Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৫২জন দেখেছেন
Image

রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ মোঃ আবু কাওছার মিঠু 


নারয়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার পবনকুল এলাকার গৃহবধূ সোনিয়া আক্তারের বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানী করেছে। উক্তাক্ত করার প্রতিবাদ করায় ও  পূর্বশত্রুতার জের ধরে  গতকাল ২৬ জুন রবিবার ৭/৮ সদস্যের একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রে-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ হামলা চালায়।


মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গৃহবধূ  সোনিয়া আক্তারের স্বামী আবুল হোসেন নারায়ণগঞ্জের  মদনপুরের একটি স্টীল মিলে চাকরি করেন। সোনিয়া আক্তার বাবার বাড়ির পাশে বসতঘর নির্মাণ করে সেখানে তিনি একাই বসবাস করেন।


সুযোগ পেয়ে পবনকুল গ্রামের বখাটে সুজন মিয়া প্রায়ই সোনিয়া আক্তারকে উক্তাক্ত করে আসছিল। প্রতিবাদ করায় গত ১৫ জুন সোনিয়াকে সুজন মিয়া ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। তখন এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাক্বিতন্ডা হয় ।  সুজন ও তার সহযোগিরা  এর জের ধরেই গতকাল ২৬ জুন রবিবার জোরপূর্বক বসতঘরে ঢুকে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।


এসময় গৃহবধূর ডাক চিৎকারে তার বাবার বাড়ীর লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা বাড়ির মহিলাদের   শ্লীলতাহানী ও বেদম প্রহার করে স¦র্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। হামলায় গূহবধূ সোনিয়া আক্তার (৩০), তার মা তাছলিমা বেগম (৬৫), বোন সফুরা খাতুন (৪০), ভাই নাসির উদ্দিন (৩৪) ও বশির উদ্দিন (২৮)  আহত হয়। আহতদের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


এ ব্যাপারে গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার বাদী হয়ে পবনকুল গ্রামের সুজন মিয়া (২৮) ও ইদ্্িরস আলীসহ ৫ জনকে আসামী করে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এ মামলা দায়ের করেছেন। 


আরও খবর



পদ্মা-মেঘনা-সাঙ্গু-হালদা নাম পেলো চার শাবক

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া ‘রাজ-পরী’ দম্পতির চার সন্তানের নাম রাখা হয়েছে পদ্মা, মেঘনা, হালদা ও সাঙ্গু। সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শনকালে সদ্য জন্ম নেওয়া এ চার সাদা শাবকের নামকরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। নদীর নামে শাবকগুলোর নাম রাখা হয় বলে জানান জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দুটি নদী হালদা ও সাঙ্গু। এছাড়া মেঘনা ও পদ্মা বাংলাদেশের বড় নদী। তাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চারটি সাদা বাঘ শাবকের নাম পদ্মা, মেঘনা, হালদা ও সাঙ্গু রাখা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ‘রাজ-পরী’ দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় চার সাদা বাঘ শাবক। এ নিয়ে শুধু চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাতেই সাদা বাঘের সংখ্যা ৫। বর্তমানে মোট বাঘের সংখ্যা ১৬টি।

Chittagong

ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়ার পর বাচ্চাদের দুধ দেয় না বাঘিনী। তবে এখানে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। জন্মের কয়েক ঘন্টা পর থেকে নতুন জন্ম নেওয়া শাবকগুলোকে তাদের মা দুধ দিচ্ছে। বর্তমানে শাবকগুলো তাদের মায়ের সঙ্গে আছে। তাদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি।

তিনি বলেন, শাবকগুলো তাদের মায়ের সঙ্গে থাকলেও ক্লোজ মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে। খাঁচায় সিসিটিভি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের নজরে রাখা হচ্ছে।

২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রজাতির বাঘ দুটি ‘রাজ-পরী’চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়।


আরও খবর



নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ৪ বছর

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

 

jagonews24

 

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চার বছর আজ। ২০১৮ সালের ২৯শে জুলাই রাজধানীতে বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে সড়কে সড়কে আন্দোলনে নামে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা।

 

সেদিন জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বেপরোয়া বাসের চাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এর প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা, স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর যান চলাচল।

 

শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন দেশে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে বাদ যায়নি।

 

গোটা রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকরণ কীভাবে করতে হয় ও যানবাহন চলাচলে কীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হয়, শিক্ষার্থীরা তা চোখে আঙুল দিয়ে সব মহলকে দেখিয়ে দিয়েছিল।

 

কোথাও আবার প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও দেখা গেছে গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না তা পরীক্ষা করতে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও খাবার-পানি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

 

প্রাথমিকভাবে ‘রাজিব-দিয়া হত্যার বিচার চাই’ স্লোগানে আন্দোলনের সূচনা হলেও, পরে তা এক বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানায় দেশের আপামর জনতা।

 

শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সড়কে বেপড়োয়া গাড়ি চালানোর কারণে কোনো মৃত্যু ঘটলে চালকের মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ১৯শে সেপ্টেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করে সরকার।

 

তখন থেকেই এ আইনের বিরোধীতা করতে থাকেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। একই বছর সেপ্টেম্বরে আইনটি পাশ হলেও সেটি কার্যকর করা হয় পরের বছরের পহেলা নভেম্বর। কিন্তু তখন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ-কর্মবিরতির মুখে আইন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

 

তবে কোনো আইনই সড়কে বাস্তবায়িত হচ্ছে কী না তা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তুলে যাচ্ছে নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।


আরও খবর



বুঝি না বীজগণিত কী কাজে লাগে: জাহ্নবী কাপুর

প্রকাশিত:Friday ২২ July 20২২ | হালনাগাদ:Friday ০৫ August ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

‘সাহিত্য, ইতিহাস মানুষকে সমৃদ্ধ করে। সংস্কৃতিমনস্ক করে তোলে। কিন্তু গণিত? তা তো মানুষকে প্রতিবন্ধী করে।’

হঠাৎ গণিত বিদ্বেষী এমন কথা? আসলে সম্প্রতি বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর এভাবেই তার পড়াশোনার বিষয়টি শেয়ার করেছেন। যদিও গণিতপ্রেমীরাও এমন বক্তব্যে অবাক।

তবে তাতে জাহ্নবী কাপুরের কিছু যায় আসে না। সোজাসাপ্টা তার মন্তব্য- তিনি নাকি তার পড়া নিয়ে ব্যক্তিগত বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার বলিউড নায়িকার এই বক্তব্যকে মজার হিসেবে নিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জাহ্নবী নিজের স্কুলজীবনের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র ইতিহাস এবং সাহিত্য পড়তে ভালোবাসতাম। তাতে ভালো রেজাল্টাও করেছি। কিন্তু অঙ্ক আমার মাথায় ঢুকতো না। আমি আজও বুঝি না অ্যালজেব্রা কী কাজে লাগে!’

jagonews24

২০১৮ সালে প্রেমের ছবি ‘ধড়ক’র মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন জাহ্নবী। তারপর ‘রুহি’, ‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল’ ও ‘ঘোস্ট স্টোরিজ’র মতো একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন।

সবশেষ চলতি বছরের ২৯ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে জাহ্নবী অভিনীত ‘গুডলাক জেরি’ ছবি। বর্তমানে এই ছবির প্রচারে ব্যস্ত তিনি।


আরও খবর



প্রতি সাড়ে তিন মিনিটে ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১০জন দেখেছেন
Image

প্রতি সাড়ে তিন মিনিটে ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নাগরিকের মৃত্যু হয়, এমন তথ্য দিচেছ দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান। একবছরে দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় দেড় লাখ মানুষ। তবে সেটি আরও বেশি হতে পারে অন্যান্য সংস্থার হিসাবমতে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, ভারতে বছরে তিন লাখ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে যা দ্বীপ রাষ্ট্র বার্বাডোসের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। তবে ভারতের বিশাল জনসংখ্যা বলে এতো বেশি দুর্ঘটনা, ব্যাপারটি এমন নয়।

চীনেরও জনসংখ্যা ভারতের মতোই কিন্তু দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে ৫৮ হাজার হতাহতের ঘটনা ঘটে প্রতিবছর। ডব্লিউএইচও-র সূত্র ধরে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, প্রকৃতপক্ষে, ভারতে বিশ্বের নিবন্ধিত যানবাহনের মাত্র ১০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। এটিকে নিত্যদিনের গণহত্যা বলা যায়, যেটি জনসম্মুখে ঘটে।

এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে ভারতের রাস্তাগুলো চরম বিপর্যস্ত। চালকরা লেনের চিহ্ন উপেক্ষা করেন। ট্রাফিক লাইট নাম মাত্র কাজ করে। এমনকি পথচারীরাও দ্রুত রাস্তা পারাপার হন।

শুধু প্রাইভেট কার নয়, ওভারলোড করা লরি, অটোরিকশা, স্কুটার, এমনকি মোটরসাইকেল চলে একই সড়কে। ফলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হয়। অনেক শহরের রাস্তায় বিক্রেতারা রাস্তার অর্ধেক জায়গা দখল করে দোকান-পাট বসান। হাইওয়েতে রাস্তার ভুল দিকে গাড়ি চালানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। এতেই ঘটে বিপত্তি।

সড়কে বিশৃঙ্খলা একটি কাঠামোগত সমস্যাকে চিহ্নিত করে। গরীব দেশগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা কম, যা খারাপ রাস্তায় ধীরে ধীরে চলে। ফলে জনসংখ্যার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম মৃত্যু হয় সেখানে, যদিও নিরাপত্তার মান কম হতে পারে।

দুর্ঘটনা কমাতে ধনী দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারে এবং কঠোর নিয়মের ব্যবস্থা করতে পারে। দ্রুত বর্ধনশীল দেশগুলোর প্রচুর যানবাহন ও কিছু ভাল রাস্তাঘাটও রয়েছে, কিন্তু নিরাপত্তার জন্য খুব বেশি অর্থ বিনিয়োগে মনোযোগ দেয় না। সেসব দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

নিরাপদ বিনিয়োগের সংকটের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। প্রথমটি হলো, রাস্তা ও গাড়ির মৌলিক অবকাঠামো। অনেক যানবাহন পুরোনো এবং সিটবেল্ট, অনেক কম এয়ারব্যাগের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে। অনেক রাস্তার সঠিক চিহ্ন বা ক্র্যাশ ব্যারিয়ার নেই। পথচারীদের ট্র্যাফিক থেকে দূরে রাখার জন্য ফুটপাতগুলোও খুব কম ব্যবহার হয় এবং দখল হয়ে যায়।

আমেরিকার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের মাধব পাই বলেছেন, ‘মৌলিক সমস্যা’ হলো যে অনেক দরিদ্র দেশে রাস্তার নকশা ধনী বিশ্বের আদলে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে গাড়ি এবং লরিগুলোই সড়ক দখলে রাখে। কিন্তু ভারতে মোটরসাইকেল ও স্কুটারের ব্যবহার ৭০ শতাংশ। এসব যানবাহন একটি গাড়ির তুলনায় ৩০ গুণ বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ধ্বংস হতে পারে। তবুও ভারতীয় রাস্তাগুলো দুই চাকার গাড়ির জন্য আলাদা লেন নির্ধারণ করে না।

দ্বিতীয় ব্যর্থতা হলো শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ। ২০১৭ সালে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় জানা যায়, প্রতি দশজন ভারতীয় চালকের মধ্যে ছয়জন তাদের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দেননি। অভিযোগ আছে, এর ফলে এখনো লাখ লাখ চালক ঘুষের মাধ্যমে কাগজপত্র পান। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা প্রায়শই একটি হেঁয়ালিপনা সেখানে। আরও ভয়ানক বিষয় হলো ৩৭ শতাংশ ট্রাক চালক স্বীকার করে যে লাইসেন্স পাওয়ার আগে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না।

তৃতীয় বড় ঘাটতি হলো স্বাস্থ্যসেবা। একটি দুর্ঘটনা ঘটলে, ধনী দেশের তুলনায় আহতদের মারা যাওয়ার শঙ্কা অনেক বেশি গরীব দেশগুলোতে। সরকারি অনুমান বলছে যে নিহতদের অর্ধেককে বাঁচানো যেত যদি তারা সময় মতো চিকিৎসা সহায়তা পেত। কিন্তু শহরের বাইরে জরুরি সেবার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ট্রমা রোগীদের জন্য শয্যার সংকট রয়েছে।

জনসংখ্যার সঙ্গে চিকিৎসকের অনুপাতে প্রতি এক হাজার জনে চিকিৎসক একজনেরও কম। যা প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান, এমনকি ধনী জার্মানি অথবা জাপানের চেয়েও কম ভারতের। দরিদ্র কর্মজীবী পুরুষরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাদের আহত হওয়ার শঙ্কা বেশি এবং তাদের স্বাস্থ্যবীমাও থাকে না।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার কারণে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ব্যয় বিলও দরিদ্র পরিবারকে অসহায় অবস্থায় ঠেলে দেয়। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক ব্যয় হিসাব করে ১৭২ বিলিয়ন ডলার যা সে সময় জিডিপির ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।

ভারতের সরকার সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে অন্ধ নয়। ২০২০ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা অর্ধেক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা গুণতে হবে এবং জেলে যেতে হবে। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, কম বয়সী কেউ গাড়ি চালালে বা সঠিক নম্বর প্লেট ছাড়াই গাড়ি চালালে অপরাধ বলে গণ্য হবে। হেলমেট ছাড়া স্কুটার বা মোটরসাইকেল চালালে তাদের লাইসেন্স স্থগিত করা হবে।

একটি ভালো সামেরিটান আইন যা নিশ্চিত করে যে পথচারীদের পুলিশ হয়রানি করবে না বা দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের সাহায্য করলে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে বলা হবে না। দুর্ভাগ্যবশত, এখনো এটির কোনো ফলাফল নেই। সহায়তা প্রদানকারীদের জন্য নতুন সুরক্ষা প্রবর্তনের দুই বছর পর, একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, এই ধরনের প্রায় ৬০ শতাংশ লোক এখনো পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হয়।

রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যসেবা এবং চালকদের শিক্ষার উন্নতি করতে এক প্রজন্ম লাগবে বলা চলে। কিন্তু এমন অনেক দ্রুত সমাধান রয়েছে যা অবিলম্বে মৃত্যু কমানো শুরু করতে পারে।

এক দশক আগে তামিলনাড়ু, ভারতের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি প্রদেশ সড়ক দুর্ঘটনার একটি ডাটাবেস তৈরি করেছিল। রাজ্য সরকার কর্তৃপক্ষকে সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানগুলোর কাছাকাছি জরুরি সেবা কেন্দ্র স্থাপন করার অনুমতি দেয়। এই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য তারা। কেননা মহামারি শুরু হওয়ার আগে পাঁচ বছরে প্রদেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বার্ষিক মৃত্যুর এক চতুর্থাংশ কমেছে।

সুশীল-সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগও কাজে লাগে। চাচাতো ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর পীযূষ তেওয়ারি নামে এক ব্যক্তি সেভলাইফ ফাউন্ডেশন শুরু করেছিলেন। সংগঠনটি দিল্লির রাস্তার সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ চিহ্নিত করে এবং কেনো দুর্ঘটনা ঘটছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফাউন্ডেশন দ্বারা নিযুক্ত তদন্তকারীরা ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পেতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করে।

চালকদের শিক্ষা, অবকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিচর্যায় উন্নতির জন্য সময় লাগতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করলে অনেক জীবন বাঁচতে পারে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট


আরও খবর



ডিআইজি মিজানকে জামিন না দিয়ে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

প্রকাশিত:Monday ২৫ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৫ August ২০২২ | ১২জন দেখেছেন
Image

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের বিতর্কিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৫ জুলাই) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান। তিনি জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


আরও খবর