Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

শনির আখড়ায় সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে ভাড়া বানিজ্য

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৫০জন দেখেছেন
Image

নাজমুল হাসানঃ

ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে শনির আখড়ায় রাস্তার উত্তর পাশে দীর্ঘকয়েকমাস ধরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে দখলকরে ফুলও ফলের নার্সারী গড়ে তোলা হয়েছে।স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র সড়ক ও জনপখ বিভাগের জমি দখল করে সেখানে ৮টি বাগান ও নার্সারি গড়ে তুলে রমরমা চাঁদাবাজি করছে।এরকম একেকটি নার্সারী স্থাপন বাবদ চাঁদাবাজ চক্রটি ৩০-৪০ হাজার টাকা প্রতিজনের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে গ্রহন করছে।প্রতিমাসে একেকটি নার্সারী থেকে ১২-১৫ হাজার টাকা ভাড়ার নামে চাঁদাবাজী হচ্ছে বলেও খবর পাওয়াগেছে।অবৈধভাবে গড়ে ওঠা৮টি নার্সারী এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


স্থানীয় প্রভাবশালীরা পেশিশক্তির বলে এবং রাজনৈতিক শক্তির অপব্যবহার করে সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছে এসব প্রতিষ্টান।ফলে রাস্তা সরু হয়ে যান চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে ব্যাপক প্রাণ ও সম্পদহানি হচ্ছে। এরপরও সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় কয়েকশ’ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি সরকারের বেহাত হয়ে গেছে।


স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ, যান ও পরিবহন চালকরা অভিযোগ করে বলেন,  ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে শনির আখড়ায় রাস্তার উত্তর পাশে দীর্ঘকয়েকমাস ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমির ওপড় এসব নার্সারী হওয়ায় সড়ক সংকীর্ন হয়ে গেছে গাড়ি চলাচলে এতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।


নার্সারী মালিকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে,প্রতিমাসে এসব নার্সারী থেকে চাঁদাবাজ চক্রটি ১২-১৫ হাজার টাকা আদায় করছে ।কখনো টাকা দিতে দেরী হলে চাঁদাবাজ চক্রটি তাদেরকে অকথ্য ভাষায গালিগালাজ সহ নানা ভয়ভীতি ও হুমকি ধমকি প্রদান করে।

সন্ত্রাসি চাঁদাবাজ চক্রের কয়েকজনের নাম বলেছেন নার্সরীর মালিকরা,তারা হলেন, আলমগীর ওরফে দাদা আলমগীর তার ভাই জাহাঙ্গীর,হাফিজ,সেলিম,মোঃ রিপন।


নার্সারীর মালিকরা আরও বলেন"আমাদের কাছে জমি ভাড়া দেওয়ার আগে তারা বলেছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের এবং স্থানীয় যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশকেে ম্যানেজ করে এসব জমিতে নার্সারী পরিচালনা করতে হবে এজন্য তাদের দাবী অনুযায়ী আমরা প্রতিটি নার্সারী থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছি।প্রতিদিন একেকটি নার্সারি থেকে ৪০০-৫০০ টাকা হারে ভাড়া পরিশোধ করছি।প্রতি মাসে একেকটি নার্সারী থেকে  ১২-১৫ হাজার টাকা তুলে নিচ্ছে তারা।

তবে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে এখান থেকে উত্তোলন করা প্রতি মাসে একলক্ষ বিশ হাজার টাকা চাঁদাবাজরা পকেটে তুলে নিচ্ছে ।


আরও খবর



নতুন আইন কি শিক্ষার সংকট দূর করতে পারবে?

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

দেশে একটি শিক্ষানীতি আছে। বিভিন্ন সময় গৃহীত শিক্ষা কমিশনও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে। স্বাধীনতার পরে প্রথম গৃহীত হয় কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন। এরপর বিভিন্ন সময় আরও তিনটি কমিশন প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০১০ সালে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করার পর থেকেই একটি শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য ২৪টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষা আইনের খসড়া তৈরি করার জন্যও একটি উপ-কমিটি করা হয়। এক দশক পর সেই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সংসদে উত্থাপিত হলে এটি আইন হিসেবে পাস হবে।

বহুদিন ধরেই দেশে একটি সর্বজনীন ও সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। নতুন শিক্ষা আইনে চার স্তরের শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলা আছে। এর বাইরে বিদেশি শিক্ষাক্রম, মাদরাসা শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার বিষয়গুলো তো রয়েছেই। আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নিবন্ধন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমোদন নেওয়াসহ বেশ কয়েকটি বিধান যুক্ত থাকছে।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে নানা সমস্যা-সংকট রয়েছে। সেগুলো সমাধান শুধু আইন দিয়ে হবে না। এর সঙ্গে ব্যবস্থাপনা, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও আরও নানা সামাজিক অনুষঙ্গ জড়িত। তবে আইনে কয়েকটি বিষয় সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। শৈশব থেকেই শিক্ষার শুরু। প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের মৌলিক অধিকার। আইনে প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও নানাবিধ কারণে শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি।

দেশের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা চলছে সহায়ক উপকরণ দিয়ে। স্কুল-কলেজের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে কোচিং ও প্রাইভেট। সরকারি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ছাপা হচ্ছে বেসরকারি বই অর্থাৎ গাইডবই। শিক্ষার সব স্তরেই এসব বিরাজ করছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মূল পাঠ্যবই সহায়ক গাইডবইয়ে বাজার সয়লাব। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাজারে গাইডবইয়ের রাজত্ব চলছে।

প্রস্তাবিত আইনে নোটবই বা গাইডবই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ ও বাজারজাত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নোটবই বা গাইডবই বলতে সরকার অনুমোদিত সহায়ক পুস্তক বাদে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুর আলোকে পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নাবলির উত্তর লেখা থাকে যেসব পুস্তকে এবং যা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রকাশ করা হয় সেগুলো বোঝানো হয়েছে।

সহায়ক বই বা গাইডবই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সহায়ক হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক তথা স্থানীয় পুস্তক ব্যবসায়ীরা এর অপব্যবহার করেন। অনেক সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ বা বিষয় শিক্ষক নির্দিষ্ট গাইডবই কেনার জন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেন। ছাত্র-ছাত্রীরা নির্দিষ্ট বইয়ের দোকান থেকে সে বই কিনতে বাধ্য হয়। এর সঙ্গে অনেক সময় প্রকাশক, পুস্তক ব্যবসায়ী বা স্থানীয় বই দোকানদার ও শিক্ষকের যোগসাজশ থাকে। এটি সামগ্রিকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর।

গাইডবই থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হয়তো কখনো মূল পাঠ্যবই খুলেও দেখে না। একটি পাঠ্য পুস্তক জাতীয় শিক্ষাক্রমের অংশ। পুরো পাঠ্যপুস্তক না পড়লে শিক্ষার জাতীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে না। গাইডবই তৈরি করা হয় পরীক্ষায় পাস ও ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে। আর পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হয় একটি শিক্ষিত জাতি গঠন করার লক্ষ্য নিয়ে। জাতীয় শিক্ষানীতি ও জাতি গঠন করার বৃহত্তর লক্ষ্য এর সঙ্গে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত।

কিন্তু নতুন আইনে সহায়ক বই পুরোপুরি নিষেধ করা হয়নি। সরকারের অনুমোদন নিয়ে সহায়ক বই বাঁধাই, প্রকাশ বা বাজারজাত করা যাবে। তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সহায়ক বই কেনা বা পাঠে বাধ্য করতে পারবেন না। কিন্তু কথা হচ্ছে, শিক্ষকরা আগেও সরাসরি বাধ্য করেনি। শিক্ষকরা কোনো একটি বই কেনার পরামর্শ দিলে শিক্ষার্থীর সেটা কিনবে এটাই স্বাভাবিক।

শিক্ষকরা কোনো একটি বই কেনার পরামর্শ বা ইঙ্গিত দেয়াই যথেষ্ট। কাজেই, এ শর্তটি বাস্তবে কোনো কাজে আসবে না। তাছাড়া কোন শিক্ষক কোনো বই কেনার পরামর্শ দিলেন কি দিলেন না সেটা দেখভাল করার ব্যবস্থা কি? আইনে তাদের এই অসদাচরণ দেখার ও বিচার করার পদ্ধতি প্রক্রিয়া কী হবে এ বিষয়ে আইনে কিছু বলা নেই। তবে গাইডবই প্রকাশ করতে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে এটি ইতিবাচক।

অনুমোদিত গাইডবইয়ের তালিকা থাকলে শিক্ষার্থীরা সেই তালিকা থেকে যেটি ভালো মনে করবে সেই বই কিনতে পারবে। এতে যত্রতত্র গাইডবই প্রকাশের ওপর সরকারের একটি নজরদারি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এখানেও একটি সমস্যা রয়ে গেছে। তা হলো, জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের মান নিয়েও দেশের শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রশ্ন রয়েছে। ছোটখাটো ভুল থেকে বড় ভুল সবই রয়েছে আমাদের পাঠ্যপুস্তকে। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড যেখানে কয়েকটি পাঠ্যবইয়ের মানই ঠিক করতে পারেনি, সেখানে তারা বিপুল সংখ্যক গাইডবইয়ের মান নিয়ন্ত্রণ করবে সেটা কীভাবে আশা করা যায়?

গাইডবই বিষয়ক বিধানগুলো কার্যকর করতে যে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকা দরকার তার কোনো ব্যবস্থা আইনে নেই। শিক্ষকদের কমিশন বাণিজ্য, অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্তি, গাইডবই ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের বাধ্য কিংবা উৎসাহিত করার বিষয়টি তদারকিসংক্রান্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ফলে আগে গাইডবই নিষেধ ছিল। এখন এই বিধানের ফলে গাইডবই আইনসিদ্ধ করা হলো মাত্র।

দেশের সব এলাকায় শিক্ষার হার সমান নয়। সবার জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ কোনোটিই নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগও কম। রয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও। বাস্তব কারণেই সবার জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা কঠিন কাজ। এর সঙ্গে রয়েছে আর্থসামাজিক অবস্থার সম্পর্ক। সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হলে শুধু আইন দিয়ে হবে না। এজন্য যথাযথ বাজেট বরাদ্দ ও সেই বাজেট ঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাইভেট পড়ানো এদেশে নতুন কিছু নয়। এটি যেন এদেশের শিক্ষা-সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতোভাবে মিশে আছে। একটা সময় খুব কম সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীই প্রাইভেট পড়তো। এখন এর নানামুখী বিস্তার হয়েছে। এখন ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের চেয়ে প্রাইভেট পড়ার প্রতিই বেশি গুরুত্ব দেয়। শিক্ষকরাও তাই। এজন্য শিক্ষক তথা স্কুল কর্তৃপক্ষ যেমন দায়ী তেমনি শিক্ষার্থী-অভিভাবকরাও সমান দায়ী। ফলে এটি যেন বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত আইনে কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। এই বিধানের যথাযথ প্রয়োগ করা গেলে প্রাইভেট পড়ানো কমবে বলেই মনে হয়। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন থেকে যায়- কোন শিক্ষক কোন শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন এটা মনিটর করবে কে? আবার আইনে বলা আছে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষক নির্ধারিত ক্লাসের বাইরেও অতিরিক্ত ক্লাস নিতে পারবেন।

‘ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস’, ‘পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রী’- এ বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে কিসের ভিত্তিতে? কে নির্ধারণ করবে? এছাড়া এসব অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য তিনি কোনো টাকা-পয়সা নিতে পারবেন না বলেও আইনে বলা আছে। কে টাকা নিয়েছে আর কে টাকা দিয়েছে এটাই বা কে বলবে? বিধানগুলো ইতিবাচক সন্দেহ নেই। কিন্তু বাস্তবায়ন নিয়েই সংশয়।

খসড়া আইন বলছে, শিক্ষকরা নিজের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে না পারলেও তারা কোচিং সেন্টারে পাঠদান করতে পারবেন। কিন্তু কোচিং সেন্টারের কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদান করতে পারবেন না। তার মানে শিক্ষকরা কোচিং সেন্টারে অন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিতে পারবেন, কিন্তু নিজ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিতে পারবেন না। প্রশ্ন হচ্ছে, এই নিয়ম কোচিং সেন্টারগুলো কীভাবে মেনে চলবে? কোচিং সেন্টারগুলো কি স্কুলভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করবে? কোচিং সেন্টার এ বিধান মেনে চলছে কি না তা-ই বা কে ও কীভাবে নিশ্চিত করবে?

কোচিং সেন্টার বন্ধ করার জন্য অনেক দাবিদাওয়া থাকলেও সরকার তা বন্ধ করতে পারেনি। উল্টো এখন আইন করে কোচিং সেন্টারের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন নিয়ে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে। এটি মন্দ নয়। কিন্তু কী মানদণ্ডের ভিত্তিতে কোচিং সেন্টার নিবন্ধন দেওয়া হবে তার বিস্তারিত নেই। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান দেখাশোনারই কেউ নেই, সেখানে কোচিং সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণ ও দেখাশোনা কে করবে? কাজেই, আইনের মাধ্যমে কোচিং সেন্টারকেই বৈধতা দেওয়া হলো।

শিক্ষা এদেশে একটি বড় বাণিজ্য। বাণিজ্যিক কারণেই খেয়ালখুশি মতো স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। খসড়া আইন বলছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না। আইন আরও বলছে, বাংলাদেশি কারিক্যুলামে বিদেশে প্রতিষ্ঠান স্থাপনেও অনুমতি লাগবে। এর সঙ্গে জাতীয় শিক্ষা, কারিক্যুলাম ও জাতীয় শিক্ষা নীতির সম্পর্ক রয়েছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার আগে সরকারের অনুমতি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

দেশের স্কুল-কলেজগুলোর বেতনের কোনো নিয়মনীতি নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো খেয়ালখুশি মতো বেতন নেয় বলে অভিযোগ আছে। আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অযৌক্তিক ও উচ্চহারে বেতন ও টিউশন বা অন্য ফি আদায় করতে পারবে না। কিন্তু কিসের ওপর ভিত্তি করে বেতন নির্ধারণ ও আদায় করা হবে এর কোনো মানদণ্ড আইনে নেই। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতোই ফি আদায় করতে থাকবে।

এছাড়া প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির পরিপন্থি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কার্যক্রম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু উপরোক্ত বিষয়গুলো সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এ কারণে ইতোপূর্বে আরও কয়েকটি আইনের অপপ্রয়োগের প্রবণতা আমরা দেখেছি। শিক্ষাক্ষেত্রেও এসব বিষয়গুলোর অপব্যবহার হলে সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।

কাজেই শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই একটি আইন হচ্ছে। এটি ইতিবাচক। কিন্তু আইনের ইতিবাচক ফলাফল ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে বেশ কয়েকটি বিধানের পূর্ণাঙ্গতা প্রয়োজন। সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা প্রয়োজন। বিভিন্ন বিষয়ে মানদণ্ড ও বিধিবিধান প্রণয়নেরও প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।

লেখক: আইনজীবী, কলামিস্ট।


আরও খবর



বাংলাদেশ দলে দুই পরিবর্তন, জিম্বাবুয়েতে পাঁচটি

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন লিটন দাস। মোস্তাফিজুর রহমানকেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। তাই এ দুইটি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে টিম ম্যানেজম্যান্ট।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লিটন ও মোস্তাফিজের জায়গায় এসেছেন তাইজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। অর্থাৎ ব্যাটার একজন কমিয়ে বোলার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে দলে পরিবর্তন এসেছে পাঁচটি। তাদের দলে অভিষেক হয়েছে ব্র্যাডলি ইভান্স ও টনি মুনিয়োঙ্গার। চোটের কারণেই মূলত একগাদা পরিবর্তন করতে হয়েছে তাদের।

জিম্বাবুয়ে সফরে টানা পঞ্চম ম্যাচে টস হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও টস হেরে আগে ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাইজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।

বিস্তারিত আসছে...


আরও খবর



ট্রাকে ভর্তি করে নেওয়া হলো অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার টাকা

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০২ August 2০২2 | ৪০জন দেখেছেন
Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির ‘ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা মুখার্জির ফ্ল্যাট থেকে টাকা উদ্ধারের পর তা নিয়ে যাওয়ার জন্য এবার ট্রাক নিয়ে আসা হয়েছে। অর্পিতার ফ্ল্যাটে পাওয়া টাকা ট্রাংকে বোঝাই করে তোলা হয় ট্রাকে।

শনিবার (২৩ জুলাই) দেশটির সংবাদ সংস্থা এএনআই টুইটারে এমন একটি ভিডিও দিয়েছে। তাতে দেখা যায়, অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার টাকা ট্রাংকে করে তোলা হচ্ছে ট্রাকে।

শুক্রবার (২২ জুলাই) অর্পিতার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চলাকালীন ‘টাকার পাহাড়’ আবিষ্কার করেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর (ইডি) তদন্তকারীরা। সেই টাকা গুনতে ব্যাংককর্মীদের সাহায্য নেওয়া হয়। আনা হয় টাকা গোনার যন্ত্রও।

আনন্দবাজার ডিজিটাল জানায়, শনিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২০ কোটি ২১ লাখ টাকা। সেই টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাংকভর্তি ট্রাক নিয়ে আসে রিজার্ভ ব্যাংক। উদ্ধার হওয়া টাকা ট্রাংকে বোঝাই করে তোলা হয় ট্রাকে। ইডি ওই বিপুল অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছে। ট্রাকে তোলা ট্রাংকগুলোতে নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া ছিল। হিসাবে সুবিধার জন্য ৫০০ এবং দুই হাজার টাকার নোটের জন্য আলাদা আলাদা ট্রাংক রয়েছে। ট্রাকে ছিল প্রায় ৪০টি ট্রাংক।

ইডি সূত্র জানিয়েছে, অর্পিতার ওই ফ্ল্যাটে আরও সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তির একাধিক নথি উদ্ধার করা হয়েছে সেখান থেকে। এছাড়াও ৫৪ লাখ টাকার বিদেশি মুদ্রাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অর্পিতার ওই ফ্ল্যাটে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কিছু নথিও পাওয়া গেছে। এমনকি টাকার স্তূপের মধ্যেই পাওয়া গেছে উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের খাম!

শুক্রবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পার্থ চ্যাটার্জির নাকতলার বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যায় ইডির একটি দল। রাতভর মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। শনিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার করার পর আটক করা হয় অর্পিতা মুখার্জিকেও


আরও খবর



সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ২৮ জুলাই ২০২২

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ০৪ August ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
Image

আমাদের চারপাশে অসংখ্য ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। এর মধ্যে হয়তো আলোচনায় আসে হাতেগোনা কিছু। তবে সময় ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বেশকিছু বিষয়। এগুলো জানা না থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে হয়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা থেকে সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংবাদ থাকছে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য-

বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও ঋণখেলাপির ঝুঁকি কম: মুডিস

বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তবে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি কম। এক পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য জানিয়েছে মুডিস ইনভেস্টরস সার্ভিস। সিঙ্গাপুরে মুডিসের বিশ্লেষক ক্যামিল চৌটার্ড বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য মূল বার্তা হলো উচ্চ স্তর থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইদানিং কমেছে। তবে বিদেশি ঋণের বিপরীতে খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনের রাজধানীতে বিয়ে বেড়েছে ৮ গুণ

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এরই মধ্যে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। প্রতিনিয়তই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় বিধ্বস্ত হচ্ছে ইউক্রেনীয়দের বাড়ি-ঘর। এমন পরিস্থিতিতেই এল এল ভিন্ন খবর। যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইউক্রেনজুড়ে বিয়ের সংখ্যা বেড়েছে। কেবল রাজধানীতেই বিয়ে বেড়েছে আট গুণ বেশি।

নিউজিল্যান্ডের স্কুলে বোমা হামলার হুমকি, সরানো হলো শিক্ষার্থীদের

নিউজিল্যান্ডের অন্তত এক ডজন স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই)। এর জেরে বেশ কয়েকটি স্কুল লকডাউন অথবা সেখানকার শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশ থেকে সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ওই হুমকি দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক কেলেঙ্কারিতে মন্ত্রিত্ব হারালেন পার্থ

অবশেষে কেলেঙ্কারিতে ঘেরা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

পাকিস্তানে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার ওপর চাপ

করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে দেশটিতে চলছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মুদ্রা রুপির ওপর অব্যাহতভাবে চাপ বাড়ছে। ডলারের বিপরীতে ক্রমেই মান কমছে রুপির। যদিও দেশটির অর্থমন্ত্রী বলেছেন, শিগগিরই মুদ্রার ওপর চাপ কমে যাবে।

ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে, আয়ে বড় ধাক্কা

বিশ্বের আলোচিত ও বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হলো ফেসবুক। সম্প্রতি এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে মেটা। বিশ্বের অন্যতম ধনী মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেছেন। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় কমেছে। এসময় আয় হয়েছে ২৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় এক শতাংশ কম।

ফিলিপাইনে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৮৮৭ আফটারশক

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ারে’ অবস্থানের কারণে ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প নতুন কিছু নয়। বুধবারও (২৭ জুলাই) দেশটির উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে সাত মাত্রার প্রবল ভূকম্পন। তবে এরপর থেকে সেখানে যেভাবে আফটারশক দেখা যাচ্ছে, তা অপ্রত্যাশিত। সাধারণত শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় আরও ছোটখাটো ভূকম্পন ঘটে। এটিকেই আফটারশক বলে। জানা গেছে, বুধবারের ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে এ পর্যন্ত ৮৮৭টি আফটারশক হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুই ডজন কম্পন অনুভব করেছেন বাসিন্দারা।

পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিলেন কিম

দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। বৃহস্পতিবার কিমের বরাত দিয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাত হলে তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছে। এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

কঠোর নিরাপত্তা ভেঙে ইরাকের পার্লামেন্টে বিক্ষোভকারীরা

কঠোর নিরাপত্তা ভেঙে ইরাকের পার্লামেন্টে প্রবেশ করেছে শত শত বিক্ষোভকারী। দেশটির রাজধানী বাগদাদের উচ্চ সতর্কতা অঞ্চলের নিরাপত্তা ভেঙেই তারা পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করেছেন। দেশটির শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রীর পদে মনোনয়ন দেওয়ার বিরোধিতা করেই তার দলের সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

উহানে ফের লকডাউন

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ফের লকডাউন জারি করা হয়েছে। ফলে ওই শহরের প্রায় ১০ লাখ মানুষ এখন ঘরবন্দি। নতুন করে বেশ কয়েকজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় লকডাউন জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। নতুন করে করোনার চারটি কেস শনাক্ত হওয়ায় জিয়াংশিয়া জেলার বাসিন্দাদের আগামী তিনদিন নিজেদের বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। যে কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই উপসর্গহীন।


আরও খবর



স্কুল বন্ধ রেখে দলীয় সম্মেলন ও শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

পত্রিকার পাতায় ঘুরতে ঘুরতে একটি হেডলাইনে চোখ আটকে গেল। প্রথম সারির একটি দৈনিকের হেডলাইনে বড় অক্ষরে লেখা “আমি ভীষণভাবে লজ্জিত ও দুঃখিত – শিক্ষামন্ত্রী”

ভাবতে পারছিলাম না হঠাৎ কোন কারণে আমাদের শিক্ষামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করলেন। পুরো সংবাদটি পড়ে মনে একদিকে শান্তি খুঁজে পেলাম আবার অন্যদিকে ভারাক্রান্তও হলো। শান্তি পেলাম এই চিন্তা করে যে আমাদের মন্ত্রীরা কোন ঘটনার কারণে দুঃখ প্রকাশের মত নমনীয়তা প্রকাশ করছেন আবার ভারাক্রান্ত হলো কারণ এই একবিংশ শতকের ডিজিটাল বাংলাদেশেও রাজনৈতিক দলের সম্মেলনের জন্য স্কুল বন্ধ করার সংস্কৃতি টিকিয়ে রেখেছি আমরা।

মূল ঘটনা হচ্ছে, দক্ষিণ খান আওয়ামী লীগের থানা ও ওয়ার্ড সম্মেলন উপলক্ষে সেই স্থানের মোট পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল বলে প্রকাশিত হয়েছে। একদিন না হয় বন্ধ ছিল কিন্তু সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য এর আগে কয়দিন শিক্ষার্থীরা সেই অঙ্গনে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল সেই হিসাবটিতো অনুমান করাই যায়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আমাদের শিক্ষামন্ত্রী। অভিভাবকদের ক্ষোভের কথাও জানা যায় এর প্রেক্ষিতে। এমনিতেই করোনায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিলো। শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে ব্যাপক ভাবে। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতিপূরণের পুষিয়ে নেয়ার জন্য কিছুদিন আগেই কর্তৃপক্ষ এক্সট্রা ক্লাস নেয়ার কথাও জানিয়েছে।

পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থী আছে বলে জানা গেছে। এতগুলো শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে সম্মেলন করার কথা যারা চিন্তা করেন তারা কতটা গণবান্ধব এটা ভেবে দেখার অবকাশ আছে। এমন নেতৃত্ব আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগের জন্য কতটা সহায়ক হবে সেটাও আশা করি ভেবে দেখবেন নেতারা।

পরবর্তীতে আসল ঘটনা জানার পর শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যে লজ্জিত ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটা একটা অনুকরণীয় ঘটনা বটেই। বিশেষ করে যখন আমরা সারাদেশের জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের অনেকের কাছ থেকে কেবল নেতিবাচক সংবাদই পেয়ে থাকি।

একটা সময় ছিলো যখন স্কুল কলেজ বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হতো। স্কুলের মাঠে জনসভা করতো। প্রধান অতিথিকে সম্বর্ধনা দেয়ার জন্য প্রচন্ড রোদের মধ্যে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছোত ছোট শিক্ষার্থীদের জ্ঞান হারানোর মত সংবাদও পাওয়া যেতো আগে। তবে সেসব ঘটনার জন্য কখনও কেউ কষ্ট পেতোনা বা দুঃখ প্রকাশ করতো না।

দিন বদলেছে। এই সরকারের আমলেই কিন্তু সেই পরিবর্তন আমরা দেখেছি। মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বা শিক্ষার্থীদেরকে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানো যাবে না। এটা একটা চর্চার বিষয়। অনেকদিনের চর্চা একদিনে চলে যাবে না কিন্তু সাম্প্রতিক কালে এমন ঘটনা আমরা আর শুনিনি খুব একটা।

হঠাৎ করেই তাই, উত্তরার দক্ষিণ খানের এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল আমাদের আদিম রাজনৈতিক একটি চর্চার কথা। অন্তত দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর পদকে একটা মর্যাদা দিয়েছেন। একজন শিক্ষামন্ত্রীর হাত দিয়ে কখনও একজন শিক্ষার্থীর ক্ষতি হতে পারে এমন কার্যক্রমের জন্য সেই শিক্ষমন্ত্রীর কাছে শিক্ষা খাত কতটা নিরাপদ সেটাই হয়তো ভাবতে পারি আমরা।

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী আগে থেকে যেহেতু জানতেন না তাই জানার পরেই তিনি লজ্জিত ও দুঃখিত হয়েছেন। এই দুঃখ প্রকাশের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাই কিন্তু এর পাশাপাশি অবশ্যই চাইবো তিনি সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদেরকে একটি জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন যে কেন তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে রাজনৈতিক সম্মেলন করতে গেল।

বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশের পথে হাঁটছে। উন্নত দেশ হতে গেলে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিবর্তন আসবে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমেই। সেখানে আওয়ামীলীগের মত একটি রাজনৈতিক দলের কাছে প্রত্যাশাটাও তাই একটু বেশি। রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব দলীয় নেতাদের উপর বর্তায়। মন্ত্রী সেখানে প্রধান অতিথি হয়েছেন দলীয় পরিচয়ে, মন্ত্রী হিসেবে নয়। তাই দলের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও মন্ত্রী হিসাবে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আশা করি তিনি এই ঘটনাকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করবেন।

সারাদেশে এমনিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খারাপের দিকে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা কমে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সচেতন নাগরিক হয়ে বেড়ে উঠতে পারছে না। শিক্ষকের মর্যাদা শিখছে না। একটি সংবাদে দেখলাম ছাত্রলীগের কোন একটি উপজেলার কমিটিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রকে রাখা হয়েছে।

এর আগেও একবার কুমিল্লার লালমাইয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রকে কমিটিতে রাখার সংবাদ এসেছিল। ছাত্রদের রাজনৈতিক সচেতন হতে হবে অবশ্যই কিন্তু দলীয় দায়িত্ব নেয়ার মত মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা হওয়ার আগেই তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া মানেই তাদের বিকাশকে বিপথে পাঠিয়ে দেয়া।

এহেন অস্থির পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ অবশ্যই একটা বার্তা বহন করে আমাদের মত সাধারণ অভিভাবকের কাছে।

লেখক: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, কলামিস্ট।


আরও খবর