Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

পেলোসির তাইওয়ান সফর যুক্তরাষ্ট্রের ‘অস্পষ্ট পরিকল্পনার’ ফল

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২১জন দেখেছেন
Image

একদিক থেকে ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর বেশ সাহসী পদক্ষেপ। দ্বীপটির সঙ্গে একেবারে নির্দোষ সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও হয়রানি করতে ছাড়ে না চীন। লিথুয়ানিয়া তার রাজধানী ভিলনিয়াসে তাইওয়ানকে একটি অফিস খোলার অনুমতি দিয়ে চীনের ক্ষোভ বুঝতে পেরেছে। হুমকি পেয়েছিলেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পেলোসিও। চীন বলেছে, তিনি তাইওয়ান গেলে চীনা সেনাবাহিনী চুপচাপ বসে থাকবে না। যদিও এই সফরে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে পেলোসির, যেমনটা ১৯৯৭ সালে করেছিলেন তার পূর্বসূরী নিউট গিংরিচ। তার এই সফর সম্ভবত অন্যদেরও চীনা হয়রানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।

অন্যদিক থেকে দেখলে, পেলোসির তাইওয়ান সফর চীনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্পষ্ট বা অসঙ্গত পরিকল্পনার লক্ষণ। যদি তাই হয়, এই সফর শক্তির ঝুঁকি বোঝানোর পরিবর্তে বাইডেন প্রশাসনের বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যহীনতাই তুলে ধরছে।

প্রথম সমস্যা হলো পেলোসির সময় নির্বাচন। সন্দেহাতীতভাবে এমন কিছু সময় রয়েছে যখন চীনের মোকাবিলা করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত এটি বোঝাতে যে, তারা নিজের স্বার্থ, অধিকার ও মূল্যবোধ রক্ষায় সচেষ্ট। কিন্তু এ ধরনের সময়গুলো প্রায়শই উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে ভরা। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এই সময়গুলো সাবধানে নির্বাচন করা।

চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের জন্য এটি খুবই সংবেদনশীল সময়। সামনেই কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস, যেখানে তিনি তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বছর মেয়াদে ক্ষমতালাভ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর জন্য অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছেন জিনপিং। তিনি চীনা জাতীয়তাবাদের একটি আক্রমণাত্মক রূপ লালন করছেন এবং তাইওয়ানের সঙ্গে ‘পুনঃএকত্রীকরণ’কে তার ‘জাতীয় পুনরুজ্জীবনের’ লক্ষ্যে যুক্ত করেছেন। এগুলো বাস্তবায়নে জিনপিং কতটা দৃঢ়সংকল্প, তা পরীক্ষার জন্য সময়টা খুবই বিপজ্জনক।

আরেকটি সমস্যা হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ন্যান্সি পেলোসির সমন্বয়ের অভাব। তার পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বাইডেন সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন, এই মুহূর্তে তাইওয়ান সফর কোনো ভালো পরিকল্পনা নয়। তবে এই খবর ফাঁস হয়ে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে আর কোনো সহজ পথ ছিল না: হয় পেলোসির সফরকে সমর্থন করে চীনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি নেন অথবা তাকে যেতে বাধা দিয়ে চীনা হুমকির সামনে মাথানত করেন এবং রিপাবলিকানদের জন্য সমালোচনার দুয়ার খুলে দেন।

এটি সত্য যে, মার্কিন কংগ্রেস কার্যনির্বাহী শাখা থেকে আলাদা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাইওয়ান নীতি আঞ্চলিক লড়াইয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ন্যান্সি পেলোসির এই সফর বাইডেনের দ্বিধান্বিত মনোভাব ও কর্তৃত্বের অভাবকেই স্পষ্ট করেছে।

তারচেয়েও খারাপ বিষয় হলো, পেলোসির সফরের ঝুঁকি ফাঁস করে দিয়েছে, বাইডেন প্রশাসন তার তাইওয়ান নীতি সম্পর্কে এখনো কতটা অনিশ্চিত। সফরটি যদি শেষমেশ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়, তাহলে দোষ হয়তো চীনেরই হবে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি বাইডেন ও তার দলেরও পরীক্ষা নেবে, এই মুহূর্তে যাদের ইউক্রেন যুদ্ধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তারা কি প্রস্তুত?

(দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে, অনুবাদ করেছেন খান আরাফাত আলী)


আরও খবর



আমরা তরুণ তবে শিখতে আসিনি, জিততে এসেছি: সোহান

প্রকাশিত:Saturday ৩০ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২০জন দেখেছেন
Image

শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়া সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমদের কেউই নেই এ সিরিজে।

নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বে একঝাঁক তরুণ ও নতুন ক্রিকেটারকে পাঠানো হয়েছে জিম্বাবুয়েতে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারুণ্যনির্ভর দল সাজানোর পরিকল্পনা থেকেই জিম্বাবুয়েতে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে সব অভিজ্ঞ তারকাদের।

তবে পরিকল্পনা যাই হোক, নতুন অধিনায়ক সোহানের সহজ কথা- সিরিজ জিততেই জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছেন তারা। দলে তরুণ বা অপরীক্ষিত খেলোয়াড়দের উপস্থিতি থাকলেও, সে কারণে যে শিখতে জিম্বাবুয়ে গেছেন তারা- মোটেও তা নয়।

ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে সোহানের দৃপ্ত কণ্ঠে শোনা গেলো, ‘আমরা জানি সামনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারি। তবে সেজন্য আমরা তৈরি। আপনি হয়তো বলতে পারেন এটি তরুণ দল। তবে আমরা শিখতে আসিনি, জিততে এসেছি।’

নিজের দলকে অনভিজ্ঞও মানতে নারাজ টাইগারদের নতুন অধিনায়ক, ‘আপনি বলতে পারেন না যে আমরা অনভিজ্ঞ দল। কারণ অনেক খেলোয়াড়ই ৬-৭ বছর ধরে খেলছে। তাই আমার মনে হয় অভিজ্ঞতা ঠিক আছে। কন্ডিশন হয়তো একটু আলাদা। তবে এটি অজুহাত হতে পারে না।’

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের চিরায়ত সমস্যার একটি হলো পাওয়ার হিটিং। দেশ ছাড়ার আগে দলের অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান সরাসরিই বলেছেন, তারা চাইলেও আন্দ্রে রাসেল বা কাইরন পোলার্ড হতে পারবেন না। একই মত সোহানেরও।

তবে পাওয়ার হিটিংকে এক পাশে সরিয়ে রেখে নিজেদের বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলার প্রত্যয় সোহানের, ‘আমরা আমাদের ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট খেলতে চাই। অনেক দল আছে যারা পাওয়ার হিটিংয়ে এগিয়ে। তবে আমরা যদি বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে সবসময়ই সুযোগ থাকবে।’


আরও খবর



সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করলো দুদক

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

নদী থেকে বালু উত্তোলন ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গতকাল (রোববার) দুদক সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সেলিম খানের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদনের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, অনুসন্ধানে সেলিম খানের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের প্রমাণও মিলেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, দুদকের অনুসন্ধানে সেলিম খানের নামে ৩৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ সম্পদের দালিলিক মূল্য অনুযায়ী মোট সম্পদের হিসাব করা হয়েছে।

সচিব জানান, সেলিম খানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কমিশনের অনুমোদনক্রমে তার বরাবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়। সেলিম খান সম্পদ বিবরণী দাখিল করলে তা যাচাই-বাছাই শেষে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের প্রমাণ পায় দুদক। আর এ কারণেই দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় কমিশন কর্তৃক একটি মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়।


আরও খবর



সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ২৩ জুলাই ২০২২

প্রকাশিত:Saturday ২৩ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ৭১জন দেখেছেন
Image

আমাদের চারপাশে অসংখ্য ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। এর মধ্যে হয়তো আলোচনায় আসে হাতেগোনা কিছু। তবে সময় ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বেশকিছু বিষয়। এগুলো জানা না থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে হয়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা থেকে সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংবাদ থাকছে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য-

মাঙ্কিপক্স: বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি ডব্লিউএইচওর
এবার মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শনিবার (২৩ জুলাই) ডব্লিউএইচও ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্সের বিস্তার আন্তর্জাতিক উদ্বেগের পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সারা বিশ্বের সরকারগুলো ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে চেষ্টা চালালেও ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়ার ‘সুস্পষ্ট ঝুঁকি’ রয়েছে।

চুক্তির পরের দিনই ওডেসা বন্দরে রাশিয়ার হামলা
ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলোতে পুনরায় শস্য রপ্তানি চালু করার জন্য রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরেই এই হামলা চালানো হলো। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন ডলার এত শক্তিশালী কেন?
মার্কিনিদের জন্য ইউরোপ ভ্রমণের এখন দারুণ সময়। চলতি মাসের শুরুর দিকে গত দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারের সঙ্গে সমতা হারায় ইউরো। তবে মার্কিনিদের কেবল ইউরোপ ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। কারণ ইদানিং বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই তাদের জন্য সস্তা হয়ে উঠেছে। এ বছর ইয়েনের বিপরীতে ১৫ শতাংশ, পাউন্ডের বিপরীতে ১০ শতাংশ এবং ইউয়ানের বিপরীতে পাঁচ শতাংশ মূল্যমান বেড়েছে ডলারের।

কেমন আছেন বাইডেন?
সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এদিকে হোয়াইট হাউজে বাইডেনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যা কমে এসেছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই হোয়াইট হাউজে আইসোলেশনে ছিলেন ৭৯ বছর বয়সী এই নেতা।

আবের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ২৭ সেপ্টেম্বর
আততায়ীর গুলিতে নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর । এতে বিশ্বনেতারা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানের রাজধানী টোকিওর নিপ্পন বুডোকানে এ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান করা হবে। নিপ্পন বুডোকান দেশটির একটি বিশাল ইনডোর মিলনায়তন, যেখানে বড় বড় কনসার্ট ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি গ্রেফতার
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ও তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জিকে গ্রেফতার করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পার্থ চ্যাটার্জির নাকতলার বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যায় ইডির একটি দল। রাতভর মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

অবশেষে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন হামজা শাহবাজ
পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদের (পিএমএল-কিউ) ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) যৌথ প্রার্থী চৌধুরী পারভেজ এলাহির বিরুদ্ধে নাটকীয়ভাবে তিন ভোটে জয়ের পর পিএমএল-এন নেতা হামজা শাহবাজ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। শনিবার (২৩ জুলাই) তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হামজা শাহবাজ দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ছেলে।

ইরানে বন্যায় ২২ জনের মৃত্যু
ইরানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। শনিবার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তারা বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেন। তারা জানিয়েছেন, প্রাদেশিক রাজধানী শিরাজ থেকে ১৭৪ কিলোমিটার পূর্বের ইস্তাহবান শহরে জরুরি বিভাগের ১৫০ কর্মী সেখানে কাজ করছেন।

লঙ্কান প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে খোয়া গেছে মূল্যবান সহস্রাধিক জিনিসপত্র, যার মধ্যে রয়েছে দুর্লভ শিল্পকর্মও। সম্প্রতি কলম্বোর প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন টেম্পল ট্রিজে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়ার পর এসব জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৬ বছর আগে ভারতের স্টার্টআপ ছিল ৪৭১, এখন ৭২৯৯৩
২০১৬ সালে ভারতে স্বীকৃত স্টার্টআপ ছিল মাত্র ৪৭১টি। কিন্তু পরের ছয় বছরেই তা বেড়ে হয়েছে ৭২ হাজারের বেশি। শুক্রবার (২২ জুলাই) ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী সোম প্রকাশ এ তথ্য জানিয়েছেন। রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে ভারতীয় মন্ত্রী বলেছেন, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম যে কোনো দেশের জন্য প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি। এটিকে স্বীকার করে সরকার ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি চালু করে, যার লক্ষ্য ভারতের স্টার্টআপ সংস্কৃতিকে লালন করার জন্য একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উদ্যোক্তাদের সমর্থন এবং বৃহৎ আকারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।


আরও খবর



পতাকার মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১২জন দেখেছেন
Image

হাফেজ মাওলানা গোলাম সরওয়ার

ইসলামে পতাকার প্রচলন ঘটে হিজরতের সময়। হজরত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের উদ্দেশ্যে যখন মদিনার পথ ধরেন, রাস্তায় বারিদা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত হয়। পুরস্কারের লোভে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ধরতে এসেছিলো। কিন্তু সে মুসলমান হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গী হয়ে যান।

ইসলামের প্রথম পতাকা
১. হজরত বারিদা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, মদিনায় প্রবেশকালে আপনার একটি পতাকা থাকা দরকার। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাথা থেকে পাগড়ি খুলে, বর্শার মাথায় বেঁধে হজরত বারিদাকে দেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় প্রবেশের সময় হজরত বারিদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটিকে পতাকা হিসেবে ব্যবহার করেন। শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে ওই পতাকা ব্যবহার হয়েছিলো। এটাই ইসলামের প্রথম পতাকা। তবে বারিদা নিজের পাগড়িকেই পতাকা হিসেবে ব্যবহার করেছিলো বলে অনেক বর্ণনায় পাওয়া যায়। (যারকানি, শরহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ)

২. হজরত ইবনুল আছির আল-জাজারি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল কামেল’ এ লেখেন, ‘হিজরতের প্রথম বছর সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় চাচা হজরত হামজার হাতে পতাকা ওঠিয়ে দেন। পতাকার রং ছিলো সাদা। বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিলো ত্রিশজন। তাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছিলো কুরাইশদের একটি কাফেলাকে ধাওয়া করার জন্য। পথে আবু জাহেলের সঙ্গে সাক্ষাত হয়। কিন্তু মাজদি ইবনে আমর আল-জুহানি নামক একজন নেতার মধ্যস্ততায় যুদ্ধ থেকে উভয় পক্ষ বিরত থাকে। মুসলমানদের পতাকাবাহী ছিলেন আবু মুরছাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু। ওই পতাকাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম বেঁধেছিলেন।’ (আল কামেল ফীত তারিখ)

তবে দুই বর্ণনায় সামঞ্জস্য বিধান সম্ভব এভাবে যে, যুদ্ধের পতাকা হিসেবে হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পতাকা ইসলামে সর্বপ্রথম। আর সাধারণ পতাকা হিসেবে হজরত বারিদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পতাকা প্রথম। আল্লাহ তাআলাই উত্তম জানেন।

নবিজির পতাকার রং
১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুধরনের পতাকা ব্যবহার করতেন। ‘রায়া’ ওই পতাকা যা যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতির জন্য ব্যবহৃত হতো। এই পতাকার নিচে থেকেই বাহিনী যুদ্ধ করতো। যতক্ষণ পতাকা উড়তো ততক্ষণ যুদ্ধ চলতো। ময়দানে কখনো বিশৃঙ্খলা হলে নিজেদের সৈন্যদলকে চিহ্নিত করার মাধ্যম ছিলো এই পতাকা। বদর যুদ্ধে এই পতাকা ছিলো হজরত আলি ও সাদ ইবনে মুআজ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাতে। এই পতাকার রং ছিলো কালোর ভেতর সাদা দিয়ে ইসলামের কালেমা। (সুনানে আবু দাউদ)

২. দ্বিতীয় পতাকা ছিলো ‘লিওয়া’। এটা ছিলো রাষ্ট্রের প্রতীক। রাষ্ট্রপ্রধান বা ইমামুল মুসলিমিন এই পতাকা ব্যবহার করতেন। যুদ্ধের ময়দানে এই পতাকা বর্শার অগ্রভাগে বেঁধে রাখা হতো। বদর যুদ্ধে এই পতাকা ছিলো হজরত মুসআব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাতে। এই পতাকার রং ছিলো সাদার ভেতর কালো দিয়ে ইসলামের কালেমা। হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাতে সাদা পতাকা ছিলো।’ (আবু দাউদ)

দুই রঙের পতাকা ব্যবহারের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সাদা পতাকা ব্যবহার দ্বারা বুঝানো হয়েছে, ইসলাম সহজ-সরল জীবনব্যবস্থা। এর অনুসারীদের জীবন লৌকিকতা মুক্ত। এখানে ভীতিপ্রদর্শন, কঠোরতা ও বক্রতার কোনো স্থান নেই। এমন কি যারা ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম হিসেবে বসবাস করবে, তাদের ওপরও কোনো চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।

৩. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধের পতাকার রং ছিলো কালো। কালো হচ্ছে আতঙ্ক ও ভয়ের চিহ্ন। এর দ্বারা বিরোধীদেরকে বার্তা পৌঁছানো হতো যে, যারা সাম্য ও ন্যায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদের প্রতি ইসলাম কোনো রহম বা দয়া দেখাবে না। তারা শুধু ইসলামের কঠোরতাকে দেখতে পাবে।

৪. এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পতাকার বর্ণ হলুদ ছিলো। যেমন হজরত সেমাক ইবনে হারব নামক একজন সাহাবি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য হলুদ বর্ণের পতাকা দেখেছি।’ (আবু দাউদ)

৫. কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু সুলাইম গোত্রকে লাল বর্ণের পতাকা দিয়েছিলেন।

সমাধান
আল্লামা আইনি বলেন, বর্ণনার এই বিরোধগুলোর সমাধান হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন বর্ণের পতাকা ব্যবহার করতেন। তবে রাষ্ট্রীয় পতাকা হিসেবে সাদা এবং যুদ্ধের পতাকা হিসেবে কালো বর্ণের পতাকাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পতাকার নাম
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় পতাকার নাম রেখেছিলেন ‘উকাব’। উকাব আরবি শব্দ। বাংলা অর্থ হচ্ছে ঈগল। উর্দুতে বলা হয় শাহীন। এই শব্দ দ্বারা নামকরণের কারণ হচ্ছে, ‘উকাব’ পাখিদের সর্দার। কোনো পাখি এর সঙ্গে মোকাবিলা করার সাহস পায় না। ‘উকাব’ নির্ভীকতা, ক্ষীপ্রতা ও সৌখিনতার প্রতীক। নববি পতাকাবাহীদের মাঝেও এই গুণগুলোর সমাহার ঘটেছিলো। তাই এই শব্দে নামকরণ করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বেও বিভিন্ন দেশের পতাকায় ও বাহিনীর প্রতীকে ঈগলের ছবি ব্যবহার হয়। ঈগল নিয়ে বহু কবিতা ও সাহিত্য রচনা হয়েছে। প্রাচ্যের কবি আল্লামা ইকবাল ঈগল নিয়ে বহু কবিতা রচনা করেছেন। মুসলিম যুবকদেরকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘যখন মুসলমান নওজোওয়ানদের ভেতর ঈগলের আত্মা জাগবে বিশ্ব জয়ের নেশায় তারা মত্ত হয়ে যাবে।’

নবিজির পরবর্তী যুগে ইসলামের পতাকা
যুদ্ধের পতাকা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরবর্তী যুগেও কালো বর্ণের ছিলো। তবে রাষ্ট্রীয় পতাকায় সময়ে সময়ে পরিবর্তন এসেছে। প্রথম দুই যুগ অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর চার খলিফা এবং উম্মাইয়াদের সময়ে পতাকার রং আগের মতোই সাদা ছিলো। আব্বাসীয়াদের আমলে পতাকার রং ছিলো কালো। শীয়া মতাদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ফাতেমিদের পতাকার রং ছিলো সবুজ। উসমানীয়দের পতাকা ছিলো লালের মাঝে অর্ধচন্দ্র।

ইসলামে পতাকার মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরোধীদের সঙ্গে সরাসরি প্রায় সাতাশটি যুদ্ধ করেছেন। তাঁর প্রিয় সাহাবিদের দ্বারা চল্লিশেরও বেশি যুদ্ধ করিয়েছেন। সবকটি যুদ্ধে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে পতাকা বহনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সাতাশটি যুদ্ধের অন্যতম একটি ছিলো মুতার যুদ্ধ। বহু কারণে যুদ্ধটি ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত : এতদিন মুসলমানদের যুদ্ধ ছিলো মক্কার মুশরিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। যারা যুদ্ধে কোনো প্রশিক্ষিত বাহিনী ছিলো না। অন্যদিকে মুতার যুদ্ধ ছিলো রোমানদের বিরুদ্ধে। যারা ছিলো তৎকালিন বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত যোদ্ধ।
দ্বিতীয়ত : এতদিন যত যুদ্ধ হয়েছে, তা ছিলো হেজাযের ভূমিতে। অর্থাৎ মদিনার আশপাশ এলাকায়। কিন্তু এবারের যুদ্ধ মদিনা থেকে বহু দূর সিরিয়ার অঞ্চলে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যায়ক্রমে চারজন সেনাপতি ঠিক করলেন। প্রথম সেনাপতি ছিলেন যায়েদ ইবনে হারেছা। তিনি পতাকা নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। তার শাহাদাতের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচাতো ভাই জাফর ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু সেনাপতি হলেন। তিনি প্রথমে ডান হাত হারান। তখন বাম হাতে পতাকা তুলে ধরেন। কিছুক্ষণ যুদ্ধের পর বাম হাতও কাটা পড়ে। তিনি তখন নিজের শরীরের সঙ্গে পতাকা চেপে ধরেন। তারপরও পতাকা ভুলুণ্ঠিত হতে দেননি। এভাবে তিনজন সেনাপতি শহিদ হয়েছেন, কিন্তু ইসলামের পতাকাকে ভুলুণ্ঠিত হতে দেননি। এটাই প্রমাণ করে পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা গুরুত্ব কত বেশি।

পতাকা শুধু একটি কাপড় নয়...
কোনো জাতির পরিচয়ের জন্যও শুধু পতাকা নয়। বরং পতাকা হচ্ছে, জাতির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, চিন্তা-চেতনার প্রতিনিধিত্বকারী। ইসলামের লক্ষ্য হচ্ছে সাম্য ও ভ্রাত্বের দাওয়াতকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। আল্লাহর দ্বীনের গৌরব প্রতিষ্ঠা করা। জালেমকে প্রতিহত করা। মাজলুমকে সুরক্ষা দেয়া। তাই ইসলামের পতাকার পতন মানে মুসলমানদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া। অন্যদের সামনে মুসলমানদের নতজানু হওয়া। এই অন্তর্নিহিত কারণেই সাহাবায়ে কেরাম কখনো যুদ্ধের ময়দানে পতাকা ভুলুণ্ঠিত হতে দিতেন না। বাহ্যিক কারণও ছিলো। যে বাহিনীর পতাকার পতন ঘটে, ধরে নেওয়া হয় তারা পরাজিত হয়েছে। তখন সৈন্যবাহিনী যুদ্ধের হাল ছেড়ে দেয়।

পতাকা নিয়ে সমকালিন কিছু বিধিবিধান
বর্তমান সময়ে দেশের সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার লাশকে জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। ইসলামে এর বৈধতা আছে কিনা তা অনেকে জানতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের মত হচ্ছে, ‘মৃতব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার লাশ, খাটিয়া বা গাড়িকে অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, মৃতব্যক্তির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা এবং তাকে সম্মান জানানো। শরীয়তের দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে বিশেষ কোনো কালারকে আবশ্যক মনে করা ঠিক নয়। উত্তম হচ্ছে সাদা কাপড় ব্যবহার করা।

জাতীয় পতাকা দিয়ে কফিন ঢাকা
জাতি ও রাষ্ট্রের বিশেষ সেবা আঞ্জাম দেয়ার খাতিরে কারো কফিনকে যদি জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় তাহলে এটা বৈধ হবে। কারণ, এটাকে সওয়াবের কাজ মনে করে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমনিভাবে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ মুসলমানের কাফনের ওপর যদি পতাকা দেওয়া হয় এই উদ্দেশ্যে যে, তার দ্বারা যেন অন্যরা স্বাধীনতার যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ হয় তাহলেও এর সুযোগ আছে। তবে উত্তম হচ্ছে, মৃত ব্যক্তির কফিন ইত্যাদিতে পতাকা না দেওয়া। প্রয়োজনে সম্মানের খাতিরে সাদা কাপড় দেওয়া।

মনে রাখতে হবে
কোনো পতাকা যদি ভাষাগত বা আঞ্চলিক জাতীয়তা কিংবা শরীয়ত বিরোধী কাজের প্রতীক হয় তাহলে তা দ্বারা মৃতব্যক্তি বা তার কফিন ঢাকা জায়েজ হবে না। ’ (দারুল ইফতা, জামিয়া উলুমিয়া ইসলামিয়া আল্লামা বিননূরী টাউন, অনলাইন ফতোয়া নম্বর-১৪৪০১০২০০২৩৩)
দ্বিতীয় বিধান হচ্ছে জাতীয় পতাকাকে সালাম দেওয়া। এ ব্যাপারে মত হচ্ছে, ‘পতাকার সামনে দাঁড়ানো বা সালাম দেওয়া নির্দিষ্ট বাহিনীর আইন। তাই এমন করতে কোনো সমস্যা নেই। তবে পতাকার সামনে ঝুঁকা জায়েজ হবে না। কারণ, ঝুঁকে কোনো বস্তুকে সম্মান দেখাতে শরীয়তে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ঝুঁকে সম্মান প্রদর্শন করলেও এটাকে শিরকি আমল সাব্যস্ত করা যাবে না’। (দারুল ইফতা, জামিয়া উলুমিয়া ইসলামিয়া আল্লামা বিননূরী টাউন, অনলাইন ফতোয়া নম্বর-১৪৪১০৪২০০১৬৫)

লেখক : শিক্ষক, নারায়ণকুল ড্রিম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুবাইল, গাজীপুর।


আরও খবর



একসঙ্গে বসবাস, বিয়ের খবরে সঙ্গীকে কুপিয়ে খুন করেন আহিনা

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১০জন দেখেছেন
Image

প্রায় তিন বছর আগে আলী নূরের সঙ্গে পরিচয় হয় আহিনা খাতুনের। এরপর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। একপর‍্যায়ে তারা একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। বিয়ে না করেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন তারা। এভাবেই কাটতে থাকে তাদের দিন।

কিন্তু ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ৩০ জুলাই। এদিন আলী নূরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। র‍্যাব বলছে এ হত্যায় আহিনা খাতুন জড়িত।

জিজ্ঞাসাবাদে অহিনা খাতুন জানান, গত ১৪ জুলাই আলী নূর তার গ্রামের বাড়িতে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এ কথা শুনে আলী নূরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতে ঘুমন্ত আলী নূরকে বটি দিয়ে মাথা, গলা এবং বুকে কুপিয়ে হত্যা করেন আহিনা খাতুন। এরপর রক্তাক্ত লাশ দেখে ভয় পেয়ে যান তিনি। এসময় লাশটি কাঁথা চাপা দিয়ে রেখে পালিয়ে যান আহিনা খাতুন।

সাভারের আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আহিনা খাতুনকে (২৯) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজার এক সংবাদ সম্মেলনে রোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি জানান, নিহত আলী নূর মাগুরার শ্রীপুরে থাকতেন। ২০১৪ সালে চাকরির সন্ধানে ঢাকা আসেন তিনি। ঢাকা এসে প্রথমে পোশাককর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন ধরে তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

jagonews24

র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, আলী নূর ও আহিনা খাতুন পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে না করেই স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে আশুলিয়ায় বিভিন্ন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। গত তিন বছরে তারা পাঁচবার বাসা পরিবর্তন করেন। আলী নূর কিছুদিনের জন্য তার গ্রামের বাড়ি গেলে আহিনা খাতুন জানতে পারেন যে, ১৪ জুলাই আলী নূর তার গ্রামের বাড়িতে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেছেন।

এরপর আলী নূর ১৭ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসেন। আলী নূরের বিয়ের কথা জানতে পেরে আহিনার মনে প্রচণ্ড রাগ তৈরি হয়। এরপর আলী নূরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আহিনা। তাদের মধ্যকার মান-অভিমান চলতে থাকলেও ২৯ জুলাই আশুলিয়ার জিরাবোর নামাপাড়ায় একটি টিনশেড বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন।

র‍্যাব জানায়, এই বাসায় ঘটে হত্যাকাণ্ড। ৩০ জুলাই রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তারা দুজন। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী আহিনা খাতুন সেদিন ভোররাতে আলী নূরকে ঘুমন্ত অবস্থায় নৃশংসভাবে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।

আসামির বক্তব্য অনুযায়ী রক্তাক্ত লাশ দেখে তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে যান। ফলে লাশটি কাঁথা চাপা দিয়ে রাখেন। হত্যার পর আহিনা তার থালা-বাসন ও কাপড় একটি বস্তায় ভরে ঘর বাইরে থেকে তালা দেন। এরপর সেই বস্তা নিয়ে হেটে প্রথমে জিরাবো বাসস্ট্যান্ড যান।

সেখান থেকে বাসে করে আবদুল্লাহপুর যান। এখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার বাসে কুড়িল বিশ্বরোডে আসেন আহিনা। এরপর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসে করে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় যান। সেখানে আহিনা নিজেকে চাকরিপ্রত্যাশী পোশাককর্মী পরিচয় দিয়ে ২২০০ টাকা ভাড়ায় একটি টিনশেড বাসায় উঠেন।

ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, পরবর্তীতে আহিনা বিবেকের তাড়নায় ৩১ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে নিহতের ভগ্নীপতিকে ফোন দেন। তিনি তাদের জানান, আলী নূর অসুস্থ অবস্থায় আছে। তাকে বাঁচাতে তার পরিবার যেন দ্রুত আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় দেলোয়ার বেপারীর বাসায় যান। এরপর ১ আগস্ট দুপুরের দিকে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন সেই বাসায় গিয়ে দেখতে পান ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ।

তারা বাসার মালিক ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জানালা খুললে ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। জানালা দিয়ে দেখতে পান, মেঝেতে কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় আলী নূরের মরদেহ পড়ে রয়েছে। পরবর্তীতে আশুলিয়া থানার পুলিশ এসে ঘরের তালা ভেঙ্গে ভেতর প্রবেশ করে মরদেহটি উদ্ধার করে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিভিন্ন মিডিয়ায় আসলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে ২ আগস্ট নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-৪ আসামি গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আহিনা খাতুনকে অভিযান চালিয়ে কাঁচপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আহিনা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, নীলফামারীর একটি স্কুল থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ২০১২ সালে মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার প্রথম বিয়ে হলেও পারিবারিক কলহের জেরে দেড় বছর পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে ছেলেকে বাবার বাড়ি রেখে ২০১৮ সালে ঢাকায় আসেন। এরপর আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। চাকরির সুবাদে আলী নূরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।


আরও খবর