Logo
আজঃ Monday ০৩ October ২০২২
শিরোনাম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিও পরিচয়ে প্রতারণা করতেন তিনি

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৩ October ২০২২ | ৯৫জন দেখেছেন
Image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিও (অ্যাডিশনাল পার্সোনাল অফিসার) পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. রাসেল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

এসময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল, দুটি সিম, ১৬টি ভিজিটিং কার্ড (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিও পরিচয়ধারী) ও ১টি সিল (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিও পরিচয়ধারী) জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, মো. রাজ বিন রাসেল তালুকদার নাম দিয়ে এক ব্যক্তি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রীর ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি ফেসবুকে ব্যবহার করে নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিও পরিচয় দিয়ে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিও পরিচয় দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চাকরির প্রলোভন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান, পুলিশে লোক নিয়োগ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বদলি, এলাকার মামলা নিষ্পত্তি সংক্রান্তে তদবির করে বিপুল পরিমাণে অর্থ আত্মসাৎ করে।

এ ধরণের ঘটনায় এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি প্রতারণার মামলা হয়। মামলাটি তদন্তকালে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শানাক্ত করা হয়। সোমবার রংপুর জেলার কোতয়ালী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

jagonews24

ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ আরও বলেন, গ্রেফতার রাসেল রংপুরের পীরগঞ্জের বাসিন্দা। সে মো. রাজ বিন রাসেল তালুকদার নাম দিয়ে ফেসবুকে আইডি খুলে। এরপর কৌশলে মন্ত্রী, এমপি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে। নেতাকর্মীদের জন্য রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস উন্মুক্ত থাকার সুযোগে রাসেল পার্টি অফিসে আসতো। ফলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পার্টি অফিসে ছবি তুলে সে ছবি তার নিজ ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে। তার আপলোড করা ছবি ব্যবহার করে নিজ এলাকাসহ রংপুর জেলার এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সমাজে নিজেকে পরিচিত করে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিও পরিচয় দিয়ে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে তা সবার মধ্যে বিতরণ করতো।

গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদের নির্দেশে ও এডিসি মোহাম্মদ জুনায়েদ আলম সরকারের তত্ত্বাবধানে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের লিডার এডিসি মো. মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

এরকম প্রতারণা এড়াতে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। সেগুলো হলো- মন্ত্রী, এমপি ও সমাজের বিশিষ্টজনদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে কারও সঙ্গে লেনদেন থেকে বিরত থাকা এবং মন্ত্রী, এমপি ও সমাজের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত কারোর সঙ্গে ছবি তোলার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা।


আরও খবর