Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

কারাগার থেকে হাসপাতালে হাজী সেলিম

প্রকাশিত:Monday ২৩ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১২১জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় দণ্ডিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ৫১১ নম্বর কেবিনে কারারক্ষীদের প্রহরায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।সোমবার (২৩ মে) সকাল ৯টার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স যোগে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয় আলোচিত এই সংসদ সদস্যকে।


বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে হাজী সেলিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, কার্ডিয়াক বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারিসুল হকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। আমরা তার শারীরিক কন্ডিশন দেখে পরে বিস্তারিত জানাবো।এর আগে রোববার (২২ মে) দুর্নীতির মামলায় ১০ বছর দণ্ডিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে যে কোনো শর্তে জামিনের আবেদন করেন।


দুপুর ২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলামের আদালতে এ আবেদন করে তিনি। এছাড়া কারাগারে উন্নত চিকিৎসা ও প্রথম শ্রেণির ডিভিশন চেয়ে আরও দুটি আবেদন করা হয়।


এরপর সাজা ভোগের জন্য তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। রোববার বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে আদালত থেকে পিকআপ ভ্যানে তাকে নিয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে কারাগারে পৌঁছান তিনি।


আরও খবর



ফ্রিজ কেনার আগে যে ৮ বিষয় জানা জরুরি

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

কোরবানি ঈদের আগে ফ্রিজ কেনার ধুম পড়ে যায়। ঈদ উপলক্ষ্যে এ সময় বিভিন্ন ছাড় ও মূল্যহ্রাস দেওয়া হয়। কম দামে ভালো মানের ফ্রিজ কিনতে চান সবাই।

তবে ফ্রিজের বিষয়ে বিশেষ কিছু তথ্য না জেনেই অনেক ঝোঁকের বশে মূলবান এই পণ্য কিনে ফেলেন ও পরে আফসোস করেন।

তাই সাধ্যের মধ্যে ভালো ফ্রিজ কেনার জন্য কিছু বিষয় জানা জরুরি। ফ্রিজের গুণগত মান এর বিভিন্ন প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।

এসব বিষয়ে জ্ঞান থাকলে আপনি সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের ফ্রিজ কিনতে পারবেন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ফ্রিজ কেনার আগে কী কী জানা জরুরি-

>> প্রথমেই জানতে হবে, যে ফ্রিজটি কিনতে চাচ্ছেন সেটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কি না। এ ধরনের ফ্রিজ ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কম আসে।

আবার এমন ফ্রিজ পরিবেশবান্ধবও বটে। ফ্রিজের গায়ে কোথা স্টার মার্ক দেওয়া আছে কি না তা লক্ষ্য করুন। এই চিহ্ন থাকলেই বুঝতে হবে সেটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

>> ফ্রিজটির কনডেন্সার কিসের তৈরি তা অবশ্যই জেনে নেবেন। কপার কনডেন্সারযুক্ত ফ্রিজ পেলে সেটি কিনুন। এ ধরনের ফ্রিজের কম্প্রেসারের সঙ্গে তামার তৈরি কুলিং সিস্টেম পাইপ থাকে।

যেগুলো ফ্রিজের পেছনে ও বডির ভেতরে থাকে। কপার কনডেন্সরযুক্ত ফ্রিজ বেশি টেকশই ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়। ফলে ফ্রিজের গ্যাস লিকেজ হয় না, মরিচা পড়ে না, ক্যাপেলরি জ্যাম হয় না। আবার তাড়াতাড়ি ঠান্ডাও হয়।

>> ফ্রিজের কম্প্রোসারই হলো প্রধান ইঞ্জিন। এর উপরই নির্ভর করে সেটি কতদিন টিকবে। মনে রাখবেন, ফ্রিজের কম্প্রোসার খারাপ হলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে। তাই কেনার আগে ফ্রিজের কমপ্রেসার কতটা উন্নত তা যাচাই করে নিন।

>> ফ্রিজ বড় হলেই যে ভালো, তা কিন্তু নয়। আপনার ঠিক কোন মাপের ফ্রিজ প্রয়োজন সে অনুযায়ী কিনুন। বড় আকারের ফ্রিজ কিনলে তা মোটেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয় না।

>> বর্তমানে বাজারে স্মার্ট ফ্রিজের চাহিদা বেশি। এতে বিভিন্ন ইনভার্টার প্রযুক্তি থাকে। এতে পাঁচটি মোড কাজ করে। একটিতে ওপরে ডিপ আর নিচে সাধারণ ফ্রিজ থাকে। নতুন এই প্রযুক্তির যন্ত্রে ডিপ ফ্রিজকে রূপান্তর করে পুরোটাই সাধারণ ফ্রিজ করে ফেলা যায়।

ফ্রিজ কেনার আগে যে ৮ বিষয় জানা জরুরি

স্মার্ট ফ্রিজ ব্যবহারের অনেক সুবিধা আছে। যেমন- কেউ ঘরের বাইরে গেলে দীর্ঘ সময়ের জন্য এনার্জি সেভিং মোড চালু করে রাখতে পারেন।

>> ফ্রিজ কেনার আগে সেটি ফ্রস্ট নাকি নন ফ্রস্ট তা জেনে বুঝে তবেই কিনুন। যেসব ফ্রিজের ভেতরে রাখা সংরক্ষিত খাবারে বরফ জমে যায় তাকে ফ্রস্ট ফ্রিজ বলে। অন্যদিকে যে ফ্রিজের ভিতরে ও সংরক্ষিত খাবারে বরফ জমে না তাকে নন ফ্রস্ট ফ্রিজ বলে।

নন ফ্রস্ট ফ্রিজে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয় ও কারেন্ট চলে গেলে খাবার ২-৩ ঘণ্টার বেশি থাকে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকলেও খাবার কয়েক ঘণ্টা ভালো রাখে ফ্রস্ট ফ্রিজ। এই ধরনের ফ্রিজগুলো অনেকটাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

>> ন্যানা হেলথক্যোর টেকনোলজির ফ্রিজ কিনবেন অবশ্যই। এ ধরনের ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ করলে তা স্বাস্থ্যসম্মত ধাকে। এই তথ্য ফ্রিজের গায়ে যুক্ত স্টিকার লেখা দেখে কিনতে পারবেন।

>> রেফ্রিজারেটর কেনার আগে বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কেও জেনে নিন। ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টির বিষয়টা বুঝে নিন। বর্তমানে অনেকেই কিস্তিতে বা ইনস্টলমেন্টে ফ্রিজ কেনেন। সেক্ষেত্রে সব তথ্য ভালোভাবে জেনে বুঝে তবেই ফ্রিজ কিনুন।


আরও খবর



সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিচ্ছে মেঘনা গ্রুপ

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৬৬জন দেখেছেন
Image

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজে (এমজিআই) ‘সিনিয়র এক্সিকিউটিভ/অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)
বিভাগের নাম: অ্যাডমিনিস্ট্রেশন

পদের নাম: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ/অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক
অভিজ্ঞতা: ০৩ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: নির্ধারিত নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা www.jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৯ জুন ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রযুক্তির সন্নিবেশ অব্যাহত থাকবে’

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

মানসম্মত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রযুক্তির সন্নিবেশ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) ফ্রিকোয়েন্সি ভেরিয়েশন নিয়ন্ত্রণে ফ্রি গভর্নর মুড অব অপারেশন (এফজিএমও) শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে নানারকম জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর জন্য ফ্রিকোয়েন্সি ওঠানামা করতে পারে। মানসম্মত বিদ্যুতের জন্য গ্রিড স্ট্যাবিলিটি ও ফ্রিকোয়েন্সি স্ট্যাবিলিটি রাখা অপরিহার্য।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে এসব কর্মশালা বা সেমিনার করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। আগামী দিনে পারমাণবিক বিদ্যুৎ আসবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উত্তরোত্তর বাড়ছে। গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি ভেরিয়েশন নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও ইরানের আমির কবির প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মেহেদি কারারি।

বিপিএমআইয়ের রেক্টর মো. মহসিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান ও বিপিএমআইয়ের সদস্য মো. গোলাম রাব্বানী বক্তব্য রাখেন। এ সময় পিডিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, পাওয়ার সেলের ডিজি মোহাম্মদ হোসাইনসহ সঞ্চালন, বিতরণ ও উৎপাদন খাতের কোম্পানিগুলোর দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



সেতু নির্মাণে বাড়তি যানবাহনের প্রস্তাব, তেল-গ্যাসেই ব্যয় ১১ কোটি

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৭১জন দেখেছেন
Image

দেশব্যাপী ১৩ হাজার কালভার্ট-সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ১২টিসহ বাড়তি ২৭টি যানবাহনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব যানবাহন সচল রাখতে ১১ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার তেল, গ্যাস ও লুব্রিকেট প্রয়োজন হবে। দুই বছরের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এমন প্রস্তাবনায় ব্যাখ্যা চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এটাসহ গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ২৭টি যানবাহন ও ৪৯২টি মোটরসাইকেল সচল রাখার স্বার্থে জ্বালানি ও সংরক্ষণ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু মূল প্রকল্পে ১৫টি যানবাহন (জিপ ১১টি, পিকআপ দুটি এবং মাইক্রোবাস দুটি) ও ৫০০টি মোটরসাইকেলের জ্বালানি ব্যয়ের সংস্থান রাখা ছিল।

বাড়তি ১২টি যানবাহন ও ৪৯২টি মোটরসাইকেলের প্রাপ্তি, পরিচালনা ব্যয় সুস্পষ্টভাবে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত প্রকল্পে সাব-সয়েল ইনভেস্টিগেশন খাতে ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, এ সম্পর্কে ডিপিপিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ‘১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, নতুন করে প্রকল্পের আওতায় ২৭টি যানবাহন ও ৪৯২টি মোটরসাইকেল সচল রাখতে ১১ কোটি ৯ লাখ টাকার জ্বালানি খরচ চেয়েছি।

আগামী দুই বছরের জন্য এই ব্যয় চাওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই বছর প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছি। যদি আমাদের আবেদন মঞ্জুর হয় তবে দুই বছরের জন্যই এটা হবে।

প্রকল্পের কিছু বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন ব্যাখ্যা চেয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যদি কমিশন ব্যাখ্যা চায় তবে আমরা ব্যাখ্যা দেবো।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে সেতু/কালভার্টের উভয় পাশে অ্যাপ্রোচের মাটি যথাস্থানে ধরে রাখার প্রয়োজনে ১৫ মিটার করে মোট ৩০ মিটার এইচবিবি গাইডওয়াল, রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক-প্লেট নির্মাণে সংস্থান রাখা হয়েছে। কিন্তু কী পরিমাণ এইচবিবি গাইডওয়াল, রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক-প্লেট নির্মাণ করা হবে, ব্যয় কত হবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর এ বিষয়ে সভায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে মূল ব্যয় ছিল ৬ হাজার ৫৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। এখন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬ হাজার ৬১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ৪০ কোটি টাকা। মূল প্রকল্পটি ০১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ৩০ জুন ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা। এখন প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধি করে ৩০ জুন ২০২৪ সাল নাগাদ প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি ৬৪ জেলার ৪৯২টি উপজেলা, সিটি করেোরেশন ও পৌরসভায় বাস্তবায়িত হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নিয়ে সম্প্রতি কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খানের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়। সভায় কমিশন কিছু মতামত তুলে ধরেছে।

এ প্রসঙ্গে শরিফা খান জাগো নিউজকে বলেন, প্রকল্পে বাড়তি গাড়ি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া জ্বলানি খরচ ১১ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের বলেছি এটা যুক্তিসঙ্গত করতে। ১৫ মিটারের জায়গায় ২০ মিটার কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব করেছিল। এটা আমরা না করে দিয়েছি। এছাড়া টাকা সাশ্রয়ের জন্য সেমিনার বাদ দিতে বলা হয়েছে প্রকল্পের আওতায়। বিষয়গুলো যুক্তিসঙ্গত করে নিয়ে এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের মতামত: প্রকল্পের আওতায় নির্মিত প্রতিটি ব্রিজ নির্মাণের স্থান (গ্রাম উল্লেখসহ) ও দৈর্ঘ্য প্রকল্পে সংযুক্ত করা হয়নি। প্রস্তাবিত আরডিপিপিতে প্রকল্প সংশোধনকরণ অংশে সেতু-কালভার্ট নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা, বিভাজন এবং অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্যাবলির মাধ্যমে সেতু-কালভার্ট নির্মাণে প্রকৃত চিত্র সুস্পষ্ট হয়নি। এসবের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। প্রকল্পে প্রস্তাবিত সেতু ও বক্স কালভার্ট-গার্ডার ব্রিজের আইডি নম্বর প্রবর্তন করা প্রয়োজন। এটি না থাকায় প্রস্তাবিত ব্রিজ-কালভার্ট একই ব্রিজ-কালভার্ট কি না বোঝা বা পৃথকীকরণের কোনো সুযোগ নেই। সেতু ও বক্স কালভার্ট-গার্ডার ব্রিজের আইডি নম্বরের ব্যবস্থা করা হয়নি।
তাছাড়া এ মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বে নির্মিত সেতুসমূহের আইডি নম্বরসহ তালিকা ডিপিপিতে সংযোজন বা কমিশনে পাঠানো হয়নি।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অধিক দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ প্রয়োজন হলেও ১৫ মিটার পর্যন্ত বাধ্যবাধকতা থাকায় বাড়তি দৈর্ঘ্যের প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে সংশোধিত ডিপিপিতে ১ থেকে ২ মিটার দৈর্ঘ্য বাড়ানো যেতে পারে।

প্রকল্পটি গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু-কালভার্ট নির্মাণের লক্ষ নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০ মিটার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে হবে। বিদ্যমান ইউনিয়ন ভিত্তিতে বরাদ্দের পরিবর্তে বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক বরাদ্দের সংস্থান রেখে ডিপিপি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কোনো জেলায় সেতু-কালভার্টের চাহিদা কম থাকায় সংখ্যা কমিয়ে কোনো জেলায় বৃদ্ধি করা হবে সে সম্পর্কিত সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য: গ্রামীণ মাটির রাস্তার গ্যাপে সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। দুর্যোগের সময় জনসাধারণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের মাধ্যমে দুর্যোগজনিত ঝুঁকি হ্রাসকরণ এবং কৃষি উপকরণ সহজে পরিবহন ও বিপণন সহজ করা। এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণকালীন সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে গ্রামীণ এলাকার দারিদ্র্য দূরীকরণ।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যাবলি: ১৩ হাজার সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এসব সেতু ও কালভার্টের প্রস্থ (চওড়া) ৪ দশমিক ৩ থেকে সাড়ে ৫ মিটার। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮০০টি বক্স টাইপ ও ৫ হাজার ২০০টি মিটার টাইপ কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি: বর্তমানে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ১ হাজার ৪৭৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী মোট প্রকল্প ব্যয়ের ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ। ৭ হাজার ১২৯টি (৬১ হাজার ৯৮৮ দশমিক ৯৭ মিটার ) সেতু- কালভার্টের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তার মধ্যে বাস্তবায়নাধীন বক্স টাইপ ৬ হাজার ৩৯৬টি (৫১ হাজার ৯৬২ দশমিক ৩৭ মিটার) ও গার্ডার টাইপ ৭৩৩টি (১০ হাজার ২৬ দশমিক ৬ মিটার) সেতু-কালভার্ট। অবশিষ্ট রয়েছে বক্স টাইপ ১ হাজার ৪০৪টি (৪১ হাজার ৬৩৭ দশমিক ৬৩ মিটার) এবং গার্ডার টাইপ ৪ হাজার ৪৬৭টি (৫২ হাজার ৩৭৩ দশমিক ৪ মিটার) সেতু-কালভার্ট ।

নানা কারণে প্রকল্পটি সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ: মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে সেতু/কালভার্টের স্থানীয় চাহিদা, প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতা বিবেচনায় বিশেষ ক্ষেত্রে সেতুর দৈর্ঘ্য ১-২ মিটার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে গার্ডার সেতুর স্প্যান দৈর্ঘ্য অনধিক ২০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি। এলজিইডির নতুন রেট শিডিউল অনুযায়ী প্রাক্কলন সংশোধন। ডিপিপিতে বিদ্যমান জেলা/উপজেলা ইউনিয়ন ভিত্তিতে বরাদ্দের পরিবর্তে বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক বরাদ্দের সংস্থান প্রয়োজন।

সেতু-কালভার্টের অ্যাপ্রোচের মাটি যথাস্থানে ধরে রাখার প্রয়োজনে সেতু-কালভার্টের উভয় পাশে ১৫ মিটার করে মোট ৩০ মিটার এইচ বি বি অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণসহ ক্ষেত্রবিশেষে রিটেইনিং ওয়াল ও গাইড ওয়াল নির্মাণ প্রয়োজন। অনুমোদিত ডিপিপিতে আগের প্রকল্পগুলো থেকে হস্তান্তরকৃত যানবাহনের ২৭টি যানবাহন এবং ৪৯২টি মোটরসাইকেল সচল রাখাসহ প্রকল্পের সুষ্ঠু তদারকির স্বার্থে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের সংস্থান রাখা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে।

এছাড়া অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রত্যাশিত তহবিলপ্রবাহ অপর্যাপ্ত হওয়ায় ক্রয়-পরিকল্পনা অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল বাস্তবতার নিরিখে দুই বছর বৃদ্ধি করে ১ জানুয়ারি ২০১৯ খ্রি . থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

চলতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রকল্পটির অনুকূলে ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

নানা কারণে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দেশটির মধ্যে দিয়ে অসংখ্য নদ-নদী প্রবাহিত হওয়ায় এবং খাল ও নিচু ভূমি থাকায় প্রায়ই এদেশে প্রায় সব জেলায় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দুর্যোগের সব পর্যায়ে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম শর্ত হচ্ছে অবকাঠামোসহ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। দুর্যোগ মোকাবেলা ছাড়াও কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণনের জন্য প্রয়োজন উন্নত গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানায়, ১৯৮২ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। রাস্তার সড়ক নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা দূর করাসহ কৃষি উৎপাদনে কোনো ক্ষতি না করে যোগাযোগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রয়োজন হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক ১৯৮২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দেশের গ্রামীণ এলাকায় ২৮ হাজার ৬৭৪টি সেতু-কালভার্ট নির্মিত হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৩ মিটার।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারাদেশে গ্রামীণ বিভিন্ন এলাকায় সেতু-কালভার্ট নির্মিত হলেও গ্রামীণ রাস্তায় এখনো প্রায় ৮০ হাজারটি গ্যাপ রয়ে গেছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ লাখ ৭৯ হাজার।

এই গ্যাপসমূহে পর্যাপ্ত সেতু-কালভার্ট নির্মিত না হওয়া এবং নদ-নদী, খাল-বিল থাকার কারণে দেশের অনেক ইউনিয়ন এখনো পুরোপুরি উন্নত যোগাযোগের আওতায় আসেনি।

এ প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণসহ গ্রামীণ দুর্যোগের সময় জনসাধারণ এবং গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া, দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি জঘন্য অপরাধ: হাইকোর্ট

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির ঘটনাকে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এদের প্রতি কোনো রকমের দয়া দেখানো হবে না, তাদের সাজা খাটতে হবে। এটি খুব বিপজ্জনক ও গুরুতর অপরাধ।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির ঘটনার মামলায় অফিস সহকারী ফাতেমা খাতুনের জামিন প্রশ্নে জারি করা পৃথক দুটি রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১৩ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ দুদকের পক্ষে আইনজীবী আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মশিউর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক জানান, আদালত বলেছেন- প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি জঘন্য অপরাধ। এদের কোনো দয়া না, তাদের সাজা খাটতে হবে। এটি খুব বিপজ্জনক ও গুরুতর অপরাধ।

জানা যায়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

সেই সংক্ষেপের নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতির পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে গোপনীয় তথ্য ফোনে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপর ২০২০ সালের ১ মার্চ নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ৪ নং গেটের সামনে আসামি ফরহাদের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। এই কাজের জন্য ফাতেমাকে আসামিরা ১০ হাজার করে বিকাশে মোট ২০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

৩ মার্চ আসামিরা নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠায়। তবে একপর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জালিয়াতির ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে গত ৫ মে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিটও দাখিল করে। অভিযোগ দুদকের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীতে কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী ৮ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।


আরও খবর