Logo
আজঃ Wednesday ২৫ May ২০২২
শিরোনাম

নাসিরনগরের প্রতারক লিটনের বিরোদ্ধে সেলিম চৌধুরীর ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের মামলা

প্রকাশিত:Sunday ২৩ January ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ২৪১জন দেখেছেন
Image


পর্ব-৪

মোঃ আব্দুল হান্নানঃ 

ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদরের আব্দুল গাফ্ফারের ছেলে জধন এর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রতারক মোঃ লিটন মিয়া(৩৫) এর বিরোদ্ধে ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আশুরাইল বেণীপাড়া গ্রামের আজব আলী চৌধুরীর ছেলে মোঃ সেলিম চৌধুরী বাদি হয়ে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিজ্ঞ আদালতে এন,আই  এ্যাক্টের ১৩৮ বিধান মতে আরো একটি চেক জালিয়াতির মামলা করার খবর পাওয়া গেছে।


জানা গেছে বাদী সেলিম চৌধুরী একজন ইট,বালু,পাথর সালপ্লাইয়ার ও আসামী লিটন মিয়া একজন ঠিকাদার।ঠিকাদারী কাজের কথা বলে আসামী লিটন মিয়া বাদী সেলিম চৌধুরীর নিকট থেকে গত ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর নাসিরনগর সোনালী ব্যাংকের ১২১৩০ নম্ভর সঞ্চয়ী হিসাবের ৪২০৪৭৯৭ নম্ভরের একটি চেক প্রদান করে ১০ লক্ষ টাকা গ্রহন করে।ওই তারিখে বাদী সেলিম চৌধুরী নাসিরসগর সোনালী ব্যাংকে গিয়ে চেকটি নগদায়নের চেষ্টা করে।


কিন্তু লিটনের হিসাব নাম্ভারে কোন টাকা না থাকায় চেকটি ডিজনার হয়ে আসে।পরবর্তীতে বাদী সেলিম চৌধুরী আসামী প্রতারক লিটনের কাছ থেকে তার পাওনা টাকা আদায় করতে না পেরে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে।বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে বাদী সেলিম চৌধুরী জানিয়েছে।


-খবর প্রতিদিন/ সি.বা 


আরও খবর



ডেমরায় দশ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবীতে ব্যাবসায়ীকে গুম করার হুমকি

প্রকাশিত:Sunday ০১ May ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ৩৪৭জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানীর ডেমরা থানা পুর্ব হাজী নগর এলাকার ব্যাবসায়ী নুর আলমের কাছ থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী সহ ভুক্তভোগীকে মেরে গুম করার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় ব্যাবসায়ী নুরআলম-৪২ বাদী হয়ে বিঞ্জ সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।মামলাটি তদন্তের জন্য বিঞ্জ সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ফারাহ দিবা ছন্দা পিবিআই কে নির্দেশ প্রদান করেছেন।আদালতে দায়েরকৃত সিআর মামলা নং-১০২/২০২২(ডেমরা আমলী)।


মামলার আসামীরা হলেন,১।ফরিদ দেওয়ান-৪২ পিতাঃকাশেম মাষ্টার সাং- বকুল তলা সারুলিয়া ডেমরা ঢাকা,২।মোঃ জামাল-৪০ পিতাঃ আঃ খালেক মিয়া সাং-পুঙ্খু মিয়া মসজিদের সামনে সারুলিয়া ডেমরা ঢাকা ।


বাদীর আদালতে দাখিল করা পিটিশনের বর্ননা মতে জানাগেছে,মামলার ১ এবং ২ নং আসামীরা নুর আলমের ব্যাবসা প্রতিষ্টান এম আর রহমান ট্রেডার্স এ কর্মচারী ছিলেন।বিভিন্ন সময়ে বাদী তাদেরকে দিয়ে ব্যাবসা প্রতিষ্টানের লেনদেনের টাকা লোকজনের নিকট পাঠাত।তারা যোগসাযোশ করে ব্যাবসা প্রতিষ্টানের সাত লক্ষ টাকা সুচতুর ভাবে আত্মসাৎ করেন।ব্যাবসায়ী নুর আলম আসামীদের কাছে সাড়েচার লক্ষ টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।উল্টো বাদীকে হুমকি ধামকি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং ব্যাবসা প্রতিষ্টান থেকে বিতাড়িত করতে সন্ত্রাসী দ্বারা হুমকি প্রদান করে।


আসামীরা বাদীকে সুকৌশলে অন্য জায়গায় নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নেশা জাতীয় দ্রব্য দ্রব্য খাইয়ে আপত্তিকর ছবিতুলে তার মান সম্মান নষ্ট করতে আত্মীয় স্বজনের কাছে সেই ছবি পাঠান।


আসামীরা নুর আলমের ব্যাবসা প্রতিষ্টান এম আর রহমান ট্রেডার্সে এসে গত ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখে তার নিকট দশ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করে।তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে কিল ঘুষি,চর-থাপ্পর মারেনএবং জোড় করে ব্যাবসা প্রতিষ্টানের মেমো বই ভাউচার ছিনিয়ে নিয়ে যান।ঐদিন বিকেলে পুনরায় আসামীরা ব্যাবসা প্রতিষ্টানে এসে নুরআলম কে না পেয়ে তার বাসায় গিয়ে স্ত্রী ওপরিবারের অন্য সদস্যদের গালিগালাজ করেন।তারা  তার স্ত্রীকে বলেন দশ লক্ষ টাকা না দিলে তারা নুরআলমকে জীবনে মেরে ফেলে গুম করবেন।



স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,এলাকার অনেক লোক বিষয়টি দেখেছেন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের ভয়ে তারা মুখ খুলতে চায় না।বিষয়টি নিয়ে ব্যাবসায়ী নুরআলম ডেমরা থানায় মামলা করতে গেলে আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ তার মামলা নেয়নি।বাদী নিরুপায় হয়ে আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।



    


আরও খবর



মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনা

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় সেনা সদস্যের মৃত্যু

প্রকাশিত:Sunday ১৫ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৪ May ২০২২ | ৬৬জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মাগুরায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে মো. আবু হানিফ (৬০) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ছয় জন।


রোববার (১৫ মে) সকালে মাগুরা-যশোর সড়কের শেখপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু হানিফ যশোর জেলার পৌর এলাকার মোহাম্মদ আবদুল গনির ছেলে।


আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায়।


ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি যাত্রীবাহী পরিবহনের সঙ্গে মাগুরা মুখী একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ওই সেনা সদস্য নিহত হন।


এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়।


মাগুরা হাইওয়ে পুলিশের এসআই সেলিম জানান, দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাকের ড্রাইভার-হেলপারদের পাওয়া যায়নি। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


আর নিহতের মানি ব্যাগে থাকা পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মরদেহের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে একরাম হোসেন একজন কর্মবীর মানুষ

প্রকাশিত:Tuesday ২৬ April ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ১২৭জন দেখেছেন
Image

নাজমুল হাসানঃ

ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের ভারপ্রাপ্ত অফিস সহকারী একরাম হোসেন একজন কর্মবীর মানুষ।অনন্য কর্মদক্ষতায় তিনি ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে কাজের গতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন।তিনি নিজে সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে প্রচণ্ড চাপের মুখেও সহজে মেজাজ খারাপ করেন না।


সেবাগ্রহীতারা জানান, সবার সাথে সদা হাসি মুখে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে সদা তৎপর থাকেন ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের ভারপ্রাপ্ত অফিস সহকারী একরাম হোসেন। দলিল সম্পাদনের গুরুত্বপুর্ন ধাপগুলো তিনি দ্রুত প্রক্রিয়া করে সাব-রেজিষ্টারের টেবিলে উত্থাপন করেন।


ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের নতুন যোগদানকারী সাব-রেজিষ্ট্রার কাওসার খান অফিসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শুদ্ধি অভিযান ঘোষনা করেন।তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যে কজন কর্মচারী সঠিকভাবে কর্ম সম্পাদনা করেন তাদের মধ্যে অন্যতম অফিস সহকারী একরাম হোসেন।


ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী একরাম হোসেন জানান,"সব সময় চিন্তা করি আমার উপড় ন্যাস্ত কর্তব্য সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে,আবার নতুন সাব-রেজিষ্ট্রার হিসেবে কাওসার খান স্যারের যোগদানের পর অফিসের পরিবেশ অনেকটা পাল্টে যেতে শুরু করেছে,কোথাও বিন্দু পরিমান অসংগতি তিনি মেনে নিতে চান না,তার কারনে  জনবান্ধব অফিসে পরিণত হয়েছে ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিস।


আরও খবর



ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতে যাত্রাবাড়ীর বর্ণমালা স্কুলে অভিভাবকদের মিছিলে হামলা : আহত ২

প্রকাশিত:Thursday ১৯ May ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ১৬৪জন দেখেছেন
Image


নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে গঠিত পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।  বৃহস্পতিবার  বেলা ১১টার দিকে তদন্তকারী  কর্মকর্তারা স্কুল পরিদর্শনে এলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম বাবুর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।


এ সময় সালাম বাবুর লোকজন মিছিলকারীদের উপর হামলা চালালে মাহফুজ নানে একজনসহ দুজন গুরুতর আহত হয়। এ ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনেই সভাপতির লোকজন তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদানকারীদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক পর্যায়ে গেলে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ এসে তা নিয়ন্ত্রণ করে।


এদিকে, বর্নমালা স্কুলের অধ্যক্ষ ও সভাপতির দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে (স্মারক নং ৬১৮/ক/স্বী:/৯৫/(অংশ-১)৩৩৪) এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে স্কুলটির অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেন সহকারি সিনিয়র শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন।


অভিযোগে জানা যায়, বর্ণমালা স্কুলে অবৈধভাবে পরিচালনা কমিটি গঠন, ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন, কোচিং বাণিজ্য, উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা লোপাট, ভূয়া ভাউচারে লাখ লাখ টাকা লোপাট, পরীক্ষা ও কোচিং বাণিজ্যসহ অধ্যক্ষ ও সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অতিষ্ঠ। বিদ্যালয়ের ফান্ডের কোটি কোটি লোপট করে ইতোমধ্যে অধ্যক্ষসহ তার অনুসারীরা কোটি কোটি টাকা সম্পদের মালিক এবং সভাপতি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।


এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই শিক্ষকদের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো হয়। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একজন ব্যক্তিই সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষকরা নির্যাতিত হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি চাই।


আরও খবর



মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী আনার কলি বেপরোয়া

আশুগঞ্জে মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী আনার কলির বিরুদ্ধে থানায় জিডি

প্রকাশিত:Thursday ১৯ May ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ১০৯জন দেখেছেন
Image
আশুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী আনার কলি। 

সম্প্রতি  তার দখল বাণিজ্যের তথ্য অনুসন্ধ্যান করতে গিয়ে ওই নেত্রীর হুমকি-ধামকিসহ তোপের মুখে পড়েছেন উপজেলা সহকারি (ভূমি) ও গনমাধ্যম কর্মীরা। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীরা ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।


মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রীর বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন এবং সাংবাদিকের জিডি করার বিষয়টি টক অব দ্যা আশুগঞ্জে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক  ও আশুগঞ্জের প্রভাবশালী নেত্রী আনার কলি স্থানীয় রওশন আরা জলিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রেলওয়ের ১১৮৮ বর্গফুট জায়গা লীজ নেন মৎস্য, কৃষি ও নার্সারী করার শর্তে ।


ওই জায়গা লীজ নিয়ে আনার কলি লীজের শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে মার্কেট করার জন্য জলাশয় ভরাট করতে থাকেন। খবর পেয়ে  গত ৩০ এপ্রিল আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ মাটি ভরাটে বাঁধা দেন। এ সময় সেখানে থাকা আনার কলি ও তার সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেন।
 এ ঘটনায় সহকারি কমিশনারে পক্ষে নাজির মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে গত ৩০ এপ্রিলই  আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন। জিডি নং-২৭৩৬।


এদিকে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আনার কলির জলাশয় ভরাট করে অবৈধভাবে সেখানে মার্কেট নির্মান করার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হলে সময় টেলিভিশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যুরো প্রধান উজ্জ্বল চক্রবর্তী তার ক্যামেরাপারসন মোঃ জুয়েলুর রহমানকে সাথে নিয়ে গত বুধবার দুপুর  সোয়া ১২ টার দিকে আশুগঞ্জে ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকলে খবর পেয়ে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আনার কলি ঘটনাস্থলে এসে চিৎকার করে বলতে থাকেন ‘আপনারা ভুয়া সাংবাদিক, আমার কাছ থেকে টাকা নিতে এসেছেন।’ 

এ সময় আনার কলি তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং নারী নির্যাতনের মামলা করার হুমকি দেন। এ সময় আনার কলি মোবাইলে সাংবাদিক উজ্জল  ও তার ক্যামেরাপারসন জুয়েলুর রহমানের ভিডিও ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ারও হুমকি দেন। এ সময় আনার কলি সাংবাদিক উজ্জ্বল চক্রবর্তী দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক উজ্জ্বল চক্রবর্তী বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নং-১০৪৬।


স্থানীয়রা জানান, আনার কলি রেলওয়ে থেকে এগারশ আটাশি বর্গফুট জায়গা লীজ নিয়ে জলাশয় ভরাট করে কয়েকগুণ বেশি জায়গা জুড়ে মার্কেটের কাঠামো নির্মাণ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, নূর উল্লাহ সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ওই নেত্রী লীজ নেয়া জায়গায় অবৈধভাবে দোকান নির্মান করেছেন। অথচ এলাকায় কোন সিএনজিচালিত অটোরিকসা স্ট্যান্ড করার মতো কোন জায়গা নেই। প্রতিদিন এখানে যানজট লেগে থাকে। ওই নেত্রীকে কেউ কিছু বলতে পারে না। যে তার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাকে চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতন মামলা দেয়ার ভয় দেখায়। 

মোঃ সালমান নামে আরেক বাসিন্দা মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী আনারকলি  রেলওয়ের কাছ থেকে এই জায়গা মাছ চাষ করার কথা বলে লীজ নিয়েছেন বলে শুনেছি। মাছ চাষ করার কথা বলে ওই জায়গা লীজ এনে তিনি জলাশয় ভরাট করে দোকানপাট  নির্মান করেছেন। তার ভয়ে কেউ তাকে কিছু বলতে সাহস পায়না।

মার্কেটে দোকান ভাড়া নেয়া মোঃ আল-আমিন বলেন, আমি আনার কলির কাছ থেকে মাসিক ৪ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি দোকান ভাড়া নিয়েছি। সিকিউরিটি বাবদ দিয়েছি ৬০ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক উজ্জ্বল চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আনার কলি আমাদের সাথে আপত্তিজনক আচরণসহ চাঁদাবাজি নারী নির্যাতন করার হুমকি দেন এবং মোবাইলে আমাদের ভিডিও ধারণ করেন অসৎ উদ্দেশ্যে ।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরবিন্দু বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লীজের শর্ত ভঙ্গ করে আনার কলি অবৈধভাবে জলাশয় ভরাট করছে খবর পেয়ে এসিল্যান্ড বাঁধা প্রদান করলে আনার কলি তার সাথে অশোভন ও আপত্তিকর আচরণ করেন। আমরা বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ ঘটনায় এসিল্যান্ড আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টি রেলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবো। 

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সী সাংবাদিকদেরকে বলেন, উপজেলা পরিষদের আসার পথে আমি এই জায়গাটি দেখেছি। বালু দিয়ে ভরাটের সময় সময় আমি স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি জায়গাটি আনারকলি ভরাট করছেন। পরে আনার কলির সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই জায়গা তিনি রেলওয়ের কাছ থেকে লীজ এনেছেন। তবে এখানকার অটোরিক্সা চালকদের দাবি ছিল এখানে একটি সিএনজি স্ট্যান্ড করার জন্য । 

কিন্তু রেলওয়ের জায়গা হওয়ার কারণে আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারিনি। জলাশয় ভরাটের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লীজের শর্ত ভঙ্গ করলে এবং অবৈধভাবে জলাশয় ভরাট করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও খবর