Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ভাষণ এবং আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৫৬জন দেখেছেন
Image

২৫ জুন ২০২২ বাঙালির ইতিহাসে এক অনন্য দিন হিসেবে পরিগণিত হবে অনাদিকাল। কারণ এই দিনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। এক অসম্ভবকে সম্ভব করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, সামর্থ্য কখনোই উন্নয়নের বাধা হতে পারে না। মানুষের উদ্দেশ্য যদি সৎ থাকে এবং মনে প্রত্যয় থাকে তাহলে যে কোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

আমাজন পৃথিবীর সবচেয়ে খরস্রোতা নদী। এর পরই পদ্মার অবস্থান। এই খরস্রোতা ও প্রমক্তা পদ্মার ওপরে ৬ দশমিক ১৫ মিলিমিটার সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের সক্ষমতার বিষয়টি। এই নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বাংলাদেশের এই অর্জনকে।

আজকের লেখায় পদ্মা সেতুর কারিগরি দিক কিংবা অর্থনীতির প্রভাব সেই সম্পর্কে আলোকপাত না করে একটু ভিন্ন মাত্রার আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আমি টেলিভিশনের পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনেছি। তাঁর বক্তব্য শুনে অন্য রকম এক শেখ হাসিনাকে আবিষ্কার করেছি, যিনি অত্যন্ত বিনয়ী এবং আত্মবিশ্বাসী। বক্তব্যের পুরোটা সময় আমি বিমোহিত হয়ে তাঁর কথাগুলো শুনেছি। মাঝে মাঝেই তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছিল। বঙ্গবন্ধু যেমন খুবই দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে সব সময় জনগণের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতেন, ঠিক তেমনি ভাবে আজ শেখ হাসিনা আত্মবিশ্বাসের সাথে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে এত বড় অর্জন দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেনি। এখানে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব অনেক বেশি। পদ্মা সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলতা অনেক বেশি ছিল। কারণ পদ্মা অসম্ভব খরস্রোতা নদী। সেই খরস্রোতা নদীর ওপরে এই ধরনের একটি মহাযজ্ঞ নির্মাণ করা অত্যন্ত জটিল কাজ ছিল। তাঁর ভাষণের মাধ্যমে একজন যোগ্য নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তিনি অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে পদ্মা সেতুর সার্বিক বিষয়ে আজ তুলে ধরেছেন শ্রোতাদের সামনে। তিনি একদিকে যেমন পদ্মা সেতুর চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে দেশি এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন জাতির সামনে।

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে পদ্মা সেতুকে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রমাণ করেছে বাঙালি বীরের জাতি। বাঙালি জাতি চাইলে যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেমন স্বাধীন হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পদ্মা সেতু করে দেখিয়েছে। বক্তব্যের মাঝখানে আমি তাঁকে আবেগপ্রবণ হতে দেখেছি, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পরে বস্তুতপক্ষে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা এতিম হয়ে যান। তিনি তার ছয় বছরের বিদেশি জীবনের করুণ কাহিনি বর্ণনা করেছেন সংক্ষিপ্তভাবে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে তাঁরা দুই বোন অন্যরকম জীবন যাপন করছিলেন সে কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন তাঁর বক্তব্যে।

তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর প্রবাস জীবন চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করায় তিনি দেশে এসে বাংলাদেশের জনগণকে সেবা করার মাধ্যমে ভালোবাসা অর্জন করেছেন। পরক্ষণেই তিনি আবেগ থেকে বের হয়ে এসে কোনো রকম কটাক্ষ না করে যারা পদ্মা সেতুর সমালোচনা এবং বিরোধিতা করেছিলেন তাদের শুভবুদ্ধি উদয় হওয়ার প্রত্যাশা করেছেন। তিনি কারও প্রতি কোনো রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে সবাই মিলে যেন পদ্মা সেতুর অর্জনকে ভাগ করে নিতে পারি- সে বিষয়ে উদাত্ত আহ্বান জানান।

তিনি একই সাথে পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতু তৈরি হলে এবং ব্যবহার শুরু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার সাথে ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজতর হবে এবং সেই অঞ্চলের মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। পাশাপাশি পদ্মা সেতুকে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেছেন। কারণ পদ্মা সেতু ও সংযোগ সড়ক এশিয়ান হাইওয়ে রুট এএইচ-১-এর অংশ হওয়ায় তা যথাযথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। আবার একই সাথে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা পোর্টের কার্যকর ব্যবহার নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সর্বোপরি তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি হচ্ছে বাংলার মানুষকে এক হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে। তিনি বলেছেন, কত কষ্ট করে পদ্মা সেতু তৈরি করেছেন। কীভাবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে? তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

তাঁর পুরো ভাষণটি প্রত্যক্ষ করে আমি এক অনন্য উচ্চতার আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনাকে আবিষ্কার করেছি, যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তাঁকে দেখে অত্যন্ত সাবলীল এবং দৃঢ় মনে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পরে বাংলাদেশে এমন কোনো নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের অর্জনে শেখ হাসিনা শুধু দেশে না বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছেন। বাংলাদেশের নেতা থেকে তিনি আঞ্চলিক এবং পরে বৈশ্বিক নেতায় পরিণত হয়েছেন। আজ যার প্রতিচ্ছবি আমরা তাঁর মধ্যে দেখতে পেয়েছি। এত আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনাকে বাংলার মানুষ আগে কখনো দেখেছে বলে আমি অন্তত বিশ্বাস করি না।

তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন এবং আগামী নির্বাচনের বিষয়টিও জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছেন। জনগণকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তাঁর প্রচেষ্টায় জনগণ তাঁর ওপর আস্থা রাখায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের জনগণ তাঁর প্রতি আস্থা রাখবে-এ বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

শেখ হাসিনা বক্তব্য প্রদানের সময় তাঁর মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস আমি প্রত্যক্ষ করেছি সেই আত্মবিশ্বাসের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য অর্জন করে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে-একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। গত ১৩ বছরে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ কি অর্জন করেছে। অতএব তাঁর এই আত্মবিশ্বাস সম্মান জানিয়ে ২০২৩ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের উচিত শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখা। তাঁর প্রতি আস্থা রাখলে বাংলাদেশের উন্নতি হবে এবং বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

লেখক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর।


আরও খবর



‘ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সতর্ক রয়েছে’

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
Image

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী যে সংকট তৈরি হয়েছে তার প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বুধবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং আয়োজিত ‘যুব জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ঝুঁকি: উন্নয়ন নীতি এবং বরাদ্দ পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশই কৃচ্ছ্রতা নীতি অনসরণ করছে। জ্বালানি সংকট, খাদ্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ আমদানি-রপ্তানির ওপর প্রভাব পড়েছে। আর এটা শুধু বাংলাদেশে নয় পুরো বিশ্বে। শুধু টাকার মান কমেছে এটি সঠিক নয়। ইউরো, ইয়েন ও রুপীসহ অনেক দেশের মুদ্রার মান কমেছে।

তিনি জানান, সব দেশের সরকারই একটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য পলিসি গ্রহণ করে কাজ করে। পৃথিবীর কোনো দেশই গৃহীত পলিসি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারে না। সম্ভবও নয়। পরিবর্তন একদিনে আসে না। চোখের পলকে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিশ্বের কোনো দেশই পারেনি। সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে একটি দেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছে।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত করতে হলে যুব সমাজকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যুবারা দেশের শক্তি। আগামীর উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নের সারথি। তাদের অংশগ্রহণ দেশকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহজ করে দেবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিতে পথ নকশা তৈরি করেছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করে চলেছেন। দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, সাফল্যের গল্প আছে। এগুলো অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সমালোচনা থাকবেই। কোনো দেশের সরকার সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সাফল্য নেই এ কথা ঠিক নয়। এক সময় দেশে মানুষ অনাহারে থাকতো। এখন কিন্তু সেই পরিস্থিতি নেই। অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন এসেছে। খাদ্য ঘাটতি দূর করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ কৃষি, শিল্প কলকারখানা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সকল খাতে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশে একটা সময় রাস্তাঘাটে চলাচল করা যেত না। নারীরা রাতের বেলা বের হতে পারতো না। মানুষের মধ্যে সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করতো। সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনীকে লালন পালন করা হয়েছে। কিন্তু এখন আর সেই সময় নেই। দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছে।

নারীরা রাতের বেলা ঘোরাফেরা করছে নিরাপদে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন। দেশের মানুষকে সুখে এবং নিরাপদে রাখায় সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যক্ষ ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, ঢাবি অর্থনীতির বিভাগের প্রভাষক শাকিল আহমেদ।


আরও খবর



‘১০টায় ক্লাস, যানজটের কারণে বের হতে হয় সকাল ৭টায়’

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১৭ August ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

ঢাকার মিরপুরে থাকেন সুশান্ত সাহা। সেখান থেকে প্রতিদিন সন্তানকে নিয়ে মতিঝিলের নটর ডেম কলেজে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই তাকে বাসা থেকে বেড় হতে হয়। অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে ছেলের ক্লাস শুরু হলেও সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হন। এভাবেই প্রতিদিন সড়কে তার তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে।

বুধবার (৩ আগস্ট) আক্ষেপের সঙ্গে এ কথা জানান সুশান্ত সাহা। তিনি বলেন, মিরপুর-১১ নম্বর থেকে আসতে কখনো এক থেকে দেড় ঘণ্টা আবার কখনো তিন ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। আজ বুধবার গন্তব্যে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।

jagonews24

এদিকে বুধবার রাজধানীর কোথাও যানজট আবার কোথাও স্বাভাবিক চিত্র দেখা গেছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ তথ্য জানান জাগো নিউজের প্রতিবেদকরা।

তাদের তথ্য অনুযায়ী মিরপুর, আসাদগেট, বিজয় সরণি, তেজগাঁও, মহাখালী, সাতরাস্তার মোড়, রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান, মগবাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট দেখা যায়।

jagonews24

এর মধ্যে আবার কোথাও ছিল দীর্ঘ ট্রাফিক সিগন্যাল। ফলে এসব সিগন্যালে ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের। কোনো কোনো স্থানে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিকও দেখা গেছে।

কথা হয় আসাদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি একজন চাকরিজীবী। যাত্রাবাড়ী থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত আসতে তার দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, যাত্রাবাড়ী থেকে হানিফ ফ্লাইওভার পার হতে আগে ৩০ মিনিট সময় লাগলেও বর্তমানে এক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। সেখান থেকে মৎস্য ভবন আসতে ১০ মিনিট সময় লাগার কথা থাকলেও ৩০ মিনিটের বেশি লেগেছে।


আরও খবর



‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত ৭ খসড়া অযৌক্তিক’

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে মোট সাতটি খসড়া অযৌক্তিক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কাঞ্চন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সকরণ, ধূমপান এলাকা ব্যবস্থা বিলুপ্তিকরণ, খুচরা শলাকা নিষিদ্ধকরণ, পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞায় চায়ের দোকান অন্তুর্ভুক্তিকরণ, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ, ফেরি করে তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধকরণ এবং সার্বিকভাবে জরিমানার পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধিকরণসহ মোট সাতটি খসড়া তৈরি করেছে সরকার। যা ব্যবসায়ীদের জন্য হুমকিস্বরূপ।

tobako2

তিনি বলেন, এই খসড়া প্রণয়ন করা হলে ১৫ লাখ প্রান্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতা বেকার হবে। অবৈধ পণ্যে বাজার সয়লাব হবে এবং সরকার রাজস্ব হারাবে। এ অবস্থায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে নতুন এ আইন প্রণয়ন না করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



চবি ছাত্রলীগ সভাপতিকে কেন্দ্রের শোকজ

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Monday ১৫ August ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

‘শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। রেজাউল হক রুবেলও এ বিষয়ে এখনো জানেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার উপযুক্ত কারণসহ লিখিত জবাব তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দিতে হবে।

এ বিষয়ে রেজাউল হক রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, ‘কারণটা আমিও জানি না। আমি ঢাকায় যাচ্ছি, গেলে জানতে পারবো। কোথাও আমার ভুলত্রুটি হয়েছে অবশ্যই। কথা বলে সেটা সংশোধন বা জবাবদিহি করে আসবো।’


আরও খবর



পাসপোর্টে সংশোধনী না পেয়ে ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাঙচুর

প্রকাশিত:Wednesday ১৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৩৫জন দেখেছেন
Image

ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্টের বয়স সংশোধনের জন্য গিয়ে সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রবাসীরা। এ অভিযোগে শতাধিক বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। এসময় দূতাবাসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় দুজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে এ বিষয়ে দূতাবাস কিছু জানে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে এসব বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট জটিলতায় ভুগছেন। কোনো সমাধান না পেয়ে দূতাবাসে এসে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে ইতালি সরকারের স্টে-পারমিট পেয়েছেন অনেক বাংলাদেশি। তবে পাসপোর্ট না পাওয়ায় তারা বৈধতা হারাতে বসেছেন। ফলে ভুক্তভোগীরা দূতাবাসে এসে ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন।

তাদের দাবি, দ্রুত পাসপোর্টের বয়স সংশোধনের সুরাহা করতে হবে। পাসপোর্ট না পেলে তারা আবারো অবৈধ হয়ে যাবেন। পরে অবশ্য দূতাবাস ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বৈঠক হয়। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। তারা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি রাষ্ট্রদূতকে দেন।

এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে দূতাবাস এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান বলেন, ‘তাদের বিষয়গুলো আমি অবগত। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। একমত হয়েছি যে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে একটি দাবি সংবলিত স্মারকলিপি গ্রহণ করবো।’

jagonews24

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রবাসবান্ধব। আমরা এরই মধ্যে পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়স সংশোধন করেছি। এর চেয়ে বেশি করা বিষয়টি ঢাকা অফিসকে জানিয়েছি। আজকেও ঢাকা অফিসকে পুনরায় অবগত করা হয়েছে।’

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল একটি পরিপত্র জারি করে। সেই পরিপত্র অনুযায়ী, পাসপোর্টে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের ব্যবধান পর্যন্ত বিবেচনা করা যাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা অনুসারে দূতাবাস থেকে পাঁচ বছরের অধিক বয়স সংশোধনের আবেদন গ্রহণের সুযোগ নেই।

এরই মধ্যে গত এপ্রিলে পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়স সংশোধনের আবেদন জমা নেওয়া শেষ হয়ে যায়। যারা এরই মধ্যে পাসপোর্টে পাঁচ বছরের অধিক বয়স সংশোধনের আবেদন করেছেন, তাদের অনেককেই ঢাকাস্থ পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে আগের তথ্যে অর্থাৎ আবেদনকারীর পূর্বে যে পাসপোর্ট ছিল, সেই তথ্যে পাসপোর্ট নবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।


আরও খবর