Logo
আজঃ Monday ২৭ June ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা নাসিরনগরে মুক্তিযোদ্বাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন পদ্মা সেতু দেখানোর কথা বলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ জুরাইনে পাশের বাড়ির উপড় ধসে পড়েছে সেই ঝুকিপুর্ন ভবনটি

রাজনৈতিক কঠিন চাপে রয়েছেন মেয়র আরিফুল

প্রকাশিত:Sunday ১২ December ২০২১ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৩৪৬জন দেখেছেন
Image

এখনো বছর দেড়েক বাকি। ভাঙা-গড়ার উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ‘কাজের মেয়র’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। টানা দুই মেয়াদে নগরকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সব দলের সঙ্গে সমন্বয়ের একটি মধ্যপন্থা বেছে নিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক হত্যা মামলার আসামি হয়ে জেলে-আদালতে অনেকটা সময় কাটিয়েও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত আরিফুল হক চৌধুরী দাপটের সঙ্গে শাসন করছেন সিলেট নগর। বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন বরাদ্দের সুবাদে প্রকল্পের পর প্রকল্প নিচ্ছেন। সুনাম কুড়াচ্ছেন ‘করিৎকর্মা’ মেয়র হিসেবে। তবে খেয়ালখুশি মতো প্রকল্প নেওয়া, উন্নয়নকাজের দীর্ঘসূত্রতা, নগরজুড়ে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুড়িসহ স্বেচ্ছাচারিতার বহু অভিযোগ তার দিকে। সম্প্রতি উঠেছে হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির দাম বৃদ্ধির অভিযোগও।

বিএনপি নেতা হলেও সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরিফের। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি নেতা হিসেবে নগরকর্তার চেয়ারে বসে থাকা আরিফুল হক শুরু থেকেই সরকারি দলের স্থানীয় নেতাদের চক্ষুশূল। এতদিন তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তার আকস্মিক মৃত্যু আরও নির্ভার করেছেন আরিফুল হক চৌধুরীকে। এত সবের পরও আসন্ন সিটি নির্বাচনে তার আসন টলে যেতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে এ জন্য পরিশুদ্ধ করতে হবে আওয়ামী লীগের নিজের ঘর। কেননা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একের পর এক ধরা খাওয়ার শুরুটা হয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্রেফ কোন্দলের কারণে নিশ্চিত জয় হাতছাড়ার করার মধ্য দিয়ে।

আওয়ামী লীগ নেতারা স্বীকার করছেন, দল না গোছালে ফল পাওয়া যাবে না কিছুতেই। তারা বলছেন, ভূইফোঁড় আওয়ামী লীগার আর ঘরে ঘরে নেতা বনে যাওয়ার কারণে নগরকর্তার আসনে বসে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘি খাচ্ছেন বিএনপির একজন নেতা। প্রচার হচ্ছে বিএনপির। সরকারি বরাদ্দের উন্নয়নে নিজের গদি পোক্ত করে তিনি আবার সভা-সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধেই কথা বলছেন। অথচ নগরীর প্রায় পুরো উন্নয়ন কার্যক্রমই হচ্ছে সরকারের টাকায়। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয়ে কোনো রকমফের নেই।


আরও খবর



তামিমের ফিফটি, শান্তর সঙ্গে জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৫জন দেখেছেন
Image

শুরুতেই ধাক্কা। মাহমুদুল হাসান জয় শূন্য রানেই ফেরেন সাজঘরে। তবে সেই ধাক্কা দারুণভাবে কাটিয়ে উঠেছেন তামিম ইকবাল আর নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনই খেলছেন বেশ দেখেশুনে।

ইতিমধ্যে ফিফটি পার করেছেন তামিম। এখন পর্যন্ত দুজনের জুটিতে এসেছে ৯১ রান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৫ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৯৩ রান।

তামিম ৮৩ বল খেলে ৯ বাউন্ডারিতে ব্যাটিং করছেন ৫৫ রান নিয়ে। ৬১ বলে ৪ চারের সাহায্যে ৩৬ রানে অপরাজিত আছেন তার সঙ্গী শান্ত।

টেস্ট সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ এটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের সেই প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ।

অ্যান্টিগার কুলরিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরুটা অবশ্য একদমই ভালো হয়নি। দলীয় ২ রানের মাথায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। লুইসের বলে ইমল্যাচকে ক্যাচ দেন তিনি।

বাংলাদেশ দল
তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী রাব্বি, মেহেদী হাসান মিরাজ, রেজাউর রহমান রাজা, খালেদ আহমেদ, নুরুল হাসান সোহান, ইবাদত হোসেন, তাইজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।


আরও খবর



তাঁত বোর্ডে ১৯ জনের চাকরি

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৮২জন দেখেছেন
Image

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডে ১১টি পদে ১৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: যে কোনো স্থান

বয়স: ০৬ জুন ২০২২ তারিখে ১৮-৩০ হতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা bhb.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে।

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে ৫৬০ টাকা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

আবেদন শুরু: ০৬ জুন ২০২২ তারিখ সকাল ১০টা থেকে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২৯ জুন ২০২২ তারিখ বিকেল ০৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

সূত্র: প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট


আরও খবর



ময়মনসিংহে সুইমিংপুল আছে, নেই কোনও সাঁতার দল

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ২৫ June ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image

খাল-বিল, নদী-নালার দেশে ভালোমানের সাঁতারু বের করে আনার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে সুইমিংপুল। যে সব সাঁতারুরা শুধুমাত্র এসএ গেমস নয়, দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে এশিয়ান গেমস, এমনকি অলিম্পিক গেমসেও।

শুধু সাঁতারু বের করে আনাই নয়, বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড়দের শরীরচর্চার অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবেও খুব প্রয়োজন সাঁতার। সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখাটাও জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয়।

সবকিছুকে সামনে রেখে সারা দেশে অন্তত ২৩টি সুইমিংপুল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর অধিকাংশ পুলই পড়ে রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। কোনো কোনো পুলে তো একদিনের জন্যও কেউ নামতে পারেনি। কোথাও পানি নেই, কোথাও পাম্প নষ্ট, কোথাও নোংরা পানি- নানা অব্যবস্থায় পড়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সুইমিংপুলগুলো।

অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত এসব সুইমিংপুল নিয়েই জাগোনিউজের ধারাবাহিক আয়োজন। ৭ম পর্বে আজ থাকছে ময়মনসিংহ সুইমিং কমপ্লেক্সের চালচিত্র...

* ২০০১ সালে সুইমিং কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হলেও ২০০৪ সালে উদ্বোধন করা হয়।
* ২০০৯ সাল থেকে এখানে শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখানো শুরু হয়।
* সুইমিং কমপ্লেক্স আছে, সকল সুযোগ-সুবিধা আছে, নিয়মিত সাঁতার শেখানোও হয়, কিন্তু কোনো সাঁতার দল নেই।
* সাঁতার শিখতে জনপ্রতি ভর্তি ফি ২৬০০ টাকা ও মাসিক বেতন ৫০০ টাকা।

সুইমিংপুলে ২০ থেকে ২৫ জন শিশু-কিশোর। কেউ সাঁতার কাটছে, আবার কেউ শেখার চেষ্টা করছে। একজন কোচ তাদেরকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন- কিভাবে সাঁতার শিখতে হবে। অভিবাবকরাও পুলের চারপাশে বসে সন্তানের সাঁতার শেখা দেখছেন।

নিয়মিত সুইমিংপুলে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও, ময়মনসিংহে নেই কোন সাঁতার দল। এভাবেই ১৩ বছর প্রথম শ্রেণির চাকরিজীবি, ঠিকাদার, রাজনীতিবীদ, ব্যবসায়ীর ছেলে-মেয়েদের মাসিক বেতনে সাঁতার শেখানো হচ্ছে ময়মনসিংহ সুইমিংপুলে। বছরে দু‘একটা প্রতিযোগিতা হলেও, সাঁতারুদের প্রশিক্ষণ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এমন চিত্রই দেখা গেলো, ময়মনসিংহ সুইমিং কমপ্লেক্সে। নগরীর টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সুইমিং কমপ্লেক্স। এর আয়তন ৫০ মিটার লম্বা ও ২৫ মিটার প্রস্থ। নিয়মিত একজন পিয়ন এটি দেখাশুনা করেন।

সকাল-বিকাল, দিনে মোট দুই ঘণ্টা এখানে শিশু-কিশোরদের সাঁতার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পুলের জন্য কোনো গ্যালারি বা শেড নির্মাণ করা হয়নি। একটিমাত্র সাবমার্সিবল পাম্প দিয়ে চলছে এই সুইমিংপুল।

মাসে একবার পানি পরিবর্তন করা হয়। প্রতিবার পানি পরিবর্তন করতে সময় লাগে ৩৬ থেকে ৪০ ঘণ্টা। পানি পরিষ্কার রাখার জন্য নেই সাকার মেশিন। সাঁতার শিখাতে আসা শিক্ষার্থীদের অভিবাবকরা সুইমিংপুলের শেড কিংবা গ্যালারি এবং পানি পরিষ্কার রাখার জন্য সাকার মেশিন বসানোর দাবি করেন।

Swimming

২০০১ সালে সুইমিং কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হলেও ২০০৪ সালে উদ্বোধন করা হয়। এরপর ২০০৯ সাল থেকে এখানে শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখানো হয়। যখন কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, তখন প্রয়োজনে কিছু ছেলে-মেয়েকে ডেকে এনে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সাঁতার অনুশীলন করানো হয়। প্রতিযোগীতা শেষ হলে তাদের আর কোন খোঁজ-খবর রাখে না সংশ্লিষ্টদের কেউ।

সুত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে মাসিক টাকার বিনিময়ে এখানে শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখানো শুরু হয়। শুরুর দিকে জনপ্রতি ভর্তি ফি ৫০০ টাকা ও মাসিক বেতন ছিল ২০০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে জনপ্রতি ভর্তি ফি ২৬০০ টাকা ও মাসিক বেতন ৫০০ টাকা।

যদিও সরকারি সুইমিংপুলে টাকার বিনিময়ে সন্তানদের সাঁতার শেখাতে আসা অভিবাবকদের নেই কোন অভিযোগ। এখানে যেভাবে ছেলে-মেয়েরা সাঁতার শিখতে পারছে, অন্য কোথায় হয়তো এমন সুযোগ নেই, এ কারণেই তারা খুশি।

সন্তানকে সাঁতার শেখাতে আসা ঠিকাদার বিমল বর্মণের স্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে এখান থেকে আমার এক ছেলে সাঁতার শিখে গেছে। এখন নিয়মিত মেয়েকে সাঁতার শেখাতে নিয়ে আসছি। অনেক সময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাই। কোনো কোনো সময় আবার নদী পথেও ঘুরতে যাওয়া হয়। তখন যদি কোন বিপদ আসে! তাই, ছেলে-মেয়েদের সাঁতার শিখাচ্ছি। যেন নিজের জীবন বাঁচাতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সুইমিংপুল এবং এখানে শেখার সব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও যদি জেলায় কোন সাঁতার দল না থাকে, তাহলে এটা দুঃখজনক। যে সুযোগ-সুবিধা আছে, তা কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে পারলেও তো দেশের জন্য ভালো হবে। তবে, আমি মনে করি এই সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে জেলায় ভাল একটা সাঁতার দল গড়ে উঠুক। যারা ময়মনসিংহ এমনকি দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।’

পুবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মৌসুমী খানম বলেন, ‘চাকরি করার সুবাদে শহরে থাকতে হয়। গ্রামে থাকলে হয়তো বাড়ির পুকুরে ছেলে-মেয়েকে সাঁতার শেখানো যেতো; কিন্তু, শহরে তো এই সুবিধা নেই। যেহেতু, এখানে একটি সুইমিংপুল আছে। তাই, আমার দুই সন্তানকে সাঁতার শেখাতে নিয়ে আসি। তাছাড়া, একজন মানুষের জন্য সাঁতার শেখাটা প্রয়োজনীয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সাঁতার শিখাতে ভর্তি ফি ২০০০ টাকা ও এক মাসের ৫০০ টাকা অগ্রিমসহ ২ হাজার ৫০০ টাকায় ভর্তি করিয়েছি। তবে, টাকা নেয়ার বিষয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। কারণ, ছেলে-মেয়েদের সাঁতার শেখানো অভিভাবক হিসাবে আমার দায়িত্ব। আমি সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার সন্তানকে নিয়ে সাঁতার শেখাতে আসি। এভাবে দুই মাস হলো এখানে আসি। এখানে কোচ আছে, তিনি খুব ভাল করে ছেলে-মেয়েদের সাঁতার শেখান। আমার সন্তানরা এখন মোটামোটি সাঁতার কাটতে পারে।’

ঢাকায় বাইং হাউজে চাকরি করেন খালেদ আব্দুল্লাহ। দুই সন্তানকে সাঁতার শেখাতে নিয়ে এসেছেন এই সুইমিং কমপ্লেক্সে। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, ময়মনসিংহে ছেলে-মেয়েদের সাঁতার শেখানোর সুযোগ আছে। যা অন্য কোথাও নেই। এতে কিছু টাকা খরচ হলেও ছেলে-মেয়েরা একজন কোচের মাধ্যমে এখানে সাঁতার শিখতে পারছেন। যা আমাদের জন্য খুব ভাল হয়েছে এবং ছেলে-মেয়েরাও খুব সহজে সাঁতার শিখতে পারছে।’

সাঁতারু তামজিদ সামাদ এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সাঁতার প্রতিযোগীয়তায় অংশ নিয়েছেন। সে ময়মনসিংহ ল্যাবরেটরি স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। তামজিদ বলেন, ‘আমার বাবা একজন সাঁতারু। তাই, সাঁতারের প্রতি আগ্রহ থেকেই আমি বিভিন্ন সাঁতার প্রতিযোগীয় অংশ নিয়েছি। আমাদের ভাল একটা সুইমিংপুল আছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ উধাসীন। বিভিন্ন সাঁতার প্রতিযোগিতার সময় প্রয়োজনে আমাদের কয়েকদিন অনুশীলন করায়। খেলা শেষ হওয়ার পর আর কেউ খোঁজ রাখে না।’

তিনি বলেন, ‘একজন সাঁতারু নিয়মিত অনুশীলন করলে সুইমিং ড্রেস প্রয়োজন হয়। যেমন সুইমিং ক্যাপ, সুইমিং গ্লাভস, টি শার্ট, শর্ট প্যান্ট প্রয়োজন হয়। এগুলোর ব্যবস্থা করা। অনুশলিনের পর নিয়মিত ডায়েট ও যাতাযাত ভাতা দিলে আমি নিয়মিত প্র্যাক্টিস করব। আমাকে দেখে অন্যরাও সাঁতারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। তবেই, আমাদের একটি সাঁতারু দল গঠন করা সম্ভব।

মুকুল নিকেতন স্কুলের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাহাত দেওয়ান হৃদয় বলেন, ‘জেলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে আমি খেলায় অংশগ্রহণ করেছি। তবে, খেলা শেষ হলে পরে আর কেউ খবর নেয় না। নিয়মিত অনুশীলনের ব্যবস্থা করলে আমরাও ভাল কিছু করতে পারব। জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে খেলার সামর্থ্য আমাদেরও আছে। তবে,আমাদের সার্পোট দেয়ার কেউ নেই। সাপোর্ট দিলে জাতীয় পর্যায়ে এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার স্বপ্নও আমি দেখি।’

Swimming

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাঁতার প্রশিক্ষক মো. আব্দুস সামাদ কাজল জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই সুইমিংপুলের যাত্রা শুরু হয় আমার হাত ধরে। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শুধু মাত্র টিএডিএ'র বিনিময়ে কাজ করে আসছি। বাবা মৃত্যুর সময় বলেছিলেন, আমি যেন এই সুইমিংপুল না ছাড়ি। তাই, এখনো এখানে সাঁতার প্রশিক্ষণ করিয়ে আসছি। বাবার রেখে যাওয়া বাড়ি ভাড়ার টাকায় টেনেটুনে সংসার চলে। এই চাকরি স্থায়ী হবে আশায় ১৩ বছর অস্থায়ী কাজ করে আসছি। তবে, করোনার সময় বন্ধ ছিল৷ তখন ওই টিএডিএ'র টাকাও পাইনি। ওই সময় আশ্বাস দিয়েছিল করোনার পরে চাকরি নিয়মিত করবে। তবে, এখনো হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছি জুন-জুলাইয়ে হতে পারে।’

জেলা পর্যায়ে একটি সাঁতার দল টিম তৈরির যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে, জেলা ক্রীড়া সংস্থা সেই প্রক্রিয়াগুলোর জন্য অনুমতি দেয় না। দল তৈরি করতে হলে অবশ্যই জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগ নিতে হবে। তারপর আমাকে বলতে হবে। তখন আমি বেশ কয়েকজনকে সুইমিং উপযোগী করে তৈরি করতে পারব। যারা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।’

‘এছাড়া, দল তৈরি করতে হলে ছেলে-মেয়েদের পিছনে ইনভেস্ট করতে হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ইনভেস্ট করলেই ছেলে মেয়েরা নিয়মিত প্র্যাক্টিস করবে। তাহলেই কেবল তাদের সাতারু হিসাবে তৈরী করতে পারব। এইটা মুলত ইচ্ছা থাকতে হবে। ময়মনসিংহে অনেক প্রতিভাবান ছেলে মেয়ে আছে। আমাদের অনেক ভাল একটা সুইমিংপুল আছে। তবে, কাজে লাগাতে পারছি না। সুযোগ সু্বিধা কাজে লাগাতে পারলেই আমলা শক্তিশালী একটি সাঁতার দল তৈরি করতে পারব।’

সুইমিংপুলকে কী বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কথাটা এভাবে না বলে, বলতে পারেন টাকার বিনিময়ে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এটাকে সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বলা যায়। জেলা ক্রীড়া সংস্থা চাইলেই ভাল সাতাঁরু তৈরি করা সম্ভব। যাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভাল সাঁতারু তৈরি করা সম্ভব। তবে, এখানে যারা সাঁতার শিখতে আসে তারা সবাই ১৫ থেকে ২০দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে সাঁতার শিখে চলে যায়।

জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, ‘সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু জুনিয়র সাঁতার প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহ থেকে অংশগ্রহণ করেছিল। এছাড়াও নেত্রকোনা থেকেও তিনজন অংশগ্রহণ করেছিল। ওরা সবাই মোটামোটি খেলেছে। তবে, সুইমিংপুল জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে। তাই, সুইমিংপুলের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন, ‘আনুমানিক পাঁচ মাস হয়েছে আমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। আগে সুইমিংপুলের অবস্থা খারাপ ছিল। এখানে নিয়মিত একজন কোচ দিয়ে শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখানো হয়। তবে, আমাদের পরিকল্পনা আছে। আগামী কয়েক মাসের মাঝে স্কুল থেকে এইচএসসি পর্যন্ত বয়স ভিত্তিত সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করব। সেখান যারা ভাল করবে, তাদের নিয়ে একটি দল গঠন করে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা আমাদের আছে।

সাঁতার শিখানোর ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন কী সরকার নির্ধারিত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সরকার নির্ধারিত। দু'জন লোক কাজ করে, প্রতি মাসে পানি পাল্টাতে হয়, বিদ্যুৎ বিল আছে। এই টাকা দিয়েই প্রতি মাসের খরচ মেটানো হয়। তবে, আমি আসার পর কোন ফি বাড়াইনি।’

এ বিষয় জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের একটি সাঁতার দল গঠন করা হবে। যারা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে।’


আরও খবর



সীতাকুণ্ডে নিহতদের স্মরণে সাংস্কৃতিক জোটের মোমবাতি প্রজ্বলন

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ২৫ June ২০২২ | ৬৫জন দেখেছেন
Image

সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

সোমবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।

এর আগে শহীদ মিনারের পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় বক্তারা নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরে সন্ধ্যায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয় ও নিরবতা পালন করা হয়।

শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর রাসায়নিকের কনটেইনারে একের পর এক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জন হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে মৃতের সংখ্যা ৪১। দগ্ধ ও আহত ১৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতেই শনাক্ত হওয়া নিহতদের জেলা প্রশাসনের সহায়তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আগুন লাগার পরে ৬০ ঘণ্টা পার হলেও আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।


আরও খবর



সরকার আরও বেশি রক্তপিপাসু চণ্ডমূর্তিতে আবির্ভূত: রিজভী

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৭১জন দেখেছেন
Image

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে সরকার আরও বেশি রক্তপিপাসু চণ্ডমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের ধিক্কার, চাল-ডাল-সয়াবিন তেল বাজার থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় মানুষের ধিক্কার, বিরোধী দলের প্রতি সংযমহীন ভাষা প্রয়োগে মানুষের ধিক্কার, বিচারহীনতা ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতিতে মানুষের ধিক্কার, চরম মুদ্রাস্ফীতি ও মানুষের পকেটকাটা সরকারি নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ধিক্কারে নিমজ্জমান সরকার নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য এখন আরও বেশি রক্তপিপাসু চণ্ডমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে। মানুষের অনুচ্চারিত যন্ত্রণা সরকার উপলব্ধি না করে তারা মরণনেশায় মেতে উঠেছে। অবিচারের শরাঘাতে বিদীর্ণ সারা জাতি। কোথাও ন্যায়বিচারের লেশমাত্র নেই।

তিনি আরও বলেন, জনগণের রাগ-ক্ষোভ-ক্রোধকে স্বৈরতন্ত্রের হুমকি ও আক্রমণে আটকে রাখা যাবে না। সরকারের পতনের সব উপাদান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গুম-অপহরণ ও লাশের মিছিলের ভয়াবহ বাস্তবতায় দুঃশাসনের ছায়া আর প্রলম্বিত হবে না। গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য রাজপথে জনগণের উদ্বেল অভিযাত্রা এখন স্বৈরাচারের সিংহাসনের দিকে অতিসত্ত্বর ধেয়ে আসবে। আওয়ামী স্বৈরশাহীর পতনে জনগণের বিজয় অত্যাসন্ন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, নিশিরাতের ভোটে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখে অবৈধ সরকার দেশব্যাপী এক বর্বর পরিকাঠামো নির্মাণ করেছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নিপীড়ন-নির্যাতনে নিষ্পিষ্ট করতে এক অবিরাম হিংসাযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে সরকার। গণতন্ত্রে স্বীকৃত যে কর্মসূচি, সেই কর্মসূচির ওপরও পুলিশ ও নিজেদের সশস্ত্র পেটোয়া বাহিনী দিয়ে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদেশের কাছে নতজানু এ সরকার নিজ দেশের জনগণকে দাবিয়ে রাখতে জনগণেরই টাকায় কেনা অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বর্তমান সরকার পেশীশক্তি ও জিহ্বার ধার দিয়ে গোটা জাতিকে পরাধীন রাখারই সব ধরনের বন্দোবস্ত করে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, অন্যায়, অবৈধ শাসনকার্যের জন্যই দেশ থেকে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। সীমাহীন দুর্নীতি বৃদ্ধি-বিকাশের আদর্শস্থল বর্তমান আওয়ামী সরকার। দুর্নীতির মহাবৃত্তের মধ্যে এক লুটেরাগোষ্ঠী তৈরী হয়েছে যারা ব্যাংক-বিমা-বাজার সিন্ডিকেট প্রত্যেকটি সেক্টরেই দানবের থাবা বিস্তার করেছে। আর এই লুটেরাগোষ্ঠী ফুলে-ফেঁপে এত স্ফীত হয়েছে শুধুমাত্র অবৈধ সরকারের আশকারা পেয়ে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং মূল্য হ্রাসের দাবিতে বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী মহানগরগুলোতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা একযোগে বর্বর আক্রমণ চালিছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর