Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন কৃষক

সিলেটে বন্যার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে গুদামে রাখা ধান-চাল

প্রকাশিত:Sunday ২২ May 20২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১০৯জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে ডুবেছে সিলেট নগরের প্রায় অর্ধেক এলাকা। বানবাসী হয়েছেন ১৩ উপজেলার মধ্যে ১০টির শতাধিক ইউনিয়নের লোকজন। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকে। সে ক্ষতি অংকের হিসেবে পোষাবার নয়! গ্রীষ্মে ভয়ঙ্কর বন্যা ২০০৪ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়েছে।


গত ১১ মে থেকে অতিবৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বুকে ঠাঁই দিতে পারেনি সুরমা। ফলে পানি উপচে প্লাবিত হয়েছে গ্রাম-নগর সব প্লাবিত হয়েছে। কৃষিজীবী থেকে ব্যবসায়ী, সব শ্রেণির মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।


বানবাসী হয়েছেন অন্তত ১০ লক্ষাধিক মানুষ। বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন কৃষকরাও। সম্প্রতি ঘরে তোলা বোরো ফলসও বানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবারিত বর্ষণে ঘরে রাখা ধানে চারা গজিয়েছে।গুদামে রাখা সারি সারি ধান-চালের বস্তা ভিজে নষ্ট হয়েছে বন্যার পানিতে। তা দেখে ব্যবসায়ীদের চোখে ছল ছল করছে জল। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসন খোঁজ না নেওয়ায় অনেকে বোবা কান্নায় ক্ষোভ ঝাড়লেন।


শনিবার (২১ মে) থেকে নদ-নদীর পানি খানিকটা স্থিতিশীল হওয়াতে নগর থেকে পানি নেমে যায়। চারিদিকে মানুষ যখন খাবার সংকটে, তখন বন্যা পরবর্তী ক্ষতির দিকটা ফুটে উঠছে ক্রমশ।  দেখা গেছে, বন্যার পানি কমতে শুরু করে। গুদামের সাটার খুলতেই বেরিয়ে আসছে ধান-চাল পচা দুর্গন্ধ। মজুতকৃত ৫০ কেজির হাজার হাজার বস্তা চাল এবং ২ মন ওজনের ধানের বস্তার স্তূপ ভিজে পচন ধরেছে। কেউ স্যালো মেশিন লাগিয়ে সেচ দিয়ে গুদাম থেকে পানি সরাচ্ছেন। প্রতিটি গুদামে ঢুকেছে বন্যার পানি। হু হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাখার অভাবে আড়ৎদাররা ধান-চালের বস্তা সরানোর সময় পাননি।


ধান-চালের পচা দুর্গন্ধে এলাকার বাতাসও দুষিত হয়ে গেছে। যেগুলো এখন গো-খাদ্যেও ব্যবহার করার অনুপযুক্ত। ব্যবসায়ীদের এ ক্ষতি যেন চোখে দেখে সহ্য করার মতো নয়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের কাজিরবাজার মোস্তাক এন্ড ব্রাদার্সের ৫টি গুদামের এক একটিতে অন্তত সহস্রাধিক বস্তা করে চাল রাখা ছিল। যেগুলো বন্যার পানিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। কোনোমতে কিছু চাল সরাতে পারলেও বেশিরভাগ বন্যার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। একইভাবে এম এস অটো রাইস মিল, মতিন ব্রাদার্স, হাসান ব্রাদার্স, ফাইয়ান ও পদ্মা রাইস মিল, দয়া ও জামান মিল, রঙ্গেশ অটো রাইস মিলের হাজার হাজার বস্তা ধান-চাল রাখা ছিল। যেগুলো পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে।


এছাড়া আরো অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শত শত বস্তা চাল ও ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ভিজে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা গুদাম থেকে সেগুলো সরাতে পারেননি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে।ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্যা ঠিকই চলে গেছে। তবে কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট করে দিয়ে গেল। এদিকে, গ্রামীণ জনপদে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে বোরো ধান শুকাতে না পারায় অনেকের ধানে চারা গজিয়েছে।ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, অতি বৃষ্টিতে ধান শুকানোর সুযোগ না পাওয়ায় বস্তার মধ্যে ধানের চারা গজিয়েছে।



বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা বলেন, এমনিতে বন্যায় প্রাণ বাঁচানো দায়, খাবার সংকট। তার ওপর ঘরে পানি উঠে প্রতিটি বাড়িতে রাখা ধান চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার কারণে আয় রোজগার নেই, ত্রাণ যা মিলছে, তা দিয়ে হয়তো ২/৩ বেলা চলে, এরপর আর যাওয়ার জায়গা নেই। না খেয়ে মরা ছাড়া উপায় নেই।


আরও খবর



দুটি পদের নামের পরিবর্তন করে পরমাণু শক্তি কমিশন বিল সংসদে

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬২জন দেখেছেন
Image

পরমাণু শক্তি কমিশনের দুটি পদের নামের পরিবর্তন সোমবার (৬ জুন) সংসদে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (সংশোধন) বিল-২০২২ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বিলটি উত্থাপন করলে তা ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিদ্যমান আইনে বলা আছে পরমাণু শক্তি কমিশনের কাজে সহায়তার জন্য সরকার একজন সার্বক্ষণিক অর্থ উপদেষ্টা ও একজন সচিব নিয়োগ করবে। এই দুটি পদের নাম পরিবর্তন করার জন্য বিলটি আনা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, ‘অর্থ উপদেষ্টা’ পদের নাম হবে সার্বক্ষণিক কার্য নির্বাহক (অর্থ) এবং ‘সচিব’ পদের নাম হবে ‘সার্বক্ষণিক কার্য নির্বাহক (প্রশাসন)’।

মন্ত্রণালয়/বিভাগের সংযুক্ত দপ্তর/অধস্তন অফিসগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোতে সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদনাম থাকলে ওই পদের নাম পরিবর্তন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর নির্দেশনা দেয়। এ পদনামগুলো সচিবালয়ের বাইরে বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করা হয়। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নেয় এই পদের নামগুলো পরিবর্তন করতে হবে।

পরমাণু শক্তি কমিশনের ‘অর্থ উপদেষ্টা’ পদের নাম পরিবর্তনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেয়।


আরও খবর



চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে বিদায় করে ইতিহাস গড়লো ক্রোয়েশিয়া

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

এই ফ্রান্সকে এর আগে কখনই হারাতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ফরাসিদের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচটি শুরু হয়েছিল ২-১ গোলের হার দিয়ে।

এরপর আরও আটবারের চেষ্টায় ফ্রান্সের বিপক্ষে হতাশাই সঙ্গী হয়েছে তাদের। এর মধ্যে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক ছিল ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে হার।

অবশেষে সেই জুজু কাটলো ক্রোয়েশিয়ার। উয়েফা নেশনস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করেই ‘প্রতিশোধ’টা নিলো ক্রোয়াটরা, তুলে নিলো ফরাসিদের বিপক্ষে প্রথম জয়।

সোমবার রাতে ফ্রান্সকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন তারকা মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ।

ম্যাচে আক্রমণ কিংবা বল দখল সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। তবে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ার পর ঠিক গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচে মোট ১৭টি শট নেয় ফ্রান্স, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে নিজেদের বাঁচিয়ে খেলা ক্রোয়েশিয়া সুযোগ বুঝে আক্রমণ করেছে। ৪ শটের তিনটি ছিল তাদের লক্ষ্যে।

পঞ্চম মিনিটে ডি-বক্সে ক্রোয়েশিয়ার আন্তে বুদিমিরি ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। মদ্রিচের জোরালো স্পট কিকে গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ বলে হাত লাগালেও রুখতে পারেননি।

গোল শোধে মরিয়া এরপর একের পর এক আক্রমণ করেছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ দুর্গ ভেঙে জাল কাঁপাতে পারেননি বেনজেমা-এমবাপেরা। একমাত্র গোল ধরে রেখে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।


আরও খবর



স্বপ্নপূরণ

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২১জন দেখেছেন
Image

সবুর মিয়া সকাল থেকেই রাগে গজগজ করছেন। কলসীপুর গ্রামে এত বড় অনুষ্ঠান আর তিনি গ্রামের প্রাক্তন চেয়ারম্যান হয়েও দাওয়াত পেলেন না। এ সবকিছুর জন্য দায়ী বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদ সরকার।

সবুর মিয়া জানেন, তার গ্রামে একটি সেতু খুব দরকার। গ্রামের মানুষগুলো খুব সহজেই জেলা শহরে যেতে পারবে। তিনি নিজেও যখন চেয়ারম্যান ছিলেন; তখন খুব করে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি টাকার অভাবে। এবার যখন সরকার সাহেব বুদ্ধি করে গ্রামের সবার থেকে টাকা তুলে সেতু বানানোর বুদ্ধি বের করলেন; তখন প্রথমে হিংসা কাজ করলেও গ্রামের উন্নয়নের কথা ভেবে তিনিও সরকার সাহেবের মতো সমান টাকা দিয়েছেন।

আজ সেতু উদ্বোধনের দিন; গ্রামের সব মানুষ দাওয়াত পেলো। এমনকি আশেপাশের দশ ইউনিয়েনের চেয়ারম্যানরাও দাওয়াত পেলেন। সেখানে সরকার সাহেব তাকে দাওয়াত দেওয়ার কথা চিন্তাও করেননি! এত বড় অপমান কি সহ্য করা যায়?

তিনি সকাল থেকেই চুপচাপ ঘরের মধ্য শুয়ে আছেন। মাঝে মাঝে তার একমাত্র ছেলে রেজার কাছ থেকে খবর নিচ্ছেন। আজকের অনুষ্ঠানের সর্বশেষ খবর কী? প্রত্যেক কথার শেষে তিনি একটি কথাই বলছেন, ‘আমি চেয়ারম্যান হইলে পুরা পৃথিবীরে দেখায়া দিতাম অনুষ্ঠান কারে বলে!’

হঠাৎ তার ছেলে চেঁচিয়ে বলল, ‘আব্বা, সরকার চাচা আইছে। আপনারে ডাকে!’
তিনি দুই মিনিট একটু সামলে নিয়ে রুম থেকেই বললেন, ‘উনারে চইলা যাইতে বল। আমার শরীরটা ভালো লাগতাছে না। আইজ আমি কোথাও যামু না!’
বলেই তিনি চমকে উঠলেন। দরজা খুলে সরকার তার রুমে এসে খাটের পাশে বসে একগাল হেসে বললেন, ‘গ্রামের এত বড় আয়োজন আজকে। আজকে শরীর খারাপ করলে চলবো?’
সবুর মিয়া অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘এত বড় আয়োজন কিন্তু কেউ তো দাওয়াত পর্যন্ত দিলো না।’
সরকার সাহেবের হাসি আরও বিস্তৃত হলো। তিনি বললেন, ‘নিজেগো অনুষ্ঠানে আবার দাওয়াত কীসের? দুই ভাই একলগে যামু, একলগে ফিতা কাটুম। এখন লন, রেডি হন। নইলে দেরি হইয়া যাইবো।’
সবুর মিয়া অন্যদিকে ফিরেই বললেন, ‘আমি যামু না। আমার শরীর খারাপ। তুমি যাও।’
এবার সরকার সাহেব সবুর মিয়ার হাত ধরে বললেন, ‘ভাইজান, আজকে গেলে দুই ভাই একলগে যামু, নয়তো দুই ভাই একলগে এই খাটে শুইয়া থাকুম। সেতু উদ্বোধন করা লাগবো না। আর ভাবছিলাম, সেতু উদ্বোধনের পর গ্রামের মানুষগোরে দু’চারটা ডাল-ভাত খাওয়াবো, তা-ও বাদ। এখন আপনার বিবেচনা, সেতুর ফিতা কাটবেন নাকি বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে থাকবেন?’
সবুর মিয়া কেমন যেন চুপ হয়ে গেলেন। সরকার তার গলা আরও নিচু করে বললেন, ‘ভাইজান, আমাগো ঝগড়াঝাঁটির জন্য গ্রামের মানুষ কেন কষ্ট পাইবো? চলেন ভাই, আজকের দিনের জন্য সব ভুলে যাই। পরে কোনোদিন শুভসময় দেখে আবার ঝগড়া শুরু করুম।’
সবুর মিয়া এবার কিছু না বলে খাট থেকে উঠে গেলেন। সরকার সাহেব পেছন থেকে গলা উঁচু করে বললেন, ‘রেজা, তোর বাপকে বলে দে, আমি কিন্তু তারে ছাড়া যামু না!’
রেজা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে। কারণ সে জানে, এবার চমকানোর পালা সরকার চাচার, গ্রামের মানুষদের!

গ্রামের মানুষ সবাই হা করে আছে। চিন্তায় আছে, নতুন সেতু দেখবে নাকি সরকার-সবুর মিয়াকে একসাথে দেখবে! সবুর মিয়া আজ এ অনুষ্ঠানের জন্য নতুন পাঞ্জাবি কিনেছিলেন। তাকে খুব মানিয়েছে। যে দেখছেন; সে-ই বলছেন, আজ নাকি তাকে খুব সুন্দর মানিয়েছে! সরকার তো তাকে বলেই দিলেন, ‘যেই পাঞ্জাবি পরছেন ভাইজান! সেতুর ফিতা আপনার হাতে কাটানোই মানায়।’
সবুর মিয়াও এবার একগাল হেসে বললেন, ‘ফিতা কাটলে দুই ভাই একসাথে কাটুম। নয় আমাগো বাড়িতে বিছানা কিন্তু এখনো পাতা আছে কইলাম।’

কলসীপুর গ্রামে আজ দুপুরে সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। শুধু গ্রামের মানুষই নয়, দূর-দূরন্ত থেকে মানুষ সেতু দেখতে এসে খেতে বসে গেছে। প্যান্ডেলের সামনে সরকার আর সবুর মিয়া বসে আছেন। যে আসছেন, দু’জনই একত্রে সমাদর করে তাকে ভেতরে বসতে বলছেন। পাশের এলাকার চেয়ারম্যান এসে বললেন, ‘কী মিয়া ভাইরা! আপনারা খাবেন না?’
তখন দু’জনই হেসে বললেন, ‘খাইলে একলগেই খামু! নয়তো!’ কথা শেষ না করে দু’জনই হাসছেন।

কলসীপুর গ্রামের মানুষের অনেক দিনের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। সেতুর মধ্য দিয়ে সবুর মিয়া আর সরকার সাহেবের এমন সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক দেখে আনন্দিত গ্রামের মানুষ। আনন্দিত তারা দু’জনও।


আরও খবর



ফেরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানই বড় পাওয়া মাদারীপুরবাসীর

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

ফেরির অপেক্ষায় সারি সারি গাড়ি। অপেক্ষা ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, যাত্রীবাহী বাস বা মালবাহী ট্রাক- সবার একই অবস্থা। লঞ্চ-স্পিডবোটে পার হওয়ায় আবার বাড়তি ঝুঁকি। খরস্রোতা পদ্মা নদী পাড়ি দিতে উৎসব-আয়োজনে এই ভোগান্তি বাড়ে কয়েকগুণ। এই চিত্র দেখেই অভ্যস্ত মাদারীপুরবাসী।

ফেরির অপেক্ষায় সড়কেই হয়েছে মৃত্যু, সময় শেষ হয়ে গেছে পরীক্ষার্থীর, প্রসূতির সন্তান প্রসব হয়েছে সড়কেই- এমন অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী মাদারীপুরবাসী। এই সংকটের অবসান হতে যাচ্ছে ২৫ জুন। সেদিন উন্মুক্ত হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পরদিন ভোর থেকে চলবে যানবাহন। যাতায়াতের পথ শেষ হবে ৬-৭ ঘণ্টায়।

এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত মাদারীপুরের জনগণ। তারা বলছেন, এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হচ্ছে তাদের। ২০০১ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকে যাতায়াতের এই সংকট সমাধানের স্বপ্ন বুনেছেন তারা। সেই স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে ২৫ জুন। এ উপলক্ষে মাদারীপুরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সড়কপথসহ সব স্থাপনা সাজছে নতুন সাজে।

কী সুফল পাবে মাদারীপুরবাসী- এমন প্রশ্ন ছিল সেখানকার বাসিন্দাদের কাছে। তারা জাগো নিউজকে বলেন, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হতো। দীর্ঘদিনের এই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। সব ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছি আমরা— এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মাসেতু চালু হচ্ছে, এই খবরে আমরা খুশি। আমাদের এই খুশির সংবাদের মূল কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে ও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে বর্ণাঢ্য করতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

পদ্মা সেতুতে মাদারীপুরবাসী কী সুফল পাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেরিতে ঢাকা যাওয়ার যে বিড়ম্বনা ছিল, সেটা দূর হবে। অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল হবে মাদারীপুর। সদর, শিবচর উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা শরীযতপুরে শিল্পায়ন হবে। পদ্মা সেতু ঘিরে এই এলাকায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অবকাঠাবো হবে। এতে মাদারীপুরের আর্থ-সামাজিক ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আমরা আশা করি।

jagonews24

মাদারীপুরে বাসিন্দা ও ছাত্রনেতা মারুফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, পদ্মা নদী পারাপারের জন্য আগে তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো আমাদের। এখন সেটা কয়েক মিনিটেই পার হয়ে যেতে পারবো, ভাবতেই ভালো লাগছে। যাতায়াতে শুধু মাদারীপুরই নয়, দক্ষিণাঞ্চলের সবাই মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে। মানুষ অস্বস্তি বোধ করতো, ফেরির অপেক্ষায় অ্যাম্বুলেন্সে মানুষ মারা যেত, অনেক ভোগান্তির শিকার হতো। এগুলো থেকে মুক্তি পাবে। আসলে এটি ছিল আমাদের কাছে স্বপ্ন, আমাদের এই স্বপ্নকে সত্যি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, সেতুর ফলে এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। আশপাশে শিল্প কারখানা হবে। কর্মসংস্থান হবে আমাদের জন্য।

মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা শুভ খন্দকার বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে আমাদের মূল লাভ হলো- যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। যাতায়াতে আগে অনেক ভোগান্তির শিকার হতাম আমরা। এখন আর সেটা হবে না। আগে আমাদের কাছে ঢাকা অনেক দূরে ছিল। এখন মাত্র ৬০ কিলোমিটার। কোনো বাধাবিঘ্ন ছাড়াই চলে যেতে পারবো। এটাই আনন্দের আমাদের কাছে।

তিনি বলেন, আমরা আগে রোগী বহন ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে যাতায়াতসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো। আমাদের কৃষিপণ্যসহ সবকিছু ঢাকা যেতে যেতে পচে যাওয়ার উপক্রম হতো। এখন আর সেটা হবে না। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে, সেখানে কর্মসংস্থানও হবে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা সুজন দে জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সহজেই ঢাকায় যেতে পারবো, আসতে পারবো। ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর অপেক্ষা করতে হবে না। পাশাপাশি এই অঞ্চলে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয় পদ্মা সেতুর। এরপর ২০০১ সালে জাপানিদের সহায়তায় সম্ভাব্যতা যাচাই হয় এবং সে বছরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার সুপারিশ মেনে মাওয়া-জাজিরার মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে। মহাজোট সরকার শপথ নিয়েই তাদের নিয়োগ দেয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু করার চূড়ান্ত নকশা করা হয়।

২০০৭ সালে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পায়। পরে নকশা পরিবর্তন হয়ে দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণব্যয়ও বাড়ে। ২০১১ সালে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকার সংশোধিত প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালে আবারও আট হাজার ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ালে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সবশেষ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর পুরো টাকাই সরকারের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়েছে সেতু বিভাগ। আগামী ৩৫ বছরে ১৪০ কিস্তিতে সে টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।


আরও খবর



সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: দাদা-দাদির পাশে শায়িত ফায়ারম্যান আলাউদ্দিন

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

নোয়াখালীর চাটখিলে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণের আগুন নেভাতে গিয়ে নিহত ফায়ারম্যান মো. আলাউদ্দিনকে (৩৫)।

সোমবার (৬ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানসা কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তার দাফন করা হয়েছে।

এর আগে ভোর পৌনে ৫টার দিকে আলাউদ্দিনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে। পরে চাটখিল ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জাতীয় পতাকা মুড়িয়ে ও ফুল দিয়ে আলাউদ্দিনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

তার বড়ভাই কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জহির উদ্দিন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের একমাত্র ছেলে মো. তাজউদ্দিন তাহিম (৬) অবুঝ বয়সে এতিম হয়ে গেলো। তার দিকে যেন সরকার খেয়াল রাখে আমরা সেটাই চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলাউদ্দিনের জানাজা পড়ান তার শ্বশুর মাস্টার ইলিয়াস ভূঁইয়া। এতে আমাদের বৃদ্ধ বাবা মো. আবদুর রশিদ মেম্বার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আবদুর রশিদ মেম্বার (৯০) বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বোঝা বাবার কাঁধে সন্তানের মরদেহ। আমি সেই বোঝাই বইলাম। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে পরকালে শান্তিতে রাখে সেই দোয়াই করি।

এদিকে বাড়িতে মা মমতাজ বেগম (৭৫) ও স্ত্রী তাসলিমা সুলতানা (২৮) কান্নায় বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। আলাউদ্দিনের নিহতের খবরে পরিবারসহ পুরো বানসা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আলাউদ্দিন চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারফাইটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ছুটি শেষে শনিবার (৪ জুন) সকালে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পর ওইদিন রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের আগুন নেভাতে গিয়ে নিহত হন।


আরও খবর