Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

সরকার পতন আন্দোলনে জমিয়ত-বিএনপি ঐকমত্য

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৯৮জন দেখেছেন
Image

সরকার পতনের আন্দোলন নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি।

শনিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই দলের বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের যে ঘোষিত কর্মসূচি, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী আজ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমাদের দেশের মানুষের ওপরে যে দুঃশাসন চেপে বসে আছে, অনির্বাচিত একটি সরকার, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ব্যাপারে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে একমত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা আরও একমত হয়েছি যে, এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবো। সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সেই সঙ্গে সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। তারপরে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে তাদের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হবে। যে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে একটি নতুন পার্লামেন্ট গঠন হবে। সেই পার্লামেন্টের মাধ্যমে সব দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, এই বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছি যে, আন্দোলনের ব্যাপারে আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে যুগপৎভাবে আন্দোলন শুরু করবো। আন্দোলনকে একটা সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে অর্থাৎ এই সরকারকে পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনকে সফল করার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।

এসময় জমিয়তের একাংশের সভাপতি মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী বলেন, আজ আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। বিএনপির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। দেশের মানুষ সুখী না। পেটের ক্ষুধায় মানুষ রাস্তাঘাটে হাহাকার করছে। বন্যার মধ্যেও সরকারের সাহায্য পর্যাপ্ত পরিমাণে যাচ্ছে না। তাছাড়া দেশের প্রধান যে জিনিসটা গণতন্ত্রকে এই সরকার শেষ করে ফেলেছে। এই সরকারকে আর টিকে থাকতে দেওয়া যায় না। অনতিবিলম্বে এই সরকারকে হটাতে হবে। সেজন্য আমাদের কোরবানির প্রয়োজন আছে, আন্দোলনের প্রয়োজন আছে। সেজন্য যা কিছু প্রয়োজন হয়, তা করতে আমরা একমত হয়েছি। বিএনপি মহাসচিব যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলোর সঙ্গে আমরা একমত হয়েছি।

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



গৃহবধূ থেকে স্মৃতি যেভাবে হলেন রক্তকন্যা

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

আরাফাত আহমেদ রিফাত

‘জরুরি রক্তের প্রয়োজন’। এ,বি,এবি,ও নেগেটিভ কিংবা পজেটিভ এক ব্যাগ, কখনো দুই-তিন ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। হয়তো কখনো ছোট শিশু কখনো আবার গর্ভবতী নারী কিংবা বৃদ্ধ কেউ। এমন পোস্ট প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের চোখে পড়ে।

এসব পোস্ট নিজের টাইমলাইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রুপেই দেখা যায়। অনেক সময় সেলিব্রেটিদের ভেরিভায়েড পেজেও দেখা মেলে এমন মানবিক পোস্টের। কখনো এসব পোস্টের উপর নির্ভর করে রক্ত পাওয়া যায়, আবার কখনো কখনো পাওয়া যায় না।

তবে অনেকেই আছেন যারা শুধু ফেসবুকে পোস্ট দিয়েই বসে থাকেন না। রক্তের গ্রুপ জানা আছে এমন মানুষদের ফোন করেন, রক্ত দিতে রাজি হলে যত দ্রুত সম্ভব রক্ত সংগ্রহ করে রোগীর প্রাণ বাঁচান। এমনি একজন রাজবাড়ী জেলার সোনিয়া আক্তার স্মৃতি। ডাকনাম স্মৃতি হলেও সবার কাছে এখন তিনি রক্তকন্যা নামেই পরিচিত। কারণ স্মৃতি গত ১৩ বছরে ২৭ হাজারের অধিক মুমূর্ষ রোগীকে বিনামূল্যে রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দিচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়।

jagonews24

তবে এই রক্তকন্যার জীবনের গল্পটা একটু আলাদা। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন গরীব ও অসহায় মানুষদের সাহায্য করবেন। কিন্তু ২০০৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কিছুদিন পরই তার বিয়ে হয়ে যায়। ফলে তার স্বপ্নগুলোও মাটি চাপা পড়ে যায়। এ পর্যন্ত গল্পটা বাংলাদেশের আর দশটা সাধারণ নারীর মতোই। তবে এরপর স্মৃতির গল্পটা অন্য সব সাধারণ নারীর মতো নয় যারা ভেঙে পড়ে। বরং তার গল্পটা সেই সব গুটকয়েক নারীদের মতো যারা ঘুরে দাঁড়াতে জানে।

স্বামীর উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় এবং বন্ধুদের সহযোগিতায় তিনি গরীব ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ শুরু করেন। হয়ে উঠেন আজকের রক্তকন্যা। স্মৃতি জানালনে তার শুরুর দিকের কাহিনি, স্মৃতির দাদার অপারেশনে দেরি হয় সময়মতো রক্ত না পাওয়ায়। অপারেশনের পর তিনি মারা যান। তখন থেকেই স্মৃতির মনে হতে থাকে সঠিক সময়ে রক্ত সংগ্রহ করতে পারলে হয়তো তার দাদা বেঁচে যেতেন।

এরপর থেকেই রক্ত নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা জাগে তার। ২০১১ সালের দিকে একদিন তিনি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে ছিলেন। সেখানে দেখেন একজন বাবা তার মেয়ের জন্য হন্যে হয়ে রক্তের সন্ধান করছেন। স্মৃতির রক্তের গ্রুপের সঙ্গে সেই মেয়ের রক্তের গ্রুপের মিল না থাকায় সেদিন তিনি রক্ত দিতে পারেননি। তবে অনেক খোঁজ করে সেই মেয়েটির জন্য রক্ত জোগাড় করেছিলেন স্মৃতি। সেদিন অসুস্থ মেয়েটির বাবার স্বস্তি দেখে রক্ত নিয়ে কাজ শুরু স্মৃতির।

রক্ত সংগ্রহের পাশাপাশি স্মৃতি বেশ কয়েকবার রক্তদান করেছেন। একদল তরুণ-তরুণীকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘রাজবাড়ী ব্লাড ডোনার্স ক্লাব’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যার মাধ্যমে তিনি প্রতিনিয়ত মুমূর্ষ রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে দিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি এই সংগঠন থেকে ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রক্তদাতা সংগ্রহ, ফ্রি ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় এবং রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রক্ত নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তিনি ও তার সংগঠন করোনার লকডাউন চলাকালীন গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাবার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস, মাস্ক বিতরণ করেন।

jagonews24

কাজ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে রোগীর স্বজনদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে স্মৃতিকে। ব্লাড ব্যাগ, যিনি রক্ত টেনে দেন তার খরচ, ডোনারের যাতায়াত খরচ, ডোনারের জন্য সামান্য জুস বা ফল কেনাসহ এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে প্রায় ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হয়। রোগীর স্বজনরা সেই টাকা দেওয়ার সময় ভাবেন তারা হয়তো তাদের কাছে ব্লাড বিক্রি করছে। যা খুবই দুঃখজনক। ব্লাড ডোনাররা বেশিরভাগই ছাত্র। যারা এত দূর দুরান্তে এসে রক্ত দিয়ে যায় কোনো রকম সংকচ ছাড়াই। রক্ত দেওয়ার পর যেন শরীর দুর্বল না হয় এজন্য কিছু ফল বা জুস খাওয়া দরকার হয় তাদের। ছাত্র হওয়ায় দূর দুরান্তে যাওয়া বেশ খরচ সাপেক্ষ। এজন্য তাদের যাতায়াতের ভাড়াটা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তবে স্মৃতি আশা করেন ভবিষ্যতে সবাই এসব বিষয় বুঝতে পারবেন।

র্বতমানে স্মৃতি দুই সন্তানের জননী এবং তার স্বামী একজন প্রবাসী। সামাজিক কাজে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন ‘সাহিত্যের খেয়াঘাট পুরস্কার’, ‘প্রিয়বাসিনী বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ সহ অনেক সম্মাননা।


আরও খবর



আবারও মাসের সেরা খেলোয়াড়ের দৌড়ে মুশফিক

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৫৯জন দেখেছেন
Image

গত বছরের জুনে বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মাসের সেরা খেলোয়াড়ের ‘আইসিসির প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কার জিতেছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। বছর ঘুরে আরেকবার জুন আসতেই আবার মনোনয়ন পেলেন তিনি।

মে মাসের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এ মনোনয়ন পেয়েছেন মুশফিক। গতবারের মতো এবারও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে ভালো খেলেই মাস সেরার দৌড়ে নিজের নাম তুলেছেন তিনি। এছাড়া মনোনয়ন পাওয়া অন্য দুজন হলেন শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ও আসিথা ফার্নান্দো।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের নজরকাড়া পারফরমার ছিলেন এ তিনজন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১০৫ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৫ হাজার রান করেন মুশফিক। পরের ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে আসে ১৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস।

দুই ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আইসিসি র‍্যাংকিংয়েও বড় লাফ দিয়েছেন মুশফিক। এক লাফে আট ধাপ এগিয়ে ১৭ নম্বরে উঠে গেছেন এ অভিজ্ঞ তারকা।

একই সিরিজে রানের হিসেবে মুশফিককেও ছাড়িয়ে গেছেন ম্যাথিউজ। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৯৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরে দ্বিতীয় ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১৪৫ রান। যার সুবাদে আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে ছয় ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ১৫ নম্বরে।

মুশফিক-ম্যাথিউজের ব্যাট হাতে দাপট দেখানো সিরিজে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন শ্রীলঙ্কার পেসার আসিথা ফার্নান্দো। শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় পেসার হিসেবে ম্যাচে দশ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। আসিথার তোপেই মূলত ঢাকা টেস্টে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।


আরও খবর



‘মাথাপিছু আয়ের হিসাবে সিগারেটের দাম কম’

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

‘মুদ্রাস্ফীতি ও মাথাপিছু আয়ের হিসাব তুলনা করলে দেখা যাবে, সিগারেটের প্রকৃত মূল্য কমে গেছে। এমনকি প্রস্তাবিত বাজেট প্রধানমন্ত্রীঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের অন্তরায়। প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিও হতাশাব্যঞ্জক।’

রোববার (১২ জুন) বিকেলে আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে তামাক কর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে বক্তারা এমন অভিমত তুলে ধরেন।

এসময় জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সবকিছুরই দাম বেড়েছে। কেবল দাম বাড়েনি তামাকজাত দ্রব্যের। বাজেটে সিগারেটের নামমাত্র যে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাতে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমে না। এ কারণে সিগারেটের মূল্য বাড়লে কোম্পানিগুলোও লাভবান হয়।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, সংসদে এমপিরা যদি তামাক কর নিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখেন, তবে এনবিআর চাইলেও তামাক কর কমিয়ে রাখতে পারবে না। এজন্য আগামীতে তামাক কর বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণে আমাদের আরও কৌশলী হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির (বিএনটিটিপি) কনভেনর ড. রুমানা হক বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের যে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেটি মুদ্রাস্ফীতি ও মাথা পিছু আয়ের হিসেবে তুলনা করলে দেখা যাবে যে সিগারেটের প্রকৃত মূল্য কমে গেছে। এটি আমাদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক। এতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তামাক গ্রহণের মাত্রা কমবে না।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবছর এনবিআরকে অতিরিক্ত যে ৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, সেটি তারা তামাক কর বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্জন করতে পারতো। কিন্তু এনবিআর সে সুযোগ গ্রহণ করেনি। এজন্য আগামীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে তামাকজাত দ্রব্যের কর বৃদ্ধির ব্যাপারে উদ্যোগী করতে হবে।

দি ইউনিয়িয়নের কারিগরি পরামর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের মানুষ নিম্নস্তরের সিগারেট বেশি গ্রহণ করে। অথচ বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য সেভাবে বাড়েনি। এতে করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। সস্তা সিগারেটের ব্যবহারও বাড়বে। এছাড়া নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বাঁচাতে জর্দা-গুলকেও ট্যাক্সের আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে সরকার অষ্টম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনাতেও তামাক নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত করেছে। কিন্তু বাজেট তার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি শারমিন রিনভী, একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান।


আরও খবর



সিগন্যালেও থামেনি ট্রেন, প্রাণে বেঁচে গেলেন ৩০ শ্রমিক

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রেললাইন মেরামতের কাজ চলার সময় সিগন্যাল অমান্য করে পণ্যবাহী ট্রেন ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ৩০ জন শ্রমিক। তবে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেল ৩টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার লাল ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্রেনের সহকারী চালককে মারধর করেছেন উত্তেজিত শ্রমিকরা।

jagonews24

এদিকে সহকারী চালককে মারধরের প্রতিবাদে লাইনের ওপরেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে ট্রেনটি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন পাকশি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ট্রেন চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।

শ্রমিক ফিরোজ আলীর ভাষ্যমতে, সকাল থেকেই আলমডাঙ্গা লাল ব্রিজের ওপর রেললাইন সংস্কারের কাজ করছিলেন ২৫-৩০ জন রেল শ্রমিক। সংস্কারের জায়গা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে তারা লাল পতাকা তুলে রাখেন। ওই লাইন দিয়ে পাথরবোঝাই একটি পণ্যবাহী ট্রেন সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিল।

jagonews24

বিকেলে ট্রেনটি আলমডাঙ্গা স্টেশন ক্রস করলে লাল পতাকা তুলে ট্রেনটিকে থামানোর চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। তবে তারা ট্রেনটি থামাতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে ট্রেনটি আরেকটি লাল পতাকা ভেঙে ব্রিজের ভেতর প্রবেশ করে। এ সময় আতংকে ব্রিজ থেকে লাফ দেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ ব্রিজে ঝুলে পড়ে প্রাণ বাঁচান।

শ্রমিকদের চিৎকারে ও সামনে রেললাইন সংস্কারের ট্রলি দেখে থেমে যায় ট্রেনটি। এ সময় উত্তেজিত হয়ে ট্রেনের প্রধান চালক আমিনুল ইসলাম ও সহকারী চালক জোনায়েদ সিদ্দিককে মারধর করেন শ্রমিকরা। চালক ঘুমিয়ে থাকায় সিগন্যাল দেখতে পাননি বলেও অভিযোগ করেন শ্রমিক ফিরোজ আলী।

jagonews24

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম টোকন জানান, চালককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে পণ্যবাহী ট্রেনটি থামিয়ে রাখেন প্রধান চালক। তবে সব রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ওই ট্রেনটি ডাউন লাইনে রাখা হয়েছে। আপ লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য আলমডাঙ্গায় পৌঁছেছেন পাকশি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা ট্রেন চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।


আরও খবর



চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৭৬জন দেখেছেন
Image

চতুর্থ বর্ষে পা রাখছে প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। গত ১০ জুন বিকেলে চাঁদপুরের পালপাড়ায় একাডেমির কার্যালয়ে পালন করা হয় তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উদীচী জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি কবি অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র দাস। নুরুন্নাহার মুন্নির সভাপতিত্বে ও জয়ন্তী ভৌমিকের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপমহাপরিচালক দুখাই মুহাম্মাদ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আয়শা আক্তার রুপা, নিয়ন্ত্রণ পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুল্লা কাহাফ, মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি, পরিচালক শিউলী মজুমদার ও খোরশেদ আলম বিপ্লব, পর্যবেক্ষক ও ন্যায়পাল দিলীপ ঘোষ, সহকারী পরিচালক ফেরারী প্রিন্স, নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা, উপ-নির্বাহী পরিচালক ফাতেমা আক্তার শিল্পী, নির্বাহী সদস্য কামরুন্নাহার বিউটি ও উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নন্দিতা দাস।

jagonews24

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ‘২০১৯ সালের এমন একটি দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। মাত্র ৩ বছরে প্রায় ৬,৫০০ বই উপহার দিয়েছি আমরা। ‘আদি এবং অন্তে সত্য ও সুন্দরে আছি’ স্লোগানে এগিয়ে চলা এ প্রতিষ্ঠান অনেক গুণীর হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছে।’

প্রধান অতিথি অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘চর্যাপদ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন চাঁদপুরের মাটিতে জন্ম হয়েছে জেনে খুব আনন্দ লাগছে। এ সংগঠনের প্রতিটি কর্মসূচি আমার ভালো লাগে। বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে লালন করে বহুদূর এগিয়ে যাবে সংগঠনটি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইমচর লেখক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান শাকির, চর্যাপদ একাডেমির উপপরিচালক জান্নাতুল ফেরদাউ সুপ্ত, প্রচার ও প্রকাশনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, তথ্য পরিচালক জান্নাতুল মাওয়া, নির্বাহী সদস্য শ্রাবণী মীম ও দিপু।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন দোনাগাজী পদকপ্রাপ্ত বাচিকশিল্পী দিপান্বিতা দাস। বই উপহার কর্মসূচি পালন শেষে শোভাযাত্রা বের করা হয়। মেঘনা পাড়ের সবুজ আলো-ছায়ায় ভ্রমণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।


আরও খবর