Logo
আজঃ বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

পৌর শহর পাথরঘাটায় বর্জ্য আর পানিবন্দিতে নাকাল,পরিবেশ হুমকিতে স্বাস্থ্য ঝূঁকি, দুর্ঘটনা নিত্যদিনের

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৬৬জন দেখেছেন

Image
রফিকুল ইসলাম কাকন পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:এক পাশে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স- পৌর গোরস্থান, অপরদিকে জামে মসজিদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়। মাঝখানেই একটি মাঠ। যেখানে সাপ্তাহিক গরুর হাট এবং কাচা বাজার বসে। এখানে এখন ময়লার ভাগাড়, পাশেই ওজু খানা। দীর্ঘদিন ধরে এ মাঠে ময়লার স্তূপ থাকায় দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে, জনজীবন দুর্বিসহের পাশাপাশি জীববৈচিত্র হুমকিতে। অন্যদিকে পৌর শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় পানিবন্দিতে নাকাল পৌরবাসি। এ যেন অভিভাবকহীন পৌরবাসী। দেখার কেউ নেই। দেখেও যেন না দেখার ভান করার মতো। এমন চিত্র বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখায় বর্জ্য থেকে দূষিত হচ্ছে পানি, বায়ু। ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে জীববৈচিত্রে। হালকা বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে পৌর শহর। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় বিকল্প অন্তত সরু খাল থাকলেও পানি নিস্কাশন হতো। যে খালটি আগে ছিলো এখন নাই। তবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু না করার ব্যর্থতা স্বীকার করছে পাথরঘাটা পৌরসভাও। তাদের দাবি, বড় আকারের বাজেটের প্রকল্প ছাড়া এমন পরিকল্পনা নেয়া পাথরঘাটা পৌরসভার পে সম্ভব নয়। 

পাথরঘাটা পৌর শহরের একাধিক বাসিন্দা বলেন, আমরা নামাজ পড়ার জন্য এখানে আসি, অজুখানায় অজু করি। তবে এখানকার যে পরিস্থিতি, তাতে অজু করলে পাক পবিত্র হয় কিনা তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। পৌর টলসেডের সকল ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই অজুখানার সামনে। একটু বৃষ্টি হলেই পানি বন্দি থাকে এবং দুর্গন্ধ আর ময়লার স্তুপ থেকে বের হওয়া পানি ছড়িয়ে পরে পানিবাহিত নানা রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে, তাছাড়া পরিবেশ দুষিত তো হচ্ছেই। এছাড়াও পাথরঘাটা পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমান ফল বিক্রেতারা বর্জ্য ফেলছে যত্রতত্র। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে প্রায়ই। এতসব কিছুর মুলেই রয়েছে জলাবদ্ধতা। 

সমাজসেবক মেহেদী শিকদার বলেন, আমাদের কি করার আছে। আমাদের কপাল এমনই। আমরা জনগন এমন ভাবনাই মেয়রের কাছে নাই। দীর্ঘদিন ধরে এ মাঠে ময়লার স্তূপ থাকায় দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে, জনজীবন দুর্বিসহের পাশাপাশি জীববৈচিত্র হুমকিসহ মানুষের স¦াস্থ্য ঝূকিও রয়েছে। এছাড়াও ভ্রাম্যমান দোকানের আম, কলার ছোলা যত্রতত্র ফেলায় যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদি নক্সার খালটি প্রবহমান থাকলে এমনটি হতো না।

পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম কাকন বলেন, রাস্তাসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। একটু বৃষ্টি হলেই পৌরসভা পানিবন্দি হয়ে পরে, জনজীবন দুর্বিষহ অবস্থায় থাকে। নক্সায় চিহ্নিত ৫০৫ ও ৩৩৯৬ দাগের খালটিও ভড়াট করে বেদখল।  আমাদের জন্য আফসোস যে পাথরঘাটায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু হয়নি। খোলা স্থানে আবর্জনা থাকায় নদীর পানি ও মাটিতে মিশছে। বাতাস দূষিত করছে। তাছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থাও খারাপ। এক্ষেত্রে শুধু পৌর কর্তৃপরেই দায়ী নয়, পৌর নাগরিকদেরও দায় আছে। 

পৌরসভার ১ন¤¦র ওযার্ডের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান ফাহিম বলেন, আমার বাসার কাছেই এক সময় ৩২ ফুট প্রসস্ত খাল ছিল, যেটি ৩৩৯৬ ও ৫০৫ দাগের খালটিতে মিশেছে যা অবৈধ দখলে। পৌরশহরের সকল খাল যা আস্তে আস্তে দখল হয়ে ভরাট হয়ে গেছে এবং দখলও হয়েছে। ওই খালটি যদি থাকতো হয়তো আজ পৌর শহরের এমন অবস্থা হতো না। মানুষের এখনো বুঝা উচিত খালের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। 

পরিবেশবিদ ও পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম খোকন  বলেন, আমাদের জন্য আফসোস যে পাথরঘাটায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু হয়নি। খোলা স্থানে আবর্জনা থাকায় নদীর পানি ও মাটিতে মিশছে। বাতাস দূষিত করছে। তাছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থাও খারাপ। এ ক্ষেত্রে শুধু পৌর কর্তৃপক্ষেরই দায়ি নয়, পৌর নাগরিকদেরও দায় আছে। 

জলাবদ্ধতা নিরসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার সিকদার জানান, খালটি হতে অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য বহু চেষ্টা করেও আমরা সফল হইনি তা মেনে নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছি। আমার বাসার সামনে ৫০৫ ও ৩৩৯৬ দাগের নক্সায় চিহ্নিত সেই খালটি কই। নক্সা পরিবর্তন করে অবৈধ দখল নিয়ে উন্নয়ন কাম্য নয়। গুটি কয়েক লোক লাভবান হচ্ছে আর হাজার হাজার লোক পানিবন্দী এটা ঠিকনা।

এ বিষয় পাথরঘাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, বৃষ্টির কারণে ময়লা সরিয়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। একবার ময়লা অপসরণের জন্য গাড়ি পাঠালে কাদা ও ময়লায় আটকে যায়। পৌরসভার কোন নির্দিষ্ট স্থান নেই যেখানে ময়লা রাখা হবে। তাই সেখানে রাখা হয়েছিলো। বৃষ্টি কমলে ময়লা সরিয়ে ফেলা হবে। আর ড্রেনের কাজ চলমান বলেও তিনি জানান।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



মান্দায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে একজনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৮৭জন দেখেছেন

Image

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা ;নওগাঁ:নওগাঁর মান্দায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আবদুল গফুর (৪৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুলাইর)দুপুর আড়াইটার সময় উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউপি'র টিটিহারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত আবদুল গফুর টিটিহারি গ্রামের মৃত নছের উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, নিহত আবদুল গফুর তার নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক সক লেগে মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মোজাম্মেল হক কাজী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত আবদুল গফুর তার নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানবশত বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটে তার মৃত্যু হয়েছে। কোন অভিযোগ না থাকাই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



ছাত্রলীগ ও কোটা আন্দোলনকারীদের পালাপাল্টি কর্মসূচি আজ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৮৩জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ আজ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি ডেকেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অপরদিকে, আন্দোলনকারীদের হামলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী আহতের ঘটনায় কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রলীগ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবেন তারা। তিনি বলেন, এরপরও যদি কোটা বাতিল করা না হয় তবে সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর দেড়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সোমবার রাতে এক ব্রিফিংয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিভিন্ন হলের ১০০টির বেশি রুম ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা কোটা আন্দোলনকে ইস্যু করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের প্রতিহত না করা পর্যন্ত ছাত্রলীগ মাঠ ছাড়বে না।

এর আগে, সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেয় কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ। পরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের শতাধিক আহত হন বলে জানা যায়। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া যায়।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



চিকিৎসা নিতে গিয়ে ইন্ডিয়ায় নিখোঁজ এক বাংলাদেশী পারালাইজড রোগী

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ৯৭জন দেখেছেন

Image

এম এম হারুন আল রশীদ হীরা; নওগাঁ:ইন্ডিয়ায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে এবার নিখোঁজ হয়েছেন এক বাংলাদেশী পারালাইজড্ রোগী। বাংলাদেশী আত্মীয় স্বজনদের জানিয়ে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্য রওয়ানা হবার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনায় নিখোঁজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে চরম হতাশা ও নানান উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তামানে তাদের মধ্যে হাহাকার বিরাজ করছে। তিনি বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন নাকি জেলহাজতে আছেন তা জানা যায়নি। নিখোঁজ ওই হতভাগা রোগীর নাম আবুল কালাম আজাদ মন্ডল (৬১)। তিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউপির বড়পই মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত ফজেল উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তাঁর জাতীয় পরিচয়পন্র নম্বর. 19626414754866935, স্মার্ট পরিচয়পত্র নম্বর. 2811581970, পাসপোর্ট নম্বর.AD 6982840 ও ভিসা নম্বর.VL8274894.আজাদের স্ত্রী রোকসানা খাতুন সাংবাদিকদের কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, নিখোঁজ তাঁর স্বামী একজন প্যারালাইজড্ রোগী। তিনি ২০১৪ সালে হঠাৎই একদিন স্ট্রোক করেন। এ স্ট্রোকের কারণে  তাঁর ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে যায়। তাঁর ডানহাত সব সময় কাঁপতে থাকে। তারপর থেকে তিনি এ রোগে ভুগছিলেন। বাংলাদেশের মধ্যে  অনেক বারবার চিকিৎসা করেও তাঁর স্বামীর তেমন কোন উন্নতি হয়নি। রাজশাহীর পপুলার ও ইসলামী ব্যাংক  হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হলে তাঁদের পরামর্শে ইন্ডিয়া নিয়ে চিকিৎসা করার জন্য একটা সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন কাগজপত্র জোগাড়, আবেদনপত্র দাখিল করে পাসপোর্ট ও ভিসা করতে নানা সময় পেরিয়ে যায়।  অবশেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাসপোর্ট হাতে আসে। তারও ৬ মাস পরে অনেক চেষ্টায় একই বছরের ডিসেম্বরে কাঙ্ক্ষিত ইন্ডিয়ার ভিসা পাওয়া যায়।তিনি আরো জানান, তাঁর স্বামী আজাদ পাসপোর্ট ও ভিসা পাওয়ার পরে গত ২৮-০২-২০২৪ তারিখ বুধবার অনুমান বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে দিনাজপুর জেলার অর্ন্তগত হিলি সীমান্ত পথে বৈধভাবে ইন্ডিয়া চিকিৎসার জন্য যান। তিনি ইন্ডিয়ার বাসিন্দা মৃত সহদেব চন্দ্রের ছেলে খড়গেশ্বরের মাধ্যমে ইন্ডিয়ার বেঙ্গালুরুর মনিপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে চান। তাই পূর্বপরিচিতি ইন্ডিয়ার উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ এলাকার খড়গেশ্বরের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। সেখানে তিনদিন অবস্থান করেন এবং বাংলাদেশে আমাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এক সময়ের আমাদের এলাকার বড়পই পূর্বপাড়ার এ বাসিন্দা ধূর্ত খড়গেশ্বর আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া সব টাকা জমা নিয়ে তার পরিচিত এক দালাল মারফত পাঠাতে চাইলে তাঁর স্বামী ও-ই খড়গেশ্বরের কথামতো দালালের মাধ্যমে যেতে অস্বীকার ও অপারগতা প্রকাশ করেন। এবং তাঁর স্বামী  নিজে একাকী ও-ই হাসপাতালে যেতে চান। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে চরম মনোমালিন্য ঘটে। এক পর্যায়ে তাঁর স্বামীর কাছে থাকা সব টাকা পয়সা (প্রায় সোয়া লাখ টাকা) কেড়ে নেওয়া হয় বলে তিনি ধারণা করছেন। পরে কৌশলে একটি পায়খানার ভেন্টিলেটর ভাঙ্গার নাটক সাজিয়ে তাঁর স্বামী নাকি সেখান থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে ধরে আটকিয়ে রাখেন খড়গেশ্বর ও তার পরিবারের সদস্যরা। (যদিও তাঁর স্বামী প্যারালাইজড রোগী ও ডানহাত সব সময় কাঁপতে থাকে )। ঘটনাটি ব্যাপকভাবে এলাকায় জানাজানি হলে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে পুলিশে সোপর্দ করতে বলেন তা খড়গেশ্বরের মোবাইলের +919907203093 হোয়াইটস্ আপ  ভিডিও কলে চিৎকার চেঁচামেচি করতে দেখা যায়। তখন ওই এলাকাবাসিরা বলে, হয় থানা পুলিশে দাও না হয় বাংলাদেশে ফেরত পাঠাও। তবে আমার স্বামী চিকিৎসা নিতে বেঙ্গালুরুতে যেতে চান।পরে তিনি মনিপাল হাসপাতালের উদ্দ্যেশে রওয়ানা দেন।  রওয়ানা দেবার তিনদিন পরে অন্ধপ্রদেশ এলাকায় আছেন বলে ধূর্তবাজ খড়গেশ্বরের মেয়ের কাছে নাকি জানানো হয়। এখানেই সন্দেহ হয়,তাঁদের কারো নম্বরে মোবাইলে জানানো হলো না। আবার খড়গেশ্বরের নম্বরে জানানো হলো না। জানানো হলো খড়গেশ্বরের মেয়ের কাছে, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ঘটনা।এদিকে দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও কোনভাবে তাঁর স্বামীর কোন সন্ধান বা তথা না পাওয়ায় প্রথমে মান্দা থানায় গিয়ে ঘটনাটি জানালে থানা পুলিশ হিলি কাস্টমস থানা এলাকার বলে সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপরে গত ১০-০৬-২০২৪ তারিখে হিলি কাস্টমস অফিসে গিয়ে ভিসা,পাসপোর্টসহ সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। এ সময় যোগাযোগ করতে মোবাইল বা টেলিফোন নস্বর চাইলে (সেখানে কর্তব্যরত কর্তৃপক্ষের কোন সদস্য হবে আমি নাম জানি না) বলে আমাদের নম্বর কাউকে দেওয়া হয় না। এখন আমরা জেনে ফোন দেব।আমি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তাঁর স্বামীর নিখোঁজের তথ্য জানতে চাই।এ বিষয়ে কুসুম্বা ইউপি চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে আমার কাছে  এ বিষয়ে কোন তথ্যা জানানো হয়নি।এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন,  যেহেতু ঘটনাটি দিনাজপুর জেলার হিলি কাস্টমস থানা এলাকার। তাই  এ ঘটনায় নিখোঁজ পরিবারকে হিলি থানায় গিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। হিলি কাস্টমস থানা কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন।তবে এ বিষয়ে হিলি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায়, তাঁদের কোন মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 


আরও খবর



গ্রীষ্মের রুক্ষ প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে সোনালু ফুল

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৯১জন দেখেছেন

Image

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: উত্তর জনপদের শষ্যভান্ডার খ্যাত সবুজ অরণ্যে ঘেরা নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার পথে-প্রান্তরে গ্রীষ্মের রুক্ষ প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে সোনালু ফুল। কালের বিবর্তনে এ উপজেলার পথ-ঘাটে আগের মত তেমন একটা দেখা যায় না সোনাঝড়া সোনালু ফুলের গাছ। 

সবুজ পাতা ছাপিয়ে সোনালি রঙের ফুলে সেজেছে সোনালু গাছ। প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি সোনালু ফুলের এ সৌন্দর্য। এ গাছটিকে বানরলাঠি বা বাঁদরলাঠি গাছও বলা হয়। সোনালি রঙের ফুল হওয়ার কারণেই মূলত এ গাছটির নামকরণ হয়েছে ‘সোনালু’। কবিগুরু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নাম দিয়েছিলেন অমলতাস। হিন্দিতেও গাছটিকে অমলতাস বলা হয়। ইংরেজিতে সোনালু গাছকে বলা হয় গোল্ডেন শোয়ার। তবে বাংলাদেশে অঞ্চল ভেদে এর নামের ভিন্নতা রয়েছে।

গ্রীষ্মের রুক্ষ প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে অলংকারের ন্যায় প্রকৃতিতে শোভা বৃদ্ধি করছে সোনালু ফুল। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মের দক্ষিণা হাওয়ায় সোনা ঝরা সোনালু ফুল যেন প্রকৃতির কানে দুলের মতো দুলছে।

বাংলাদেশের সিংহভাগ সোনালু গাছ জন্মায় প্রাকৃতিকভাবে। প্রকৃতির শোভাবর্ধনকারী ও ভেষজ গুণাবলি সম্পন্ন এই গাছটি বেশির ভাগই বেড়ে উঠছে অযত্ন আর অবহেলায়। সোনালু গাছের পাতা ও বাকল ভেষজগুণ সমৃদ্ধ। যা ডায়রিয়া ও বহুমূত্র রোগে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এ গাছ বেশি জন্মে। গাছটি সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিটার উঁচু হয়। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু নিচু ভূমিতে সোনালু গাছের জন্য আদর্শ স্থান।

জানা গেছে, গাছটির আদি নিবাস হিমালয় অঞ্চল হলেও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং মায়ানমার জুড়ে রয়েছে এর বিস্তার।

প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম রূপে সাজিয়ে তুলতে সোনালু ফুলের জুড়ি নেই। পরিবেশ ও প্রকৃতির শোভা বৃদ্ধিতে সোনালু ফলের জুড়ি নেই। গ্রাম-বাংলার শিশু-কিশোরীরা এখনো ওই ফুলকে কানের দুল হিসেবে লাগিয়ে খেলায় মেতে ওঠে। সোনালু ফুলে শোভিত জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লা।