Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

রোনালদো চলে গেলে নেইমার!

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৫৯জন দেখেছেন
Image

পিএসজিকে কাঙ্খিত সাফল্য এনে দিতে পারেননি। এ কারণে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারকে বিক্রি করে দেয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কর্মকাণ্ডে বেশ ক্ষুব্ধ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এরই মধ্যে খবর বেরিয়েছে, তিনি নিজে ছেড়ে যেতে পারেন ম্যানইউকে।

খবর চাউর হয়ে গেছে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যদি ম্যানইউ ছেড়েই যান, তাহলে তার ঘাটতি পূরণ করার জন্য পিএসজির নেইমারকে দলে নেয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি।

গত মৌসুমে জুভেন্টাস থেকে এক নাটকীয়ভাবে ম্যানইউতে ফিরে আসেন রোনালদো। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভাল পারফর্ম করলেও, দলগতভাবে ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স ছিল খুবই বাজে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৬ষ্ঠ হওয়ার ফলে একে তো আগামী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে পারবে না দল, তারওপর এখনও পর্যন্ত আগামী মৌসুমের জন্য কোনও তারকাকে দলে না নেয়ার কারণে বিরক্ত রোনালদো। ম্যানইউ বিক্রি করতে না চাইলেও তার দলবদল নিয়ে এখন বাজার সরগরম।

রোনালদোর পরবর্তী ক্লাব হিসাবে খুব বেশি শোনা যাচ্ছে চেলসির নাম। রোনালদোর এজেন্ট হোর্হে মেন্ডেজ এরই মধ্যে চেলসির নতুন মালিক টড বোয়েহলির সঙ্গে এ বিষয়টা নিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে রোমেলু লুকাকুকে অন্য ক্লাবে লোনে পাঠানোর পর চেলসিরও একজন স্ট্রাইকার খুব প্রয়োজন। সে জায়গায় রোনালদোর চেয়ে এই বয়সেও ভাল গোলদাতা পাওয়াটা বেশ কষ্টকর হবে। এ কারণে চেলসি রোনালদোর বিষয়ে খুব আগ্রহী বলে জানা গেছে।

সিআর সেভেন যদি সত্যি সত্যিই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়েন, তাহলে রেড ডেভিলসরা নেইমারের দিকেই ঝাঁপাতে পারে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপিয়ান মিডিয়াগুলোয়। রোনালদোই হচ্ছেন গত মৌসুমে ম্যানইউর নিয়মিত গোলদাতা। তিনি ক্লাব ছাড়লে তো এই জায়গায় বড় একটি ঘাটতি তৈরি হয়ে যাবে।

আরএমসি স্পোর্টসের সূত্রে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত দ্য মেট্রো.কম.ইউকে সংবাদ প্রকাশ করেছে, রোনালদোর পরিবর্তে নেইমারকেই দলভুক্ত করে নিতে পারে রেড ডেভিলরা। এমনকি আরএমসি দাবি করছে, নেইমারও এখন নিজে থেকে চাচ্ছেন পিএসজি থেকে বের হয়ে যেতে।

পিএসজির নতুন ফুটবল উপদেষ্টা লুইস ক্যাম্পোস ৩০ বছর বয়সী নেইমারের সঙ্গে একটি দফারফা করার জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এরই মধ্যে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে নেইমারকে পারিশ্রমিক দিতে হয় তাদের ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড। যা ফুটবল বিশ্বে উচ্চতর পারিশ্রমিকের একটি। পিএসজি চায়, এই বিশাল অংকের খরচ থেকে বাঁচতে। সে কারণে নেইমারকে ছেড়ে দেয়ার জন্য এতবড় চিন্তা।

তবে নেইমারকে শুধু ম্যানইউ নয়, চেলসিও চায় দলে ভেড়াতে। তারা এরই মধ্যে সম্ভাব্য ক্রয়ের তালিকায় নেইমারকে ধরেই সামনে এগুচ্ছে। এছাড়া নিউক্যাসল ইউনাইটেডও চায় নেইমারকে কিনতে। কিন্তু নেইমার নিজেই এই ক্লাবে যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।


আরও খবর



পুষ্টির সব সূচকে পিছিয়ে পাহাড়িরা

প্রকাশিত:Thursday ০৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনগোষ্ঠীর পুষ্টির প্রতিশ্রুতি উন্নয়ন শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকালে শহরের পর্যটন কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে দুপুর পর্যন্ত চলে এ বৈঠক।

পুষ্টি বিষয়ক এ বৈঠকের আয়োজন করে লিন, ফাউন্ডার বাই দ্য ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ।

বৈঠকে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. কাঞ্চন চাকমা, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা, চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, জাতীয় পুষ্টি পরিষদের উপ-পরিচালক ডা. নুসরাত জাহান প্রমুখ।

jagonews24

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে সচেতনতার পাশাপাশি তাদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য জোগাড় ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তারা বলেন, পাহাড়ে পুষ্টির সব উপাদান থাকার পরও শুধু খাদ্যাভ্যাসের কারণে এ অঞ্চলের মানুষ পুষ্টি সূচকে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারলেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতার দূর করা সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করছে লিডারশিপ টু এনসিওর এডিকুয়েট নিউট্রিশন (লিন)। মূলত প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর শিশু, কিশোর, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মাদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে ২০১৮ সাল থেকে এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৮ উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়নে তাদের কার্যক্রম চলছে।


আরও খবর



দেশেই তৈরি হলো করোনার কিট, খরচ ২৫০ টাকা

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

সাশ্রয়ী মূল্যে করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট তৈরি করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। এই প্রথম দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান করোনা শনাক্তে আরটিপিসিআর কিট তৈরি করলো।

রোববার (৭ আগস্ট) রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবে প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

উদ্ভাবিত নতুন এই কিটের মাধ্যমে নামমাত্র খরচে করোনা শনাক্ত করা যাবে। বাজারে এলে একটি কিটের দাম পড়বে ২৫০ টাকা। দেশীয় এই কিট দিয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় করোনার প্রাথমিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


আরও খবর



মালয়েশিয়ার ৩ শিল্পখাতে বিদেশিকর্মী নিয়োগের অনুমতি

প্রকাশিত:Monday ১৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ৩১ July ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

মালয়েশিয়ার তিনটি শিল্পখাতে বিদেশিকর্মী নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে সরকার। দেশটির মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫টি উৎস দেশ থেকে বিদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ার উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা শিল্পে কাজ করার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।

বিদেশিকর্মী নিয়োগ ও ইন্দোনেশিয়া সরকার ঘোষিত শ্রমিক নিয়োগের ওপর সাম্প্রতিক স্থগিতাদেশ নিয়ে সোমবার (১৮ জুলাই) দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কনস্ট্রাকশন লেবার এক্সচেঞ্জ সেন্টার বিএইচডি, নির্মাণখাতে বিদেশি শ্রমিকদের প্রবেশের ব্যবস্থা করবে এমন প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১৫টি দেশ হলো থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান।

malaysia3

এছাড়া ‘শিল্পের চাহিদা মেটাতে, বৈঠকে স্ক্র্যাপ মেটাল ও লন্ড্রি সাবসেক্টরে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছে।

সোমবার (১৮ জুলাই) বৈঠকের পর বুকিত আমান ফেডারেল পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামজাহ জয়নুদিন বলেন, এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়দের চাকরির সুযোগকে প্রভাবিত করবে না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালিত সীমাবদ্ধ ও নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে অবকাঠামো এবং নির্মাণ কাজে নিযুক্ত স্বল্পমেয়াদি পারমিটসহ বিদেশি কর্মীদের জড়িত আবেদনগুলো বিবেচনায় নিতে সম্মত হয়েছে।

malaysia3

বৈঠকের পর বুকিত আমান ফেডারেল পুলিশ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামজাহ জয়নুদিন ও মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান

গুদামজাতকরণ ও পাখির বাসা কাটার উপখাতে স্বল্প-দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে যা পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং কৃষি ও খাদ্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হবে।

ইন্দোনেশিয়ান কর্মীদের নিয়োগের ওপর অস্থায়ী স্থবিরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের হামজাহ বলেন, উভয় মন্ত্রণালয় শিগগিরই ইন্দোনেশিয়া সরকারের সঙ্গে একটি বৈঠক করবে।

এর আগে ১৩ জুলাই, ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশকারী সমস্ত ইন্দোনেশিয়ান শ্রমিকদের ওপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ আরোপ করে।


আরও খবর



মন্দিরে যাওয়ার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৫ August ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

পাশ্চিমবঙ্গে জল্পেশের মন্দিরে শিবের মাথায় পানি ঢালতে যাওয়ার পথে গাড়িতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১০ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া আহত ১৬ জনকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। গাড়িতে থাকা জেনারেটর থেকে শর্ট সার্কিটের ফলে এই দুর্ঘটনা বলে প্রাথমিক অনুমান।

কোচবিহারের শীতলকুচি থেকে ২৭ জনের একটি পুণ্যার্থীদল একটি পিক-আপ ভ্যানে করে জলপাইগুড়ির জল্পেশের শিব মন্দিরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে ডিজেও চলছিল। পুণ্যর্থীদের গাড়িটি চ্যাংড়া বান্ধার ধরলা নদীর সেতু পার করার পর ওই ঘটনাটি ঘটে।

প্রথমে পুণ্যার্থীদের বেশ কয়েকজনকে অচেতন হয়ে পড়তে দেখে চালক পিক-আপ ভ্যানটি চ্যাংড়া বান্ধা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই ১০ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত পুণ্যার্থীদের দাবি, গাড়ির জেনারেটর থেকে শর্ট সার্কিট হয়েই এই ঘটনা ঘটেছে।

মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অমিত বর্মা জানান, গাড়িতে থাকা জেনারেটরটি দিয়ে ডিজে বাজানো হচ্ছিল। সেই জেনারেটরটি কোনও ভাবে শর্ট সার্কিট হয়ে গিয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ওই ঘটনার পর সকলকে চ্যাংড়া বান্ধা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে ১০ জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত ১৬ জনকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। গাড়িটিকে আটক করা হয়েছে। চালক পলাতক। দুর্ঘটনাগ্রস্ত সকলেই শীতলকুচির বাসিন্দা। সকলের পরিবারকেই খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।


আরও খবর



সজীব ওয়াজেদ জয়: ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ০৪ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

২৫ জুন (২০২২) উদ্বোধনের প্রাক-মুহূর্তে গৌরবের পদ্মা সেতু নিয়ে ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, ‘পদ্মা সেতু শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি এখন বাঙালি জাতি তথা বাংলাদেশের গর্ব, আত্মমর্যাদা ও অহংকারের প্রতীক। এই সেতু নির্মাণের কৃতিত্ব প্রতিটি বাঙালির, আপনার-আমার-আমাদের সবার। এই সেতু নির্মাণের ফলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নদীবেষ্টিত ভূখণ্ড সরাসরি রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।

পদ্মা সেতু যেমন দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক সুবাতাস বয়ে আনবে, তেমনি কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় আয় বৃদ্ধিও নিশ্চিত করবে। ফলে লাভবান হবে পুরো দেশের মানুষ। প্রসার হবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণে এই সেতুর প্রভাব অনেক।...বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে নান্দনিক একটি সেতু- পদ্মা সেতু। বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও জটিল রকমের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আপনার-আমার-আমাদের নিজেদের অর্থেই নির্মিত হয়েছে এই সেতুটি।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার কোনো উন্নয়নশীল দেশের মানুষ যে নিজেদের উদ্যোগে এরকম দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে, তা এক সময় ভাবতেও পারতো না বিশ্ব। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় এবং বাঙালি জাতির অদম্য প্রচেষ্টায় তা আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। এখন বাংলাদেশকে স্যালুট দিচ্ছে সবাই। ২৫ জুন উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা পদ্মা সেতু এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’

উদ্বোধনের পর মা’র সঙ্গে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গেছেন। মূলত পদ্মা সেতু চালুর দশদিনের মাথায় ৩ জুলাই (২০২২) ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে গোপালগঞ্জে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়কপথের ওই যাত্রায় সেতুতে গাড়িবহরের টোল দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। পরে মাঝ সেতুতে দাঁড়িয়ে দেখেন সৌন্দর্য। দেশের যে কোনো ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয় সামনে এসেছেন, দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেছেন- পদ্মা সেতু নিয়ে তার অনুভূতি প্রকাশের ভাষাও তেমনি অনন্য।

২৭ জুলাই আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন। তিনি বাংলাদেশের সমান বয়সী। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন।

এদেশের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে টেন্ডার কিংবা ব্যাংকের লেনদেনের যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে সেই ডিজিটালাইজেশনের নেপথ্যে তার অবদান রয়েছে। এজন্য কোভিড-১৯ এর প্রভাবে মহামারি ও লকডাউনে যখন বিশ্বজুড়ে অনলাইন যোগাযোগ একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছিল তখন এদেশের কৃতী সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়কে বেশি করে মনে পড়ে।

ব্যাধির সংক্রমণ রোধে গৃহবন্দি থেকে অনলাইনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বেতন ও সহায়তা পাওয়ার দৃষ্টান্ত আমরা তখন ভালোভাবে আত্মস্থ করে নিয়েছিলাম। কৃষিভিত্তিক সমাজ ক্রমান্বয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে পরিণত হয়েছে। কেবল সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকনির্দেশনায় কাজ করে প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে এদেশে। ফলে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। এজন্যই তাকে আমরা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

জয় ভারত থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারে বিএসসি ডিগ্রি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে তিনি ২৫০ জন তরুণ বিশ্ব নেতার মধ্যে একজন হিসেবে সম্মানিত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তিনি অনেক আগে থেকেই রাজনীতিসচেতন। ২০০৮ সালের জুন মাসে শেখ হাসিনাকে সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারাগার থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়ে থাকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ হাসিনা আর তার সফল রূপকার হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

জয়ের ভেতর রয়েছে বঙ্গবন্ধুর মতো প্রচণ্ডতা। রয়েছে পরিশ্রমী ও তারুণ্যের প্রাণময়তা। এজন্য আমেরিকা থেকে তার ফিরে আসা, রাজনীতিতে যোগ দেওয়া আমাদের জন্য শুভ সূচনা ছিল। দেশের মধ্যে যারা একসময় দুর্নীতি ও নাশকতার পৃষ্ঠপোষকতা করেছে তাদের মসনদ কেঁপে উঠেছিল তার দেশকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে। তিনি মূলত বঙ্গবন্ধুর মতোই মানুষকে আশাবাদী করে জাগিয়ে তোলার জন্য কথা বলেন ও কাজ করেন।

একসময় তার মতো বয়সে বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে জাগিয়েছিলেন; জয়ও তেমনি সরকারের সঙ্গে থেকে দেশের সামগ্রিক সমস্যার সমাধান করে আওয়ামী লীগকেও গড়ে তুলতে চান। ভাষণ দেওয়ার সময় তার ভেতর থেকে বঙ্গবন্ধুর মতোই সম্মোহনী চেতনা স্ফুরিত হয়। তিনি ২০০৯ সাল থেকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা দিয়ে এদেশের আইসিটি সেক্টরকে উন্নতির শিখরে নিয়ে গেছেন।

তরুণদের উজ্জীবিত করছেন মৌলিক গবেষণায়। বিএনপি-জামায়াতের গাত্রদাহের কারণ এজন্য যে জয় উচ্চশিক্ষিত এবং যে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তার পুরোভাগে তিনি আছেন। শেখ হাসিনা যেমন নির্লোভ, মানুষকে ভালোবাসেন নিজের অন্তর থেকে, জয়ও তেমনিভাবে এগিয়ে চলেছেন। বিরুদ্ধ মানুষের মন জয় করতে হয়েছে তাকে। এজন্য তার সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতারা কাজ করেছেন। সাধারণ মানুষকে শেখ হাসিনা সরকারের কর্মসূচি, সাফল্য বর্ণনা করতে হয়েছে ডিজিটালকরণের জন্য। অনেকে ভাবতে পারেন তিনি আমেরিকান সিটিজেন। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, শেখ হাসিনাও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন। যেহেতু জয়ের মা নিজে এই মাটি, মানুষের নিকটজন সেহেতু তিনিও তারই ধারাবাহিকতায় মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় ভিশনারি লিডার। তিনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে ২০০৯ সালে দেখতে পেয়েছিলেন বলেই আজ দেশে ১০ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। শিক্ষাখাতে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ বেড়েছে। বিশেষত করোনা মহামারিতে সব প্রতিষ্ঠান এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। পাঠ্যসূচিতে যেমন শিশুরা আইসিটি অধ্যয়ন করছে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয়েছে বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার।

এমনকি দেশের বিপিও খাতে বর্তমানে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করা হচ্ছে; ৫০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সাড়ে ছয় লাখ মানুষ এই মুহূর্তে আইসিটি সেক্টরে চাকরি করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষের কাজ করার সুযোগ হবে এই খাতে। এসবই সম্ভব হয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী। গত ১৩ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেমন এগিয়ে গেছে তেমনি তার পুত্রের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে এদেশ প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠেছে।

অতীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জয় বলেছেন, ভবিষ্যতের নেতা এদেশের তরুণরাই। উল্লেখ্য, ঢাকার সাভারে শেখ হাসিনা যুব কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নে ভূমিকা রাখা তারুণ্যনির্ভর ৩০টি সংগঠনের হাতে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়ার সময় তাদের এই অভিধা দেন তিনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে নিজেদের উদ্যোগে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসা তরুণ-তরুণীদের বাংলাদেশের আগামী দিনের নেতা অভিহিত করার কারণ তার জনসম্পৃক্ততা। নিজে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। আর সেই কাজে তরুণ প্রজন্ম তার অনিবার্য লক্ষ্য।

এর আগে তিনি দেশের ভেতর ও বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা, তরুণ জনগোষ্ঠীর ইতিবাচক অর্জনের গল্প শুনিয়েছেন বিশ্বের মানুষকে। তার মতে, ‘আমাদের দেশের তরুণরা এখন দেশের জন্য কাজ করতে যেভাবে এগিয়ে এসেছে, আগে সেটা দেখা যেত না। দেশের সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারব কি না, দেশকে এগিয়ে নিতে পারব কি না, সেই বিশ্বাস আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম। কারণ স্বাধীনতার চেতনা আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম।’ কিন্তু “এখন আমাদের শাইনিং স্টার বলা হচ্ছে। ‘নেক্সট ইলেভেন’-অর্থনীতির দেশের একটি আমরা।” সজীব ওয়াজেদ জয় সেদিন যে কথা বলেছেন, তা একজন তরুণ নেতার আদর্শ ও বিশ্বাসের কথা। তিনি নিজে নতুন প্রজন্মের নেতা, তাই যুবসমাজের কাছে আলোকবর্তিকা হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছেন।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত অন্য এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, ‘সৎ সাহস ও নিজের আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনো কঠিন কাজ করা যায়। আমরা কারও চেয়ে কম নই। বিদেশের সঙ্গে আমরা সমানে সমান। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে বিদেশি সাটিফিকেট প্রয়োজন নেই।’

অর্থাৎ এই তরুণ নেতৃত্বের কাছে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরির ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে সততা এবং আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। সৎ না থাকলে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। আর মানুষের ভালোবাসা ছাড়া ক্ষমতায় আসা যায় না। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের দেশকে টেনে উঠাতে দেশপ্রেম দেখাতে হবে। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে টেনে তোলার মধ্যেই দেশপ্রেম নিহিত রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক ধারা বহমান তা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তারই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয় এই তৃতীয় প্রজন্মের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আমাদের সব আকর্ষণ এখন কেন্দ্রীভূত। বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর বাংলাদেশে নেতৃত্বের বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল।

উপমহাদেশের রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্য একটি ব্যাপক বিস্তারি প্রসঙ্গ। ভারতের দিকে তাকালে বর্তমান রাজনীতির পারিবারিক ধারা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়। জওহরলাল নেহেরু গান্ধীর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী তার পিতার যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সময় মোরালি দেশাইয়ের মতো অনেক যোগ্য নেতা থাকলেও ইন্দিরা গান্ধীই হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

জুলফিকার আলী ভুট্টো, তার কন্যা বেনজীর ভুট্টো, বেনজীরের স্বামী ও ছেলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা যেমন সত্য তেমনি শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় লক্ষণীয়। ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকেই রাজনৈতিক মঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন। পঁচাত্তর-পরবর্তী তোফায়েল আহমেদ, প্রয়াত আবদুল জলিল, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ বড় বড় নেতা দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনাকেই জনগণের সামনে দাঁড় করান।

খালেদা জিয়া যেভাবে তারেক রহমানকে রাজনীতিতে এনে দলের পদে সমাসীন করেছিলেন জয়ের জীবনে তেমনটি ঘটেনি। বরং জয় রাজনীতিতে নামতে পারেন ধরে নিয়ে ২০০৪ সালে ‘হাওয়া ভবনে’র মালিক তারেক রহমানকে বিএনপি লুফে নিয়েছিল। জয় বাংলাদেশের মৃত্তিকার সন্তান। তার রাজনীতিতে আসাটা আকস্মিক হলেও দলকে সংগঠিত করা, দলের কোন্দল মেটানো, দলকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ রাখা প্রধান কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে প্রতিটি নির্বাচনের আগে। মহাজোট সরকারের সময় পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে পরাজয়ের পর আওয়ামী লীগের সামনে নতুন নেতৃত্বের দরকার ছিল। তাই তার মতো কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে সামনে আনা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক বলে গণ্য হয়েছিল। ২০১০ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নিয়মিত সদস্যপদ গ্রহণ করেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সজীব ওয়াজেদ জয় সবসময়ই বলেছেন, উন্নয়নের অসমাপ্ত বিপ্লব শেষ করতে হলে আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিতে হবে। তার মতে, নতুন ও আধুনিক একটি বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশের জন্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। মহামারি মোকাবিলায় প্রযুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করে রেখেছে। এজন্য বিরোধী দলের অপপ্রচার মোকাবিলা ও সরকারের সফলতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে ভিন্ন রকম কৌশল নিতে হবে। কারণ জয়ের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের উন্নয়নে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি আমাদের তরুণদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় উজ্জীবিত করেছে। একাধিক বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি নানা প্রসঙ্গে গঠনমূলক রাজনৈতিক কথা বলেছেন। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘লেটস টক’ শিরোনামে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ক্ষমতাসীন সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অনেকটা এগিয়েছে। তিনি কেবল প্রযুক্তি নিয়ে ভাবেন না, তিনি মানুষকে মূল্য দেন। মানুষের দুঃখে সমব্যথী হন।

আসলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পিতা-মাতা বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ ও শেখ হাসিনার মতো আন্তরিক হৃদ্যতায় সাধারণ মানুষকে কাছে টানার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। তিনি দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অনেক ভাবেই- যুবলীগ, ছাত্রলীগ কিংবা বিশেষ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত বক্তৃতা দিয়ে।

দেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূর করার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা যেমন সক্রিয় উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তেমনি জয়ের পরামর্শে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে ৯৪টি যন্ত্রাংশের ওপর থেকে উচ্চ আমদানি শুল্ক উঠিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। জয় জানেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে সব দুর্যোগ মোকাবিলা করে।

জয়ের মতো নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব আমাদের রাজনীতিতে যেমন ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা ঘটিয়েছে তেমনি উন্নয়নে সার্বিক অগ্রগতি সম্পন্ন করেছে। রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের পদচারণা আমাদের এগিয়ে চলার পথে বাড়তি প্রাপ্তি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রতি বছর ভোটার তালিকায় তরুণ ভোটার আসে প্রায় ২৩ লাখ। ৯ কোটি ২১ লাখ ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ভোটারের বয়স ৪০ বছরের নিচে। মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ নতুন প্রজন্মের। তাদের জন্য নতুন প্রজন্মের নেতা অনিবার্য। সজীব ওয়াজেদ জয় এসব নতুন ভোটারের প্রত্যাশার ভাষাকে ঠিকই বুঝতে পারেন। ভবিষ্যতে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার কৌশলও তিনি জানেন। কারণ আওয়ামী লীগ এদেশের যে উন্নয়ন করেছে বিগত জামায়াত-বিএনপি চারদলীয় জোট সরকার তা করেনি। অথচ বিএনপির মিথ্যা প্রচার প্রচারণা এখনও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে জয় রাজনীতিতে সক্রিয় অন্তরালে থেকেই। নিজের প্রচারে বিশ্বাসী নন তিনি। তিনি রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ দিয়েছেন কিন্তু প্রকাশ্যে বিচরণ তার কম। বঙ্গবন্ধুর নাতি এবং শেখ হাসিনা ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার পুত্র হিসেবে পারিবারিক সূত্র গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তিনি যে মানুষের জন্য আত্মত্যাগ করতে এসেছেন তা বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে এদেশের মানুষের। প্রকৃত দেশপ্রেমিকের পক্ষে দেশ ও জাতির কল্যাণ করাই স্বাভাবিক।

আওয়ামী লীগের যে গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে তা অন্য কোনো দলের নেই। সজীব ওয়াজেদ জয় সেই গৌরবকে কাজে লাগিয়ে ২০০৯ সাল থেকে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যবিত্তের সন্তান বঙ্গবন্ধু মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। পাকিস্তানি শাসকদের ফাঁসির ভয়কে উপেক্ষা করেছেন। জেল খেটেছেন মাসের পর মাস।

সেই ত্যাগী নেতার নাতি হিসেবে জয়কে মনে রেখেছেন- এসব মূঢ়, মূক মানুষের মুখে দিতে হবে ভাষা। তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে বঙ্গবন্ধুর পরিচয় নিয়েই। জাতির পিতা নিজের সন্তানকে (শেখ মনি, শেখ কামাল) রাজনীতিতে এনেছিলেন। আর তা ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। পারিবারিক পর্যায়ে তিনি যা করেছিলেন তা ছিল দেশের স্বার্থে, মানুষের মঙ্গল চিন্তা করে। অনেকেই তার বাকশাল প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধাচারণ করেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য মমত্ববোধকে ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না।

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের কাজে এগিয়ে এসেছেন মানুষের আকর্ষণে। মাতার সান্নিধ্য তাকে রাজনীতির শিক্ষায় শিক্ষিত করেছে। তার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে আওয়ামী সমর্থক সবাই খুশি হবেন। কারণ তিনি মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পারেন। আওয়ামী লীগকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নেতৃত্ব ও উন্নয়নকে একইসঙ্গে আলিঙ্গন করতে হবে। জয় হঠাৎ আবির্ভূত নেতা নন। তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার আছে দৃঢ়চেতা অভিভাবক। যিনি সব বিষয়ে সুপরামর্শ দিতে পারঙ্গম। কখনও পথ চলতে ছিটকে পড়লে শেখ হাসিনা পরামর্শ দিয়ে ঠিক পথে আনতে পারবেন তাকে। কারণ জয় একান্তই মাতৃ অনুগত।

সবাই জানেন, জয় আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ সদস্য। এর বাইরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। এই অর্থে তিনি দলের নীতিনির্ধারক না হলেও বিভিন্নভাবে দল ও দলের নেতৃত্বকে অনেকরকম সহযোগিতা দিচ্ছেন। এখন এগিয়ে যাচ্ছেন বিচক্ষণতার সঙ্গে। স্বাধীনতার চেতনায় মথিত সজীব ওয়াজেদ জয়ের জীবন। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জনের পরও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হওয়ার জন্য জাতির পিতাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত দিকে হাঁটা দায়ী।

তার বক্তব্য হলো- ‘আমরা লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। চার বছরেই নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছিলাম। সেই সময়ে আসে ’৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট। এরপর স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি ক্ষমতায় আসে।’ সজীব ওয়াজেদ জয় তরুণদের মূল্যবান কথা বলেছেন, ‘স্বাধীনতার চেতনা কোনো দিন ভুলবেন না। ভুলতে দেবেন না। আর কাউকে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেবেন না। এমন মিথ্যা প্রচারের সুযোগ দেবেন না, যাতে জাতি শহীদদের ভুলে যায়।’ তার মতে, ‘যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা বাংলাদেশের ওপর কী বিশ্বাস রাখবে?’

শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনায় সজীব ওয়াজেদ জয় যেমন তৎপর তেমনি নিজের নতুন নতুন ভাবনা-চিন্তা নিয়ে জনসমক্ষে হাজির হবেন আগামীতে- এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগের নতুন কাণ্ডারী সজীব ওয়াজেদ জয়কে জন্মদিনে অভিবাদন। মূলত বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে- একথা সজীব ওয়াজেদ জয় বারবার বলে এসেছেন। এজন্য দরকার যুবসমাজের পরিশ্রম। তরুণ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে হবে আমাদের। শেখ হাসিনা সরকার এক নাগাড়ে ক্ষমতায় থাকায় উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ উন্নীত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনীতি অভূতপূর্বভাবে এগিয়েছে। বিশ্বে আমাদের অর্থনীতি এখন ভালো অবস্থানে। কারণ তরুণরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করছে আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সর্ব প্রকার ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার দূর করার জন্য সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কারণ দেশপ্রেমিক জয়ের রয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।

লেখক: বঙ্গবন্ধু গবেষক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]


আরও খবর