Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

পরকীয়া জেনে যাওয়ায় স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যা

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১২৩জন দেখেছেন
Image

 

ভোলায় মো. হুমায়ুন কবির (৩২) নামে এক যুবককে হত্যা করেছে তার স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক। শুক্রবার (২৪ জুন) দিনগত রাতে তজুম‌দ্দিন উপ‌জেলার সোনাপুর ইউনিয়‌নের ৩ নম্বর ওয়া‌র্ডের চরজ‌হিউদ্দিনের চরশাওন গ্রা‌মে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরদিন শনিবার (২৫ জুন) নিহত হুমায়ুনের বাবা নুরুল ইসলাম তজুমদ্দিন থানায় মামলা করেন। মামলায় হুমায়নের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে আসামি করা হয়।

এ মামলায় পুলিশ হুমায়ুনের স্ত্রী শারমিন বেগম (২৫) ও তার পরকীয় প্রেমিক মো. লিটনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করেছেন। রোববার (২৬ জুন) পুলিশ তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

তজুম‌দ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হক জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, নিহতের বাবা থানায় ওই দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হত্যাকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করেছেন। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার ও থানাসূত্রে জানা গেছে, গত ৬-৭ মাস ধরে লিটনের সঙ্গে হুমায়ুনের স্ত্রী শারমিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি হুমায়ুন জেনে যাওয়া তা এলাকার প্রভাবশালীদের জানান এবং সালিশ ডাকেন। সালিশে শারমিন ও লিটনকে অপমান করা হয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই মোতাবেক শুক্রবার রাতে হুমায়ুন ঘুমালে তাকে বালিশ চাপা ও বিশেষ অঙ্গ চেপে হত্যা করে শারমিন ও লিটন।


আরও খবর



বিখ্যাত গজলশিল্পী ভূপিন্দর সিং আর নেই

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

ভারতের বিখ্যাত গজলশিল্পী ভূপিন্দর সিং মারা গেছেন। মৃত্যুকালে গুণী এ শিল্পীর বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর। কোলন ক্যান্সার ও কোভিড-সম্পর্কিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

সোমবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ভূপিন্দর সিংয়ের স্ত্রী গায়ক মিতালি মুখার্জি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিতালি মুখার্জি জানান, প্রস্রাবে সংক্রমণ হওয়ায় আট থেকে দশ দিন আগে সদ্য প্রয়াত এ গায়ককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে কোভিড টেস্ট করালে ফলাফল পজিটিভ আসে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. দীপক নামজোশি জানান, সোমবার সকালে ভূপিন্দরের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়েছিল। সেখানেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

কিংবদন্তি এ গায়কের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে স্বজন-ভক্তদের মাঝে।

পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি হিট গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ভূপিন্দর সিং। এছাড়া মহম্মদ রফি, আরডি বর্মণ, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে ও বাপ্পি লাহিড়ীসহ ভারতের বরেণ্য ও কালজয়ী সংগীতজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

জানা গেছে, আজ (মঙ্গলবার) তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।


আরও খবর



লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৪ ভুয়া চিকিৎসকের জরিমানা

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

লক্ষ্মীপুরে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ও সনদ ছাড়াই একই পরিবারের চার সদস্য বিভিন্ন ‘জটিল রোগের চিকিৎসা’ দেওয়ার অভিযোগে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (৭ আগস্ট) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল সালেহীন এ আদেশ দেন। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তারা হলেন- রণজিৎ শর্ম্মাধিকারী, অনিতা রানী শর্ম্মাধিকারী, প্রণব শর্ম্মাধিকারী ও সুমিতা রানী শর্ম্মাধিকারী।

সিরাজুল সালেহীন জানান, চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের সমতা সিনেমা হলের শর্ম্মা মেডিকেল হলে ওই চারজন নিজেদের চিকিৎসক দাবি করে অর্শ, গেজ, ওরিশ ও ভগন্দরসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা করে আসছেন। রায়পুরের নতুন বাজার এলাকায় তাদের আরও একটি চেম্বার রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ডিগ্রি ও সনদ না থাকলেও তারা বিভিন্ন সময় রোগীদের অপারেশনও করিয়েছেন। তাদের নামের পাশে লেখা ডিগ্রিগুলো চিকিৎসা বিজ্ঞানে নেই।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. সাইফুল ইসলাম শরীফ বলেন, এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারে না। তারা নামের আগেও ডা. লিখতে পারবে না। অভিযুক্তরা যেসব রোগে চিকিৎসা দিয়ে এসেছেন, তা তারা করতে পারবেন না। কারণ তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহমেদ কবির বলেন, শর্ম্মা মেডিকেল হলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। এতে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যেন প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে না পারেন, সেদিকে নজরদারি থাকবে।

এর আগে ২০১৬ সালে র‍্যাব একই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়। পরে অদৃশ্য বলয়ে ফের প্রতিষ্ঠান চালু করে ওই চারজন চিকিৎসক পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।


আরও খবর



নীলগিরির কোলে শৈল শহরের রানি ‘উটি’

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩৫জন দেখেছেন
Image

দিল্লি থেকে প্লেন যখন কোয়েম্বাতুর রানওয়ে ছুঁলো তখন দুপুর। আকাশ কিছুটা মেঘলা। বৃষ্টির আভাস রয়েছে। রানওয়ে থেকে দেখা যাওয়া দূরের কালো পাহাড়গুলো জানান দিলো পা এখন দক্ষিণের শৈল শহরে। কেরালার সীমানাঘেঁষা তামিলনাড়ু রাজ্যের একটি জেলা কোয়েম্বাতুর। গন্তব্য শৈল শহরের রানি খ্যাত ‘উটি’। পাহাড়ি জেলা নীলগিরির সদরদপ্তর। দূরত্ব কোম্বারয়াতু থেকে প্রায় একশ কিলোমিটার। প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ।

সময় লাগবে তিন ঘণ্টার বেশি। যত কাছে যাওয়া হয়, পাহাড় তত দূরে সরে যায়। এটাই পাহাড়ের বৈশিষ্ট্য। এক্ষেত্রেও হলো তাই। অসংখ্য সুপারি আর নারিকেল গাছ দুপাশে। মসৃণ সড়ক ধরে পথ চলতে কষ্ট হয় না। বিমানবন্দর থেকে এত দূরত্ব হওয়ার পরও মানুষ যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বোধ হয় এ সড়কের জন্য। ট্যুরিস্ট বাসগুলোও সুন্দর। সমতল ধরে কিছুদূর এগোতেই আরও দৃশ্যমান হতে থাকলো পাহাড়শ্রেণি। রিফ্রেশমেন্টের জন্য থামলো ঘণ্টাখানেক পর। রাস্তার পাশের একটি ধাবায়। খাবারের পাশাপাশি ট্র্যাডিশনাল চকলেট, মসলাও মেলে আশপাশের দোকানে। ধাবা কমপ্লেক্সে দাঁড়িয়ে মনে হয় এই বুঝি ছুঁয়ে ফেললাম শৈলচূড়া! অনিয়ন দোসা আর চায়ে পেটপূজা সেরে আবার সড়ক ধরলো গাড়ি। এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় দূরে দেখতে পাওয়া কালো মেঘ ততক্ষণে আমাদের মাথার ওপর। শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি।

কিছুক্ষণ পর চালক জানালেন আমরা এখন পাহাড়ে উঠবো। শুরু হলো আঁকাবাঁকা সড়ক ধরে পথচলা। পাহাড় বর্ষায় যৌবন ফিরে পায়। থাকে সবুজ। মেঘেরা বাসা বাঁধে তার মাথায়। অভিমান হলেই গুমরে ঝরে পড়ে বৃষ্টি হয়ে, হয়তো উড়ে অন্য চূড়ায়ও আশ্রয় নেয় কখনো সখনো। কয়েক জায়গায় হাতি চলাচলের জন্য সতর্কবার্তাও দেখা গেলো। এই পাহাড়ি বনে বানর, হরিণ, নীলগাই, চিতা বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির আবাস। বানরদল চোখে পড়লো বেশ কয়েকবার। যাত্রা বিরতিতে একবার নীলগাইও দেখা দিলো। তাও আবার একজোড়া। একেবারে বন্য অবস্থায় এসব প্রাণী দেখতে পাওয়াও সৌভাগ্যের।

ফল ও মসলার জন্যও তামিলনাড়ু বিখ্যাত। পথে কোনো কেমিক্যাল ছাড়া পাহাড়ে উৎপাদিত ফলের দোকানও মিললো। সেখানে আপেল, নাশপাতির পাশাপাশি স্থানীয় কিছু ফলেরও দেখা পাওয়া গেলো।

পাহাড়ের শরীরে ঝুলে ঝুলে যাওয়া জিগজ্যাগ এ পথ কিন্তু অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পাড়ি দিতে থাকলেন চালক। হর্ন বাজালেন না বললেই চলে। উটি যুগলদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। তবে পরিবার নিয়েও ছুটি কাটাতে যান অনেকে। জুলাই ট্যুরিস্ট সিজন না হলেও সড়কে গাড়ির চাপ নেহায়েত কম নয়। উঠতে হবে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ফুট উঁচু শহরে।

চায়ের জন্যও বেশ নাম আছে উটির। একসময় টোডা নামে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত ছিল এ অঞ্চল। পরে ব্রিটিশদের উপনিবেশ থাকায় বলা যায় তারাই গড়েছিল শহরটি। উটির আশপাশের ছোটখাট শহরগুলোর নাম এখনো সেই ব্রিটিশদের নামানুসারে। ওয়েলিংটন নামে শহর পড়লো উটি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার আগে। যত উপরে উঠছিলাম সৌন্দর্য তত যেন পেখম মেলে বসছিল। তবে যারা উত্তর ভারতের সিক্কিম বা দার্জিলিং গেছেন তাদের কাছে এ প্রাকৃতিক গঠন আলাদা কিছু নয়। সৌন্দর্যও তা-ই।

পাহাড়ের গায়ে গড়ে ওঠা বসতি সত্যি এক বিস্ময়। সবুজ পাহাড়ের কঠিন বুক চিরে সাজানো লাল-নীল সব সংসার। টোডা নামে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এ অঞ্চলের আদি অধিবাসী। তাই শহরজুড়ে তাদের নানান চিহ্ন ছড়িয়ে। পথ চলতে চলতে পাহাড়ে সন্ধ্যা নামলো। বৃষ্টি তখনও পড়ছে একটু। উটির স্টারলিং পাহাড়ের একটি রিসোর্টে আমাদের রাতের আবাস। দিল্লির ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় যাত্রা শুরু করে ফার্ন হিল রিসোর্টে পৌঁছাতে তাপমাত্রা নামলো ১২ ডিগ্রিতে। নিজস্ব রীতিতে সেখানে সম্পন্ন হলো অভ্যর্থনা পর্ব।

রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে খাওয়ার পালা। দীর্ঘ জার্নিতে ক্লান্ত সবাই। দক্ষিণ ভারতের খাবার মানেই মসলার আধিপত্য। বাঙালি এখানে খুব বেশি আসে না। তাই মেন্যুতে কিছু কন্টিনেন্টাল ফুড রাখা ছিল আমাদের টিমের কথা মাথায় রেখে। খাবার শেষে ক্লান্তি সত্ত্বেও রাতের আশপাশটা দেখার সুযোগ ছাড়লো না কেউ কেউ।

পরদিন ভোরের আলোয় টুপটাপ বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙলো। পর্দা সরাতেই জুড়িয়ে গেলে হৃদয়। মন ভালো করা বৃষ্টি, প্রশান্তির বৃষ্টি, অনেকটা তীব্র গরমে একটু ঠান্ডা পানীয়ের স্বাদের মতো। সবুজ পাহাড় অবগাহন করছে বৃষ্টিতে। ঝুলে আছে বিভিন্ন রঙের বাড়ি। নিশ্বাসে অন্যরকম আনন্দ তখন। পানির জন্য বেশ সংগ্রাম করতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। বৃষ্টি তাই আশীর্বাদ।

সাউথ ইন্ডিয়ান ইডলি, দোসার পাশাপাশি কন্টিনেন্টালে নাস্তা সেরে এবার চারপাশটা দেখার পালা। রিসোর্টের সামনে নানান প্রজাতির ফুল চোখ জুড়ালো। সবুজ দেয়াল তৈরি করে রাখা ঝুলন্ত টবের সব গাছে ফুল নেই। চারপাশের পরিচ্ছন্ন আর নির্মল বিশুদ্ধ বাতাস হৃদয় জুড়ায়। বৃষ্টি তখনও পিছু ছাড়েনি। এরমধ্যেই বেরিয়ে পড়া।

প্রকৃতিকে এরা আঘাত না দিয়েই জীবন গড়েছে। সেটা এখানে অনুভূত হয়। জীবনের তাগিদে যতটুকু কাঁটাছেঁড়া করা দরকার ঠিক ততটাই। প্লাস্টিক এখানে নিষিদ্ধ। রুমের পানির বোতলও সব কাচের। কোনো পণ্য কিনলে মেলে কাগজ কিংবা কাপড়ের ব্যাগ। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে প্রচুর চা, কফি ও চকলেট হয়। উটি শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরের একটি চা জাদুঘরে নিয়ে গেলেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর।

এ এক অন্যরকম জাদুঘর। টিকিট ১০ রুপি। ভেতরে ঢুকে চোখে পড়লো এ অঞ্চলে চায়ের ইতিহাস সম্বলিত কিছু ছবি। চায়ের কাঁচাপাতার ঘ্রাণ লাগছে নাকে এসে। একটু ঘুরে তাকিয়ে দেখা গেলো চায়ের পাতা একেকটি কন্টেইনারে ঝুলে ঝুলে যাচ্ছে মেশিনের মধ্যে। এটি একটি চা কারখানাও। দর্শনার্থীদের কাছে বড় আকর্ষণ এটি। চা উৎপাদন লাইভ দেখা।

প্যাঁচানো লোহার ঘেরা পথ ধরে যখন চা উৎপাদনের সব প্রক্রিয়া শেষ তখন নিচে নামতেই চমক দেবে উৎপাদিত টাটকা চায়ের গরম গরম এক কাপ চা। দর্শনার্থীদের জন্য এটা ফ্রি। বাইরে বেরিয়ে সারি ধরে চায়ের দোকান। সেখান থেকে কেনা যাবে হরেক পদের চা। সর্বনিম্ন ২শ টাকা থেকে শুরু সর্বোচ্চ নয় হাজার টাকা দামের চা কিনতে পারবেন এখানে। এছাড়া টি অয়েল থেকে শুরু করে মিলবে বিভিন্ন হারবাল পণ্য।

চমক এখানেই শেষ নয়, চা দেখে বের হওয়া যাবে না। আবার উপরে উঠতে হবে। এবার চকলেট কারখানা দেখার পালা। হাতে তৈরি চকলেট সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে বিখ্যাত। সেই চকলেট তৈরি দেখা এবং কেনার সুযোগও আছে। দাম কেজিপ্রতি ৮শ থেকে ২ হাজার রুপি পর্যন্ত। ফ্যাক্টরির বাইরে পরিবেশটাও মন ভোলানো। পর্যটকদের কীভাবে আকর্ষণ করতে হয় এরা তা জানে।

পাহাড় সব সময়ই বৈচিত্র্যের আধার। ঘোরার জন্য বিশেষ কোনো জায়গা না হলেও চলে। পথেঘাটে চলতে ফিরতে প্রকৃতি যে পসরা সাজিয়ে বসে আছে সেটাই বা কম কী।

উটি মূলত নীলগিরি জেলার পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত। প্রশাসনিক সদরদপ্তর উটি (ওটাকামুদ বা উধাগমন্ডলম নামেও পরিচিত)। জেলাটি পশ্চিমে কেরালার মালাপ্পুরম জেলা, দক্ষিণে কোয়েম্বাতুর ও পালাক্কাদ, পূর্বে ইরোড এবং কর্ণাটকের চামরাজনগর জেলা এবং উত্তরে কেরালার ওয়ানাদ জেলায় ঘেরা। তিনটি রাজ্য তামিলনাড়ু, কেরালা ও কর্ণাটকের সংযোগস্থলে অবস্থিত। জনসংখ্যার অধিকাংশ মালয়ালি ও কান্নাডিগা।

অনেকগুলো ঘোরার জন্য বিশেষ জায়গা থাকলেও বোটনিক্যাল গার্ডেন ছাড়া অন্য জায়গাগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ হয়নি একদিনে। তামিলনাড়ু হর্টিকালচার ডিপার্টমেন্টের অধীনে পরিচালিত ২২ একরের উদ্যানটিও বৈচিত্র্যে ভরপুর। এখানের বিশেষ আকর্ষণ মাঙ্কি পাজল ট্রি ও দুই কোটি বছর আগের একটি গাছের জীবাশ্ম। মাঙ্কি পাজল ট্রির বিশেষত্ব হলো প্রায় সব গাছে চড়তে পারলেও বানর এতে চড়তে পারে না। এ গাছ সাতশ বছর বাঁচে। উদ্যানে দুটি গাছ রয়েছে। একটি শতবর্ষী। গাছের পাতা দেখতে ছোট সবুজ হলেও পাতা বেশ শক্ত এবং কাঁটার মতো। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, অর্কিডসহ কয়েক হাজার প্রজাতির গাছ।

সময় থাকলে আরও ঘুরে আসতে পারেন রোজ গার্ডেন (দুই হাজারের বেশি প্রজাতির গোলাপ আছে কালো ও সবুজসহ), উটির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দোদাবেত্তা (২৬২৩ মিটার), উটি লেক, কালাহাটি জলপ্রপাত, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ নীলগিরি মাউন্টেন রেল স্টেশন প্রভৃতি জায়গা। সময় মিললে চড়তে পারেন টয়ট্রেনেও।

ফার্ন হিল রিসোর্টের সার্ভিস ম্যানেজার যোগেশ মেহতা জাগো নিউজকে বলেন, উটিতে মানুষ বেড়াতে আসার অন্যতম কারণ এখানকার আবহাওয়া। সব সময় সহনীয় তাপমাত্রা থাকে। দেশের অন্য জায়গায় যত গরম পড়ুক উটির তাপমাত্রা কম থাকে। দক্ষিণের তিন রাজ্যের সংযোগ হওয়ায় এখানে দক্ষিণের লোকই আসে বেশি। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী আসে ঘুরতে, জানতে।

কেনাকাটা
উটি হাতে তৈরি ট্র্যাডিশনাল চকলেট, চা পাতা, কফি, টোডাদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্পের জন্য নামকরা। এছাড়া শীতপ্রধান জায়গা হওয়ায় শীতের শাল, জ্যাকেট, সোয়েটার পাবেন বেশ সস্তায়। তাদের ট্র্যাডিশনাল পোশাক ছেলেদের লুঙ্গি, সাদা জামা, বেল্ট ও পাগড়ি বা ওড়নাও পাবেন মোটামুটি সস্তায়। খুব ভালো মানের সব ধরনের মসলা পাবেন এখানে। কেনাকাটার জন্য মার্কেট রয়েছে সব পর্যটন স্পট ঘিরে। তবে লোকাল মার্কেটে দাম কম। কোনো অটোওয়ালাকে বললে তিন-চার ঘণ্টায় পুরো শহর ঘোরাবে মাত্র হাজার রুপিতে।

যাতায়াত
প্লেন বা ট্রেনে যেতে গেলে ভারতের যে কোনো প্রান্ত থেকে যেতে হবে কোয়েম্বাতুর জেলায়। ওখান থেকে প্রায় একশ কিলোমিটার সমতল ও পাহাড়ি পথ বেয়ে উটি।

থাকা-খাওয়া
থাকার জন্য প্রচুর সংখ্যক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে এখানে। সব মানের রুম পাবেন। সিজনে গেলে আগে বুকিং দিয়ে যেতে হবে। আর দক্ষিণ ভারতের বিশেষ সব মসলাযুক্ত খাবার আপনার না-ও পছন্দ হতে পারে। তবে ইডলি, দোসা, চিকেন সিক্সটি ফাইভ, নারিকেলের বিভিন্ন পদ, চানা মসলা, বিভিন্ন ধরনের চাটনি চেখে দেখতে পারেন।


আরও খবর



বিদেশে পার্লারে কাজের কথা বলে নারী পাচার, আটক ৬

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১৫জন দেখেছেন
Image

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে নারী পাচার চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব-১১। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল, ডেবিট কার্ড ও টাকা রাখার ব্যাগ জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) রাতে মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- ঝুমা আক্তার (২৮), শারমিন আক্তার (২৯), রিনা (৩৫), শাহজামাল (৪০), রাবেয়া আক্তার (২৭) ও কমলি খাতুন সিমা (৩২)।

jagonews24

শুক্রবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, ‘ একদল মানবপাচারকারী সদস্য নারীকে বিউটি পার্লারে কাজ যোগাড় করে দেওয়ার কথা বলে যশোর বেনাপোল বর্ডারে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাকে পার্শ্ববর্তী দেশে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে যাওয়ার জন্য বললে তিনি বুঝতে পারেন তাকে পাচার করা হচ্ছে। মেয়েটি যেতে রাজি না হলে পাচারকারীরা তাকে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি কৌশলে পালিয়ে বাসে যশোর থেকে নারায়ণগঞ্জ আসে।

তানভীর মাহমুদ পাশা আরও বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক কররা হযা। এ সময় আরও দুই নারীকেও উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, এ চক্র দীর্ঘদিন যাবত সহজ-সরল অভাবী নারীদের বিউটি পার্লারে কাজ দেওয়ার মতো উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।


আরও খবর



অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে পাঁচ কেজি স্বর্ণসহ ৩০ কোটি টাকা উদ্ধার

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৩০ কোটি টাকাসহ ৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে টাকা গোনা শেষ হয়।

এরপর ইডির অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে সকাল ৬টার দিকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য জিনিস জব্দ করা হয়। পরে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার জিনিসের একটি তালিকাও আবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ওই আবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার টাকার পরিমাণ ২৭ কোটি ৯০ লাখ। এছাড়াও ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার মূল্যের গহনা, জমির দলিল, হার্ড ডিস্ক ইত্যাদি।

উদ্ধার অর্থ ছিল ওয়ারড্রব, বিছানার নিচে ও বাথরুমের ভেতরে। ইডি হেফাজতে থাকা অর্পিতা ও শিল্পমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি জানতে চাইবে আর কোথায় কি সম্পত্তি ও নগদ অর্থ আছে।

ইডির এমন অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এই মুহূর্তে বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।


আরও খবর