Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

নাসিরনগরে গণপিটুনীতে এক নারীর মৃত্যু

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

মোঃ আব্দুল হান্নানঃ নাসিরনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে বাড়ির সীমানা ও টয়লেট নিয়ে ঝগড়ার জেরে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের গণপিটুনীতে তিন দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে মিনারা বেগম( ৩৫)নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।


ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ জুলাই ২০২২রোজ রবিবার রাত অনুমান ১০ ঘটিকার সময় উপজেলার গোর্কণ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে।

ওই ঘটনায় নিহত মিনারার  ভাই  মোঃ ওসমান খান বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামী করে গত ২৮ জুলাই ২০২২ তারিখে নাসিরনগর থানার হত্যা মামলা নং২১ জি,আর ১২৩ দায়ের করেন।


প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে,নিহত মিনারা বেগম,তার স্বামী হামিদ খা ও আসামী পক্ষের কুদ্দুস মিয়া,ইদ্রিস মিয়া,জুনাইদ, ফরিমা,হুমায়ুন, তারা একই বাড়িতে বসবাস করে।অপরদিকে


দানা মিয়া,সিরাজ মিয়া,জবেদ আলী, মনু মিয়ারা পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করে।উল্লেখিত লোকজন বাড়ির সীমানা টয়লেট ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই মানারার স্বামী ও মিনারার সাথে ঝগড়া লিপ্ত থাকতো।


২৪ জুলাই ২০২২ রোজ রবিবার রাত অনুমান ১০ ঘটিকার সময়  টয়লেট ব্যবহারকে কেন্দ্র করে মিনারার স্বামীর সাথে কুদ্দুস খার সাথে কথা কাটাকাটি হয়।এ সময় মিনারা বেগম তার স্বামী বাচতে এগিয়ে আসলে।সিরাজ মিয়া,জবেদ মিয়া ও মনু মিয়ার হুকুমে  কুদ্দুস মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো দা, ইদ্দিস মিয়ার হাতে থাকা লোহার রড় ও জুনাইদ মিয়ার হাতে থাকা লোহার সাবল দিয়ে সকল আসামীরা মিনারবেগম ও দুই স্বাক্ষীর উপর হামলা চালিয়ে মিনারাকে মারাত্বক আহত করে।


পরে মুমূর্ষ অবস্থায় মিনারাকে নাসিরনগর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।সেখানে তিন দিন চিকিৎসার পর গত ২৭ জুলাই অনুমান সাড়ে ১২ ঘটিকার সময় চিকিৎসারত  অবস্থায় মিনারার মৃত্যু হয়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাসিরনগর থানার এস আই মোঃ আরিফুর রহমান সরকার বলেন এ পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি,তবে আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।


আরও খবর



সুবাহর মামলায় খালাস পেয়ে সন্তুষ্ট ইলিয়াস

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ৭৬জন দেখেছেন
Image

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা হোসেন সুবাহর মামলার থেকে খালাস পেয়েছেন গায়ক ইলিয়াস হোসাইন।রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন ইলিয়াস।

বুধবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক আবেরা সুলতানা খানম এ মামলা থেকে আসামি ইলিয়াসকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার পর ইলিয়াস বলেন— সুবাহ আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন তা থেকে আদালত খালাস দিয়েছেন। আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি লিয়াকত আলী বলেন, ইলিয়াস ও সুবাহর মধ্যে পারিবারিকভাবে আপস হয়েছে। আদালত আপস-মীমাংসার শর্তে ইলিয়াস হোসাইনকে খালাস দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার (২৫ জুলাই) বিচারক আবেরা সুলতানা খানম রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। এদিন আদালতে উপস্থিত হয়ে সুবাহ জানান— ১০ লাখ টাকায় পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে মামলা আপস হয়েছে। এসময় ইলিয়াস হোসাইনও উপস্থিত ছিলেন। এদিন ইলিয়াস মামলায় জামিন নেন। এরপর বিচারক মামলাটির সাক্ষ্য ও যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে রায়ের জন্য ২৭ জুলাই দিন ধার্য করেন।

সুবাহ বিচারককে বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে ১০ লাখ টাকায় মামলা মীমাংসা করেছি। আমি টাকা বুঝে পেয়েছি। এখন ইলিয়াসের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, যে সংসার করবে না তার সঙ্গে জোর করে সংসার করা যায় না। ইলিয়াস তার জীবনে ভালো থাকুক, আর আমিও ভালো থাকি।

ইলিয়াস বলেন, পারিবারিকভাবে আমাদের আপস হয়েছে। সুবাহ ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। তবে যেকোনোভাবে আমরা মীমাংসা করেছি।

এর আগে রোববার (২৪ জুলাই) বিচারক আবেরা সুলতানা খানমের আদালতে সুবাহ আদালতে বলেন, আমাদের দুজনের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে গেছে। আমি আর এ মামলা চালাতে চাই না। আমি মামলা প্রত্যাহার করতে চাই। এরপর বিচারক আসামি ও বাদীর উপস্থিতির জন্য সোমবার (২৫ জুলাই) দিন ধার্য করেন।

এর আগে ১৯ জুন ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক আবেরা সুলতানা খানম।

চলতি বছরের মার্চে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের উপ-পরিদর্শক মাসুমা আফ্রাদ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১১ জনকে।

অন্যদিকে, মামলায় উচ্চ আদালতের ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন ইলিয়াস। কিন্তু আত্মসমর্পণ করে জামিন শুনানির দিন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় গত ২২ মার্চ ইলিয়াসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক জুলফিকার হায়াত।
আরও পড়ুন>> সুবাহর যৌতুকের মামলা থেকে খালাস পেলেন ইলিয়াস

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সুবাহ একজন অভিনয়শিল্পী এবং আসামি ইলিয়াস একজন কণ্ঠশিল্পী। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের পরিচয়। পরিচয়ের সূত্র ধরেই প্রেমের সম্পর্ক। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে ওই বছরের ১ ডিসেম্বর ইসলামি শরিয়া মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ইলিয়াসের চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক হিসেবে ১২ লাখ টাকা দামের রোলেক্স ব্র্যান্ডের একটি ঘড়ি, ২৫ হাজার টাকা দামের আরেকটি ঘড়ি, এক লাখ টাকার স্বর্ণের আংটি, গলার চেইনের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং বিয়ের কাপড় বাবদ দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। এতে সন্তুষ্ট না হয়ে সুবাহর কাছে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৫০ লাখ টাকা ও গাড়ির জন্য ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন ইলিয়াস।

এছাড়া সুবাহর মায়ের কাছে যৌতুক হিসেবে ইউটিউব চ্যানেল কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তখনো ইলিয়াসকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সুবাহ জানতে পারেন ইলিয়াস একাধিক বিয়ে করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবাহকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন তিনি। এরপর ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইলিয়াস যৌতুক হিসেবে আরও ৮০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। এর জেরে ইলিয়াস কাচের গ্লাস ভেঙে তার ভাঙা অংশ দিয়ে সুবাহকে মারতে যান। তখন সুবাহ থামাতে গেলে তার বাম হাত জখম হয়। পরবর্তীতে ইলিয়াস বিষয়টি নিয়ে সুবাহর কাছে ক্ষমা চান এবং এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু এরপরও সুবাহর কাছে ইলিয়াস ফের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, পরের দিন ২৮ ডিসেম্বর ইলিয়াস আবার সুবাহর কাছে ৮০ লাখ টাকা দাবি করেন। এতে সুবাহ অস্বীকৃতি জানালে ইলিয়াস এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি মারেন এবং চুলের মুঠি ধরে দেয়ালের সঙ্গে ঠুকে জখম করেন। অসুস্থ হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন সুবাহ। মেডিকেল সনদপত্রে সুবাহকে মারপিট করে সাধারণ জখম করার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

তদন্তকালে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০০৩) এর ১১(গ) ধারায় অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগে যা বলেছেন সুবাহ
চলতি বছরের (২০২২) ৩ জানুয়ারি যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে ইলিয়াসকে আসামি করে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেন সুবাহ। এতে ঘড়ি, স্বর্ণের আংটি, গলার চেইন ও কাপড়ের জন্য ইলিয়াসকে টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার জন্য ৮০ লাখ টাকা দিতে সুবাহকে চাপ দেন ইলিয়াস। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জেরে ওইদিন রাত ৮টার দিকে সুবাহকে শারীরিক নির্যাতন করেন ইলিয়াস। পরদিন আবারও যৌতুকের জন্য ৮০ লাখ টাকা দাবি করেন।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুবাহকে আবারও শারীরিক নির্যাতন করেন ইলিয়াস। এতে জখম হন সুবাহ। এরপর সুবাহকে ব্যথার ওষুধের নামে অন্য ওষুধ খাইয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। এ সুযোগে ইলিয়াস আলমারিতে থাকা ২০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যান।


আরও খবর



দিনমজুরির টাকায় বিদেশ পাঠানো ছেলেই ঘরছাড়া করলো মাকে

প্রকাশিত:Sunday ৩১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৫ August ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

 

দিনমজুরি ও গয়না বিক্রির টাকায় ছেলেকে প্রবাসে পাঠিয়েছিলেন কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা খরুলিয়া কোনারপাড়ার বৃদ্ধা নুর আয়েশা (৭০)। আশা ছিল পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে। তবে বিদেশে গিয়ে ছেলের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও এখন থাকার জায়গা নেই বৃদ্ধা নুর আয়েশার।

শারীরিকভাবেও তিনি অসুস্থ। এ অবস্থায় মাকে দেখাশোনা করা তো দূরের কথা, বৃদ্ধার মোহরানা বাবদ পাওয়া ২০ শতক জমি এবং ভিটেটুকুও নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন প্রবাসফেরত ছেলে সাবের। মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন মাকে।

এক সন্তানকে সবকিছু লিখে দেওয়ায় খবর নিচ্ছেন না অন্য সন্তানরাও। ফলে জীবনসায়াহ্নে এসে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এ বৃদ্ধা। মানসিক যন্ত্রণায় নির্ঘুম রাত কাটছে তার।

স্থানীয়রা জানান, দিনমজুরি করে জমানো টাকায় ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন মা নুর আয়েশা। সেই সন্তান বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব না নিয়ে উল্টো রাস্তায় নামিয়েছেন।

অসহায় এ বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের ১৪-১৫ বছর পর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। ছোট সন্তানদের লালন-পালন করতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। একটু সুখের আশায় ছেলে সাবেরকে ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে বিদেশ পাঠান। টাকার দেখা পেয়ে সাবেরের স্বভাব পাল্টে যায়। নিজের ২০ শতক জমি তার নামে লিখে দিতে চাপ দেন।

সুখের আশায় জমিটি সাবেরের নামে লিখেও দেন বৃদ্ধা নুর আয়েশা। ছয় মাস আগে বিদেশ থেকে ফিরে বসতবাড়িটিও তার নামে লিখে দিতে টালবাহানা করেন ছেলে সাবের। সেটাও রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কিছুদিন পর তাকে ঘর থেকে বের করে দেন।

নুর আয়েশা বলেন, ‘স্বামীর দেওয়া ২০ শতক জমিতে চাষাবাদ করে ভালোই চলতো। ছেলে ভালো ও সুখে-শান্তিতে থাকুক এমন ভাবনায় জমি লিখে দিয়েছি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। ছেলের নিষ্ঠুর আচরণের শিকার হলাম আমি।’

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জমিজমা ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দুমাস না যেতেই ছেলে ও তার বউ ভিন্ন আচরণ শুরু করে। ঠিকমতো খাবার দেয়নি। ভাত দিলেও তরকারি দিতো না। বেলা গড়িয়ে দুপুরের ভাত দিলে সেদিন রাতে আর খাবার দিতো না। ছেলেকে এসব কথা জানালে উল্টো আমার ওপর চড়াও হয়ে গালিগালাজ করতো। সবশেষ আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি নিজের ভিটায় ফিরতে চাই।’

সাবেরের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ বলেন, ‘জমি লিখে নিয়ে মাকে ঘর থেকে বের করে দেয় সাবের। প্রতিবাদ করলে ভাই ইউনুস ও ভাগনেসহ আমাদের চারজনের বিরুদ্ধে থানায় উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’

স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি মাস্টার খুরশেদ আলম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলম, সালিশকারক বাদশা মিয়া, শহিদুল্লাহ শকু ও ছলিম উল্লাহ বলেন, ‘নুর আয়েশা স্থানীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এনিয়ে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। কিন্তু ছেলে সাবের সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মাকে ঘরে উঠতে দেননি। উল্টো মামলা করে মা ও ভাইবোনদের হয়রানি করছেন।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবের বলেন, বিষয়টি আমার পারিবারিক। এখানে কাউকে নাক গলাতে হবে না। স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, এ বিষয় কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি অমানবিক। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



সাত বছরে পাল্টে গেছে বিলুপ্ত ছিটমহলের চিত্র

প্রকাশিত:Sunday ৩১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

ছিটমহল বিলুপ্তির পর দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে পিছিয়ে থাকা জনপদে এখন সন্ধ্যায় হলেই জ্বলে উঠছে বৈদ্যুতিক বাতি। এখানকার বাসিন্দারা পাচ্ছেন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা। তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তাঘাট। এগিয়ে চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ। স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় তৈরি করা হয়েছে ক্লিনিক। বিলুপ্ত ছিটমহলের সর্বত্রই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। গত সাত বছরেই পাল্টে গেছে ছিটমহলগুলোর দৃশ্যপট।

রোববার (৩১ জুলাই) লালমনিরহাটে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ছিটমহল বিনিময়ের সপ্তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দুপুরে পাটগ্রামের বাঁশকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল। আরও উপস্থিত ছিলেন ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতা নজরুল ইসলাম ও বিলুপ্ত ছিটমহল উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি গোলাম মতিন রুমি।

jagonews24

একাধিক বিলুপ্ত ছিটমহল ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। সরকারি উদ্যোগে বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে পাকা রাস্তা, ডিজিটাল সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিক, পুলিশ ফাঁড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ, স্যানিটেশন, সুপেয় পানির জন্য টিউবওয়েল, কমিউনিটি সেন্টার, সোলার প্যানেল দেওয়া হয়েছে। বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, প্রতিবন্ধীদের জন্য করে দেওয়া হয়েছে ভাতার কার্ড। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভিতরকুটি ছিটমহলের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী এসহাক আলী বলেন, জীবনের শেষ বয়সে ভোটার হয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। বেঁচে থাকতে নতুন পরিচয় পেয়েছি, যা এক অন্যরকম আনন্দ।

jagonews24

পাটগ্রাম উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল বাঁশকাটার বাসিন্দা ওমর আলী দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছিটমহলের চিত্রও পাল্টে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিজেদের পরিচয়টাও দিতে পারতাম না আমরা। শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা সমস্যায় ভোগান্তির শেষ ছিল না। কিন্তু ছিটমহল বিলুপ্তের ফলে সেসব ভোগান্তির দিন ইতিহাস হয়ে গেছে। উন্নয়নের ছোঁয়া এখানকার বাসিন্দাদের জীবনমান পাল্টে দিয়েছে।

লালমনিরহাটের ভিতরকুটি বাঁশপচাই ছিটমহলের সাবেক সভাপতি হারুনার রশিদ বলেন, সাত বছরে আমাদের ছিটমহলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিদুৎ, মসজিদ, মন্দির, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ রাস্তা, ব্রিজ কালভার্টের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা স্থলসীমান্ত চুক্তি মোতাবেক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের বিলুপ্তি ঘটে। সেই সুবাদে উভয় দেশের অভ্যন্তরে থাকা ছিটমহলগুলো দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগ হয়। এতে ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দারা বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি ছিটমহলের বাসিন্দারা ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন। চুক্তির সফল বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ হয় ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর জমি।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, গত সাত বছরে বিলুপ্ত ছিটমহলে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, তিনটি ব্রিজ, দুটি মসজিদ, একটি মন্দির, একটি শশান, কবরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল, কমিউনিটি সেন্টার, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে।

পাটগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে প্রায় ১ হাজার নলকূপ, দুইশো রিংওয়েল নলকূপ, আটশো স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে।

শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষায়িত ১ হাজার ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় বিলুপ্ত ছিটমহলে চারটি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিলুপ্ত ছিটমহলের ৮নং ভোটবাড়ী, ১৪নং লতামারী, ২১নং পানিশালা ও ১১৯নং বাঁশকাটা এলাকায় চার কক্ষবিশিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

jagonews24

স্থানীয় উদ্যোগে তিনটি নিম্ন মাধ্যমিক ও দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাঁশকাটা দয়ালটারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মোমিনপুর বাঁশকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবারেই এমপিওভুক্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, এরই মধ্যে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় সব বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে ছিটমহল বিলুপ্তির ফলে বন্দি জীবনের অবসান ঘটে ভারত-বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহলের কয়েক হাজার মানুষের। এর মধ্যে ১১১টি বাংলাদেশের এবং ৫১টি ভারতের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়। বাংলাদেশের ১১১টির মধ্যে কুড়িগ্রামে ১২টি, লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি এবং নীলফামারী জেলায় রয়েছে চারটি বিলুপ্ত ছিটমহল। লালমনিরহাট জেলার ৫৯টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে সদর উপজেলায় দুটি, হাতিবান্ধা উপজেলায় দুটি ও বাকি ৫৫টির অবস্থান পাটগ্রাম উপজেলায়।


আরও খবর



মেধাসম্পদের উন্নয়ন এসডিজি বাস্তবায়নে অবদান রাখবে: শিল্পমন্ত্রী

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৫ August ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, সরকার মেধা সম্পদকে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম মানদণ্ড ধরে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ও সূচকসমূহ নির্ধারণ করেছে। মেধাসম্পদের সুরক্ষা ও উন্নয়ন এসডিজি বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।

সোমবার (১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় তথ্য ভবনে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্ত ঘোষ, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন, সংস্কৃতি সচিব আবুল মনসুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মিজ শরিফা খান।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক মেধাকে কাজে লাগিয়ে সম্পদে পরিণত করে শিল্প উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করা দরকার। কারণ ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টিই একমাত্র সম্পদ যার উৎস অসীম এবং সম্ভাবনা অফুরন্ত। এ সম্ভবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটি আমাদের মেধাসম্পদ নীতিমালা এবং শিল্পনীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণের স্বার্থে সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আরও অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে বলে আশা করি।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, যে চেতনাকে ধারণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে, বিশ্ব মানচিত্রে এখন প্রয়োজন এ দেশের উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে মেধাসম্পদের বিকাশ ও সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। সময় এসেছে মেধাসম্পদ বিকাশ ও সংরক্ষণের। আর এজন্য দরকার একটি সুপরিকল্পিত ভিশন ও একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা।

তাই আজ সাতটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের সীমিত সম্পদকে সমৃদ্ধ সম্পদে পরিণত করতে হবে। একাত্তরের চেতনাকে বুকে লালন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সুন্দর-সমৃদ্ধির দিকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাসম্পদ এমন একটি ধারণা, যা জাগতিক সব সম্পদের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি রত্নভান্ডার যার মাধ্যমে এর স্বত্তাধিকারীই শুধু উপকৃত হয় না, উপকৃত হয় সবাই। ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি তথা পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক, জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য) বা কপিরাইট নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। যত বেশি মানুষ আইপি সচেতন হবে, আইপি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে, ট্রেডমার্ক বা কপিরাইট লঙ্ঘনের হার তত কমবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে।

বক্তারা আরও বলেন, নতুন উদ্ভাবন প্রকাশই মেধাসম্পদ। আর এ উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহিত করার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আমরা যত বেশি জ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগাবো, তত বেশি সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হওয়া যাবে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায় দেশে মেধাসম্পদের সুরক্ষা বা নিবন্ধন নিয়ে সচেতনতার কিছুটা অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর, কপিরাইট অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের আরো বিস্তৃত পরিসরে প্রচার চালানো দরকার।

উল্লেখ্য, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি, পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইট শীর্ষক উপ কমিটি গঠন করা হয়। এ সাব কমিটির কৌশলপত্র এ কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়।


আরও খবর



মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার উপায় কী?

প্রকাশিত:Thursday ০৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

মানুষ ক্লান্ত, হয়রান, পেরেশান। কারণে অকারণে মন-মানসিকতা ও হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত। মানসিক প্রশান্তির অভাবে অনেক মানুষই মৃতপ্রায়। এ মুহূর্তে করণীয় কী? মানুষ কি ভুলে গেছে মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার নির্ভরযোগ্য উপায়?

দুনিয়াতে আল্লাহর দেওয়া বিশাল নেয়ামতের মধ্যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করলেও পাচ্ছে না মানসিক প্রশান্তি। প্রতিটি মুহূর্ত বিনা হিসেবে ইচ্ছে মতো অনায়াসে পার করছে। এ মানুষগুলো দুনিয়ায় প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় নানান কোলাহলে ব্যস্ত থাকলেও মানসিক প্রশান্তির উপায় অনুসরণ করছে না।

কী আশ্চর্য! একান্তে কিছু সময় আল্লাহকে স্মরণ করবে; এ উপলব্ধি তাদের অকৃতজ্ঞ অন্তরে জেগে ওঠে না। মানুষ কি ভুলে গেছে! ‘জিকিরে আত্মা প্রশান্তি পায়।’ আল্লাহ তাআলা বান্দাকে লক্ষ্য করে বলেছেন-

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ تَطۡمَئِنُّ قُلُوۡبُهُمۡ بِذِکۡرِ اللّٰهِ ؕ اَلَا بِذِکۡرِ اللّٰهِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায়।’ (সুরা রাদ : আয়াত ২৮)

মানুষের অন্তর হচ্ছে ছোট্ট একটি অবুঝ শিশুর মত, যে আধো আধো বোলে কথা বলে। বাবার কোল, মায়ের কোলেই তার যত প্রশান্তি। কেউ যখন তাকে বাবা কিংবা মায়ের কোল থেকে সরিয়ে নেয়, তখনই সে কান্না জুড়ে দেয়। এই কান্না ফিরে যাওয়ার। এই কান্নায় থাকে চাপা কষ্ট, বুকভরা বেদনা, নীড়ে ফেরার তীব্র আকাঙ্খা। বারবার ফুঁপিয়ে উঠে সে।

অন্তরের ব্যাপারটিও একদম একই রকম। আল্লাহকে ছেড়ে যখন গাইরুল্লাহকে অন্তরে বসানো হয় অন্তর তখন ছটফট করতে শুরু করে। অস্থিরতা যেন কমতেই চায় না। আল্লাহর কাছে ফিরে গেলেই যেন সে বাঁচে। আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া তাকে স্মরণ করাই প্রকৃত প্রশান্তি।

তাইতো মহান রবের কাছে একমাত্র চাওয়া, প্রশান্ত হৃদয় দাও প্রভু। অন্তর থেকে গাইরুল্লাহকে সরিয়ে দাও প্রভু। চূড়ান্ত প্রশান্তি পেতে জিকিরে জিকিরে সিক্ত করে দাও এ হৃদয়। আমিন।


আরও খবর