Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

শহরের রাস্তায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার!

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৮০জন দেখেছেন
Image

ফাঁকা রাস্তায় হাঁটছে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এ সময় একজনকে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের একটি লোমহর্ষক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মেক্সিকোর নায়ারিত রাজ্যের টেকুয়ালা শহরে।

স্থানীয়রা রাস্তায় বাঘটি দেখে হতভম্ব হয়ে যায়। অ্যাটর্নি জেনারেল ফর এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন জানায়, সিনালোয়ার সীমান্ত থেকে বাঘটিকে জব্দ করা হয়েছে।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের রাস্তায় বাঘটিকে ঘুরতে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া বাঘটিকে অবৈধভাবে পোষা হচ্ছিল বলেও জানানো হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, বাঘটিকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে এক তরুণী চিৎকার করছে। ভিডিওর শেষ দিকে দেখা যায়, বাঘটি কারও জন্য অপেক্ষা করছে। এরপর একজন এসে এটির গলায় রশি বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। টুইটারে এটির ভিউ হয়েছে ১৩ হাজার বার।


আরও খবর



মধ্যরাত থেকে বিস্ফোরণের ঘটনার খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণের সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার পাশাপাশি যারা বেঁচে আছেন তাদের সুচিকিৎসা দেওয়ার কথা বলেছেন।

রোববার (৫ জুন) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি দগ্ধদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নানক ।

এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, সীতাকুণ্ডের দুর্ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আমাদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মধ্যরাত থেকে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে, আহতদের সুচিকিৎসা দিতে, যারা বেঁচে আছেন, তাদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেনের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করেছেন।

jagonews24

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরাও (সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে) যোগাযোগ করছি। এরই মধ্যে সীতাকুণ্ড থেকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে কয়েকজন রোগী এসেছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই রোগীদের খোঁজ নিয়েছি। জানতে পেরেছি, আরও কিছু রোগী হেলিকপ্টারযোগে এখানে এসে পৌঁছাবেন।

নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোগীদের রক্ত প্রয়োজন হলে তা দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ ছাত্রলীগ প্রস্তুত রয়েছে।


আরও খবর



পদ্মা সেতু ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

কর্নেল ফারুক আহমেদ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর নির্মিত সুপ্রশস্ত পদ্মা সেতু আজ এক বাস্তবতা । ১৯৯৮-৯৯ সালে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা নদীতে সেতু নির্মানের প্রাক-সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছিল।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুর প্রাথমিক নকশা সম্পন্ন হওয়ার পর দেশবাসীর স্বপ্ন যখন কুঁড়ি হয়ে কেবল মেলতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই দেখা দেয় অর্থায়নের অনিশ্চয়তা। দেশের এ সংকটময় মুহূর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের এক যুগান্তকারী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শুরু হয়ে যায় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিশাল প্রকল্পমালা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সেতু বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুরু হয় পদ্মা সেতু নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলী।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘‘জনগণের সেনাবাহিনী’’ দেশ ও জনগণের জন্য যে কোন চ্যালেঞ্জিং কাজে সর্বদাই এগিয়ে এসেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খ্যাতিমান প্রকৌশলী ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর সাথে আলোচনার সময় পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে অসংখ্য রাস্তা, কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভ, মিরপুর-এয়ারপোর্ট রোড ফ্লাইওভার, জাতীয় মহাসড়ক, হাতিরঝিল প্রজেক্টসহ অনেক প্রকল্প সুচারুরূপে সম্পাদন করায় পদ্মা সেতু নির্মাণে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা অত্যন্ত যৌক্তিক। ফলত এই সেতু তৈরির প্রথম থেকেই সেতু সংশ্লিষ্ট সকল স্থাপনার নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শক হিসেবে সেতু বিভাগ কর্তৃক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা হয়। 

পদ্মা বহুমুখি সেতু প্রকল্পের কাজ মোট ৫ টি প্যাকেজের আওতায় পরিকল্পিত - মূল সেতু, নদী শাসন, দক্ষিণ প্রান্তে ১০.৫৭ কিঃ মিঃ অ্যাপ্রোচ রোড, উত্তর প্রান্তে ১.৬৭ কিঃ মিঃ অ্যাপ্রোচ রোড এবং প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শক ও প্রকৌশলীগণের বাসস্থান (সার্ভিস এরিয়া-২)।

jagonews24

মূল কাজ শুরুর ঠিক আগে পদ্মা সেতুর এলাইনমেন্ট বরাবর নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন মোকাবেলায় সেতু বিভাগের অনুরোধে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পদ্মা নদীর পাড় বরাবর মাওয়া-কান্দিপাড়া-যশোলদিয়া এলাকায় ১.৩ কিঃ মিঃ নদী শাসন সম্পন্ন করে পদ্মা সেতুর মূল এলাইনমেন্টকে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাত ধরে ৮ অক্টোবর ২০১৩ সালে জাজিরা এ্যাপ্রোচ রোড শুরু করার মাধ্যমে পদ্মা বহুমুখি সেতু প্রকল্পের নির্মাণ কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়।
তিনটি প্যাকেজের (জাজিরা ও মাওয়া এ্যাপ্রোচ রোড এবং সার্ভিস এরিয়া-২) জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড-হাইওয়ে কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং পরামর্শক হিসেবে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ডিসেম্বর ২০১৪ সালে মূল সেতু ও নদী শাসনের কাজের জন্য যথাক্রমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডকে নিয়োগ করা হয়।

এভাবে সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহদাকার মেগা প্রকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি বড় পেশাদারী স্বীকৃতি। এর পাশাপাশি ষ্ট্র্যাটেজিক এই সেতুর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ সরকার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড নামে একটি নতুন ব্রিগেড গঠন করা যার কার্যক্রম ১২ মার্চ ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়। এই লেখায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সম্পাদিত কাজগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

জাজিরা এ্যাপ্রোচ রোডঃ এই এ্যাপ্রোচ রোডে রয়েছে ৪ লেন বিশিষ্ট ১০.৫৭ কিঃ মিঃ দীর্ঘ মূল সড়ক, ২ লেন বিশিষ্ট ১২ কিঃ মিঃ দীর্ঘ সার্ভিস সড়ক, ৫টি সেতু, ৮টি আন্ডারপাস, ২০টি কালভার্ট, ১টি সার্ভিস এরিয়া, টোলপ্লাজা, থানা এবং ফায়ার ষ্টেশন বিল্ডিং। বর্ণিত কাজ ২০১৩ সালে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে ২০১৭।

jagonews24

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের (এ্যাপ্রোচ রোড) শুভ উদ্বোধন

মাওয়া এ্যাপ্রোচ রোডঃ এই এ্যাপ্রোচ রোডে রয়েছে ৪ লেন বিশিষ্ট ১.৬৭ কিঃ মিঃ দীর্ঘ মূল সড়ক, ২ লেন বিশিষ্ট ১.৮৯ কিঃ মিঃ সার্ভিস সড়ক, ১টি কালভার্ট, সার্ভিস এরিয়া, টোলপ্লাজা, থানা এবং ফায়ার স্টেশন বিল্ডিং। এ্যাপ্রোচ রোডটি ২০১৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছে। 

সার্ভিস এরিয়া-২ঃ এই এরিয়ার মধ্যে নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ৩০টি কটেজ, রিসিপশন বিল্ডিং, সুপারভিশন অফিস, সুইমিং পুল, টেনিস কমপ্লেক্স ও মোটেল মেস তৈরি করা হয়েছে। ২০১৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে এই প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে।

জাতীয় মহাসড়ক এন-৮ঃ দেশের সর্বপ্রথম এ্যাক্সেস কন্ট্রোলড এক্সপ্রেসওয়ে এন-৮ পদ্মা সেতুকে উত্তরে ঢাকা  এবং দক্ষিণে ফরিদপুরের সাথে যুক্ত করেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এন-৮ মহাসড়কটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মহাসড়কটির কাজ ২০১৬ সালের ১৬ই আগষ্ট উদ্বোধন করেন এবং ২০২০ সালের ১২ই মার্চ এর কাজ সমাপ্ত হয়। মহাসড়কটি ৫৫ কিঃ মিঃ দীর্ঘ যার আওতায় রয়েছে ৫টি ফ্লাইওভার, ২টি ইন্টারচেঞ্জ, ৪টি ওভারপাস, ২৯টি সেতু, ৫৪টি কালভার্ট এবং ১৯টি আন্ডারপাস। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এন-৮ সড়ক ব্যবহার করে অতি স্বল্প সময়ে মানুষ ও মালামাল দেশের দক্ষির-পশ্চিম অঞ্চলের ২১টি জেলা হতে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাতে পারবে, যা ঐ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে করবে ত্বরান্বিত।

jagonews24

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পঃ সাশ্রয়ী মূল্যে বিপুল পরিমাণ যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে পদ্মা সেতুর মূল নকশায় নিচের স্তরে ব্রডগেজ রেললাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ সরকারের একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট এর তত্ত্বাবধানে ও বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের মাধ্যমে এই প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি আর্থিক বিবেচনায় (৩৯,২৪৬ কোটি টাকা) বাংলাদেশ সরকারের সর্ববৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।

এই রেল প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ১৭২ কিঃ মিঃ এবং এর আওতাধীন রয়েছে ২৩.২৯ কিঃ মিঃ দীর্ঘ ভায়াডাক্ট বা উড়াল রেল সেতু, ৫৯টি বড় দৈর্ঘ্যরে সেতু, ১৪২টি কালভার্ট, ১৩৫টি আন্ডারপাস ও ২০টি স্টেশন। এ পর্যন্ত প্রকল্পের শতকরা ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পদ্মা সেতু এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদির নিরাপত্তাঃ দেশেরআর্থসামাজিক উন্নয়ন, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি, জনসাধারণের জীবনযাপনের মানোন্নয়ন এর পাশাপাশি কৌশলগত কারণে স্ট্র্যাটেজিক এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। এর নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যাদেরকে বলা হয় ‘‘Protector of Padma Bridge’’| এই ব্রিগেডটি ২০১৩ সাল থেকেই সেতু, সংশ্লিষ্ট জনবল, নানাবিধ স্থাপনা ও সেতুর নিচে বিস্তীর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে। 

bd

সেনাসদস্যগণ কর্তৃক মাওয়া এ্যাপ্রোচ রোডে এশটি পাইলিং এর নির্মাণ কাজ

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সবচাইতে চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ কাজ হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। পুরো বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছে একটি একটি করে পিলার ও স্প্যান উম্মত্ত পদ্মার বুক চিড়ে তৈরি হচ্ছে। আজ পদ্মা সেতু ও সেতু-সংলগ্ন অন্যান্য অবকাঠামো গর্বের সঙ্গে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এমন চ্যালেঞ্জিং, অত্যাধুনিক, বিশালাকার ও নান্দনিক স্থাপনার নানাবিধ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত এবং বাংলাদেশ সরকারের নিকট কৃতজ্ঞ। 

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে নির্মাণ, নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণের সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে করেছে আত্মবিশ্বাসী এবং বাড়িয়েছে তার কর্মদক্ষতা। মহতি এ কাজে সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজের অবস্থানকে করেছে সুদৃঢ়।


আরও খবর



অপ্রদর্শিত আয়ের সুযোগ হলে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়বে

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

গত অর্থবছরের মতো প্রস্তাবিত ২০২৩-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। আর অপ্রদর্শিত আয়ের সুযোগ হলে আবাসন খাতে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়বে বলে দাবি করছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে বলে জানিয়েছে রিহ্যাব।

শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ঘোষিত জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩ সম্পর্কিত রিহ্যাবের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এসব তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল, রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইন্তেখাবুল হামিদ, সহ-সভাপতি (প্রথম) কামাল মাহমুদ, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল, লায়ন শরীফ আলী খান এবং প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, বাংলাদেশের গৃহায়ণ শিল্প প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহে কার্যকর ভূমিকা রাখছিল। রিহ্যাব সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবাসনের মালিকানা সহজলভ্য করে মানুষের মনে আত্মনির্ভরতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, লিংকেজ শিল্প প্রসারের মাধ্যমে সমগ্র নির্মাণখাত জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশের আবাসন শিল্প শুধু আবাসনই সরবরাহ করছে না, একই সঙ্গে ৪০ লাখ শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল দুই কোটি মানুষের অন্নের জোগান দিচ্ছে। সৃষ্টি করছে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে।

অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি সরকারি অর্থনৈতিক ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বলেছেন, অপ্রদর্শিত অর্থ উৎপাদনের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থাটাই দায়ী। হঠাৎ করে বা রাতারাতি সিস্টেম পরিবর্তন করা সম্ভব না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে নিবন্ধন ব্যয় ১২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২-৩ শতাংশে নিয়ে এসে ধীরে ধীরে সিস্টেম পরিবর্তন করলে তবেই সঠিক মূল্যে রেজিস্ট্রেশন হবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ বলে গণ্য করা যাবে। ঘোষিত বাজেটে পাচারকৃত টাকা দেশে আনার বিষয়ে আইন করা হয়েছে, এটি সাহসী পদক্ষেপ কিন্তু দেশ থেকে যাতে টাকা পাচার না হয় সেদিকেই আমাদের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। বিনা প্রশ্নে উত্তম বিনিয়োগের সুযোগ ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে নির্দেশিত নির্দেশনার আদলে এখন বাস্তবসম্মত ও সময় উপযোগী।

এসময় রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল বলেন, আমরা অন্তত দুই/তিন বছরের জন্য অপ্রদর্শিত টাকা আবাসনখাতে বিনিয়োগের সুযোগ চাই। এতে এই দু/তিন বছরের প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা করে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। এতে দেশ থেকে কোনো টাকা পাচার হবে না। আবাসন খাতে বিনিয়োগ হলে এ খাত যেমন ঘুরে দাঁড়াবে, একই সঙ্গে বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে। সরকার নির্মাণশিল্প থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। যদি আবাসন সেক্টরসহ উৎপাদনমূখী খাতগুলো গতিশীল থাকে, তবে বাজেটে যে প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে তা সম্ভব হবে। অর্থনীতি হবে আরও সমৃদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আমাদের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এ খাত সম্প্রতি নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। উদীয়মান এই খাতে নানা কর আরোপ ও সরকারের নীতি সহায়তার অভাবে ক্রমে দেশের আবাসনখাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পতিত হয়েছে। কোভিড মহামারির ধাক্কা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি, মানুষের সামর্থ্যরে মধ্যে মাসিক কিস্তি সুবিধা দেওয়ার মতো এই খাতে পর্যাপ্ত আর্থিক ঋণ প্রবাহ না থাকায় অনেকের বাসস্থানের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। নতুন করে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশনের অনাপত্তি সনদ।

রিহ্যাব নেতারা বলেন, এরই মধ্যে ঢাকার এক কাউন্সিলর নোটিশ দিয়েছেন, তার অনুমতি ছাড়া ভবন নির্মাণ করা যাবে না। আমরা কয়টা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সনদ গ্রহণ করবো? একের পর এক সমস্যা এই শিল্পকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। এই অবস্থায় সরকারের আশু পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই সংকট উত্তরণ অসম্ভব। নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে সমগ্র গৃহায়ণখাতে বিক্রির পরিমাণ প্রায় হ্রাস পেয়েছে। এই মুহূর্তে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতে এর একটা বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আমাদের শঙ্কা।


আরও খবর



কুমিল্লা ইস্যু নিয়ে ইসির পদত্যাগ দাবি অযৌক্তিক: হানিফ

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার প্রচারণায় অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

তিনি বলেছেন, কুমিল্লার সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেননি। নিজ বাড়িতে তার অবস্থান করা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ নিয়ে ইসির পদত্যাগের দাবি যৌক্তিক নয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে মাদকের অপব্যবহার রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা নিয়ে এক কর্মশালায় যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ আরও বলেন, বিএনপির কাছে সরকারবিরোধী বা নির্বাচন কমিশনবিরোধী কথা বলার কোনো ইস্যু নেই। তাই কোনো একটা ঘটনা পেলেই তার সঙ্গে মিথ্যার প্রলেপ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা।

এসময় অন্যদের মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



তাপসকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার: মামলার প্রতিবেদন ৩১ জুলাই

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৩৬জন দেখেছেন
Image

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ৩১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন।

গত ১৮ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও পরদিন সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত নাহিদ হাসান ও মুরসালিনের পরিবারের পক্ষ থেকে ডিএমপির নিউমার্কেট থানায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়। নাহিদের বাবা নাদিম হোসেন ও মুরসালিনের ভাই নুর মোহাম্মদ মামলা দুটির বাদী।

এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে আরও দুটি মামলা করা হয়। এ চার মামলায় মোট এক হাজার ৫৫০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে পুলিশের একটি মামলায় বিএনপি নেতা মকবুলসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অন্য তিনটি মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

চারটি মামলার মধ্যে দুটি হত্যা মামলা অর্থাৎ নাহিদ ও মুরসালিন হত্যা মামলা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে মামলা দুটির তদন্ত করছে ডিবি।

নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় মেয়র তাপসকে নিয়ে মিথ্যা, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অজ্ঞাত ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৮ এপ্রিল শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন।


আরও খবর