Logo
আজঃ Sunday ২৪ October ২০২১
শিরোনাম
ছাদ কিংবা ব্যালকনিতে টবে ঢেঁড়শ চাষ করবেন যেভাবে

সহজে ঢেঁড়শ চাষের উপায় !

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ২০৯জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image



ডেস্ক এডিটর : 

শহরে বসবাস করেও অনেকে বিভিন্ন সবজি চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইচ্ছে করলেই ছাদে কিংবা ব্যালকনিতে অল্প পরিসরে নানান রকমের সবজি চাষ করতে পারেন। চাইলে আপনি সহজ উপায়ে টবে ঢেঁড়শ চাষ করতে পারেন।শহরের বাসা-বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বড় বড় টবে, মাটির চাঁড়িতে, ড্রামে কিংবা একমুখ খোলা কাঠের বাক্সে সার, মাটি ভরে অনায়াসেই ঢেঁড়শ চাষ করা যায়।

 

ঢেঁড়শ আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে, তাছাড়া ভিটামিন -এসহ অন্যান্য উপাদানও রয়েছে। আমাদের দেশে যে কোনো সময় ঢেঁড়শ চাষ করা যায়।

গাছের বৃদ্ধি এবং ঢেঁড়শের ভালো ফলনের জন্য মাটি অবশ্যই উর্বর, হালকা এবং ঝুরঝুরে হতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে টবের মাটিতে যেন ফেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরা রাখতে হলে সমপরিমাণে দো-আঁশ মাটি ও জৈব সার একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

 

এঁটেল মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতি টবের মাটিতে চা চামচের চার চামচ টিএসপি সার ও ৫ থেকে ৬ দিন আগে ভেজানো ১১৬ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল মেশানো যেতে পারে।

 

ঢেঁড়শের অনেক জাত রয়েছে। এর মধ্যে পুশা শাওনী, কাবুলি ডোয়ার্ফ, লক্ষ্ণৌ ডোয়ার্ফ, লং গ্রিন, লং হোয়াইট, পেন্টা গ্রনি-এসব বিদেশি জাত বেশ জনপ্রিয়।

গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত অর্থাৎ বছরের যে কোনো সময়ই ঢেঁড়শ গাছ লাগানো যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শীতের শেষভাগ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত ঢেঁড়শ লাগানো যায়। এরপরও লাগানো যায় তবে নাবী ফসলে মোজাইক রোগ হয় বলে ফলন ভালো হয় না।

 

ঢেঁড়শের চারা রোপণকালীন সময় আঘাত সহ্য করতে পারে না বলে সরাসরি মূল টবে বুনতে হবে। ঢেঁড়শের জন্য মাঝারী ধরণের টব হলেই চলবে। প্রতি টবে ২ থেকে ৩টি বীজ বুনে দিতে হয়।চারা গজানোর পর একটি সবল চারা রেখে বাকিগুলো ফেলে দিতে হয়। খোসা শক্ত বলে ঢেঁড়শের বীজ দেরিতে গজায়। তাই বোনার আগে ২৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।ঢেঁড়শ গাছ পানি সহ্য করতে পারে না। গাছের গোড়ায় দাঁড়ানো পানি তাড়াতাড়ি সরিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকটি টবে পানি যাতে না বেধে থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

গাছ ১০ থেকে ১২ সে.মি. বড় হলে টবের কিনার ঘেঁষে ১ চা চামচ ইউরিয়া ও ১ চা চামচ মিউরেট অব পটাশ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

 

শুঁয়া পোকা কচি কাণ্ড ছিদ্র করে গাছের ক্ষতি করে। ভাইরাস (মোজাইক) রোগ ঢেঁড়শে প্রায়ই দেখা যায়। এ রোগে পাতা হলদে হয়ে কুঁচকে যায়। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে দিতে হয়। শুঁয়া পোকার আক্রমণ থেকে ঢেঁড়শ গাছকে বাঁচাতে হলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মি. লি. ডায়াজিনন-৮০, নুভাক্রণ-৪০, একালাক্স-২৫ এর যে কোনোটি অথবা ১ লিটার পানিতে ১ মিলি লিটার সিমবুশ-১০ মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 

বীজ বপনের দুই মাস পরেই ফল পাওয়া যায়। কচি অবস্থায় ঢেঁড়শ তুলতে হয়। দেরি হলে ফল শক্ত হয়ে যায় ও সেটা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। ঘন ঘন ঢেঁড়শ তুললে গাছে বেশি পরিমাণে ঢেঁড়শ আসে। গাছের ঠিক মতো যত্ন নিলে এক একটি ঢেঁড়শ গাছ থেকে অনেকদিন ফসল পাওয়া যায়।

 

খবর প্রতিদিন / সি.বা 


আরও খবর



যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

যাত্রাবাড়ীতে পোলট্রি ফিড ব্যাগে ইয়াবা পাচারকালে দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

প্রকাশিত:Wednesday ১৩ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ২৬৩জন দেখেছেন
Image

 

নিজস্ব সংবাদদাতা :

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পোলট্রি ফিড ব্যাগে ইয়াবা পাচারকালে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।বুধবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে র্যাব- ১০ এর একটি দল যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় ৫ হাজার ৭০২ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

 

গ্রেফতাররা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৬) ও সমীর হোসেন (২০)। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।বুধবার সন্ধ্যায় র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি এনায়েত কবির সোয়েব এসব তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতার দুজনই পেশাদার মাদক কারবারি। আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে পোলট্রি ফিড ব্যাগে অভিনব কায়দায় ইয়াবা ঢুকিয়ে তারা বেশ কিছুদিন ধরে যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল।

 

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান এএসপি এনায়েত কবির সোয়েব।

 

খবর প্রতিদিন / সি.বা


আরও খবর



দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে জঙ্গিরা অনলাইনে সক্রিয়

আসছে দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে জঙ্গিরা অনলাইনে সক্রিয়: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Saturday ২৩ October ২০২১ | ৬৩জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image


 

ডেস্ক এডিটর :

আসছে দুর্গাপূজা উৎসব কেন্দ্র করে জঙ্গিরা অনলাইনে সক্রিয়। তারা রাতে মণ্ডপে হামলা করার পরিকল্পনার প্রচারণা চালাচ্ছে। যখন পুলিশ ও লোকজন কম থাকে, তখনই তারা হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে কেউ তাদের পোস্ট দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছে, এমন কাউকে পাওয়া যায়নি। আমরা অ্যালার্ট আছি।

 

রোববার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে তেমন ঝুঁকি দেখছি না। তবে আশংকার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছি না। জঙ্গিরা এখন অনলাইনে সক্রিয়। তারা নানা ধরনের পোস্ট দিচ্ছে। তারা সেলফ রেডিকালাইজড হয়ে (লোন উলফ) হামলায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে, অন্যকে উদ্বুদ্ধ করছে।

 

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মন্দিরগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনেছি। এছাড়াও ঢাকা শহরের বড় মন্দিরগুলোতে অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম করা হবে। ছোট মন্দিরগুলোতে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করবে।

এর আগে সকালে ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের নিয়ে কমিশনার মণ্ডপে আসেন ও মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। পূজা উদযাপন কমিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

খবর প্রতিদিন / সি.বা 


আরও খবর



সরকারি খরচে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে নেওয়াসহ ১০ দফা দাবি

প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিতে ১০ দফা দাবি

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ৫৭জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image

 

ডেস্ক এডিটর :

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ, সরকারি খরচে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে নেওয়াসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ কুয়েত শাখার উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ কুয়েত শাখার সভাপতি কাউসার সিকদারের সভাপতিত্বে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় শুক্রবার (৮ অক্টোবর) কুয়েত সিটির রাজধানী হোটেলে এ সভা হয়।

 

পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত নুর।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রবিউল হক, কুয়েত শাখার সহ-সভাপতি মো. বিল্লাল পাটোয়ারী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ মিয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ কুয়েত শাখার সভাপতি কাউসার সিকদার।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিফাত নুর বলেন, বিশ্বের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের ১০ দফা দাবি আদায়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। ১০ দফা দাবি আদায়ে বিশ্বের সব বাংলাদেশি প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসী অধিকার পরিষদের ১০ দফা দাবি হলো-

১. প্রবাসে মারা যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে নেয়া।

২. প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটাধিকার দিতে হবে।

৩. বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৪. প্রবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পেনশন সুবিধা।

৫. দালালমুক্ত পাসপোর্ট ও দূতাবাস সেবা।

৬. প্রবাসী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

৭. জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ।

৮. বিদেশে কাগজপত্রবিহীন প্রবাসীদের বৈধকরণে সরকারের সহযোগিতা।

৯. বিদেশে প্রবাসীদের জন্য পর্যাপ্ত শ্রম কল্যাণ উইং।

১০. অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ও প্রবাস ফেরতদের কর্মসংস্থান, সুদমুক্ত পর্যাপ্ত ঋণ।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রবিউল হক, কুয়েতের সহ-সভাপতি মো. বিল্লাল পাটোয়ারী, কুয়েতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মিয়াসহ কুয়েত শাখার সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, রেজওয়ান আহম্মেদ, এনামুল হক, শেখ নুর, আসাদুল ইসলাম, রিয়াদ মেহেদি, শফিকুল ইসলাম, মোস্তাকিম প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে ছিলেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা নুরুল হক নুর, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জার্মান প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার কবীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক লন্ডনপ্রবাসী বিপ্লব কুমার পোদ্দার।সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় সদস্যদের মধ্যে সাংগঠনিক কর্মদক্ষতায় সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। এছাড়া প্রবাসীদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সংবাদকর্মীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

খবর প্রকিদিন / সি.বা 


আরও খবর



মনের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে শরীরও অসুস্থ হয়ে পড়ে

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এই ১০ টি কাজ করুন

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ১৪৪জন দেখেছেন
Image


লাইফস্টাইল ডেস্ক:

 

মনের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে শরীরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাধারণত আমরা শরীরের অসুখ টের পেলেও নিজের কিংবা অন্যের মনের অসুখ টের পাই না। এ কারণে অনেকেই মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত, নেশাগ্রস্ত কিংবা আত্মহননকারী হয়ে ওঠেন। যা কারও কাম্য নয়।

 

এজন্য ফিট ও সুস্থ থাকতে অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া জরুরি। তবে কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেরই দু’দণ্ড বসে কাটানোর ফুরসত নেই। এ কারণেই মানুষের মধ্যে চাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিন এভাবে থাকতে থাকতে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকেয়েট্রিতে প্রকাশিত ‘কান্ট্রি পেপার অন মেন্টাল হেলথ-বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৮.৭ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত।

প্রতিবেদন অনুসারে, মহামারি করোনার কারণে মানসিক রোগের ব্যাপকতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই রোববার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’।

নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখার দায়িত্ব কিন্তু আপনারই। তাই মানসিক রোগ যেন বাসা না বাঁধে সেদিকে সময় থাকতে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ১০ উপায় মেনে চলুন-

পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে

ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এই রাসায়নিকগুলো আমাদের মেজাজ ও আবেগ পরিচালনা করে।

যদি আমরা পর্যাপ্ত না ঘুমায়, তাহলে মস্তিষ্কে বিভিন্ন অংশ ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে হতাশ ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই।

পুষ্টিকর খাবার

পুষ্টিকর খাবার শুধু শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মনের জন্যও উপকারী। কিছু খনিজ যেমন- আয়রন ও ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি মেজাজ পরিবর্তনের জন্য দায়ী। তাই সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। আপনি যদি খিটখিটে মেজাজ, হতাশা বা উদ্বিগ্নতায় ভোগেন তাহলে কফি খাওয়া কমিয়ে আনুন।

অ্যালকোহল, ধূমপান ও মাদক পরিহার

অনেকেই হতাশ হয়ে ধূমপান ও মাদকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে জানেন কি, এগুলো হতাশা কাটায় না বরং শরীর ও মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত মদ্যপানে শরীরে থায়ামিনের ঘাটতি হতে পারে। থায়ামিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এর ঘাটতি দেখা দিলে স্মৃতি বিভ্রাট, মনোযোগের অভাব, বিভ্রান্তি ও চোখের সমস্যা হতে পারে। আবার যদি আপনি ধূমপান করেন, এতে থাকা নিকোটিন শরীর ও মস্তিষ্ক উভয়েরই ক্ষতি করে। পরবর্তীতে ধূমপান বন্ধ করলে আপনি আরও বিরক্ত ও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারেন। তাই মাদকমুক্ত জীবন গড়ুন।

সূর্যের আলো গায়ে মাখুন

সূর্যালোক ভিটামিন ডি এর একটি বড় উৎস। ভিটামিন ডি শরীর ও মস্তিষ্কের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি মস্তিষ্কের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করে। ফলে মেজাজ আরও উন্নত হয়। কারণ অ্যান্ডোরফিন ও সেরোটোনিন এর উৎপাদন বেড়ে যায়। তবে রোদে গেলে ত্বক ও চোখকে নিরাপদ রাখুন।

প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা থেকে ২ ঘণ্টা গায়ে সূর্যের আলো মাখুন। শীতের সময় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কারণ তখন সূর্যের দেখা কম পাওয়া যায়। এটি সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার (এসএডি) নামে পরিচিত। তাই পর্যাপ্ত সূর্যের আলো গায়ে মাখুন, এতে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।

দুশ্চিন্তা দূরে রাখুন

 

সবার জীবনেই কাজের চাপ আছে। তাই বলে এ নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়। এ সমস্যা সমাধানে আপনাকে জানতে হবে কীভাবে আপনি চাপ সামলাবেন। যদি না পারেন তাহলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

এজন্য দৈনন্দিন জীবনের কোনো না কোনো সমস্যার তালিকা তৈরি করুন। এরপর তা সমাধানের উপায় খুঁজুন। অযথা অলীক কল্পনায় ডুবে থাকবেন না। যখন দেখবেন আপনার ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে, তার অর্থ হলো আপনি বেশি দুশ্চিন্তা করছেন!

 

শরীরচর্চা আবশ্যক

 

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। কারণ যত বেশি সক্রিয় থাকবেন, মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থগুলোও বেড়ে যায়। যা মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে শরীরচর্চার অভাবে মেজাজ খারাপ হতে পারে।

পাশাপাশি উদ্বেগ, চাপ, ক্লান্তি ও অলসতা বোধ করতে পারেন। তাই শরীর ও মন দু’টোই ভালো রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। ম্যারাথন দৌড় বা ফুটবল খেলার প্রয়োজন নেই, আপনি নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও কায়িক পরিশ্রম করেও সুস্থ থাকতে পারবেন।

যা ভালো লাগে, তা-ই করুন

আপনার যা ভালো লাগবে বা করতে ইচ্ছে করবে তা-ই করুন। আপনার যদি ঘুরতে যেতে, শপিং করতে কিংবা ছবি আঁকতে ভালো লাগে তাহলে তা-ই করুন। আপনি যা উপভোগ করেন সেই কাজগুলো যখন করবেন তখন মনও ভালো থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা অন্যের বাধ্যগত হয়ে নিজের খুশিকে দমিয়ে রাখেন, তাদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ ও অসুখী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়। তাই নিজের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিন।

মিশুক হওয়ার চেষ্টা করুন

অন্যদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। যখনই সুযোগ পাবেন মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যদের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট কথা বলা স্মৃতিশক্তি ও পরীক্ষার স্কোর উন্নত করতে পারে! তাই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান ও মিশুক হওয়ার চেষ্টা করুন।

অন্যের জন্য কিছু করুন

কাউকে সাহায্য করলে নিজের মধ্যেও অন্যরকম ভালো লাগার অনুভূতি কাজ করে। তাই অন্যের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন। কোনো দরিদ্রকে খাবার বা পোশাক কিনে দিন কিংবা সামান্য অর্থ দিয়ে সাহায্য করুন। দেখবেন আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।

তখন নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে হতাশ না হয়ে বরং বিশ্ব সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে। নিজেকে অসহায় ভাবার আগে না খেয়ে থাকা মুখগুলোর ছবি ভাসবে মনে। ফলে অন্যের জন্য কিছু করার স্পৃহা জন্মাবে। এর মাধ্যমে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ পাবেন।

সাহায্য নিন

আপনি যদি মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন তাহলে অন্যের সাহায্য নিন। মুখ বুজে থাকবেন না। নিজের অসুবিধার কথা সবার সঙ্গে শেয়ার করুন। কারণ অত্যাধিক মানসিক চাপে আপনি বিকারগ্রস্তও হয়ে পড়তে পারেন। অনেকেই মনে করেন, মন ভালো নেই এ বিষয়ে কাউকে জানালে সে পাগল বলবে!

এ ধারণা থেকে সরে আসুন। মানুষের শরীর যেমন সবদিন ভালো যায় না, ঠিক তেমনই মনও সব সময় ভালো থাকে না। তাই মানসিকভাবে চাপ অনুভব করলে কাউন্সিলিং করুন বা মনোবিদের সাহায্য নিন। তার আগে পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন।

 

খবর প্রতিদিন/ সি.বা 


আরও খবর



স্থানীয় সাংসদের ডিওলেটার নকল অর্ধকোটি আয়, সিন্ডিকেটে জড়িত সরকারী কর্মকর্তারা

মিঠাপুকুরে ভুয়া কাজীর হাতে ২ হাজার বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ৬৯জন দেখেছেন
Image

 

রুবেল ইসলাম,মিঠাপুকুর :

 

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ভূয়া নিকাহ্ রেজিস্ট্রার সেজে ৭ বছরে বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি করে কোটি টাকা আয় করেছেন এনামুল হক নামে কাজী। এই সময়ে তিনি ২ হাজারেরও বেশি নিকাহ্ ও তালাক রেজিস্ট্রি করেছেন। সম্প্রতি জানা গেছে তিনি একজন ভুয়া কাজী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।

 

গত ২৬ শে আগস্ট আলোচিত অভিযোগটি উঠেছে-উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নে দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র কাজী এনামুল হকের বিরুদ্ধে।ভুয়া রেজিস্ট্রারি নিয়োগ দেখিয়ে কাজির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।এতে সহযোগিতা করছেন জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক অফিসের কিছু কর্মচারী।তবে এই বিষয়ে উভয় উভয়কে দোষারোপ করছেন।

 

অভিযোগকারী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মুন্ডপাশা গ্রামের আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে আমিরুল ইসলাম মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন)আইনে ১৯৭৪(১৯৭৪ সনের ৫২ নং আইন)এর ৪ ধারানুযায়ী নং-বিচার-৭/২এন/২০০৪-৪৪২ নং স্মারেেক কাজীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সেই স্মারক জালিয়াতি করে দীর্ঘ ৭বছর ধরে কাজীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন এনামুল হক।তিনি আরও বলেন-তৎকালীন সময়ে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগপ্রাপ্ত সঠিকতা প্রসঙ্গে ও তার বিরুদ্ধে বিচার-৭/২এন-৬৯/২০০৪-২৬৫ স্মারকে ৮ই মার্চ ২০১৭ সালে জেলা রেজিস্ট্রারকে ফৌজদারি মামলার নির্দেশ দেন সিনিয়র সহকারী সচিব জি.এম.নাজমুল শাহাদাৎ।কিন্তু তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার অর্থের বিনিময়ে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।জানা যায়-গত ১৬ই ফেব্রয়ারী ২০১৪ সালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান কাজী আব্দুল ওয়াদুদ(৪৫)।তার মৃত্যুর পর থেকে ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে কাজীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

 

নামপ্রকাশে অনিশ্চুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান-এনামুল কাজী এলাকায় ৮-১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাল্যবিবাহ পড়িয়ে থাকেন।এছাড়া বিভিন্ন ধরণের ঝামেলার বিয়ে অনেক অর্থের বিনিময়ে রেজিস্ট্রোর করেন বলে দাবী তাদের।

এই বিষয়ে এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। আবু তালেব মিয়া ও ইদ্রিস আলী নামে দুজনকে সাব কাজীর দায়িত্ব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার আব্দুস ছালাম বলেন-ময়েনপুর ইউনিয়নের কাজী এলামুল হকের কোন ফাইল তার অফিসে নেই ।জেলা রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অনুমতি ও সরকারী মূল্য পরিশোধ না হওয়া পযর্ন্ত আমাদের কাছ থেকে বই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।তাহলে বই পেল কিভাবে এমন প্রশ্নে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসকে দায়ী করেন তিনি।

 

জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল সালাম প্রামাণিক জানান-তিনি এই বিষয়ে অবগত নন।ইতিপূর্বে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি এই কাজ করেছেন। তার অফিসের সুপারিশ ছাড়া মুদ্রণ শাখা কখনই কোন বই হস্তান্তর করেন না। কাজী বই কিভাবে পেল এমন প্রশ্নে  তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

 

খবর প্রতিদিন/ সি.বা 


আরও খবর