Logo
আজঃ শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪
শিরোনাম

সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রবীন্দ্র-নজরুল মুখোমুখি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৫ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | ২৬৪জন দেখেছেন

Image

আমরা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ভালোবাসি। দুজনই বাংলা ভাষার কবি। বাংলাদেশের কবি, বাঙালি কবি। আমরা তাদের সাহিত্য পড়ি, আলোচনা-সামালোচনা ও গবেষণা করি। রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত আমাদের সংগীতের অন্যতম উপাদান। কারণ রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখা দিয়ে আবহমান বাঙালির চিরচেনা বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার কথা বলেছেন। তিনি বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষাকে আলোকিত করেছেন। 

অন্যদিকে নজরুল আমাদের যুদ্ধদিনের কবি, প্রাণ ও প্রেরণার কবি, তারুণ্যের কবি। নজরুল তাঁর লেখা দিয়ে মানব মুক্তির কথা বলেছেন, দেশের কথা বলেছেন, নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষের কথা বলেছেন। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। 

১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হলেও কবি নজরুল পাকিস্তানকে সমর্থন করেননি। কবি মুসলীম লীগকে পছন্দও করেতন না। দেশভাগ হলেও নজরুল পরিবার নিয়ে কলকাতা থেকে যান। অবশ্য এ সময় তিনি পুরোদমে অসুস্থ ছিলেন। দেশভাগ পরবর্তী অনেক পাকিস্তানপন্থি ও রবীন্দ্রবিরোধীরা অপপ্রচার শুরু করলেন যে, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু; ভারতের কবি। কাজী নজরুল মুসলমান; পাকিস্তানের কবি। নজরুল যে হিন্দু নারী বিবাহ করেছেন সেটিকেও উপক্ষো করে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে বলা শুরু করলেন।  ১৯৪৮ সালে ঢাকায় রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন সূচনাকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ভালো চোখে দেখেনি। ১৯৪৮ সালের মে মাসের ৯ তারিখের পর থেকে ঢাকা এবং পূর্ব বাংলার বিভিন্ন স্থানে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালিত হয়ে আসছে। যা স্বাধীন বাংলাদেশেও পঞ্চাশ বছর ধরে চলমান। 

কিন্তু ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের দুই প্রধান বাঙালি কবিকে নিয়ে রাজনীতি করেছেন। একজনকে অন্যজনের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছেন। রবীন্দ্র নজরুলকে জীবদ্দশায়ও অনেকে আক্রমণ করেছেন। সাতচল্লিশ পরবর্তী বারবার আমাদের ভাষা সংস্কৃতির উপর আঘাত করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছেন পশ্চিম পাকিস্তান ও তাদের অনুসারীরা। অনেক সময় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আমাদের বাঙালি অনেক কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ও  মৌলবাদীরা। দেশভাগের পর ঢাকাকেন্দ্রিক এই অপরাজনীতি বারবার লক্ষ্য কার যায়। ‘বায়ান্নর মার্কিন গোপন দলিল-১৭’ এর নথিতে এরকম কিছু অজানা তথ্য উঠে এসেছে পরবর্তীতে। 

১৯৫৫ সালে ঢাকায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরীর নামে প্রতিষ্ঠিত হয় বাফা। এই প্রতিষ্ঠানে তৎকালীন রবীন্দ্রসংগীত শিখিয়েছেন শিল্পী কলিম শরাফী, ভক্তিময় সেনগুপ্ত ও আতিকুল ইসলাম। তৎকালীন পূর্ববাংলায় রবীন্দ্র চর্চায় বাফার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ছায়ানটের অন্যতম রুপকার সনজীদা খাতুন। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের পরপর শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ছায়ানট। ঢাকার বটমূলে পয়লা বৈশাখ উদযাপন একদিকে যেমন ছিল বাঙালি সংস্কৃতির উৎসব। অন্যদিকে ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের অনুসারীরা সবসময় বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংস ও দমিয়ে রাখতে চেষ্টা করতেন।  

১৯৬৭ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকার তৎকালীন মার্কিন কনসাল ডরিস ভার্জিনিয়া মেটকাফ ওয়াশিংটনে পাঠানো এক বার্তায় মন্তব্য করেছিলেন: 

‘বাঙালিদের বিরুদ্ধে মুসলিম লিগের ওই মিশন ছিল উচ্চাভিলাষী। কারণ, শিক্ষিত বাঙালিরা রবীন্দ্রনাথকে শেক্সপিয়ার-ওয়ার্ডসওয়ার্থ-ইয়েটস-গ্যেটের দলভুক্ত মনে করেন। অন্যদিকে নজরুলকে তাঁরা মনে করেন জর্জ এম কোহেন এবং আরভিং বার্লিনদের (এই দুজনই মার্কিন লেখক ও গীতিকার) দলভুক্ত। যদিও নজরুল মুসলমান হয়েও পাকিস্তান সমর্থন করেননি। তিনি তাঁর হিন্দু স্ত্রীকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বাস করেন।’

মার্কিন কনসালের বর্ণনায়-

‘১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭ পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ব্যাপক উদ্দীপনায় নজরুল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে পাকিস্তানি সংস্কৃতির উন্নয়ন সাধন করা। ২৪ সেপ্টেম্বরে মুসলিম লিগের নেতা খান এ সবুরকে একাডেমির প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়। অথচ তিনি কোনো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নন এবং সাহিত্যে তাঁর অনুরাগও নেই।’

ওই প্রতিবেদনে আরো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, মূলত ঢাকায় নজরুল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সেই সময় নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে কৌশলে দাঁড় করিয়ে হিন্দু-মুসলিম বিভেদ সৃষ্টির জন্য। কারণ পূর্ব বাংলায় তখন রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে নিজ দেশের স্বকীয়তার শিল্পী হিসেবেই বাঙালিরা গ্রহণ করেছিল। আর সেই সময় মুসলীম লিগের নেতা খান এ সবুর বাঙালির আকাঙ্খা ও বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালান। প্রকৃতপক্ষে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ ঠেকাতে পাকিস্তানি সরকার এবং মুসলিম লিগের সমর্থকরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে মুসলিম কবি বিবেচনায় নজরুলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। 

ঠিক একই ধারাবাহিকতায়  ১৯৬৭ সালের ২৩ জুন, পাকিস্তানি সরকারের তদান্তীন তথ্যমন্ত্রী ঢাকার নবাব বাড়ির খাজা শাহাবুদ্দিন বেতার ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধ করে ফতোয় জারি করে জানালেন- ‘রবীন্দ্রসংগীত আমাদের সংস্কৃতি নয়, এই সংগীত পাকিস্তানের আদর্শবিরোধী’। এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার ১৯ জন নাগরিক বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদে জানালেন যে, রবীন্দ্রনাথ পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সময় রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর সংগীতের বিরুদ্ধে পাল্টা বিবৃতি দিলেন রবীন্দ্রবিরোধী এবং পাকিস্তানপন্থি ৪২ জন।

সেসময় অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ বলেছিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের বর্ণাঢ্য বিচিত্রমুখী অবদান বাঙালিসত্তাকে ঋদ্ধ করেছে। পাকিস্তানি (তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান) হয়েও আমরা তাঁর অংশীদার। সুতরাং সে মহৎ সাহিত্য আমার এবং আমার উত্তরাধিকারীকে আমি তা থেকে বঞ্চিত হতে দেব কেন?’ 

কিন্তু এর পরই ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে তিনদিন ধরে পালিত হয় বুলবুল ললিতাকলা কেন্দ্র (বাফা), ছায়ানট, ক্রান্তির সম্মেলন অনুষ্ঠান। চারিদিকে পুরোদমে বইতে শুরু করে রবীন্দ্র হাওয়া। রবীন্দ্রসংগীত আরো মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হতে লাগলো তখন। বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপর ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এক ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, 'আমরা মির্জা গালিব, সক্রেটিস, শেকসপিয়ার, অ্যারিস্টটল, দান্তে, লেনিন, মাও সে তুং পড়ি জ্ঞান আহরণের জন্য, আর সরকার আমাদের পাঠে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথের লেখা, যিনি একজন বাঙালি কবি এবং বাংলা কবিতা লিখে বিশ্বকবি হয়েছেন। আমরা এ ব্যবস্থা মানি না। আমরা রবীন্দ্রনাথের বই পড়বই, আমরা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবই এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত এ দেশে গীত হবেই।' 

প্রয়াত জাতীয়  অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান তাঁর এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্পর্কিত এই বিতর্ক শুরু হওয়ার আগেই আমি রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে পূর্ব পাকিস্তানের লেখকদের প্রবন্ধের একটি সংকলনের কাজে হাত দিয়েছিলাম। তথ্যমন্ত্রীর বিবৃতির পরে আমার সে-প্রয়াস অন্য মাত্রা নিলো। আমার প্রস্তাবিত  লেখকদের কেউ কেউ সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁরা এতে লিখবার ঝুঁকি নিতে রাজি হলেন না, কিন্তু অন্য অনেকে আবার বেশ উৎসাহী হয়ে উঠলেন। পরিকল্পিত সংকলনটি সরকারি নীতির উপযুক্ত প্রতিবাদ হিসেবে গণ্য হলো। আমি জয়নুল আবেদিনকে ধরলাম বইটির জন্যে রবীন্দ্রনাথের একটি প্রতিকৃতি এঁকে দিতে। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তাঁকে প্রতিকৃতিশিল্পী মনে করি? বললাম, তা নয়; যে-মনোভাব নিয়ে তিনি সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিবৃতিতে স্বাক্ষর দিয়েছেন, সেই মনোভাব থেকেই যদি ছবিটা এঁকে দেন! তিনি আর দ্বিধা করলেন না। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তখন তাঁর বয়স ৮২, রবীন্দ্রসংগীত-বিষয়ে বিতর্ক এড়িয়ে গেছেন এ-যাবত। তাঁর কাছে যখন আমার সংকলনের জন্যে লেখা চাইলাম, তিনি বললেন, তিনি মুখে-মুখে বলে যাবেন, আমি যেন শ্রুতিলিপি নিই।

একদিন তাঁর বাড়িতে, একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে তাঁর অফিসকক্ষে বসে কাজটা করলাম। পরে তিনি সংশোধন করে দিলে সংকলনের গোড়ায় সেটা ছাপলাম। যতদূর জানি, এটাই শহীদুল্লাহর শেষ লেখা। তিরিশজন প্রাবন্ধিকের লেখা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ বের হলো ১৯৬৮ সালে। এর প্রকাশনা-অনুষ্ঠানে যেমন জনসমাগম হলো, পত্র-পত্রিকায়  তেমনি তার খবর বের হলো গুরুত্বের সঙ্গে। পরের বছরেই তো শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘটল গণ-অভ্যুত্থান, বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঢেউ তুঙ্গে উঠল। সভা-সমিতিতে ‘আমার সোনার বাংলা’ গাওয়া প্রায় রেওয়াজ হয়ে দাঁড়াল।’ 

আমরা আমাদের স্বাধীনতার সেই স্বপ্নবুনোন থেকেই রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর রচিত জাতীয় সংগীতকে ভালোবাসি। নজরুলের গান ও কবিতাকে ভালোবেসে আসছি। একাত্তরের যুদ্ধদিনে আমাদের যোদ্ধারা জাতীয় সংগীত ও নজরুলের গান এবং কবিতা গেয়ে যুদ্ধ করতেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকেও রবীন্দ্র নজরুলের গান, কবিতা, বাণী প্রচার করা হতো। বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে ভালোবাসতেন। তিনি নিজেও জাতীয় সংগীত খুব পছন্দ করতেন। 

একাত্তর সালে পাকিস্তানের পরাধীন থেকে মুক্ত হলে বঙ্গবন্ধু ও সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানের দশ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে এবং নজরুলের সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থের ‘নতুনের গান’ কবিতার ‘চল চল চল’ শিরোনামের ২১ লাইনকে রণসংগীত হিসেবে মন্ত্রীসভার বৈঠকে নির্বাচন করে। এর মাধ্যমে প্রধান দুই কবিকে সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করা হয়। কিন্ত তারপরও আমাদের দেশে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল নিয়ে বহু আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। নজরুলকেও নাস্তিক তকমা দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানপন্থি, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক মানুষেরা এখনো আমাদের সংস্কৃতি থেকে রবীন্দ্র সৃষ্টিকে দূরে রাখার সর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকেও রবীন্দ্র রচনা মূছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে আমাদের জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার অন্যতম মূলমন্ত্র ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধু বারবার বলেছেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা’।

আমরা বাঙালি, আমাদের দেশে বহু ধর্মের মানুষ মিলে মিশে বসবাস করে আসছি আমরা। আমরা যেমন আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূখন্ড এবং জাতীয়তাকে ভালোবাসি ঠিক একইভাবে রবীন্দ্র নজরুল সৃষ্টিকে ভালোবাসি। কারণ রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল আমাদের চির আধুনিক কবি। আমাদের দেশের কবি, মাটির কবি, বাংলাদেশের কবি আমাদের যুদ্ধদিনের কবি।   

তথ্য সহায়ক 
০১. মিজানুর রহমান খান, রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে নজরুলকে ব্যবহার, প্রথম আলো, ১৭ ফ্রেবয়ারি, ২০১৪।
০২. বিশ^জিৎ ঘোষ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রনাথ, প্রথম আলো, ০৩ মে, ২০১৩।
০৩. বাশার খান, নজরুলকে ঢাকার আনার ইতিহাস, বাংলা ট্রিবিউন, ২৭ আগস্ট, ২০১৯।
০৪.  সৌমিত্র শেখর, কবি নজরুলকে কেন প্রয়োজন, ২৭ আগস্ট, ২০১৫।
০৫. দীপঙ্কর গৌতম, আমাদের জাতীয় সংগীত ও রবীন্দ্রনাথ, দৈনিক জাগরণ, ০৮ মে, ২০১৯।
০৬. অনন্য মুশফিক, সনজীদা খাতুন ও আলোর পথযাত্রী, দৈনিক ভোরের কাগজ, ০৬ এপ্রিল, ২০১৮। 
০৭. আগে তো আমাদের বাঙালি হতে হবে, সনজীদা খাতুন, দ্য ওয়াল, পুজো ম্যাগাজিন, ১৪২৬।
০৮. আনিসুজ্জামান, রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ, ৬ মে, ২০১৮, কালি ও কলম।
০৯. ড. তানভীর আহমেদ, বঙ্গবন্ধুর ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ, রাইজিংবিডি.কম, ৭ আগস্ট ২০২১ 
১০. মোজাফ্ফর হোসেন, টার্গেট রবীন্দ্রনাথ না জাতীয় সংগীত, রাইজিংবিডি.কম, ৫ আগস্ট, ২০১৯)


আরও খবর

আজ বইমেলা শুরু হচ্ছে

বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




জয়পুরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৬ ডিগ্রি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১২৭জন দেখেছেন

Image
এস এম শফিকুল ইসলাম,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃজয়পুরহাট জেলায় আজ শনিবারও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার তাপমাত্রা রেকর্ড ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সাত দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকায় জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।শনিবার সকালে বদলগাছী আবহাওয়া অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জয়পুরহাটে আবহাওয়া অফিস না থাকায় বদলগাছি আবহাওয়া অফিস জয়পুরহাটের কাছাকাছি এলাকায় এ জন্য বদলগাছীর রেকর্ড জয়পুরহাটেও ধরা হয়ে থাকে। 

স্থানীয় বদলগাছী আবহাওয়া অফিসের  হামিদুল হক আজ শনিবার সকালে জানান, শনিবার সকাল ৭টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি বলেন, গত সাত দিন ধরে জয়পুরহাট ও আশপাশের এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠা নামা করছে।এ বছরে এই প্রথম জয়পুরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৫ ও ৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলো । 

ঘন কুয়াশার সাথে শৈত্যপ্রবাহে মাঘের হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন একেবারেই বিপর্যস্ত ও জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ। শীতে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার নাজেহাল অবস্থা। শীতের তীব্রতায় গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছিন্নমূল খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহের ফলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে বলে জানান জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আমান উদ্দিন মণ্ডল।

আরও খবর



ট্রাফিক সিগন্যাল সচল করতে আইজিপিকে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | ৩৫জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক সিগন্যাল সচল করে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবনে জার্মানি সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি।

দুই কোটি মানুষের নগরী ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গতকাল (বৃহস্পতিবার) আইজিপির সঙ্গে কথা বলেছি, ট্রাফিক লাইটগুলোকে সচল করে দিয়ে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য।

মেট্রোরেলের কারণে ঢাকার সড়কে যানবাহন কমার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেহেতু আগের মত অতিরিক্ত চাপ নেই। এখন একটা সুবিধা আছে। ট্রাফিক লাইটের পদ্ধতিতে চলে গেলে... খুব বেশি সময় না, সেটা কম করে বারবার যদি চলে... চলমান থাকলে যতক্ষণই লাগুক, তখন বসে আছি- এই অনুভূতি হবে না। সেইভাবে তার (আইজিপির) সঙ্গে কথা হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী- রাজধানী ঢাকার সড়ক সংযোগগুলোতে মোট ট্রাফিক সিগন্যাল আছে ১১০টি। এগুলোর মধ্যে মাত্র একটিতে সিগন্যাল সচল। এর বাইরে সড়কে সাড়ে ৫০০ জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা দাঁড়িয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন।



আরও খবর



জয়পুরহাটে কিশোর গ্যাং লিডারসহ গ্রেফতার ৬

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৬৭জন দেখেছেন

Image

এস এম শফিকুল ইসলাম,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃজয়পুরহাটে কিশোর গ্যাং লিডার আরিফুরসহ ৬ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বুধবার (৭ ৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলার পাঁচবিবি উপজেলার পূর্ববালিঘাটা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ আরিফুর রহমান টিটু, মোঃ টুটুল মিয়া, জনি রায়, কাওসার মন্ডল , উজ্জল রায় ও নাজমুল হাসান।

জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোঃ শেখ সাদিক জানান, জয়পুরহাটে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোর গ্যাংদের ঔদ্ধত্য আচরণে এলাকাবাসীরা তঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এমন কোন অপরাধ নেই যার সাথে এরা জড়িত হচ্ছে না। এমন অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।


আরও খবর



সৈয়দপুরে ফসলি জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৭১জন দেখেছেন

Image

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:- নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়।এতে কৃষি নির্ভর জমি গুলো পুকুর কিংবা ডোবায় পরিনত হয়ে চাষাবাদে ব্যাঘাত ঘটছে। স্হানীয় প্রশাসনে এ বিষয়ে  অভিযোগ দিয়ে ও প্রতিকার মিলছেনা বলে একাধিক কৃষকের অভিযোগ। 

অভিযোগে প্রকাশ,সৈয়দপুর উপজেলাটি ৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে  গঠিত। ব্যবসা ও কৃষি খাতে এ উপজেলাটি দেশ জুড়ে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে চাষাবাদে ধস নেমেছে শুরু মাত্র ফসলি জমির উর্বর মাটি ইটভাটায় যাওয়ার কারনে।

ভুক্তভুগীরা বলছেন,কামারপুকুর ইউনিয়নের তোফায়েলের মোড় এলাকার জয়নুল নামের এক ব্যাক্তি সরল শান্ত কৃষকদের লোভ দেখিয়ে কম দামে জমির উর্বর মাটি ক্রয় করে সেই মাটি চড়া দামে বিক্রি করছেন ইটভাটায়।একসময়ের লেবার শ্রেনীর এই মানুষ টি ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে বর্তমানে ১০ ট্রাকটারের মালিক।এলাকা বাসী তার মাটি বিক্রির অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনকে দেয়ার কথা বললেও কোন কর্নপাতই করেন না তিনি। ফসলি জমির মাটি খেকো জয়নুলের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ না নিলে এ উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে চাষাবাদ অর্ধেকে নেমে আসবে বলে জানান তারা। অন্য দিকে একই ইউনিয়নের সোহাগ নামের অপর এক ব্যাক্তি প্রায় প্রতিদিনই ১০/১২ টি ট্রাকটার লাগিয়ে কৃষকের জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। কামার পুকুর ইউনিয়ন এর মাটি খেকো জয়নুল ও সোহাগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা না নিলে সৈয়দপুর উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে বলে শতাধিক কৃষক মতামত ব্যাক্ত করেন।

গত ৩০ জানুয়ারি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটি খেকো জয়নুল ও সোহাগ।অথচ গত ২/৩ বছর আগেও ওইসব জমিতে ফলন ফলেছে বছরে তিন ফসল। গোলা ভর্তি করা ধান,আর আগাম৷ সবজি চাষাবাদ করে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। 

জানা যায়, মাটি খেকো জয়নুল ও সোহাগের মাথায় হাত রয়েছে অবৈধ ক'জন ইটভাটা মালিকের।যার ফলে অসহায় অনেক কৃষকদের একপ্রকার হুমকির মধ্যে কমদামে ফসলি জমির মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। জয়নুল ও সোহাগ সহ ইটভাটার মালিকরা অর্থ ও বিত্তশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পাচ্ছেন না। 

জানতে চাইলে জয়নুল ও সোহাগ জানান, কামার পুকুর ইউনিয়ন এর অনেকেই মাটির ব্যবসা করেন।অন্যরা মাটি বিক্রি করলে দোষ হয়না কিন্তু আমরা বিক্রি করলে দোষ কিসের। একই ইউনিয়নের টোকাই সেলিম নামের এক যুবক উপজেলা প্রশাসনের সাথে থেকে প্রায় সব ইউনিয়নের মাটি নিয়ে আবাসন প্রকল্পো ভরাটের নামে অনত্র মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হলেও তার বিরুদ্ধে কেউই কোন অভিযোগ করেন না।

এবিষয়ে কামার পুকুর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন,উপজেলা প্রশাসন কঠোর হলেই ফসলি জমির মাটি কেটে কেউই বিক্রি করতে পারবেন না।উপজেলা প্রশাসনের কঠোরতা নেই বলেই তি ফসলি জমির উর্বর মাটি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ফলে আবাদ কমে এসেছে অর্ধেকে।
এ বিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার( ভুমি) আমিনুল ইসলাম বলেন কৃষকরা অভিযোগ দিলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্হা নেয়া হবে।

আরও খবর



খিলক্ষেতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১০৮জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজধানীর খিলক্ষেতে ট্রাকের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দীন মোহাম্মদ নামে আরও ১ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ১ জন হলেন- সজীব হোসেন (৩৫)। আরেকজনের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে আহত গুরুতর অবস্থায় ২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সজীব হোসেন তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

খিলক্ষেত থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, ভোর রাতের দিকে খিলক্ষেতের মাস্তুল এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা ৩ আরোহী ছিটকে পড়েন। এতে অজ্ঞাত পরিচয়ের ১ যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত সজীব হোসেন ও দীন মোহাম্মদ নামের ২ জনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে সজীব হোসেন মারা যান।

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, সজীবের বাড়ি বংশাল থানার নবাব কাটারা এলাকায় এবং দীন মোহাম্মদের বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদর থানা এলাকায়। বর্তমানে সে কেরানীগঞ্জ জিঞ্জিরা এলাকায় থাকতেন।


আরও খবর