Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য
টিসিবির কার্ড নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত

অস্ত্র হাতে নারীকে মারধোর করে মোবাইল ছিনিয়ে নিলেন ডিএসসিসির ৭৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর

প্রকাশিত:Saturday ০৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৪৩৮জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন ৭৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন এক নারী। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সবুজবাগ থানায় ইভা আক্তার নামে এক নারী এ অভিযোগ করেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন ৭৩ নং ওয়ার্ডে ভাইদিয়া এলাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর নাসরিন আহমেদের কাছ থেকে টিসিবি কার্ড গ্রহন করেন ওই এলাকার ৪০/৫০ জন নিরীহ গরীব মানুষ। এই কার্ড গ্রহনে হারুন সহযোগীতা করেছেন মনে করে ৭৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ জিয়াউল হক জিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে (হারুনকে) মার ধর করে ।টিসিবি কার্ডের সুত্রধরে গত ৮ জুলাই দুপুরে জুম্মার নামাজের পর ঝগড়ার সৃষ্টি হলে কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া হারনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।


  গালিগালাজ করতে মানা করায় একপর্যায়ে তিনি তাকে কিল, ঘুষি মেরে জখম করেন।তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে কাউন্সিলর জিয়া সটকে পরেন।পরে জিয়ার কাছে কে বা কাহারা বলেন যে মসজিদের সামনে ঐ মারামারির দৃশ্য মোবাইলে ইভা নামে এক নারী ভিডিও করেছেন।পরে এ খবর জানতে পেরে কাউন্সিলর মোঃ জিয়াউল হক জিয়া ও তার ভাতিজা শিপু আলভী,নয়ন সহ ১০/১২ জন মিলে দেশীয় অস্ত্রহাতে ভাইগদিয়া এলাকার বেলায়েত মিয়ার স্ত্রী ইভাকে বাড়িতে গিয়ে মারধোর করেন।


বেলায়েত জানান, জিয়া এলাকায় অনেক প্রভাবশালী। তিনি ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন ৭৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর । তিনি কিভাবে একজন নারীর গায়ে হাত তোলার সাহস পান। আমি এর বিচার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।


ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন ৭৩ নং ওয়ার্ডের ভাইদিয়া এলাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর নাসরিন আহমেদ জানান,"আমাকে মোবাইল ফোনে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান আমার কাছ থেকে টিসিবির কার্ড নেয়ায় কাউন্সিলর জিয়া হারুনকে মারধোর করেছে,বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তারা।"

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীকে বিষয়টি জানার জন্য মোবাইলে চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।


কাউন্সিলর মো. জিয়াউল হক জিয়া মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অবৈধভাবে আমার ভিডিও করেছিল ঐ মহিলা তাই তার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নিয়েছি,আপনারা সাংবাদিকরা যা পারেন তাই করেন। 


সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান,এ রকম কোন অভিযোগ পাইনি পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এর আগেও কাউন্সিলর মোঃ জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাবেক নাসিরাবাদ ইউনিয়নে (ভাইগদিয়া) এলাকায় একের পর এক জমি দখল, মাদক ব্যাবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ,এলাকায় চলাচলকারী সিএনজি ও ব্যাটারীচালিত অটো রিকসা ইজিবাইক পরিবহনে চাঁদাবাজি,অবৈধ ড্রেজার ব্যাবসা, জুয়ার আসর পরিচালনা সহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়।



জিয়া মাত্র ছয় মাস পুর্বে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।তার পালিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে চায় না।তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ।


আরও খবর



বাল্যবিয়ের চেষ্টায় বরের কারাদণ্ড, কনের বাবার জরিমানা

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৫ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

যশোরের অভয়নগরে বাল্যবিয়ের চেষ্টা করায় বরকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তানজিলা আখতার এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত বর হানিফ মোল্যা (২৫) উপজেলার বৌবাজার এলাকার হায়দার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তানজিলা আখতার বলেন, বুধবার দুপুরে উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামে রাজ টেক্সটাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে রাজমিস্ত্রী হানিফ মোল্যার বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। গোপন তথ্যর ভিত্তিতে জানতে পেরে বিকেল তিনটার দিকে আমডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে কনের বাবা আজগর মোড়লকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরে বৌবাজার এলাকায় হায়দার আলীর বাড়িতে পৌঁছলে বরকে বিয়ের সাজে পাওয়া যায়। এসময় বর হানিফ মোল্যা তার অপরাধ স্বীকার করলে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


আরও খবর



ব্র্যাকে ডেপুটি ম্যানেজার পদে চাকরি

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক লিমিটেডে ‘ডেপুটি ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ব্র্যাক লিমিটেড
বিভাগের নাম: অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট; ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস

পদের নাম: ডেপুটি ম্যানেজার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক (অ্যাকাউন্টিং/ফিন্যান্স/ম্যানেজমেন্ট)
অভিজ্ঞতা: ০৩ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: নির্ধারিত নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা careers.brac.net এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ৩১ জুলাই ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



প্রেমিকার আত্মহত্যার দুদিন পর গলায় ফাঁস নিলেন তরুণ

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলে প্রেমিকার আত্মহত্যার দুদিন পর ওড়না দিয়ে গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণ।

বুধবার (২০ জুলাই) ভোর ৪টায় পুবাইল হারবাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই তরুণের নাম ফাহিম হোসেন শান্ত (২২)। তিনি হারবাইদ এলাকার মো. খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

গলায় ফাঁস নেওয়া তরুণীর নাম তাসমিম। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিদুল ইসলাম জানান, পুবাইলের হারবাইদ এলাকার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মেয়ে তাসমিম তাহসিন আলিফের সঙ্গে একই এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে শান্তর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার (১৮ জুলাই) তাসমিম নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার দুদিন পর বুধবার শান্ত আত্মহত্যা করেন।

শান্তর বাবা খলিলুর রহমান বলেন, ‘তাসমিম আত্মহত্যা করার পর থেকেই শান্ত অন্যরকম হয়ে যান। সে মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়ে। আমরা এ দুদিন তাকে আমাদের নজরে রেখেছি। আজ ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার সুযোগে শান্ত ঘর থেকে বাইরে যায়। সকালে বাড়ির দক্ষিণ পাশে পেয়ারা গাছের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই।’

ওসি মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


আরও খবর



চীনে কৃষিকাজ আরও ফলপ্রদ করছে পেইতৌ

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৫ August ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান শত শত কৃত্রিম উপগ্রহ মর্তবাসীকে বিভিন্ন ধরনের জটিল জটিল সব সেবা দিয়ে থাকে। তেমনি একটি সেবা হচ্ছে ‘স্বাধীন ভূ-স্থানিক অবস্থান’ (autonomous geo-spatial positioning) সেবা। কৃত্রিম উপগ্রহ, ইলেক্ট্রনিক রিসিভার ইত্যাদির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা যে ব্যবস্থা এই সেবা দিয়ে থাকে, তাকে বলা হয় স্যাটেলাইট ন্যাভ্যাগেশন সিস্টেম (satellite navigation system)। এ ব্যবস্থা ব্যবহার করে, একটি ছোট ইলেক্ট্রনিক রিসিভারের সাহায্যে, পৃথিবীর যে কোনো স্থানের যে কোনো বস্তুর অবস্থান মোটামুটি নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়। আমরা প্রতিনিয়ত স্মার্টফোনের মাধ্যমে, জেনে বা না জেনে, এমন ধাতের সেবা গ্রহণ করছি। এই সেবা আমাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে, করেছে সহজতর।

কোনো স্যাটেলাইট ন্যাভ্যাগেশন সিস্টেম যখন বিশ্বব্যাপী এমন সেবা দেয় বা দিতে পারে, তখন তাকে আমরা বলি ‘গ্লোবাল ন্যাভ্যাগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম’ (জিএনএসএস)। বিশ্বে এই মুহূর্তে এমন জিএনএসএস আছে চারটি: যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস), রাশিয়ার ‘গ্লোবাল ন্যাভ্যাগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিএলওএনএএসএস), চীনের ‘পেইতৌ ন্যাভ্যাগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (বিডিএস), এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘গ্যালিলিও’।

এই চারটি ব্যবস্থার মধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে আছে চীনের বিডিএস। এই ব্যবস্থার অধীনে কক্ষপথে উপগ্রহ আছে ৩৫টি। এক্ষেত্রে ৩১টি করে সক্রিয় উপগ্রহ নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস এবং রাশিয়ার জিএলওএনএএসএস। ইউরোপের ‘গ্যালিলিও’-র আছে ২৩টি সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহ।

জাপানেরও একটি স্যাটেলাইট ন্যাভ্যাগেশন সিস্টেম আছে। তবে, সেটির কাজ খানিকটা ভিন্ন। ‘কোয়াসাই-জিনিথ স্যাটেলাইট সিস্টেম’ (কিউজেডএসএস) নামক এ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস’র নির্ভুলতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। তবে ২০২৩ সাল নাগাদ এই সিস্টেমের জিপিএসনির্ভরতা ঝেড়ে ফেলে একে স্বাধীন ন্যাভ্যাগেশন সিস্টেম হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগোচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওদিকে, ভারতের ‘ইন্ডিয়ান রিজনাল স্যাটেলাইট ন্যাভ্যাগেশন সিস্টেমকে (আইআরএনএসএস) দূর ভবিষ্যতে জিএনএসএসে রূপান্তরের পরিকল্পনা আছে দেশটির সরকারের।

আমরা যখন চীনের বিডিএসের কথা বলি, তখন বোঝাই ‘পেইতৌ-৩’-কে। বর্তমানে চীনের ‘পেইতৌ-৩’ ব্যবস্থার ৩৫টি কৃত্রিম যোগাযোগ-উপগ্রহ মহাশূন্যে সক্রিয় আছে। এ ব্যবস্থার প্রথম উপগ্রহটি মহাশূন্যে পাঠানো হয় ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ এবং সর্বশেষটি ২০২০ সালের ২৩ জুন।

‘পেইতৌ-৩’ যখন আছে, তখন ‘পেইতৌ-১’ ও ‘পেইতৌ-২’-এর অস্তিত্বও থাকার কথা। ১৯৯৪ সালে ‘পেইতৌ-১’ যোগাযোগ-উপগ্রহ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল চীনে। পেইতৌ-১ ব্যবস্থার অধীনে উপগ্রহ ছিল মাত্র ৩টি। এই ব্যবস্থা মূলত চীনের ও আশেপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোর বাসিন্দাদের সেবা দিত। ২০১২ সালের শেষদিকে এসে পেইতৌ-১ পরিত্যক্ত হয়।

এর আগে ‘পেইতৌ-২’ নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে। ২০০৯ সালে ‘পেইতৌ বৈশ্বিক উপগ্রহ ন্যাভ্যাগেশন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালের শেষ দিকে ১৪টি কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ে গঠিত হয় একটি নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় বিভিন্ন সেবা দিতে শুরু করে। এসব সেবার মধ্যে ছিল- পজিশনিং, ন্যাভ্যাগেশন, টাইমিং, ও ইউনিক শর্ট মেসেজসেবা। ২০১৮ সালের শেষ দিক থেকে ‘পেইতৌ ব্যবস্থা’র মৌলিক সেবার আওতায় আসে ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলগুলো। বর্তমানে ‘পেইতৌ-৩’র সেবার আওতায় এসেছে গোটা বিশ্ব।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। চীন বিশাল দেশ। দেশটির লোকসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি। অন্যভাবে বললে, বিশ্বের প্রায় ২২ শতাংশ মানুষের বাস এই ভূখণ্ডটিতে। অথচ এই দেশে আবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ বিশ্বের মোট আবাদযোগ্য কৃষিজমির মাত্র ১০ শতাংশ (১২ কোটি ৭৯ লাখ হেক্টর)। অর্থাৎ বিশ্বের ১০ শতাংশ কৃষিজমিতে ফসল ফলিয়ে দেশটিকে বিশ্বের ২২ শতাংশ মানুষের মুখের আহার জোগাতে হয়। উল্লেখ করার মতো তথ্য হচ্ছে, এই ১০ শতাংশ জমিতেই চীনারা বিশ্বের ২১ শতাংশ শস্য উত্পাদন করে। এছাড়া বছরে বিশ্বের যত ফলমূল উত্পন্ন হয়, তার প্রায় ৩০ শতাংশই চীনের অবদান।

চীনে কৃষিকাজ আরও ফলপ্রদ করছে পেইতৌ

দৃশ্যত চীন কৃষি-উত্পাদনের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এ অগ্রগতিও যথেষ্ট নয়। গত ১০ বছরে দেশটিতে আবাদযোগ্য কৃষিজমি কমেছে প্রায় ৭৫ লাখ হেক্টর। এ অব্স্থায় টিকে থাকা আবাদি জমি সংরক্ষণ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য সীমিত কৃষিজমিতে খাদ্যশস্য উত্পাদন বাড়ানোও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চীনের কৃষিবিজ্ঞানীরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রচেষ্টায়, বিজ্ঞানের অন্যান্য হাতিয়ারের মতো, ব্যবহৃত হচ্ছে পেইতৌ উপগ্রহ ন্যাভ্যাগেশন সিস্টেমও।

চীনের অধিকাংশ কৃষিজমিতে চাষবাসে যন্ত্রের ব্যবহার আছে। যন্ত্র কৃষিকাজকে সহজতর করেছে। এসব যন্ত্রকে আবার দিন দিন আরও আধুনিক ও ফলপ্রদ করতে কাজ করে যাচ্ছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এদিকে, পেইতৌ ব্যবস্থা এসব যন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে। কীভাবে? একটা উদাহরণ দিই। শানতুং প্রদেশের ফিংইউয়ান কাউন্টির ‘ফিংইউয়ান লুওয়াং কৃষি উন্নয়ন কোম্পানি’ কৃষিকাজে পেইতৌ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ট্রাক্টর ব্যবহার করছে গত ১৫ জুন থেকে।

এই ট্রাক্টরের সাহায্যে কৃষকরা ভুট্টা ক্ষেতে, দ্বিতীয় ফসল হিসেবে, সয়াবিন চাষ করেছেন। ভুট্টা গাছের সারির মাঝখানে নিখুঁতভাবে সয়াবিনের চারা রোপণ করেছে পেইতৌসমৃদ্ধ ট্রাক্টর। বলা বাহুল্য, এ বছরই প্রথম কোম্পানি দুটি ফসল একই সঙ্গে একই ক্ষেতে চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এতে ভুট্টার ফলন হ্রাস পাবে না অথচ অতিরিক্ত ফলস হিসেবে সয়াবিন পাওয়া যাবে।

জমিতে একাধিক শস্যের চারার মিশ্র রোপণের জন্য জরুরি হচ্ছে নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা। পেইতৌসমৃদ্ধ ট্রাক্টর এ কাজটা করতে পারছে নিখুঁতভাবে। শুধু তাই নয়, কাজের গতিও অনেক দ্রুত। মাত্র দুদিনে ৪০ হেক্টর জমিতে রোপণের কাজ সম্পন্ন করা গেছে। চারা রোপণের পাশাপাশি, কোম্পানি পেইতৌ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত ড্রোন দিয়ে জমিতে সার ছিটানোর কাজও করছে। এতে সার লাগছে তুলনামূলকভাবে কম; কারণ, অপচয় কমেছে। আর সারের যথাযথ ও পরিমিত ব্যবহার ফলন বৃদ্ধি ও কৃষিজমি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কল্যাণকর প্রমাণিত হচ্ছে।

চীনে কৃষিকাজ আরও ফলপ্রদ করছে পেইতৌ

শুধু শানতুং প্রদেশে নয়, চীনের অন্যান্য প্রদেশেও কৃষিকাজে পেইতৌ ব্যবস্থার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। হুপেই প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৩৮৮৫টি সমবায়ের অধীনে ২৭,৪০৭টি কৃষিযন্ত্র পেইতৌ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। এসব যন্ত্রের মধ্যে আছে ট্রাক্টর, ফসল কাটার যন্ত্র, শস্য শুকানোর যন্ত্র, সার ছিটানোর যন্ত্র ইত্যাদি।

হুপেই প্রদেশের উহানের হুয়াংফি ডিস্ট্রিক্টের ইয়ংওয়াং কৃষি যন্ত্রপাতি সমবায় সমিতির সব কৃষিযন্ত্র ইতোমধ্যে পেইতৌ সেবার আওতায় এসেছে। ২০১৫ সালে এ সমবায় সমিতি কৃষিজমি জরিপের কাজে পেইতৌর সেবা গ্রহণ করা শুরু করেছিল। পরে ফসল চাষ, আগাছা বাছাই, ফসল তোলা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সব কৃষিসংশ্লিষ্ট কাজে তারা পেইতৌর সেবা গ্রহণ করছে।

চীনের সরকার কৃষকদের উত্সাহিত করছে কৃষিযন্ত্রে পেইতৌ সেবা ব্যবহার করতে। এ লক্ষ্যে ভর্তুকিও দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনো কৃষক পেইতৌসমৃদ্ধ কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করেন, তবে তিনি ভর্তুকি পাবেন ৮ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১১৯৫ মার্কিন ডলার)। চীনের কৃষি মন্ত্রণালয় চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই দেশের প্রায় ৬ লাখ কৃষিযন্ত্রকে পেইতৌর সেবার আওতায় আনতে চায়। এই লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে সুষ্ঠুভাবে।

উহানের ইয়ংওয়াং সমবায় সমিতির স্মার্ট কৃষিযন্ত্রচালক থাও চ্য। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন গত বছর। সেই থেকে এখানে কাজ করছেন। তার কথা দিয়ে লেখার ইতি টানছি। তিনি চায়না ডেইলিকে সম্প্রতি জানান, কৃষিজমির হাল-হকিকত দেখার জন্য তাকে অকুস্থলে যেতে হয় না, তার হাতের স্মার্ট মোবাইলটিইয়ের জন্য যথেষ্ট। তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। ক’দিন আগে আমার বাবা-মা কৃষিজমিতে স্মার্ট যন্ত্রপাতির ক্যারিশমা দেখতে এসেছিলেন। স্বয়ংক্রিয় ট্রাক্টরের নিখুঁত কাজ দেখে তারা তো অবাক! তাদের আমলের কৃষিকাজ আর এখনকার কৃষিকাজের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। পেইতৌর মতো আধুনিক প্রযুক্তির।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)।
[email protected]


আরও খবর



উপবৃত্তিবঞ্চিত কারিগরি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

উপবৃত্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি, নবম ও দশম শ্রেণি (জানুয়ারি থেকে জুন), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (জুলাই থেকে ডিসেম্বর-২০২১ ও জানুয়ারি থেকে জুন-২০২২), ডিপ্লোমা প্রথম পর্ব (জুলাই থেকে ডিসেম্বর-২০২১), ডিপ্লোমা ষষ্ঠ ও অষ্টম পর্ব (জানুয়ারি থেকে জুন-২০২১) মেয়াদে উপবৃত্তি দেওয়ার জন্য এমআইএস সফটওয়্যারে তথ্য অন্তর্ভুক্তির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু ভুলের জন্য চারটি কারণে শিক্ষার্থীর তথ্য ডিটিই এমআইএস-এ অ্যান্ট্রি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

কারণগুলো হলো-

১. প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পরে এমআইএস এর মাধ্যমে সেই তথ্য আঞ্চলিক পরিচালক কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি।

২. আঞ্চলিক পরিচালক কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর তথ্য সংশোধনের জন্য প্রতিষ্ঠানে তথ্য ফেরত দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে সেসব তথ্য সংশোধন করে পুনরায় সংশ্লিষ্ট আরডিও-তে পাঠানো হয়নি।

৩. প্রতিষ্ঠান থেকে সেমিস্টার/ক্লাস (ষষ্ঠ, নবম, একাদশ শ্রেণি ও ডিপ্লোমা ১ম সেমিস্টার ছাড়া) আপডেট করা হয়নি।

৪. জুলাই থেকে ডিসেম্বর-২০২১ মেয়াদের নবম শ্রেণির (ভর্তির বছর ২০২১) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জানুয়ারি থেকে জুন-২০২২ মেয়াদের নবম শ্রেণির (ভর্তির বছর ২০২২) শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার কারণে জানুয়ারি থেকে জুন-২০২২ মেয়াদের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

এসব কারণে বাদ পড়া কারিগরি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার জন্য ছক অনুযায়ী মাইক্রোসফট এক্সেল ফাইলে ইংরেজিতে সব তথ্য পূরণ করে পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট ছকের কোনো ঘর ফাঁকা রাখা যাবে না এবং কোনো সেল কে মার্জড করা যাবে না।

এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের তথ্য ছক অনুযায়ী প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিচালক কার্যালয়ে আগামী ১৬ আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে পাঠাতে হবে। পরিচালক, আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়গুলো তার আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে সঠিক ফরম্যাটে সন্নিবেশিত করে সফট কপি আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে ফরোয়ার্ডিংসহ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

নির্দেশনায় আরও বলছে, এরইমধ্যে যেসব শিক্ষার্থীর তথ্য এমআইএস-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিন্তু উপবৃত্তি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে, শুধুমাত্র তাদের তথ্য পাঠাতে হবে। কোনো নতুন শিক্ষার্থীর তথ্য অ্যান্ট্রি করে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। এমআইএস-এর অধিভুক্ত তথ্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের উপবৃত্তি দেওয়া স্থগিত রাখা হতে পারে।

বিষয়টি খুব ভালোভাবে পড়ে সে অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।


আরও খবর