Logo
আজঃ Tuesday ০৭ February ২০২৩
শিরোনাম

সরকারকে কোনো বিদেশি শক্তি টিকিয়ে রাখতে পারবে না: গয়েশ্বর

প্রকাশিত:Saturday ২১ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনগণ রাস্তায় নেমেছে, কোনো বিদেশি শক্তিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে মুক্ত করতে জনগণ দায়িত্ব নিয়েছে। ফ্যাসিস্ট এই সরকারের পেছনে যতই বিদেশি শক্তি থাকুক, তারা তাদের টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

আজ শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জেলার সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকসহ কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি নয়, আমরা তাদের মুক্ত করব। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, খন্দকার আবু আশফাক, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ অসংখ্য নেতাকর্মী কারাগারে।


বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা ও আদালতের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের বান্দায় গেলে সেখানে জায়গা হয় না। নিম্নে আদালতে প্রতিদিন ছোটখাটো সমাবেশ হয়ে যায়। নেতাকর্মীদের এ কোর্ট থেকে ওই কোর্টে ছুটতে হয় প্রতিনিয়ত। এই সরকার সবকিছু করায়ত্ব করেছে। সরকার যা বলে আদালতও তাই করে। তারা (আদালত) নিজস্ব বিচেনায় বিচার করতে ভয় পায়। অবিচার ছাড়া বিচার করার ন্যূনতম ক্ষমতা নেই। 

তিনি আরও বলেন, ‘অবিচারের শিকার আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অবিচারের মাধ্যমে তারা নির্যাতিত হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হচ্ছে, দেশের মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে।

দেশের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের বর্তমান রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা-এটা লুটেরা, ফ্যাসিবাদী ও জনগণের পকেট মারের সরকার। জনগণের পকেট যদি না-ই মারত, তাহলে ১০ লাখ কোটি টাকা কিভাবে পাচার হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে যায়, শেয়ার মার্কেটের টাকা উধাও হয়ে যায়, করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি হয়। এরা শুধুমাত্র দুর্নীতি-ই করে না, রাজনীতিতে বিরোধীদের দমন করে এবং দিনের ভোট রাতে করে। এই ধরনের অপকর্ম এরা ক্রমান্বয়ে করে যচ্ছে।

‘এর প্রতিবাদ এতদিন শুধুমাত্র বিএনপি করেছে এবং নেতাকর্মীরা নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষও প্রতিবাদ করছে। এই বাংলাদেশকে মুক্ত করতে দেশের জনগণ দায়িত্ব নিয়েছে। যখন কোনো দেশের ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতন ঘটাতে দেশের জনগণ রাস্তায় নামে তখন কোনো শক্তি টিকে থাকতে পারে না। যতই বিদেশি শক্তি থাকুক, বিদেশী শক্তি তাদের টিকিয়ে রাখতে পারবে না’, বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘অর্থনীতি একেবারে ফোকলা। অর্থনীতি বলতে একটাই আছে দুর্নীতি। রাজকোষ খালি, বেতন দেওয়ার টাকাও থাকবে না। এ পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। অর্থ জোগান দেওয়ার সুযোগ নেই। এ প্রকল্পে যে টাকা ব্যয় হয়েছে, প্রকল্প যদি চালু না হয় রাষ্ট্রের এই টাকা গচ্ছা গেল। দেশটা অন্ধকার থেকে অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।

চলমান আন্দোলনে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে আশা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এরপর যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে, তাদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হবে। কারণ, যে টাকা পাচার হয়েছে তা ফেরত আনা, জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

ঐক্যের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মান-অভিমান ভুলে আপনারা সামনে এগিয়ে যান। সামনে দিনে ঢাকা শহরের যে ঘাটতি আছে তা পূরণে সক্ষম হবে।’ এ সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল করতে রাজপথে সকলকে ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান গয়েশ্বর।

ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।


আরও খবর