Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

অর্থনৈতিক মন্দায় ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
Image

করোনা মহামারির পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন আমরা অর্থনৈতিক মন্দায় প্রবেশ করতে যাচ্ছি না তো। কারণ দেশটির শেয়ারবাজারের অবস্থা ভালো নেই, লাফিয়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। এদিকে সুদের হার বাড়ানোর ফলে অর্থনীতিতে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ভোক্তাদের প্রত্যাশা সূচকও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। সব পণ্যের মূল্য বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

জুনে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়ে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়। সরকারের প্রাথমিক হিসেবে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে পণ্যের দাম বেড়েছে আট দশমিক ছয় শতাংশ। বর্তমানে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াচ্ছে দ্রুত গতিতে। এতে অর্থনীতিতে ধীর গতি চলে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে তামার দাম ১১ শতাংশ কমার পর ১৬ মাসের মধ্যে সর্ব নিম্ন হয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের জন্য খারাপ খবর। কারণ তারা তামার দামকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বেলওয়েদার হিসেবে দেখেন। নির্মাণ উপাদান হিসেবে তামার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু অর্থনীতি সংকুচিত হলে এটির চাহিদা কমে যায়।

জুনে পার্চেজিং ম্যানেজার ইনডেক্স প্রকাশ করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। সেখানে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারিখাতে উৎপাদন কমেছে। এসএন্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ব্যবসায়িক অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন বলেছেন, ভোক্তারা ক্রমবর্ধমান দামের সঙ্গে লড়াই করার কারণে অ-প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদকদের অর্ডার হ্রাস পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানো ফলে এ সমস্যা আরও বেড়েছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় শুক্রবার অর্থনীতির ওপর ভোক্তাদের প্রত্যাশার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায় ভোক্তাদের প্রত্যাশা গত ৭০ বছরের মধ্যে সর্ব নিম্ন হয়েছে। জ্বালানিতেও দেশটিতে স্বস্তির খবর নেই। এরই মধ্যে পেট্রলের দাম বেড়ে রেকর্ড হয়েছে।

দেশটির আবাসনখাতেও ধস নেমেছে। তবে ধারণ করা হচ্ছে, এটি অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারে তেমন প্রভাব ফেলবে না। তবে বাড়ি কেনা আমেরিকানদের নাগালের বাইরে চেলে গেছে। সুদরে হার বাড়ানোর ফলে মর্টগেজ হারও বেড়েছে।


আরও খবর



স্পেন ও যুক্তরাজ্য সফরে গেলেন সেনাপ্রধান

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৮৮জন দেখেছেন
Image

সরকারি সফরে স্পেন ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আন্তঃবাহিনী জনংসযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শনিবার (২৩ জুলাই) সরকারি সফরে স্পেনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন সেনাপ্রধান। তিনি ২৪ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত স্পেনে অবস্থান করবেন।

এ সফরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য সদ্য ক্রয়কৃত দ্বিতীয় এয়ারবাস সিএএসএ সি২৯৫ডব্লিউ বিমানের হস্তান্তরের নিমিত্তে চূড়ান্ত প্রস্ততিমূলক কার্যক্রম এবং এয়ারক্রুদের প্রশিক্ষণ পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস কারখানা পরিদর্শন করবেন।

সফরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক বাহিনীর জন্য ট্যাঙ্কবিধ্বংসী অস্ত্র আলকোতানের উপযুক্ততা পর্যালোচনার লক্ষ্যে ইন্সটালাজা নামের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন শফিউদ্দিন আহমেদ। এ সময় স্পেনের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আমাদর ফার্নান্দো ইনসেনাত ওয়াই বিরিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে সেনাপ্রধানের।

সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার সামরিক বিষয়াদি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।

সফরের দ্বিতীয় অংশে সেনাবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে আগামী ২৮ জুলাই ২০২২ তারিখে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য, ২২ তম কমনওয়েলথ গেমস যা বার্মিংহাম ২০২২ নামে পরিচিত, এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে গমন করবেন। তিনি ২৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই ২০২২ তারিখ পর্যন্ত সরকারী সফরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করবেন।

সফরের দ্বিতীয় অংশে সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে আগামী ২৮ জুলাই যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২২তম কমনওয়েলথ গেমস যা বার্মিংহাম ২০২২ নামে পরিচিত, এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে গমন করবেন।

তিনি ২৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই ২০২২ পর্যন্ত সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করবেন। আগামী ২ আগস্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।

কমনওয়েলথ গেমস-২০২২ এ বাংলাদেশের ৫০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অফিশিয়াল হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। সেনাপ্রধান বিভিন্ন ইভেন্টে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেবেন।


আরও খবর



শ্রীপুরে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৪

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ০৪ August ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
Image

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাকশ্রমিকবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজন হয়েছে। এতে আহত ১৫ শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেল সড়কের মাইজপাড়া ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শ্রীপুর রেলস্টেশনের মাস্টার হারুন অর রশিদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৭টা ৫ মিনিটে শ্রীপুর থেকে ছেড়ে যায়। কাওরাইদ স্টেশন ও সাতখামাইর স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় মাইজপাড়া ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে শ্রমিকবাহী বাসটি। এতে চার পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শ্রীপুরের টেপিরবাড়ি এলাকার জামান ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি কারখানার বলেও জানান এ স্টেশন মাস্টার।

গাজীপুর রেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শহিদুল্ল্যাহ জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে এক নারী শ্রমিক মারা যান। আহতদের কয়েকজনকে ট্রেনে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে দুজন মারা যান। তাদের মরদেহ গফরগাঁও রেলস্টেশনে নামিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরেকজনের মৃত্যু হয়। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালসহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিক হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

গফরগাঁও রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শ্রীপুরে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত দুজনের মরদেহ বলাকা ট্রেন থেকে নামিয়ে রাখা হয়েছে। মরদেহ দুটি জয়দেবপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


আরও খবর



টিভিতে আজকের খেলা

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

ক্রিকেট
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ভারত
তৃতীয় ওয়ানডে
সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিট
সরাসরি টি স্পোর্টস

শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান
দ্বিতীয় টেস্ট, চতুর্থ দিন
সকাল ১০.০৫ মিনিট
সরাসরি টেন ২

ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা
প্রথম টি-টোয়েন্টি
রাত ১১.৩০ মিনিট
সরাসরি সনি টেন ১

ফুটবল
রহমতগঞ্জ-শেখ রাসেল
বিকেল ৪.০০টা
সরাসরি টি স্পোর্টস


আরও খবর



চাষের মাছ উৎপাদনে সেরা তিন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১০জন দেখেছেন
Image

মৎস্য খাতে বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসারে অবদান রাখছে মৎস্য খাত। এছাড়াও বর্তমানে দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে মাছ।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বিশ্বে স্বাদুপানির মাছের ১১ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে। চাষের মাছ উৎপাদনে সেরা তিন দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকার অন্য দুই দেশ ভিয়েতনাম এবং মিশর।

মৎস্য আহরণ ও উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ আহরণে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে। ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার, ২০২২’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও চাষের মাছ উৎপাদনে তিনটি দেশ বিশ্বের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করছে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম এবং আফ্রিকায় মিশর এই সাফল্য দেখিয়েছে।

বর্তমানে দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে মাছ। মাথাপিছু প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে মানুষ এখন ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ গ্রহণ করছে। দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এখন মৎস্য খাতের অবদান। বিগত ১২ বছরে মৎস্য খাতে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ দশমিক ১ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছের অবদান ৬ দশমিক ৮১ লাখ মেট্রিক টন, যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

ইলিশ আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল

বিশ্বে ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের ১২ দশমিক ২২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের অধিক, যা একক প্রজাতি হিসেবে সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালে ‘বাংলাদেশের ইলিশ’ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই সনদ লাভ করেছে। ফলে পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ আহরণকারী বাংলাদেশ এখন থেকে বিশ্বে উপস্থাপিত হবে ইলিশের দেশ হিসেবে।

ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা কর্মসূচি নিয়েছে। জাটকা সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের চার মাস ভিজিএফ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মা-ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে মোট ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন ও মজুত বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

jagonews24সরকারের নানা উদ্যোগে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে

সরকারের এ ব্যাপক কর্মযজ্ঞের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ হয়েছে। এটি ২০১০-১১ অর্থবছরে ইলিশের মোট উৎপাদনের (৩ দশমিক ৪০ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে ৬৬ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। এছাড়াও ‘হিলশা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলে ইলিশের উৎপাদন ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৪-১৫ সাল পর্যন্ত গড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ফেরাতে উদ্যোগ

দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ বাঙালির পাতে ফিরিয়ে আনতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এ পর্যন্ত ৩৬ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন কৌশল ও চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠা করেছে দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক। এই জিন ব্যাংকে এখন পর্যন্ত ১০২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সম্প্রতি দেশের ১০ জেলার ৪৯ উপজেলায় ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও চাষ সম্প্রসারণ, শামুক ও ঝিনুক সংরক্ষণ এবং মুক্তা চাষ সম্প্রসারণে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

jagonews24

বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি দ্রুত বর্ধনশীল ও প্রায় ২০ শতাংশ অধিক উৎপাদনশীল উন্নত জাতের ‘বিএফআরআই-সুবর্ণ রুই’ উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজাতি বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্ত ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিপন্নপ্রায় মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণ, অবাধ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৪৯৪টি অভয়াশ্রম রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের রপ্তানি নিশ্চিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় তিনটি মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে চাষি পর্যায়ে রোগমুক্ত এবং মানসম্পন্ন পোনা সরবরাহে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা ও খুলনায় তিনটি পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মৎস্যচাষ পর্যায়ে ওষুধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাকোয়াকালচার মেডিসিনাল প্রোডাক্টস নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

রপ্তানিতে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের অবদান

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য। বর্তমানে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং এসব পণ্যের রপ্তানি উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী কাঁকড়া, কুঁচিয়া ও সিউইডের চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান।

jagonews24২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম লাইভ জিন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

বাংলাদেশ থেকে প্রধানত গলদা, বাগদা, হরিণাসহ বিভিন্ন জাতের চিংড়ি; স্বাদুপানির মাছ যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, টেংরা, বোয়াল, পাবদা, কৈ প্রভৃতি এবং সামুদ্রিক মাছের মধ্যে ভেটকি, দাতিনা, রূপচাঁদা, কাটল ফিশ, কাঁকড়া ইত্যাদি রপ্তানি হয়। এছাড়াও শুঁটকি মাছ, মাছের আঁশ এবং চিংড়ির খোলসও রপ্তানি হয়। বর্তমানে চাষসহ প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানি করা এসব মৎস্যজাত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশই ভ্যালু অ্যাডেড প্রোডাক্টস। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত আইকিউএফ, কুকড, ফিশ ফিলেট ইত্যাদি ভ্যালু অ্যাডেড মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের ৫২টি দেশে বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৪ হাজার ৪২ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫ হাজার ১৯১ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা বিগত বছরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি।

১৯৭৪ সালে ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর মাধ্যমে সমুদ্র ও এর সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমায় আমাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে।

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের মজুত নিরূপণ, এ খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন এবং গভীর সমুদ্রে মাছের টেকসই আহরণের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এই লক্ষ্যে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উপকূলীয় জলাশয়ে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও সিউইড চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এ বিষয়ে কাজ করছে।

‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সর্বোত্তম আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে এ পর্যন্ত ৩৮টি সার্ভে ক্রুজ পরিচালনা করা হয়েছে। আরভি ‘মীন সন্ধানী’ নামক মৎস্য গবেষণা ও জরিপ জাহাজের মাধ্যমে চালানো অনুসন্ধানে ৪৫৭ প্রজাতির মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় প্রাণী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রে টুনা ও পেলাজিক মৎস্য আহরণের জন্য আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় প্রতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের নৌযান দিয়ে মৎস্য আহরণ বন্ধ হচ্ছে। ফলে বঙ্গোপসাগরে বিলুপ্তপ্রায় মাছের মজুত বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকার গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে সামুদ্র্রিক মাছের উৎপাদন ৬ দশমিক ৮১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নিত হয়েছে, যা ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট উৎপাদনের (৫ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে ২৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

jagonews24সাগরের মাছ আহরণ ও রপ্তানিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রোজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, দেশের মৎস্য খাতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় সরকারের সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ, মৎস্য গবেষণার উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১০২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেশের কোনো অঞ্চল থেকে কোনো বিশেষ প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেলে জিন ব্যাংক থেকে সেসব অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া মাছ আবার চাষ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজাতি-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্তি ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে আমরা মাছে-ভাতে বাঙালির পুরনো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চাই।

পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে আমরা মৎস্য খাতকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তবে শুধু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, বরং মানসম্মত ও নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও সরবরাহে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ, উত্তম মৎস্য চাষ অনুশীলনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে- যোগ করেন মন্ত্রী।


আরও খবর



বাঘ বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে নানামূখী পদক্ষেপ

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ১১৪টি। যদিও ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বয়সের কারণে মারা গেছে কয়েকটি বাঘ। একই সঙ্গে শিকারি ও পাচারকারী চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বাঘের চামড়াসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

তবে গত দু-তিন বছরে কয়েক দফায় সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা বাঘের দেখা পেয়েছেন। আবার সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়েও এসেছে বাঘ। একই সঙ্গে বনবিভাগের সদস্যরা বনের বিভিন্ন অংশে বাঘের উপস্থিতি টের পেয়েছেন। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লোকালয়ে বাঘ আসার অর্থ বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়। সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

jagonews24

পরিবেশবাদীদের দাবি, শিকারীদের দৌরাত্ম্য, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরাসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে হুমকির মুখে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তারা বলছেন, সুন্দরবনই হচ্ছে এশিয়ার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণীর বৃহত্তম আবাসভূমি। বনবিভাগ বাঘের আবাসভূমিকে তাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে পারেনি। নিরাপদ করা গেলেই বাঘের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

বনবিভাগ বলছে, সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে সরকারিভাবে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাঘ বাড়বে।

বাঘ দিবস উপলক্ষে নেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে রর্বাট হনড্রেকিসের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি, ১৯৮২ সালে মার্গারেট স্যালটার জরিপে ৪২৫টি, ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জরিপে ৪৩০-৪৫০টি, ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি রয়েছে বলে জানায় বনভিবাগ।

১৯৯৩ সালে ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানান। ২০০৪ সালে জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘরে সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টিতে। হঠাৎ সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪০০ থেকে ১০৬ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ শুরু হয়। ২০১৮ সালের সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

বনবিভাগ সূত্র আরও জানায়, ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে ১০টি, স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরেছে ১৪টি। ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে একটি মারা যায় এবং বাকি ২৫টি বাঘ শিকারীরা হত্যা করে।

jagonews24

সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জাগো নিউজকে বলেন, বাঘ একটি নিদৃষ্ট গন্ডির মধ্যে চলাচল করে। যখন বাঘের বয়স হয়ে যায় তখন অন্য বাঘ তাকে তাড়িয়ে দেয়। তখন সে অরেক এলাকায় চলে যায়। সেখান থেকেও তাকে তাড়িয়ে দিলে একপর্যায়ে লোকালয়ে আসে। তবে বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে বাঘের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বাগেরহাট জেলা কমিটির আহ্বায়ক নুর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ২০ বছর আগে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। এখন আছে মাত্র ১১৪টি। সেখান থেকেও কয়েকটি মারা গেছে। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, শিকারীদের দৌরাত্ম্য, বাঘের আবাসস্থল নিরাপদ না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বাঘ কমেছে। সুন্দরবনের পাশে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্পকারখানাসহ সুন্দরবন বিধ্বংসী সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. শিউলী রাণী সূত্রধর জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য শিকারি দমন ও বাঘের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত করা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মধু সংগ্রহকারী, গোলপাতা সংগ্রহকারী, মাছ শিকারীরা অবাধে সুন্দরবনের গহীনে প্রবেশ করছে। ফলে বাঘের সঙ্গে মানুষের শত্রুতাও বাড়ছে। একই সঙ্গে বাঘের শান্তিময় পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব মানুষের জন্য বিকল্প পেশার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাঘ লোকালয়ে আসে না। খাদ্য সংকট, সুন্দরবনে অনেক বেশি ঘন গাছ, বনের কোনো কোনো অংশ ফাঁকা হয়ে যাওয়া, বয়স বৃদ্ধির কারণে খাদ্য শিকারে সমস্যা ও প্রজননকালে বাঘ লোকালয়ে চলে আসতে পারে।

jagonews24

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা, বয়স ও লিঙ্গ অনুপাতে সুন্দরবনের কম বাঘ সম্পন্ন এলাকায় স্থানান্তর, বাঘের শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন ও মনিটরিং করা, বাঘের পরজীবীর সংক্রমণ ও অন্য ব্যাধি নির্ণয় ও সুন্দরবনের লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় নাইলনের রশির বেষ্টনী তৈরি করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘ এবং তার শিকার প্রাণী যাতে নিরাপদে থাকতে পারে এজন্য সুন্দরবনের ৫২ ভাগ এখন অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। লোকালয়ে আসা বাঘ নিরাপদে বনে ফেরাতেও ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে এর সুফলও পাওয়া গেছে। এখন বাঘসহ বন্য প্রাণী লোকালয়ে এলে স্থানীয়রা বন বিভাগকে জানায়।


আরও খবর