Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল: উসকানি দিয়ে লাভ হবে না

প্রকাশিত:Friday ২৪ December ২০২১ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৩৫৯জন দেখেছেন
Image

মাঝেমধ্যে ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে কোনো উসকানি দিয়ে লাভ হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আজ শুক্রবার রাজধানীর লালবাগে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনের শুরুতে ঝালকাঠিতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ। এ দেশ সবার। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ থাকবে। কোনো শক্তি বাংলাদেশকে এ জায়গা থেকে সরাতে পারবে না। সবাই এখানে বাংলাদেশি।

সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ ঐক্যের ভিত্তিতে স্বাধীন হয়। এ দেশে সবার সমান অধিকার আছে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা আছেন, তারা যদি নিজ নিজ এলাকায় সজাগ থাকেন, তাহলে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, উভয় দেশ শুধু ইতিহাস–সংস্কৃতিই ভাগাভাগি করে না, ধর্মনিরপেক্ষতা, পারস্পরিক সুযোগ-সুবিধাও ভাগাভাগি করে। বাংলাদেশকে ভারত সবসময় সমর্থন করেছে এবং করে যাবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের জায়গা দিন দিন আরও দৃঢ় হবে। তবে এখনও দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তিস্তা নদীর পানির সমস্যা সমাধান করতে পারলে দুই দেশের জনগণই লাভবান হবে। দেশে অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের মাঠে থাকার কথা বলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি। এতে বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জে এল ভৌমিক, সদস্যসচিব চন্দ্রনাথ পোদ্দারসহ প্রমুখ। এ সম্মেলনের মাধ্যমে আগামীকাল কমিটি ঘোষণা করা হবে।


আরও খবর



যাত্রাবাড়ীতে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার মাদক কারবারি রিমান্ডে

প্রকাশিত:Wednesday ১০ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ১৫ August ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ৯০১ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার রাশেদ মিয়া (২২) নামের এক মাদক কারবারির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১০ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোশাররফ হোসেন তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১০। এসময় ৯০১ বোতল ফেনসিডিলসহ রাশেদ মিয়া নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও মোবাইল জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়।


আরও খবর



কাঁচা মরিচের কড়া ঝাল, কমেছে ইলিশের দাম

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

ঈদের আগে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়া কাঁচ মরিচ এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচা মরিচ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা । তবে কিছুটা কমেছে ইলিশের দাম, সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম কেজিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

এদিকে, কাঁচা মরিচের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। সবজির পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগি ও ডিমের দাম। সেই সঙ্গে আলু, পেঁয়াজের দামেও পরিবর্তন আসেনি।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী কাঁচা মরিচের পোয়া ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে এক কেজি বা আধা কেজি নিলে দাম কিছুটা কম রাখা হচ্ছে।

কাঁচা মরিচের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. আতাউর বলেন, বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে দাম কমছে না। কাঁচা মরিচের দাম আরও কয়েকদিন এমন চড়া থাকবে।

এদিকে, বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা।

৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকায়, যা গ সপ্তাহে ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।

ইলিশের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। সামনে দাম আরও কমতে পারে।

মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৫০ টাকায়। আর পাকিস্তানী কক বা সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০-২৮০ টাকায়।

সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে পরিবর্তন আসেনি। মুরগির মতো দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ডিমের। এক ডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে শিম আসতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা এখন সব থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন এ সবজিটি। এক কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়।

এছাড়া গাজর ১৩০-১৪০ টাকা ও পাকা টমেটো ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

গাজর ও টমেটোর দাম অপরিবর্তিত থাকলেও কিছুটা বেড়েছে বরবটির দাম। গত সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটি এখন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার কেজি গত সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়, কাঁকরোল ৫০-৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, পটল ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় আরও রয়েছে করলা, কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, কাঁচকলা। করলা ৪০-৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে, চিচিঙ্গার কেজিও ৪০-৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী ফরহাদ বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। সহসা সবজির দামে খুব একটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও কম।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়। শিং ও পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৬০ টাকা।
শৈল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়। ঈদের পর এসব মাছের দামে পরিবর্তন আসেনি।


আরও খবর



‘যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানেজমেন্ট নার্সদের কাজের বড় সুযোগ আসছে’

প্রকাশিত:Thursday ০৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ম্যানেজমেন্ট নার্সদের কাজ করার বড় একটা সুযোগ আসছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে আমি নিউইয়র্ক গিয়েছিলাম। সেখানে বিদেশি কর্মীদের বিষয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলাম। সেখানে চারজন বন্ধু, ছোট ভাই, কাজিনও ছিলেন। নিউইয়র্কে তাদের বিশাল অফিস আছে প্রায় ২০ হাজার বর্গফুটের। এমন অফিস যুক্তরাষ্ট্রের ৮টি প্রদেশে আছে। তারা হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। ওখানে আমাদের বড় একটা সুযোগ আছে, দেখা যাক কী হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের বিজয় ৭১ মিলনায়তনে প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কিছু প্রাইভেট সেক্টরকে নিয়েও বসার চেষ্টা করছি। আমার কাজিন বললেন আপনারা এইভাবে কাজ করলে আমিই বছরে ১০ থেকে ১২ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে যাবো। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানেজমেন্ট নার্স লাগবে বছরে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ।

সরকারের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি আপনাদের বলবো সরকারের মাধ্যমে বিদেশে যান। সরকারি সহায়তা ছাড়া যারা বিদেশে যান তাদের কী যে ভয়ংকর অবস্থা তা আমি দেখেছি। ইতালিতে কিছু মানুষকে দেখে হোটেলে আমি সারারাত কেঁদেছি। সরকারি মাধ্যমে হজে যান, কোনো চিটিং হবে না। হয়তো আপনাকে হাইফাইভাবে রাখতে পারবে না। মিনা ও হারাম শরিফের এক কিলোমিটারের মধ্যে রাখবে। প্রাইভেট সেক্টরে গেলে বড় একটা ভোগান্তিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সরকারের মাধ্যমে গেলে সেটা থাকে না। যারা যাবেন তারা সরকারের মাধ্যমে বিদেশে যাবেন।

তিনি বলেন, প্রায়ই দেখি ভূমধ্যসাগরে অনেকেই মারা যাচ্ছেন, প্রায়ই আমরা এসব নিয়ে বিপদে পড়ি। সরকারের মাধ্যমে গেলে কিন্তু এসব বিপদ হয় না। সরকারের মাধ্যমে গেলে এটা হয় না। অনেকে বেসরকারিভাবে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যান। সরকারের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ করলে বিদেশে বেশি বেতন পাওয়া সম্ভব।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন প্রমুখ।


আরও খবর



‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে’

প্রকাশিত:Tuesday ১৬ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১৭ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আর্টিকেল নাইনটিন’। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়।

সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, আর্টিকেল নাইনটিনের হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি হতে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত আড়াই বছরে ১৭৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৮৯টি মামলা হয়েছে। এই সাংবাদিকদের মধ্যে ৫৩ জনকে বিনাবিচারে দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ধারাবাহিক অবদমন ও নাগরিক অধিকারের ক্রমাগত সংকোচন বিষয়ে আর্টিকেল নাইনটিন উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউয়ের (ইউপিআর) তৃতীয় পর্বের সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর জাতীয় ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন।

এছাড়া সংস্থাটির জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের চলমান বাংলাদেশ সফরের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে চার বছর আগে বাংলাদেশ সরকারের করা অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি তুলে ধরারও আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকার ইউপিআরের আওতায় বিভিন্ন রাষ্ট্রের ১৭৮ সুপারিশ গ্রহণ করে, যার মধ্যে অন্তত ২৫টি সুপারিশ ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা ও শক্তিশালী করা সম্পর্কিত। নিয়ম অনুযায়ী গৃহীত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে পরবর্তী পাঁচ বছর সময় পাওয়া যায়। সেই হিসেবে, বাংলাদেশ সরকার তৃতীয় পর্যায়ের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের শেষ বছরে রয়েছে। আগামী বছর ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সরকারকে জাতীয় প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং নভেম্বরে পর্যালোচনায় অংশ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ফারুখ ফয়সল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর সম্ভাব্য অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ বিষয়ে ইউপিআরে উচ্চমাত্রার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও সরকার তখন সেটি আমলে নেয়নি। দেরিতে হলেও এই আইনের অপপ্রয়োগ ও অপব্যবহারের কথা স্বীকার করে সরকার বর্তমানে একটি কমিটি করেছে বলে জানানো হয়েছে। সেই কমিটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে সরকার সফররত মানবাধিকার হাইকমিশনারকে জানিয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য এবং আইনটির চিহ্নিত নিবর্তনমূলক ধারাগুলো অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানায় আর্টিকেল নাইনটিন।

তিনি আরও বলেন, ইউপিআর প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য একটি অগ্রাধিকার ইস্যু বলে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বলে থাকেন। আবার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের মানবাধিকারবিষয়ক অঙ্গীকারের মধ্যে অন্যতম। অথচ এ সংক্রান্ত ইউপিআর সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার আদৌ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না- তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।


আরও খবর



পরীক্ষা ছাড়াই কি জান্নাত পাওয়া যাবে?

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

বিনা যুদ্ধে এবং কোন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন না হয়েই তোমরা জান্নাতে চলে যাবে? না, বরং জান্নাত তারাই লাভ করবে, যারা (আল্লাহ কর্তৃক) পরীক্ষায় পূর্ণভাবে সফলতা অর্জন করবেন। কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রতি উপদেশগুলো এভাবে তুলে ধরেছেন-

اَمۡ حَسِبۡتُمۡ اَنۡ تَدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ وَ لَمَّا یَعۡلَمِ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ جٰهَدُوۡا مِنۡکُمۡ وَ یَعۡلَمَ الصّٰبِرِیۡنَ

তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে আর কে ধৈর্যশীল তা এখনো প্রকাশ করেননি?' (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪২)

আয়াতের সার-সংক্ষেপ

এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তাআলার চিরাচরিত নিয়ম হচ্ছে যে, তিনি কাউকে পরীক্ষা না করে জান্নাতে দেবেন না। তিনি তাদেরকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে তারপর সে পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। পবিত্র কোরআনে এ কথাটি বারবার ঘোষিত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা একাধিক আয়াতে এ বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করেছেন-

اَمۡ حَسِبۡتُمۡ اَنۡ تَدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ وَ لَمَّا یَاۡتِکُمۡ مَّثَلُ الَّذِیۡنَ خَلَوۡا مِنۡ قَبۡلِکُمۡ ؕ مَسَّتۡهُمُ الۡبَاۡسَآءُ وَ الضَّرَّآءُ وَ زُلۡزِلُوۡا حَتّٰی یَقُوۡلَ الرَّسُوۡلُ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗ مَتٰی نَصۡرُ اللّٰهِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ نَصۡرَ اللّٰهِ قَرِیۡبٌ

‘নাকি তোমরা ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের কাছে তাদের মত কিছু আসেনি, যারা তোমাদের আগে গত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসুল ও তার সাথি মুমিনগণ বলছিল, ‘কখন আল্লাহর সাহায্য (আসবে)? জেনে রাখো! নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য কাছাকাছি।’ (সুরা বাকারা : ২১৪)

اَمۡ حَسِبۡتُمۡ اَنۡ تُتۡرَکُوۡا وَ لَمَّا یَعۡلَمِ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ جٰهَدُوۡا مِنۡکُمۡ وَ لَمۡ یَتَّخِذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَ لَا رَسُوۡلِهٖ وَ لَا الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَلِیۡجَۃً ؕ وَ اللّٰهُ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ

‘তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদেরকে এমনিই ছেড়ে দেওয়া হবে যে পর্যন্ত আল্লাহ জেনে না নেবেন তোমাদের মধ্যে কারা তাঁর পথে জিহাদ করেছে; আর আল্লাহ তাঁর রাসুল ও মুমিনদের ছাড়া অন্য কাউকে বন্ধু ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেননি? তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ বিশেষভাবে অবহিত।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ১৬)

اَحَسِبَ النَّاسُ اَنۡ یُّتۡرَکُوۡۤا اَنۡ یَّقُوۡلُوۡۤا اٰمَنَّا وَ هُمۡ لَا یُفۡتَنُوۡنَ

‘মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না?’ (সুরা আনকাবুত : আয়াত ২)

মৃত্যু বা বিপদ কামনা করা কারও জন্যই বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা পরবর্তী আয়াতে বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন-

 وَ لَقَدۡ کُنۡتُمۡ تَمَنَّوۡنَ الۡمَوۡتَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تَلۡقَوۡهُ ۪ فَقَدۡ رَاَیۡتُمُوۡهُ وَ اَنۡتُمۡ تَنۡظُرُوۡنَ

আর তোমরা অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতে, তার সঙ্গে সাক্ষাতের আগে। অতএব তোমরা তো তা দেখেছই এমতাবস্থায় যে, তোমরা তাকাচ্ছিলে।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৩)

এ আয়াতে সেসব সাহাবিদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যাঁরা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে না পারার কারণে নিজেদের হৃদয়ে এক প্রকার বঞ্চনা-ব্যথা অনুভব করতেন এবং চাইতেন যে, আবারও যুদ্ধের ময়দান উত্তপ্ত হলে তাঁরাও কাফেরদের শিরচ্ছেদ করে জিহাদের ফজিলত অর্জন করবেন। আর এই সাহাবিরাই ওহুদের দিন জিহাদের উদ্দীপনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মদিনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

কিন্তু যখন মুসলিমদের বিজয় কাফেরদের অভাবিত আক্রমণের ফলে পরাজয়ে পরিবর্তন হয়ে গেল, তখন জিহাদের উদ্দীপনায় ভরপুর যাঁদের অন্তর এমন মুজাহিদরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন এবং অনেকে তো পলায়নও করেন। এরপর অল্প সংখ্যক লোক দৃঢ়তার সঙ্গে ময়দানে টিঁকে থাকেন। (ফাতহুল ক্বাদির)

তাইতো হাদিসে এসেছে যে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা শক্রর সঙ্গে সাক্ষাত কামনা করো না; আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাও, তবে যদি তারপরও সাক্ষাত হয়ে যায় তাহলে ধৈর্যধারণ কর এবং জেনে রাখো! জান্নাত তরবারীর ছায়ার নীচে।’ (বুখারিম, মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে হতাশা, দুবলতা ও হীনমনোবল থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তাঁর উপদেশাবলী গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর