বাস

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
Image

শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যা লাঘবে ২৯ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নিজস্ব অর্থায়নে কেনা একটি দ্বিতল বাসের মাধ্যমে চক্রাকার বাস সার্ভিস সেবা শুরু হয়। প্রতিদিন দুইবার বাসটি চক্রাকারে ঘুরে ক্যাম্পাসে আসে। চক্রাকার এই বাসে উপকৃত হয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, প্রতিদিন দুপুর দেড়টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যায় বাসটি। এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে দয়াগঞ্জ, সায়েদাবাদ, খিলগাঁও রেলগেট, মালিবাগ, মৌচাক,বাংলা মোটর, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুলিস্তান হয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

চক্রাকার বাসে যাতায়াতকারী একাধিক শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে বলেন, সপ্তাহে দুই দিন আমাদের ক্লাস দুপুর ১২টায় শেষ হয়ে যায়, তাই ৪টা পর্যন্ত মূল বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। চক্রাকার বাস চালু হওয়ার পর এখন দুপুরেই বাসায় যেতে পারছি।

এখন আর বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগে না। আবার অনেকের ক্লাস পরীক্ষা শেষ হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, অনেকের ক্যাম্পাসের আশপাশে টিউশনি করে বিকেল, তাই সবাই আবার সন্ধ্যা ৭টার আবার ক্যাম্পাস থেকে এই বাসে যেতে পারে।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করেছে জবির চক্রাকার বাস

তারা জানান, পুরান ঢাকা যানজটের শহর তাই ক্যাম্পাস থেকে মোটামুটি নিকটবর্তী জায়গাগুলোতে যারা আমরা থাকি খুব উপকৃত হবো। এছাড়াও অনেকে কালচারাল অ্যাক্টিভিটিজে জড়িত তারের সন্ধ্যার পর বাসায় যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। চক্রাকার এই বাস সার্ভিস যদি নিয়মিত চালু থাকে তাহলে আমাদের ভোগান্তি কিছুটা কমবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা চিন্তা করে চক্রাকার বাস চালুর উদ্যোগ। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তারা প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকা লাগে। তাদের অনেকে আসা যাওয়ার সমস্যা পড়ে। তাই আমাদের দুপুর ও সন্ধ্যায় দুইটা শিফটে এই বাসচলবে। সবার সহযোগিতা পেলে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর



চা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৬৭জন দেখেছেন
Image

চা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, এক সময় চা ছিল আমাদের অন্যতম রপ্তানি পণ্য। পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় চা রপ্তানি কমে গেলেও সরকার চায়ের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুন) ‘জাতীয় চা দিবস-২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

শনিবার (৪ জুন) দেশে দ্বিতীয়বারের মতো ‘জাতীয় চা দিবস’ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, সরকার ২০১৭ সালে চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘উন্নয়নের পথ নকশা: বাংলাদেশ চা শিল্প’ অনুমোদন দেয়। সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ২০২১ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ (৯৬.৫১ মিলিয়ন কেজি) চা উৎপাদিত হয়েছে।

চা শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে মো. আবদুল হামিদ বলেন, চা শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাসস্থান, শৌচাগার ও নলকূপ স্থাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা, বাগানের নারী শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের এসব পদক্ষেপের কারণে বৃহদায়তন চা বাগানের পাশাপাশি সমতলেও চা চাষে বৈপ্লবিক উন্নয়ন হয়েছে।

‘সুদীর্ঘ ১৮০ বছর ধরে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে চা শিল্প গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে চা শিল্পের যাত্রা শুরু হয়।’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান। তিনি ৪ জুন ১৯৫৭ থেকে ২৩ অক্টোবর ১৯৫৮ পর্যন্ত চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চা শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’

‘বঙ্গবন্ধু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত টি রিসার্চ স্টেশনে ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরি স্থাপনের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।’

‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত চা বাগান পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়নে পদক্ষেপ নেন। এ প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার তারিখ ৪ জুন জাতীয় চা দিবস পালনের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।’

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাত্রায় চা শিল্পের অবদান আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডসহ চা শিল্প সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় ‘জাতীয় চা দিবস ২০২২’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।


আরও খবর



জুরাইনে ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৪

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর জুরাইন মোড়ে স্থানীয়দের হামলায় ট্রাফিক পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে উপ-পরিদর্শক (এসআই) উৎপল দত্ত অপু (৩৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আহত বাকি তিন পুলিশ সদস্য রাজধানীর পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

police-1.jpg

ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি গোবিন্দ চন্দ্র বলেন, ইয়াসিন নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর কাগজপত্র দেখতে চায় ট্রাফিক পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান ইয়াসিন। এসময় তাকে আটক করে পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামল করেন। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল আরোহী ইয়াসিনকে আটক করে শ্যামপুর থানায় নেওয়া হয়েছে। তিনি সেখানেই আটক আছেন। স্থানীয়রা পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



সব সময় উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে ‘ঐক্য’

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ২৫ June ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সংগঠন ই-ক্যাবের ২০২২-২০২৪ সালের ৪র্থ দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। একটি সুসংগঠিত ই-ক্যাব গড়ার পাশাপাশি সময়ের চাহিদা মেনে ই-কমার্সের উন্নয়নের ব্রত নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ‘ঐক্য’ প্যানেল।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যের টিম লিডার, শিক্ষা ও ই-কমার্স খাতের পরিচিত মুখ প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। গত ১৩ জুন সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনে এক অনুষ্ঠানে নিজেদের ভাবনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

বক্তারা বলেন, ই-কমার্স খাতের বিভিন্ন বিভাগে বিগত বছরসমূহে সরকার যেমন বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে জেগে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছে; তেমনই তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসে এসব সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে ই-ক্যাবও রেখেছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। টিম ঐক্য সব পক্ষকে নিয়ে একসাথে কাজ করার মানসিকতা ও পরিবেশ তৈরি করতে চায়।

ঐক্য প্যানেলের টিম লিডার প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আগামী ২ বছরের জন্য আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে ই-কমার্সের বাজার সম্প্রসারণ। পাশাপাশি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগ, তথ্য ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তি সহজ করা। এমনকি ই-কমার্স বান্ধব আইন, বাজেট ও নীতি প্রণয়নে জোরালো ভূমিকা পালন করা।’

ঐক্য প্যানেলের সদস্যরা ঘোষণা করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে সব সময় উদ্যোক্তারা তাদের পাশে পাবেন। উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে সরাসরি সদস্যদের মতামত নিয়ে সমাধান করা হবে। নির্বাচনের আগেও তারা ই-ক্যাবের পাশে ছিলেন, নির্বাচিত না হলেও সব সময় ই-ক্যাবের পাশে থাকবেন।

এ সময় প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম (অংশীদার-ক্রাফটসম্যান সলুশন), মো. তাজুল ইসলাম (আই এক্সপ্রেস লিমিটেড), আরিফ মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর চৌধুরী (স্কুপ ইনফোটেক লিমিটেড), মো. সেলিম শেখ (নূরতাজ ডটকম বিডি), সামদানি তাব্রীজ (র্যাপিডো ডেলিভারিস), ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদা হায়দার রিমা (মেনসেন মিডিয়া), মো. আরিফুল ইসলাম ডিপেন (পরান বাজার) এবং ছোফায়েত মাহমুদ লিখন (কোরিয়ান মার্ট বিডি)।

আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) নির্বাচন। নির্বাচনে ভোটার আছেন ৭৯৫ জন।


আরও খবর



সুকুমার রায়ের মজার গল্প: দানের হিসাব

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৯জন দেখেছেন
Image

এক ছিল রাজা। রাজা জাঁকজমকে পোশাক পরিচ্ছদে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেন, কিন্তু দানের বেলায় তার হাত খোলে না। রাজার সভায় হোমরা-চোমরা পাত্র-মিত্র সবাই আসে, কিন্তু গরিব-দুঃখী পণ্ডিত-সজ্জন এরা কেউ আসেন না। কারণ সেখানে গুণীর আদর নাই, একটি পয়সা ভিক্ষা পাবার আশা নাই।

রাজার রাজ্যে দুর্ভিক্ষ লাগল, পূর্ব সীমানার লোকেরা অনাহারে মরতে বসল। রাজার কাছে খবর এলো, রাজা বললেন, এ সমস্ত দৈবে ঘটায়, এর উপর আমার কোন হাত নেই। লোকেরা বলল, রাজভাণ্ডার থেকে সাহায্য করতে হুকুম হোক, আমরা দূর থেকে চাল কিনে এনে এ যাত্রা রক্ষা পেয়ে যাই। রাজা বললেন, আজ তোমাদের দুর্ভিক্ষ, কাল শুনব আর এক জায়গায় ভূমিকম্প, পরশু শুনব অমুক লোকেরা ভারি গরিব, ভুবেলা খেতে পায় না। সবাইকে সাহায্য করতে হলে রাজভাণ্ডার উজাড় করে রাজাকে ফতুর হতে হয়! শুনে সবাই নিরাশ হয়ে ফিরে গেল।

ওদিকে দুর্ভিক্ষ বেড়েই চলেছে। দলে দলে লোক অনাহারে মরতে শুরু করেছে। আবার দূত এসে রাজার কাছে হাজির। সে রাজসভায় হত্যা দিয়ে পড়ে বললো, দোহাই মহারাজ, আর বেশি কিছু চাই না, দশটি হাজার টাকা দিলে লোকগুলো আধপেটা খেয়ে বাঁচে।

রাজা বললেন, অত কষ্ট করে বেঁচেই বা লাভ কি? আর দশটি হাজার টাকা বুঝি বড় সহজ মনে করেছ? দূত বললো, দেবতার কৃপায় কত কোটি টাকা রাজভাণ্ডারে মজুত রয়েছে, যেন টাকার সমুদ্র! তার থেকে এক-আধ ঘটি তুললেই বা মহারাজের ক্ষতি কি? রাজা বললেন, দেদার টাকা থাকলেই কি দেদার খরচ করতে হবে? দূত বললো, প্রতিদিন আতরে, সুগন্ধে, পোশাকে, আমোদে, আর প্রাসাদের সাজসজ্জায় যে টাকা বেরিয়ে যায়, তারই খানিকটা পেলে লোকগুলো প্রাণে বাঁচে। শুনে রাজা রেগে বললেন, ভিখারি হয়ে আবার উপদেশ শোনাতে এসেছ? মানে সরে পড়। দূত বেগতিক দেখে সরে পড়ল।

রাজা হেসে বললেন, যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা! দুশো পাঁচশো হত, তবু না হয় বুঝতাম; দারোয়ানগুলোর খোরাক থেকে দু চারদিন কিছু কেটে রাখলেই টাকাটা উঠে যেত। কিন্তু তাতে তো ওদের পেট ভরবে না, একেবারে দশ হাজার টাকা হেঁকে বসলো! ছোটলোকের একশেষ! শুনে পাত্রমিত্র সবাই মুখে হুঁ-হুঁ করলেও মনে মনে সবাই বললো, ছি, ছি কাজটা অতি খারাপ হলো!

দিন দুই বাদে কোথা থেকে এক বুড়ো সন্ন্যাসী এসে রাজসভায় হাজির। সন্ন্যাসী এসেই রাজাকে আশীর্বাদ করে বললেন, দাতাকর্ণ মহারাজ! ফকিরের ভিক্ষা পূর্ণ করতে হবে! রাজা বললেন, ভিক্ষার বহরটা আগে শুনি। কিছু কমসম করে বললে হয়তো বা পেতেও পারেন। সন্ন্যাসী বললেন, আমি ফকির মানুষ, আমার বেশি দিয়ে দরকার কি? আমি অতি যৎকিঞ্চিৎ সামান্য ভিক্ষা একটি মাস ধরে প্রতিদিন রাজভাণ্ডারে পেতে চাই। আমার ভিক্ষা নেবার নিয়ম এই, প্রথম দিন যা নিই, দ্বিতীয় দিন নিই তার দ্বিগুণ, তৃতীয় দিনে তারও দ্বিগুণ আবার চতুর্থ দিনে তৃতীয় দিনের দ্বিগুণ। এমনি করে প্রতিদিন দ্বিগুণ করে নিই, এই আমার ভিক্ষার রীতি।

রাজা বললেন, তা তো বেশ বুঝলাম। কিন্তু প্রথম দিন কত চান সেইটাই হলো আসল কথা। দু' চার টাকায় পেট ভরে তো ভালো কথা, নইলে একেবারে বিশ পঞ্চাশ হেঁকে বসলে সে যে অনেক টাকার মামলায় গিয়ে পড়তে হয়!

সন্ন্যাসী একগাল হেসে বললেন, মহারাজ, ফকিরের কি লোভ থাকে? আমি বিশ পঞ্চাশও চাইনে, দু' চার টাকাও চাইনে। আজ আমায় একটি পয়সা দিন, তারপর ঊনত্রিশ দিন দ্বিগুণ করে দেবার হুকুম দিন। শুনে রাজা মন্ত্রী পাত্রমিত্র সবাই প্রকাণ্ড দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। তখন চটপট হুকুম হয়ে গেল, সন্ন্যাসী ঠাকুরের হিসাব মত রাজভাণ্ডার থেকে এক মাস তাকে ভিক্ষা দেওয়া হোক। সন্ন্যাসী ঠাকুর মহারাজের জয়-জয়কার করে বাড়ি ফিরলেন।

রাজার হুকুমমতো রাজ-ভাণ্ডারী প্রতিদিন হিসাব করে সন্ন্যাসীকে ভিক্ষা দেয়। এমনি করে দুদিন যায়, দশদিন যায়। দু' সপ্তাহ ভিক্ষা দেবার পর ভাণ্ডারী হিসাব করে দেখল ভিক্ষাতে অনেক টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। দেখে তার মন খুঁৎ খুঁৎ করতে লাগল। রাজামশাই তো কখনো এত টাকা দান করেন না! সে গিয়ে মন্ত্রীকে খবর দিল।

মন্ত্রী বললেন, তাইতো হে, এটা তো আগে খেয়াল হয় নি। তা এখন তো আর উপায় নেই, মহারাজের হুকুম নড়চড় হতে পারে না!

তারপর আবার কয়েকদিন গেল। ভাণ্ডারী আবার মহাব্যস্ত হয়ে মন্ত্রীর কাছে হিসাব শোনাতে চললো। হিসাব শুনে মন্ত্রীমশায়ের মুখের তালু শুকিয়ে গেল। তিনি ঘাম মুছে, মাথা চুলকিয়ে, দাড়ি হাতড়িয়ে বললেন, বল কি হে! এখন এত? তাহলে মাসের শেষে কত দাঁড়াবে?

ভাণ্ডারী বললো, আজ্ঞে তা তো হিসাব করা হয় নি! মন্ত্রী বললেন, দৌড়ে যাও, এখনি খাজাঞ্চিকে দিয়ে একটা পুরো হিসাব করিয়ে আন। ভাণ্ডারী হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে চললো; মন্ত্রীমশাই মাথায় বরফ জলের পট্টি দিয়ে ঘন ঘন হাওয়া খেতে লাগলেন।

আধঘণ্টা যেতে না যেতেই ভাণ্ডারী কাঁপতে কাঁপতে হিসাব নিয়ে এসে হাজির। মন্ত্রী বললেন, সবশুদ্ধ কত হয়? ভাণ্ডারী হাত জোড় করে বললো, আজ্ঞে এক কোটি সাতষট্টি লাখ সাতাত্তর হাজার দুশো পনের টাকা পনের আনা তিন পয়সা। মন্ত্রী চটে গিয়ে বললেন, তামাশা করছ নাকি? ভাণ্ডারী বললো, আজ্ঞে তামাশা করব কেন? আপনিই হিসাবটা দেখে নিন! এই বলে সে হিসাবের কাগজখানা মন্ত্রীর হাতে দিল। মন্ত্রীমশাই হিসাব পড়ে, চোখ উলটিয়ে মূর্ছা যান আর কি! সবাই ধরাধরি করে অনেক কষ্টে তাকে রাজার কাছে নিয়ে হাজির করল।

রাজা বললেন, ব্যাপার কি? মন্ত্রী বললেন, মহারাজ, রাজকোষের প্রায় দু' কোটি টাকা লোকসান হতে যাচ্ছে! রাজা বললেন, সে কি রকম? মন্ত্রী বললেন, মহারাজ, সন্ন্যাসী ঠাকুরকে যে ভিক্ষা দেবার হুকুম দিয়েছেন, এখন দেখছি তাতে ঠাকুর রাজভাণ্ডারের প্রায় দু কোটি টাকা বের করে নেবার ফিকির করেছে! রাজা বললেন, এত টাকা দেবার তো হুকুম হয় নি! তবে এ রকম বে-হুকুম কাজ করছে কেন? বোলাও ভাণ্ডারীকে। মন্ত্রী বললেন, আজ্ঞে, সমস্তই হুকুমমত হয়েছে! এই দেখুন না দানের হিসাব।

রাজামশাই একবার দেখলেন, দুবার দেখলেন, তারপর ধড়ফড় করে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন! অনেক কষ্টে তার জ্ঞান হলে পর লোকজন ছুটে গিয়ে সন্ন্যাসী ঠাকুরকে ডেকে আনল। ১ম দিন ৫ এক পয়সা, ২য় দিন ১০, এভাবে ৩০ তম দিনে তা হলো ৮৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৮ টাকা। মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৭৭ হাজার ২১৫ টাকা ১৫ আনা ৩ পয়সা।

ঠাকুর আসতেই রাজামশাই কেঁদে তার পায়ে পড়লেন। বললেন, দোহাই ঠাকুর, আমায় ধনে-প্রাণে মারবেন না। যা হয় একটা রফা করে আমার কথা আমায় ফিরিয়ে নিতে দিন। সন্ন্যাসী ঠাকুর গম্ভীর হয়ে বললেন, রাজ্যের লোক দুর্ভিক্ষে মরে, তাদের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা চাই। সেই টাকা নগদ হাতে হাতে পেলে আমার ভিক্ষা পূর্ণ হয়েছে মনে করব।

রাজা বললেন, সেদিন একজন এসেছিল, সে বলেছিল দশ হাজার টাকা হলেই চলবে! সন্ন্যাসী বললেন, আজ আমি বলছি পঞ্চাশ হাজারের এক পয়সা কম হলেও চলবে না! রাজা কাঁদলেন, মন্ত্রী কাঁদলেন, উজির-নাজির সবাই কাঁদল। চোখের জলে ঘর ভেসে গেল, কিন্তু ঠাকুরের কথা যেমন ছিল তেমনি রইল। শেষে অগত্যা রাজভাণ্ডার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা গুণে ঠকুরের সঙ্গে দিয়ে রাজামশাই নিষ্কৃতি পেলেন।

দেশময় রটে গেল দুর্ভিক্ষে রাজকোষ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দান করা হয়েছে। সবাই বললে, ‘দাতাকর্ণ মহারাজ!’

লেখা: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।


আরও খবর